Enolej Idea-তে লেখা প্রকাশের নিয়ম জানতে পূর্ণ নির্দেশনা দেখুন...
ই-নলেজ আইডিয়া হলো এমন একটি চিন্তানির্ভর প্ল্যাটফর্ম, যেখানে মানুষ শুধু তথ্য নয়, চিন্তা শেয়ার করে। এখানে জ্ঞানীরা একত্র হন, নতুনরা পথ খুঁজে পান, এবং সবাই মিলে তৈরি হয় একটি জ্ঞানভিত্তিক উম্মাহ। এটি জ্ঞানচর্চাকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ বানানোর একটি প্রচেষ্টা, যেখানে লেখা, ভাবা ও শেখা—সবই হয় মুক্তভাবে।আজই যোগ দিন!নিবন্ধন করতে এখানে ক্লিক করুন...।

-: ই-নলেজ আইডিয়া :-

আপনার লেখার কপিরাইট সুরক্ষা, স্বীকৃতি এবং ফ্রী প্রমোশন, সব এক প্ল্যাটফর্মে!

লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম আপনার লেখার অভিজ্ঞতাই বদলে দিবে। (পড়ুন...)

যদি আপনি হন পাঠক, কিংবা লেখক হিসেবে জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করেন:

যদি আপনার লেখাগুলোর কপিরাইট সুরক্ষা, সুশৃঙ্খলতা, আপনার ভেরিফাইড লেখক পোর্টফলিও এবং লেখক-পাঠকের কেন্দ্রীয় কমিউনিটিতে যুক্ত হতে চান, তাহলে নিবন্ধন করুন লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম “ই-নলেজ আইডিয়া” -এ!

এখানে অনেক প্রতিভাবান লেখক বিভিন্ন সিরিজে লিখছেন। আপনিও চাইলে আপনার লেখাগুলো সিরিজ আকারে সাজাতে পারবেন।

আপনার লেখক প্রোফাইল হবে একদম জীবন্ত পোর্টফলিও, এক ধরনের জীবন্ত বই। এখানে শুধু লেখক নয়, থাকবে পাঠকেরও সংস্পর্শ। ব্যাজ, পয়েন্ট, স্বীকৃতি এবং কপিরাইট সুরক্ষা তো থাকছেই, লেখাগুলো স্ক্যান করলেই আপনার নাম ভেসে উঠবে।

এটি তাই লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

চলুন বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক....

পূর্ণ নির্দেশনা [Full Guideline]

ই-নলেজ আইডিয়া – লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

মেয়েটার স্বপ্ন

0 পছন্দ 0 অপছন্দ
2 বার প্রদর্শিত
করেছেন (20,783 পয়েন্ট)   1 দিন পূর্বে "গল্প" বিভাগে লেখা প্রকাশিত
পোষ্ট আইডি(eID) কার্ড↓ - লেখনীর স্বত্ব ও গুণের পরিচয়!

মেয়েটার স্বপ্নimage

মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

ছোট গল্প।  ২৩ জুন,২০২৬



মেহরিন চাকরিটা পেল।


খবরটা শুনে প্রথমে খুব খুশি হয়েছিল সে। তারপর বুঝল, আসল লড়াইটা অফিসে না, বাড়িতেই শুরু হবে।


মেহরিন ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনায় ভালো ছিল।


তাদের সংসার খুব স্বচ্ছল ছিল না। বাবা নিউ মার্কেটের পাশে ছোট একটা স্টেশনারির দোকান চালাতেন। কোনো মাস ভালো যেত, কোনো মাসে হিসাব মেলাতে কষ্ট হতো।


তবু মেয়ের পড়াশোনার ব্যাপারে তিনি কখনো না বলেননি।


মাঝে মাঝে রাতে হিসাবের খাতা নিয়ে বসে থাকতেন। মেহরিন দেখত, বাবা কিছু একটা মিলিয়ে দেখছেন।


জিজ্ঞেস করলে বলতেন, "কিছু না মা, তোর বইয়ের টাকার হিসাব করছি।"


তখন সে বুঝত না। এখন বুঝতে পারে।


বিশ্ববিদ্যালয়ের শেষ পরীক্ষার পর যখন চাকরির নিয়োগপত্র হাতে পেল, মেহরিন অনেকক্ষণ চুপ করে ছিল। কাগজটা বারবার দেখছিল।


সে প্রথমে মায়ের কাছেই গেল।


"মা, আমি চাকরি পেয়েছি।"


মা হাসলেন। মেয়েকে জড়িয়ে ধরলেন। কিন্তু কয়েক সেকেন্ড পরই মুখটা একটু থেমে গেল।


মেহরিন সেটা বুঝেছিল। কারণ মায়ের ভয়টা সে জানত।


কয়েকদিন পর থেকেই পরিচিত মানুষের কথা শুরু হলো।


"মেয়ে এখন চাকরি করবে? বিয়ের কী হবে?"


