Enolej Idea-তে লেখা প্রকাশের নিয়ম জানতে পূর্ণ নির্দেশনা দেখুন...
ই-নলেজ আইডিয়া হলো এমন একটি চিন্তানির্ভর প্ল্যাটফর্ম, যেখানে মানুষ শুধু তথ্য নয়, চিন্তা শেয়ার করে। এখানে জ্ঞানীরা একত্র হন, নতুনরা পথ খুঁজে পান, এবং সবাই মিলে তৈরি হয় একটি জ্ঞানভিত্তিক উম্মাহ। এটি জ্ঞানচর্চাকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ বানানোর একটি প্রচেষ্টা, যেখানে লেখা, ভাবা ও শেখা—সবই হয় মুক্তভাবে।আজই যোগ দিন!নিবন্ধন করতে এখানে ক্লিক করুন...।

-: ই-নলেজ আইডিয়া :-

আপনার লেখার কপিরাইট সুরক্ষা, স্বীকৃতি এবং ফ্রী প্রমোশন, সব এক প্ল্যাটফর্মে!

লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম আপনার লেখার অভিজ্ঞতাই বদলে দিবে। (পড়ুন...)

যদি আপনি হন পাঠক, কিংবা লেখক হিসেবে জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করেন:

যদি আপনার লেখাগুলোর কপিরাইট সুরক্ষা, সুশৃঙ্খলতা, আপনার ভেরিফাইড লেখক পোর্টফলিও এবং লেখক-পাঠকের কেন্দ্রীয় কমিউনিটিতে যুক্ত হতে চান, তাহলে নিবন্ধন করুন লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম “ই-নলেজ আইডিয়া” -এ!

এখানে অনেক প্রতিভাবান লেখক বিভিন্ন সিরিজে লিখছেন। আপনিও চাইলে আপনার লেখাগুলো সিরিজ আকারে সাজাতে পারবেন।

আপনার লেখক প্রোফাইল হবে একদম জীবন্ত পোর্টফলিও, এক ধরনের জীবন্ত বই। এখানে শুধু লেখক নয়, থাকবে পাঠকেরও সংস্পর্শ। ব্যাজ, পয়েন্ট, স্বীকৃতি এবং কপিরাইট সুরক্ষা তো থাকছেই, লেখাগুলো স্ক্যান করলেই আপনার নাম ভেসে উঠবে।

এটি তাই লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

চলুন বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক....

পূর্ণ নির্দেশনা [Full Guideline]

ই-নলেজ আইডিয়া – লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

ভাঙা মগ

0 পছন্দ 0 অপছন্দ
2 বার প্রদর্শিত
করেছেন (19,872 পয়েন্ট)   11 ঘন্টা পূর্বে "গল্প" বিভাগে লেখা প্রকাশিত
পোষ্ট আইডি(eID) কার্ড↓ - লেখনীর স্বত্ব ও গুণের পরিচয়!

ভাঙা মগimage

মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

ছোটগল্প। ১৩ জুন ১০২৬


ডিভোর্সের কাগজে সই করার সময় মেহরিন কাঁদেনি। আদালত থেকে বের হয়ে রিকশায় উঠে বসেছিল। রিকশাওয়ালা জিজ্ঞেস করেছিল, “কোথায় যাবেন আপা?” কয়েক সেকেন্ড থেমে সে বলেছিল, “মিরপুর।”


মায়ের বাসায় পৌঁছে নিজের ঘরে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দিল। সন্ধ্যায় মা এসে বললেন, “একটু ভাত খেয়ে নে।” মেহরিন বলল, “পরে খাব।” খাওয়া আর হলো না। রাতটা জেগে কেটেছে, ভোরের দিকে একটু চোখ লেগেছিল। ঘুম ভাঙার পর কিছুক্ষণ বসে রইল। পাশের দিকে হাত বাড়াল, অর্ধেক বিছানা খালি। হাতটা মাঝপথেই থেমে গেল।


ঘরের কোণে রাখা স্যুটকেসটা চোখে পড়ল। গত রাতে খুলেছিল। কাপড় সরাতে সরাতে ভেতর থেকে বেরিয়ে এসেছিল একটা সাদা মগ, হাতল ভাঙা।


বিয়ের প্রথম ঈদে পাওয়া উপহার। একদিন হাত থেকে পড়ে গিয়েছিল। তখন আর ফেলে দেয়নি, “পরে ঠিক করব” ভেবে রেখে দিয়েছিল। পরে আর কিছুই ঠিক হয়নি, শুধু লুকিয়ে রাখা হয়েছিল কাপড়ের ভেতর।


মেহরিন মগটা কিছুক্ষণ ধরে দেখল। ভাঙা অংশে আঙুল ছুঁইয়ে আবার কাপড়ের নিচে ঢুকিয়ে দিল।


এরপর দিনগুলো খুব আলাদা ছিল না, শুধু ভারী ছিল। ফোন আসত। আত্মীয়, পরিচিত, অনেকদিন কথা নেই এমন মানুষও।


“কী হয়েছিল?”

