Enolej Idea-তে লেখা প্রকাশের নিয়ম জানতে পূর্ণ নির্দেশনা দেখুন...
ই-নলেজ আইডিয়া হলো এমন একটি চিন্তানির্ভর প্ল্যাটফর্ম, যেখানে মানুষ শুধু তথ্য নয়, চিন্তা শেয়ার করে। এখানে জ্ঞানীরা একত্র হন, নতুনরা পথ খুঁজে পান, এবং সবাই মিলে তৈরি হয় একটি জ্ঞানভিত্তিক উম্মাহ। এটি জ্ঞানচর্চাকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ বানানোর একটি প্রচেষ্টা, যেখানে লেখা, ভাবা ও শেখা—সবই হয় মুক্তভাবে।আজই যোগ দিন!নিবন্ধন করতে এখানে ক্লিক করুন...।

-: ই-নলেজ আইডিয়া :-

আপনার লেখার কপিরাইট সুরক্ষা, স্বীকৃতি এবং ফ্রী প্রমোশন, সব এক প্ল্যাটফর্মে!

লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম আপনার লেখার অভিজ্ঞতাই বদলে দিবে। (পড়ুন...)

যদি আপনি হন পাঠক, কিংবা লেখক হিসেবে জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করেন:

যদি আপনার লেখাগুলোর কপিরাইট সুরক্ষা, সুশৃঙ্খলতা, আপনার ভেরিফাইড লেখক পোর্টফলিও এবং লেখক-পাঠকের কেন্দ্রীয় কমিউনিটিতে যুক্ত হতে চান, তাহলে নিবন্ধন করুন লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম “ই-নলেজ আইডিয়া” -এ!

এখানে অনেক প্রতিভাবান লেখক বিভিন্ন সিরিজে লিখছেন। আপনিও চাইলে আপনার লেখাগুলো সিরিজ আকারে সাজাতে পারবেন।

আপনার লেখক প্রোফাইল হবে একদম জীবন্ত পোর্টফলিও, এক ধরনের জীবন্ত বই। এখানে শুধু লেখক নয়, থাকবে পাঠকেরও সংস্পর্শ। ব্যাজ, পয়েন্ট, স্বীকৃতি এবং কপিরাইট সুরক্ষা তো থাকছেই, লেখাগুলো স্ক্যান করলেই আপনার নাম ভেসে উঠবে।

এটি তাই লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

চলুন বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক....

পূর্ণ নির্দেশনা [Full Guideline]

ই-নলেজ আইডিয়া – লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

স্মৃতির অতল গহীনে

0 পছন্দ 0 অপছন্দ
194 বার প্রদর্শিত
করেছেন (18,734 পয়েন্ট)   13 অক্টোবর 2025 "ছোটগল্প" বিভাগে লেখা প্রকাশিত
পোষ্ট আইডি(eID) কার্ড↓ - লেখনীর স্বত্ব ও গুণের পরিচয়!

স্মৃতির অতল গহীনে 

মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

ধরণঃ ছোটগল্প

তারিখঃ ১৩ অক্টোবর ২০২৫


আমার বয়স তখন চব্বিশ। সদ্য এম.এসসি সম্পন্ন করেছি। ঠিক সেই সময়েই ভালোবেসে ফেলেছিলাম এক মেয়েকে—নিশি।

সে তখন এস.এস.সি পরীক্ষার্থী। দেখতে শান্ত সুন্দর—হালকা পাতলা গড়ন, মুখে এক চিলতে হাসি যেন রোদের মতো মিষ্টি।


কিছুদিনের মধ্যেই ভালোবাসা আমাদের দুজনকে জড়িয়ে ফেলল। সময়টা খুব উদার ছিল না, তবুও বাবা-মায়ের ইচ্ছার বিরুদ্ধে গিয়ে বিয়ে করেছিলাম আমি—পঁচিশ বছর বয়সে, উনিশ বছরের সেই নিশিকে।


তখন আমি নিজেই ঠিকমতো লুঙ্গি সামলাতে পারতাম না—রাতে ঘুমের ঘোরে গিট দিতাম, অথচ সেই আমি চেষ্টা করতাম আমার ছোট্ট নিশিকে শাড়ি পরিয়ে দিতে। নিজের পকেটে খরচের টাকা না থাকলেও ওর জন্য আচার কিনে আনতাম। কী সরল, কী স্নিগ্ধ ছিল সেই দিনগুলো!

