Enolej Idea-তে লেখা প্রকাশের নিয়ম জানতে পূর্ণ নির্দেশনা দেখুন...
ই-নলেজ আইডিয়া হলো এমন একটি চিন্তানির্ভর প্ল্যাটফর্ম, যেখানে মানুষ শুধু তথ্য নয়, চিন্তা শেয়ার করে। এখানে জ্ঞানীরা একত্র হন, নতুনরা পথ খুঁজে পান, এবং সবাই মিলে তৈরি হয় একটি জ্ঞানভিত্তিক উম্মাহ। এটি জ্ঞানচর্চাকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ বানানোর একটি প্রচেষ্টা, যেখানে লেখা, ভাবা ও শেখা—সবই হয় মুক্তভাবে।আজই যোগ দিন!নিবন্ধন করতে এখানে ক্লিক করুন...।

-: ই-নলেজ আইডিয়া :-

আপনার লেখার কপিরাইট সুরক্ষা, স্বীকৃতি এবং ফ্রী প্রমোশন, সব এক প্ল্যাটফর্মে!

লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম আপনার লেখার অভিজ্ঞতাই বদলে দিবে। (পড়ুন...)

যদি আপনি হন পাঠক, কিংবা লেখক হিসেবে জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করেন:

যদি আপনার লেখাগুলোর কপিরাইট সুরক্ষা, সুশৃঙ্খলতা, আপনার ভেরিফাইড লেখক পোর্টফলিও এবং লেখক-পাঠকের কেন্দ্রীয় কমিউনিটিতে যুক্ত হতে চান, তাহলে নিবন্ধন করুন লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম “ই-নলেজ আইডিয়া” -এ!

এখানে অনেক প্রতিভাবান লেখক বিভিন্ন সিরিজে লিখছেন। আপনিও চাইলে আপনার লেখাগুলো সিরিজ আকারে সাজাতে পারবেন।

আপনার লেখক প্রোফাইল হবে একদম জীবন্ত পোর্টফলিও, এক ধরনের জীবন্ত বই। এখানে শুধু লেখক নয়, থাকবে পাঠকেরও সংস্পর্শ। ব্যাজ, পয়েন্ট, স্বীকৃতি এবং কপিরাইট সুরক্ষা তো থাকছেই, লেখাগুলো স্ক্যান করলেই আপনার নাম ভেসে উঠবে।

এটি তাই লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

চলুন বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক....

পূর্ণ নির্দেশনা [Full Guideline]

ই-নলেজ আইডিয়া – লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

সুন্দর হওয়ার অপরাধ

0 পছন্দ 0 অপছন্দ
5 বার প্রদর্শিত
করেছেন (29,829 পয়েন্ট)   13 ঘন্টা পূর্বে "গল্প" বিভাগে লেখা প্রকাশিত
পোষ্ট আইডি(eID) কার্ড↓ - লেখনীর স্বত্ব ও গুণের পরিচয়!

সুন্দর হওয়ার অপরাধimage

মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

ছোটগল্প। ২৬ অক্টোবর ২০২৬


আমার বড় বোনের বিয়ে হচ্ছে না, কারণ আমি দেখতে তার চেয়ে সুন্দর।


কথাটা বলতে আমার লজ্জা হয়। বোনের বিয়ে ভেঙে যাওয়ার পেছনে আমার হাত ছিল, এ কথাটাও কাউকে বলতে পারিনি।


আমাদের বাড়িতে বিয়ের সম্বন্ধ এলে প্রথমে বড় বোন মিতুর ছবি পাঠানো হতো। তারপর কোনো একপর্যায়ে ছেলের বাড়ির লোকজন আমাকে দেখতে চাইত। মা বলতেন, “ছোট মেয়েটাকেও একবার দেখবেন। দুই বোন তো একই বাড়িতে থাকে।”


সেই একবার দেখাটাই ধীরে ধীরে নিয়ম হয়ে গেল।


ছেলের মা মিতুর সঙ্গে কথা বলতে বলতে হঠাৎ আমাকে জিজ্ঞেস করতেন, “তুমি কী পড়ছ?”


কেউ বলতেন, “ছোট মেয়েটা তো বেশ সুন্দর!”


কথাটা বলার সময় তাঁরা এমনভাবে মিতুর দিকে তাকাতেন, যেন তাঁর সামনে বসে থাকা মানুষটার কোনো ঘাটতি আছে।


মিতু হাসত। চায়ের কাপ এগিয়ে দিত। তারপর রান্নাঘরে চলে যেত।


একদিন ওকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, “তোর খারাপ লাগে না?”


মিতু কাপ ধুতে ধুতে বলেছিল, “কীসের?”


“সবাই তোকে দেখতে এসে আমার কথা বলে।”


ও কলটা বন্ধ করে আমার দিকে তাকিয়েছিল।


“তুই কি ইচ্ছে করে সুন্দর হয়েছিস?”