“এত দূর কেন গেল?”

“আরেকটু মানিয়ে নিতে পারতে না?”


মেহরিন সব প্রশ্নের উত্তর দিত না। কখনও বলত, “সব কথা সবার জন্য না।” কখনও চুপ থাকত।


এক বিকেলে পাড়ার এক খালাম্মা মায়ের সঙ্গে বসে বললেন, “মেয়েদের একটু সহ্যশক্তি থাকতে হয়। এখনকার মেয়েরা একটু তাড়াতাড়ি সিদ্ধান্ত নেয়।”


পাশের ঘর থেকে মেহরিন রান্নাঘরের দিকে তাকিয়ে বলল, “মা, চায়ে চিনি দিয়েছ তো?”


চামচের শব্দ থেমে গেল। মা এক মুহূর্ত চুপ করে গেলেন। খালাম্মা আর কিছু বললেন না। ঘরটা অস্বাভাবিকভাবে চুপ হয়ে রইল কিছুক্ষণ।


মেহরিন আবার নিজের কাজে ফিরে গেল।


সেদিন রাতে ঘুম আসেনি। জানালার পাশে বসে ছিল। মানুষ কত সহজে অন্যের জীবনের হিসাব বসিয়ে দেয়, অথচ ভেতরের লড়াই দেখে না।


কয়েক মাস পর একটা চাকরি পেল। শুরুটা সহজ ছিল না। নতুন মানুষ, নতুন নিয়ম।


একদিন রিপোর্টে ভুল হলো। বস সবার সামনে বকা দিলেন। মেহরিন কিছু বলল না। বাথরুমে গিয়ে আয়নার সামনে দাঁড়াল। চোখ ভিজে আসছিল। কয়েক সেকেন্ড নিজের দিকে তাকিয়ে রইল।


তারপর খুব আস্তে বলল, “এইটুকুতেই থেমে যাবি?”


মুখে পানি দিয়ে ফিরে গেল ডেস্কে।


মাসের শেষে প্রথম বেতন হাতে পেল। টাকাটা বড় না, কিন্তু নিজের মনে হলো এটা আলাদা কিছু। সেদিন নিজের জন্য একটা শাড়ি কিনল, মায়ের জন্য একটা ব্যাগ।


মা ব্যাগটা হাতে নিয়ে বললেন, “এগুলো কেন?”

মেহরিন বলল, “ইচ্ছে হলো।”

মা কিছু বললেন না, শুধু একটু হাসলেন।


সময়ের সাথে সাথে মানুষের কথা কমেনি, শুধু তার ভেতরের কাঁপা কমে গেছে।


একদিন অফিসের ক্যান্টিনে একা বসে চা খাচ্ছিল। কারও জন্য অপেক্ষা নেই, কারও সাথে হিসাব নেই। অদ্ভুতভাবে হালকা লাগল।


সেদিন বুঝেছিল, একা থাকা আর একাকী থাকা এক জিনিস না।


এক সন্ধ্যায় বাসে জানালার পাশে বসেছিল মেহরিন। শহরের আলো জ্বলতে শুরু করেছে। ফোন বাজল। মা।


“কোথায় তুই?”

“পৌঁছে যাচ্ছি।”

“ডিম নিয়ে আসিস কিন্তু।”

“আচ্ছা।”


ফোন কেটে জানালার বাইরে তাকাল।


শহর আগের মতোই চলছে।


হঠাৎ স্যুটকেসের ভেতরের ভাঙা মগটার কথা মনে পড়ল। অনেকদিন খোলা হয়নি। হয়তো এখনও আছে, একই জায়গায়।


জানালার বাইরে শহর চলতে থাকল। ভেতরে, কাপড়ের নিচে, একটা ভাঙা হাতল চুপচাপ পড়ে রইল।


আর সেটাই যথেষ্ট।

আমি মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন, ই-নলেজ এর একজন যাচাইকৃত লেখক। আমি এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত আছি প্রায় 8 মাস 2 সপ্তাহ ধরে, এবং এ পর্যন্ত 984 টি লেখা ও 0 টি প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছি। আমার অর্জিত মোট পয়েন্ট 19872। ই-নলেজ আমার চিন্তা, জ্ঞান ও কণ্ঠকে সবার মাঝে পৌঁছে দিতে সহায়তা করেছে।
সংযুক্ত তথ্য
নিজস্ব আইডিয়া, ই-নলেজ আইডিয়া এ প্রথম প্রকাশিত
Enolej ID(eID): 4061
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।

এই লেখকের অন্যান্য সিরিজ


বিজ্ঞাপন: Remembering...