ভালোবাসা যেন অজান্তেই গেঁথে গিয়েছিল হৃদয়ের গভীরে। আমার জীবনের প্রথম সত্যিকারের ভালোবাসা ছিল নিশি—আমার ছোট্ট, মিষ্টি, নির্ভেজাল বউ।


সারাদিন হাসি, খুনসুটি, গল্পে ভরে থাকত আমাদের সংসার। রাতে ও বলত, “মাথা ব্যথা করছে।” আমি তার মাথা টিপে দিতাম, পা টিপে দিতাম। কারণ আমি ছিলাম তার সবকিছু। ভাবতাম, আজ অবুঝ নিশি, কাল বুঝবে—তখন নিশ্চয়ই আরও বেশি ভালোবাসবে আমায়।


কিন্তু সময় বড় নিষ্ঠুর শিক্ষক। নিশির বয়স যখন বাইশ, তখন সে আর হাসত না, খেলত না। এখন অনেক কিছুই বোঝে। ও যখন বাবার বাড়ি যেত, আমি একা হয়ে যেতাম। নিশি বলত, “তুমি আমার সঙ্গে চলো।” কিন্তু লজ্জায় কিছু বলতাম না। মনের কষ্ট বুকের ভেতর লুকিয়ে রাখতাম।


যখন ওকে রেখে ফিরে আসতাম, নিশি বায়না ধরত—“আমায় রেখে যেও না।” ফিরে এসে প্রতিদিন ফোন করতাম, তবুও প্রতিটি কলেই ‘ওয়েটিং’ দেখতাম। মেসেজের উত্তর না পেয়ে একসময় লজ্জায় মেসেজ করাও বন্ধ করে দিলাম।


তিন মাস পর শ্বশুরবাড়ি গেলে নিশির প্রথম কথা ছিল, “তিন দিন থেকে চলে যাবে?”

রাতে ওর ফোনটা চুপিচুপি খুলে দেখতাম—অজানা কারো প্রেমভরা মেসেজে আমার মেসেজগুলো চাপা পড়ে আছে। ভেতরটা পুড়ত, বুকটা কাঁপত, কিন্তু তবুও কিছু বলতাম না। শুধু নিশির মুখের দিকে তাকিয়ে নীরবে ক্ষমা চাইতাম নিজের অক্ষমতার।


তারপর নিশির বয়স পঁচিশে পা রাখল, আর আমাদের ঘরে এল প্রথম কন্যাসন্তান। আনন্দে ভরে উঠল মন। মেয়েটা যখন আধো আধো করে “বাবা” বলত, আমার হৃদয় ঠান্ডা হয়ে যেত। তিন বছর পর জন্ম নিল দ্বিতীয় মেয়ে। কিন্তু তখন নিশি যেন অন্য এক জগতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। ফোনে কথা বলত, উদাস চোখে তাকিয়ে থাকত। আমার প্রতি তার আচরণই বলে দিত—ভালোবাসা ধীরে ধীরে নিঃশেষ হয়ে যাচ্ছে।


আমি কিছু বলতাম না—শুধু মেয়েদের মুখের দিকে তাকিয়ে চুপ করে যেতাম।

তারপর এলো সেই দুপুর—দুপুর ৩টা ৩৮ মিনিটে আমি সই করলাম ডিভোর্স পেপারে।

সেই কাগজের এক ফোঁটা কালি যেন ছিল আমার সমস্ত স্বপ্নের মৃত্যুর ছাপ।


নিশি চলে গেল নতুন ভালোবাসার মানুষকে নিয়ে।

আমার মেয়েরা হলো মা-হারা।

তাদের কোলে তুলে নিজেই কেঁদেছি—আমার মেয়েরা কাকে ডাকবে “মা” বলে?