"এত দূরে যাতায়াত করবে কীভাবে?"


"চাকরি আর সংসার একসঙ্গে সামলাতে পারবে?"


কেউ সরাসরি মেহরিনকে বলত না। কিন্তু এসব কথা ঘরের ভেতর ঢুকতে বেশি সময় লাগত না।


এক রাতে বাবা খাবার টেবিলে বসে বললেন, "অফিসটা যদি একটু কাছে হতো ভালো হতো।"


মেহরিন চুপ করে রইল।


"বাবা, তুমি কি চাও আমি চাকরিটা না করি?"


বাবা চমকে তাকালেন। "না না, তা না।"


একটু থেমে বললেন, "তোর কষ্ট হবে কিনা, সেটা ভাবছি।"


মেহরিন নিচের দিকে তাকিয়ে বলল, "কষ্ট তো হবেই বাবা। কিন্তু সব ভালো জিনিস পেতে একটু কষ্ট তো করতেই হয়।"


বাবা আর কিছু বললেন না।


চাকরির প্রথম দিন মেহরিন খুব ভোরে উঠে তৈরি হয়েছিল। নতুন একটা নীল সালোয়ার কামিজ। একটা সাধারণ ক্যানভাসের ব্যাগ।


মা রান্নাঘর থেকে বের হয়ে মেয়েকে কিছুক্ষণ দেখলেন। তারপর বললেন, "নিজের যত্ন নিস।"


মেহরিন একটু অবাক হয়ে তাকাল। কারণ সে ভেবেছিল, মা হয়তো আবার বলবেন, "মানুষ কী বলবে।"


কিন্তু মা সেদিন আর কারও কথা বলেননি।


শুরুর দিনগুলো সহজ ছিল না।


সকালে তাড়াহুড়ো করে বের হওয়া। অফিসের কাজ। ফিরে ঘরের কাজ। অনেক দিন রাতে বিছানায় শুয়ে মনে হতো, আর পারছে না।


কিন্তু পরদিন সকাল হলেই আবার উঠে দাঁড়াত।


তারপর একদিন বাবা অসুস্থ হয়ে পড়লেন।


ডাক্তারের কাছে যাওয়া, পরীক্ষা, ওষুধ, সব মিলিয়ে হঠাৎ করে সংসারের হিসাব বদলে গেল।


মেহরিন নিজের জমানো টাকা বের করল। বাবার চিকিৎসার ব্যবস্থা করল।


যে মানুষগুলো একসময় বলেছিল, "মেয়েদের এত পড়াশোনা করিয়ে লাভ কী?"


তারাই পরে এসে বলল, "মেহরিন তো অনেক দায়িত্বশীল মেয়ে।"


মেহরিন এসব শুনে শুধু হাসত।


এক রাতে বাবা বারান্দায় বসেছিলেন। মেহরিন পাশে গিয়ে বসল।


কিছুক্ষণ দুজনেই চুপ।


তারপর বাবা বললেন, "জানিস, তুই যখন চাকরি করতে চেয়েছিলি, তখন আমি ভয় পেয়েছিলাম।"


মেহরিন হাসল। "কিসের ভয়?"


বাবা ধীরে বললেন, "ভয় ছিল, মানুষ কী বলবে।"


একটু থেমে আবার বললেন, "এখন বুঝি, মানুষ তো দুই দিন কথা বলে। কিন্তু নিজের মানুষ পাশে থাকে অনেক দিন।"


মেহরিন কিছু বলল না। শুধু বাবার হাতটা ধরে রাখল।


কয়েক বছর পর। একদিন মা আলমারি গোছাতে গিয়ে মেহরিনের চাকরির প্রথম দিনের ছবিটা পেলেন।


ছবিটার দিকে তাকিয়ে অনেকক্ষণ চুপ করে ছিলেন। তারপর বললেন, "সেদিন যদি তোকে আটকাতাম..."