আমি হেসে বলেছিলাম, “আহা, আমি কী করব?”


মিতু আর কথা বাড়ায়নি।


গত বছর ওর জন্য একটা সম্বন্ধ এসেছিল। ছেলেটা ব্যাংকে চাকরি করত। তার মা ফোনে মিতুর সঙ্গে কথা বলে পছন্দ করেছিলেন। দুই পরিবার দেখা করার দিন ঠিক করল।


সেদিন মিতু নিজের পছন্দের নীল শাড়িটা বের করেছিল। আমাকে ডেকে বলল, “দেখ তো, কেমন লাগছে?”


আমি বললাম, “ভালো।”


ও আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে চুল বাঁধছিল। অনেক দিন পর ওকে এতটা খুশি দেখাচ্ছিল।


ছেলের বাড়ির লোকজন আসার আগে মা আমাকে বললেন, “তুইও একটু সাজগোজ করে থাকিস। ওরা যদি তোর কথাও জিজ্ঞেস করে!”


আমি নতুন জামাটা বের করলাম। মেহমান আসবে, একটু সেজে থাকলে ক্ষতি কী? চুল ছেড়ে রাখলাম, হালকা সাজলাম। আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে একবার নিজের দিকে তাকালাম। মিতুর শাড়িটা নীল, আমার জামাটা একটু বেশি উজ্জ্বল। বিষয়টা তখন আর মনে হলো না।


ছেলের বাড়ির লোকজন আসার পর প্রথমে মিতুর সঙ্গে কথা হলো। তারপর ছেলের মা আমার দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করলেন, “তোমার বিয়ের কথা চলছে?”


আমি বললাম, “না, এখনো না।”


তিনি মৃদু হেসে বললেন, “তোমার জন্য তো ভালো সম্বন্ধ পাওয়া কঠিন হবে না।”


মিতু তখন চায়ের কাপ হাতে দাঁড়িয়ে ছিল। তার মুখের হাসিটা ধীরে ধীরে মিলিয়ে গেল।


যাওয়ার আগে ছেলের মা আমার পড়াশোনা, পছন্দ-অপছন্দ নিয়ে অনেক কথা বললেন। মিতুর সঙ্গে আর বিশেষ কথা হলো না।


কয়েক দিন পর খবর এল, সম্বন্ধটা আর এগোবে না।


মা বললেন, “ওদের নাকি মেয়েকে পছন্দ হয়নি।”


আমি চুপ করে ছিলাম। যাওয়ার আগে ছেলের মা আমাকে আলাদা করে বলেছিলেন, তাঁর ছেলে নাকি ছোট মেয়েটার কথা বেশি জানতে চাইছে।


কয়েক সপ্তাহ পর ছেলেটা আমাকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বার্তা পাঠাল।


“আপনার সঙ্গে সেদিন ঠিকমতো কথা বলা হয়নি। আপনার আপত্তি না থাকলে পরিচিত হতে চাই।”


বার্তাটা পড়ে অনেকক্ষণ বসে ছিলাম। তারপর উত্তর দিলাম, “আমার আপত্তি নেই।”


কথা চলতে থাকল। একদিন সে সরাসরি বিয়ের কথা বলল।


আমি জানতাম, সে মিতুকে বিয়ে করতে এসেছিল। তবু কথাটা থামাইনি। মিতুকে কিছু বলার কথাও মনে এসেছিল, কিন্তু শেষ পর্যন্ত বলিনি।


এক সন্ধ্যায় মিতু আমার ফোনের পর্দায় ছেলেটার নাম দেখে ফেলল।


ও ফোন কেড়ে নেয়নি, চিৎকারও করেনি। শুধু জিজ্ঞেস করেছিল, “ও কি তোকে বিয়ে করতে চায়?”


আমি চুপ করে ছিলাম।


মিতু আবার বলল, “তুই কি জানিস, ওরা প্রথমে আমার জন্য এসেছিল?”


আমি মাথা নিচু করলাম।


“জানি।”


ও আর কিছু জিজ্ঞেস করেনি। নিজের ঘরে চলে গিয়েছিল।


পরদিন সকালে মিতু নাশতা বানিয়েছিল। আমার চায়ে চিনি কম হয়েছে কি না, সেটাও জিজ্ঞেস করেছিল। শুধু বিয়ের সম্বন্ধ এলে ও আর আয়নার সামনে দাঁড়াত না। নতুন শাড়িও বের করত না।


গত সপ্তাহে এক আত্মীয়া মাকে বলছিলেন, “ছোট মেয়েটার বিয়ে আগে দিয়ে দিন। বড়টার জন্য পরে দেখা যাবে।”


মা কোনো উত্তর দেননি।


মিতু পাশের ঘর থেকে কথাটা শুনেছিল। সন্ধ্যায় নিজের আলমারি খুলে নীল শাড়িটা ভাঁজ করে নিচের তাকে রেখে দিল।


আমি দরজায় দাঁড়িয়ে ছিলাম।


“শাড়িটা পরিস না কেন?”