আমি রান্না করতাম, ওদের চুল বেঁধে দিতাম, ঘুম পাড়াতাম।

এই দুই মেয়ে আর আমি—এই ছিল আমার ছোট্ট পৃথিবী।

আর কোনোদিন বিয়ে করিনি, কারণ ভালোবাসতাম নিশিকে—তখনও, এখনো।


সময় থেমে থাকে না। একুশ বছর কেটে গেল।

আমার বড় মেয়ে এখন তেইশ বছরের—তার বিয়ের আয়োজন চলছে।

মনের গভীরে একটাই ইচ্ছে—সে যেন অন্তত একবার মাকে দেখে।

মেয়ে রাজি নয়, তবুও আমি নিশিকে খবর পাঠালাম।


পরের দিন এল নিশি।

চব্বিশ বছর ছয় মাস তিন দিন বাইশ মিনিট পর আবার দেখলাম ওকে।

বাস্তবে ও কল্পনার চেয়ে আলাদা—আমার মতোই চুলে পাক ধরেছে, চোখে ক্লান্তি, তবুও সেই দৃষ্টি এখনও চেনা।

আজ সে দু’ছেলের মা, তবুও চোখে সেই অপরাধবোধের ঝিলিক।


আমি জিজ্ঞেস করলাম, “কেমন আছো? এখনো কি মাথা বা পা ব্যথা করে?”

নিশি শুধু মাথা নাড়ল, মুখে নীরবতা, চোখে জল।

আমারও চোখ ভিজে উঠল।


ঠিক তখনই পর্দার আড়াল থেকে বেরিয়ে এলো আমার বড় মেয়ে।

স্বরটা কেঁপে উঠল—

“আমার বাবার চব্বিশটা বছর ফিরিয়ে দিতে পারবেন, মা?

যদি না পারেন, তাহলে আর আসবেন না কোনোদিন।

আমার বাবাই আমার মা।

আমি গর্ব করি, বাবা বলে ডেকে।”


নিশির চশমা ভিজে গেল।

চোখ দিয়ে গড়িয়ে পড়ল জল।

চুপচাপ ফিরে গেল সে।


আমি তাকিয়ে রইলাম ওর চলে যাওয়া পথের দিকে।

মনে হলো—ভালোবাসা সত্যিই কেমন করে হারিয়ে যায় স্মৃতির অতল গহীনে।


আমার বড় মেয়ে তখন এগিয়ে এলো, সদ্য মেহেদী রাঙানো হাতে আমার চোখের জল মুছে দিয়ে বলল,

“বাবা, আমরা তো আছি।

যে চলে গেছে, তাকে আর ডেকে লাভ কী?

যে তোমার ছিল না, তাকে কাছে টানার মানেই নতুন কষ্ট।”


আমি বুঝলাম—ভালোবাসা কখনো কখনো জীবন নয়,

একটা অসমাপ্ত স্মৃতি, যা চিরকাল ডুবে থাকে স্মৃতির অতল গহীনে।


#স্মৃতির_অতল_গহীনে #মোহাম্মদ_জাহিদ_হোসেন #ছোটগল্প #ভালোবাসা #বিরহ #বাংলা_সাহিত্য #জীবনের_গল্প #অনুভূতির_গদ্য #হৃদয়ের_ছোঁয়া #জীবনের_পাঠ #মানুষ_ও_ভালোবাসা #enolej_ideaimage

আমি মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন, ই-নলেজ এর একজন যাচাইকৃত লেখক। আমি এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত আছি প্রায় 7 মাস 3 সপ্তাহ ধরে, এবং এ পর্যন্ত 928 টি লেখা ও 0 টি প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছি। আমার অর্জিত মোট পয়েন্ট 18734। ই-নলেজ আমার চিন্তা, জ্ঞান ও কণ্ঠকে সবার মাঝে পৌঁছে দিতে সহায়তা করেছে।
সংযুক্ত তথ্য
"নিজস্ব আইডিয়া"
Enolej ID(eID): 1249
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।

এই লেখকের অন্যান্য সিরিজ


বিজ্ঞাপন: Remembering...