মেহরিন মায়ের হাত ধরে বলল, "তাহলে হয়তো আমিও জানতাম না, আমি কী করতে পারি।"


সেদিন রাতে মেহরিন বারান্দায় দাঁড়িয়ে ছিল। দূরে শহরের আলো জ্বলছিল।

আমি মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন, ই-নলেজ এর একজন যাচাইকৃত লেখক। আমি এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত আছি প্রায় 8 মাস 4 সপ্তাহ ধরে, এবং এ পর্যন্ত 1029 টি লেখা ও 0 টি প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছি। আমার অর্জিত মোট পয়েন্ট 20783। ই-নলেজ আমার চিন্তা, জ্ঞান ও কণ্ঠকে সবার মাঝে পৌঁছে দিতে সহায়তা করেছে।
সংযুক্ত তথ্য
নিজস্ব আইডিয়া, ই-নলেজ আইডিয়া এ প্রথম প্রকাশিত
Enolej ID(eID): 4109
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।

এই লেখকের অন্যান্য সিরিজ


বিজ্ঞাপন: Remembering...

Image

এই ব্লগটির প্রতিক্রিয়া দিতে দয়া করে প্রবেশ কিংবা নিবন্ধন করুন ।

সংশ্লিষ্ট ব্লগগুচ্ছ


image
বৃষ্টি ভেজা কাঁধে সন্তানের স্বপ্ন মোহাম্মাদ জাহিদ হোসেন   ছোটগল্প। ডিসেম্বর ২৮, [...] বিস্তারিত পড়ুন...
387 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
অনলে বোনা স্বপ্ন শামীমা আকতার ধোঁয়া ওঠা মোটা ভাত, সাথে ভাজা কলমি শাক— দিতে কি পারি[...] বিস্তারিত পড়ুন...
162 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

#স্বপ্ন_যাত্র #মো_নাছির_উদ্দিন  চাঁদ মুখটি দেখেছি আজি অনেক বছর পর কোন ঘাটেতে কোন বাটেতে  তোমার চরাচর? আছে কি সেথাও কাশ বন দক্ষিনা সমীর জোটে পথের ধারে পলাশ শিমুল  শিউলি বকুল ফোটে? সারি সারি ত�[...] বিস্তারিত পড়ুন...
91 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
স্বপ্ন না থাকলে মানুষ বেঁচে থাকে না মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন বিশ্লেষণধর্মী লেখা | জানু[...] বিস্তারিত পড়ুন...
522 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
পথের ওপারের মানুষ মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ছোট গল্প।  ২৩ জুন,২০২৬ কলেজ থেকে ফেরার পথে [...] বিস্তারিত পড়ুন...
2 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ
📢 Notice Board
No active notices
ই-নলেজ আইডিয়া(Enolej Idea) হলো লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম যেখানে যেকোনো ধরনের লেখা—সাহিত্য, বিজ্ঞান, গবেষণা নোট, মতামত, প্রতিবাদী লেখা, ধর্মীয় চিন্তা, ব্যক্তিগত নোট বা দৈনন্দিন ভাবনা—নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা যায়। এটি সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ছড়িয়ে থাকা অগোছালো কনটেন্টকে একটি ভেরিফাইড, রেফারেন্সযোগ্য ডিজিটাল পোর্টফোলিওতে রূপান্তর করে, যা ব্যক্তির বুদ্ধিবৃত্তিক পরিচিতি ও দীর্ঘমেয়াদি ব্র্যান্ডিং গড়ে তোলে। প্রতিটি লেখার জন্য ইউনিক ডিজিটাল আইডি (eID) ও কপিরাইট সুরক্ষা প্রদান করা হয়, ফলে লেখা চুরি হলেও আসল লেখক সহজে শনাক্তযোগ্য থাকে। ধারাবাহিক কনটেন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাজানো, এক ক্লিকেই ই-বুক বা বইয়ের খসড়ায় রূপান্তর, ব্যক্তিগত খসড়া গোপন রাখা এবং একটি সক্রিয় কমিউনিটির মাধ্যমে পাঠকের সাথে সরাসরি সংযোগ—সব সুবিধাই এখানে একসাথে পাওয়া যায়। ই-নলেজ আইডিয়া মূলত ব্যক্তির চিন্তা ও জ্ঞানকে একটি স্থায়ী, সুরক্ষিত ও সার্বজনীনভাবে স্বীকৃত ডিজিটাল লেখক ইকোসিস্টেমে রূপ দেয়। IDEA = Independent Digital Expression & Authorship.
  1. মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

    1481 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    73 টি আইডিয়া ব্লগ

  2. জামিনুল রেজা

    428 পয়েন্ট

    1 প্রতিক্রিয়া

    1 মন্তব্য

    21 টি আইডিয়া ব্লগ

  3. রফিক আতা

    224 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    11 টি আইডিয়া ব্লগ

  4. ক্বলমী সুর

    155 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    7 টি আইডিয়া ব্লগ

...