মিতু আলমারি বন্ধ করে বলল, “এমনিই।”


তারপর আমার দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করল, “তোর ওই ছেলেটার সঙ্গে কথা হয় এখনো?”


আমি মাথা নিচু করলাম।


“না।”


মিতু কিছুক্ষণ চুপ করে রইল। তারপর বলল, “ভালো।”

আমি মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন, ই-নলেজ এর একজন যাচাইকৃত লেখক। আমি এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত আছি প্রায় 1 বছর 1 মাস ধরে, এবং এ পর্যন্ত 1476 টি লেখা ও 0 টি প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছি। আমার অর্জিত মোট পয়েন্ট 29829। ই-নলেজ আমার চিন্তা, জ্ঞান ও কণ্ঠকে সবার মাঝে পৌঁছে দিতে সহায়তা করেছে।
সংযুক্ত তথ্য
নিজস্ব আইডিয়া, ই-নলেজ আইডিয়া এ প্রথম প্রকাশিত
Enolej ID(eID): 5097
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।

এই লেখকের অন্যান্য সিরিজ


বিজ্ঞাপন: Remembering...

Image

এই ব্লগটির প্রতিক্রিয়া দিতে দয়া করে প্রবেশ কিংবা নিবন্ধন করুন ।

সংশ্লিষ্ট ব্লগগুচ্ছ


image
কবি হওয়ার নীরব লড়াই মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন বিশ্লেষণধর্মী | ১২ মার্চ ২০২৬ রাত প্রা[...] বিস্তারিত পড়ুন...
533 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
যে অন্যায় কেউ মনে রাখেনি (নীরবতা, বিবেক ও সামাজিক অপরাধ) মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ছোটগ&#[...] বিস্তারিত পড়ুন...
4 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
না বলার অপরাধ (নারী, পরিবার ও সামাজিক মনস্তত্ত্ব) মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন বিশ্লেষণমূ[...] বিস্তারিত পড়ুন...
15 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
বাবাকে ব্লক করেছি মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ছোটগল্প। ২৭ অক্টোবর ২০২৬ আমি আমার বাবাকে &[...] বিস্তারিত পড়ুন...
8 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
ঝোলে মাছের গন্ধ মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ছোটগল্প। ২৬ অক্টোবর ২০২৬ আমার মা মারা যাওয়&[...] বিস্তারিত পড়ুন...
7 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ
📢 Notice Board
No active notices
ই-নলেজ আইডিয়া(Enolej Idea) হলো লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম যেখানে যেকোনো ধরনের লেখা—সাহিত্য, বিজ্ঞান, গবেষণা নোট, মতামত, প্রতিবাদী লেখা, ধর্মীয় চিন্তা, ব্যক্তিগত নোট বা দৈনন্দিন ভাবনা—নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা যায়। এটি সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ছড়িয়ে থাকা অগোছালো কনটেন্টকে একটি ভেরিফাইড, রেফারেন্সযোগ্য ডিজিটাল পোর্টফোলিওতে রূপান্তর করে, যা ব্যক্তির বুদ্ধিবৃত্তিক পরিচিতি ও দীর্ঘমেয়াদি ব্র্যান্ডিং গড়ে তোলে। প্রতিটি লেখার জন্য ইউনিক ডিজিটাল আইডি (eID) ও কপিরাইট সুরক্ষা প্রদান করা হয়, ফলে লেখা চুরি হলেও আসল লেখক সহজে শনাক্তযোগ্য থাকে। ধারাবাহিক কনটেন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাজানো, এক ক্লিকেই ই-বুক বা বইয়ের খসড়ায় রূপান্তর, ব্যক্তিগত খসড়া গোপন রাখা এবং একটি সক্রিয় কমিউনিটির মাধ্যমে পাঠকের সাথে সরাসরি সংযোগ—সব সুবিধাই এখানে একসাথে পাওয়া যায়। ই-নলেজ আইডিয়া মূলত ব্যক্তির চিন্তা ও জ্ঞানকে একটি স্থায়ী, সুরক্ষিত ও সার্বজনীনভাবে স্বীকৃত ডিজিটাল লেখক ইকোসিস্টেমে রূপ দেয়। IDEA = Independent Digital Expression & Authorship.
  1. মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

    2225 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    11 মন্তব্য

    110 টি আইডিয়া ব্লগ

  2. Mayabi Ilmaz Megh

    210 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    10 টি আইডিয়া ব্লগ

  3. প্রিন্স ফ্রেরাসে

    127 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    6 টি আইডিয়া ব্লগ

  4. জামিনুল রেজা

    83 পয়েন্ট

    1 প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    4 টি আইডিয়া ব্লগ

...