Image

এই ব্লগটির প্রতিক্রিয়া দিতে দয়া করে প্রবেশ কিংবা নিবন্ধন করুন ।

সংশ্লিষ্ট ব্লগগুচ্ছ


image
স্মৃতির খেরোখাতায় আঁকা ডিসেম্বরের পাতা —রফিক আতা— তোমার মনে পড়ে কি সেই ডিসেম্বরে[...] বিস্তারিত পড়ুন...
92 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

স্মৃতির অতলে মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন লেখার ধরণঃ গদ্য কবিতা তারিখঃ ১৬ অক্টোবর ২০২৫ স&#[...] বিস্তারিত পড়ুন...
131 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
রুদ্রের গর্জন মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ছোটগল্প  | ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫ ভোরের দিকে বিমান÷[...] বিস্তারিত পড়ুন...
211 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
অন্ধ ভক্তি চুপ করে থাকার একটা সহজ নাম মোহাম্মাদ জাহিদ হোসেন বিশ্লেষণমূলক | ০৮ ডিসেম[...] বিস্তারিত পড়ুন...
180 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
লাইফ সাপোর্টে তিন দিন   মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন   ছোটগল্প।০৮ ডিসেম্বর ২০২৫   অনেক[...] বিস্তারিত পড়ুন...
90 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ
📢 Notice Board
No active notices
ই-নলেজ আইডিয়া(Enolej Idea) হলো লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম যেখানে যেকোনো ধরনের লেখা—সাহিত্য, বিজ্ঞান, গবেষণা নোট, মতামত, প্রতিবাদী লেখা, ধর্মীয় চিন্তা, ব্যক্তিগত নোট বা দৈনন্দিন ভাবনা—নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা যায়। এটি সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ছড়িয়ে থাকা অগোছালো কনটেন্টকে একটি ভেরিফাইড, রেফারেন্সযোগ্য ডিজিটাল পোর্টফোলিওতে রূপান্তর করে, যা ব্যক্তির বুদ্ধিবৃত্তিক পরিচিতি ও দীর্ঘমেয়াদি ব্র্যান্ডিং গড়ে তোলে। প্রতিটি লেখার জন্য ইউনিক ডিজিটাল আইডি (eID) ও কপিরাইট সুরক্ষা প্রদান করা হয়, ফলে লেখা চুরি হলেও আসল লেখক সহজে শনাক্তযোগ্য থাকে। ধারাবাহিক কনটেন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাজানো, এক ক্লিকেই ই-বুক বা বইয়ের খসড়ায় রূপান্তর, ব্যক্তিগত খসড়া গোপন রাখা এবং একটি সক্রিয় কমিউনিটির মাধ্যমে পাঠকের সাথে সরাসরি সংযোগ—সব সুবিধাই এখানে একসাথে পাওয়া যায়। ই-নলেজ আইডিয়া মূলত ব্যক্তির চিন্তা ও জ্ঞানকে একটি স্থায়ী, সুরক্ষিত ও সার্বজনীনভাবে স্বীকৃত ডিজিটাল লেখক ইকোসিস্টেমে রূপ দেয়। IDEA = Independent Digital Expression & Authorship.
  1. মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

    1119 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    55 টি আইডিয়া ব্লগ

  2. মাহাতাব হোসেন অপল

    170 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    8 টি আইডিয়া ব্লগ

  3. রফিক আতা

    146 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    7 টি আইডিয়া ব্লগ

  4. প্রিন্স ফ্রেরাসে

    124 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    6 টি আইডিয়া ব্লগ

...