Image

এই ব্লগটির প্রতিক্রিয়া দিতে দয়া করে প্রবেশ কিংবা নিবন্ধন করুন ।

সংশ্লিষ্ট ব্লগগুচ্ছ


 যেখানে ভাঙা মানুষও দাঁড়িয়ে থাকে মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন  ছোট গল্প। মে ১৪,২০২৬ (বাস্ত[...] বিস্তারিত পড়ুন...
353 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

রবীন্দ্রনাথের ভাঙা লেখা মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন বিশ্লেষণধর্মী। মে ১১, ২০২৬ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে আমরা প্রায়ই এক ধরনের পরিপূর্ণতার কাঠামোর ভেতর রেখে বুঝে নিতে চাই—কবিতা, গান, নাটক, প্রবন্ধ; সব�[...] বিস্তারিত পড়ুন...
417 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
একজন লেখকের ভাঙা রাতগুলো মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন বিশ্লেষণধর্মী | ১৪ মার্চ ২০২৬ সাহ[...] বিস্তারিত পড়ুন...
90 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

#তুমি_অনিবার্য পর্ব: ১২ লেখনী: ইসরাত জাহান কৃষ্ণনগরের প্রান্তসীমায় যেখানে জলঙ্গী নদী তার চেনা বাঁক ছেড়ে এক নির্জন শ্মশান আর ভাঙা ঘাটের দিকে ধাবিত হয়েছে, সেখানকার বাতাস আজ ভারী হয়ে আছে এক অপ�[...] বিস্তারিত পড়ুন...
114 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
 নামটা মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন   ছোটগল্প। ১২ জুন, ২০২৬ সেদিন রাফি স্কুল থেকে ফিরে সো[...] বিস্তারিত পড়ুন...
169 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ
📢 Notice Board
No active notices
ই-নলেজ আইডিয়া(Enolej Idea) হলো লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম যেখানে যেকোনো ধরনের লেখা—সাহিত্য, বিজ্ঞান, গবেষণা নোট, মতামত, প্রতিবাদী লেখা, ধর্মীয় চিন্তা, ব্যক্তিগত নোট বা দৈনন্দিন ভাবনা—নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা যায়। এটি সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ছড়িয়ে থাকা অগোছালো কনটেন্টকে একটি ভেরিফাইড, রেফারেন্সযোগ্য ডিজিটাল পোর্টফোলিওতে রূপান্তর করে, যা ব্যক্তির বুদ্ধিবৃত্তিক পরিচিতি ও দীর্ঘমেয়াদি ব্র্যান্ডিং গড়ে তোলে। প্রতিটি লেখার জন্য ইউনিক ডিজিটাল আইডি (eID) ও কপিরাইট সুরক্ষা প্রদান করা হয়, ফলে লেখা চুরি হলেও আসল লেখক সহজে শনাক্তযোগ্য থাকে। ধারাবাহিক কনটেন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাজানো, এক ক্লিকেই ই-বুক বা বইয়ের খসড়ায় রূপান্তর, ব্যক্তিগত খসড়া গোপন রাখা এবং একটি সক্রিয় কমিউনিটির মাধ্যমে পাঠকের সাথে সরাসরি সংযোগ—সব সুবিধাই এখানে একসাথে পাওয়া যায়। ই-নলেজ আইডিয়া মূলত ব্যক্তির চিন্তা ও জ্ঞানকে একটি স্থায়ী, সুরক্ষিত ও সার্বজনীনভাবে স্বীকৃত ডিজিটাল লেখক ইকোসিস্টেমে রূপ দেয়। IDEA = Independent Digital Expression & Authorship.
  1. মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

    570 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    28 টি আইডিয়া ব্লগ

  2. জামিনুল রেজা

    428 পয়েন্ট

    1 প্রতিক্রিয়া

    1 মন্তব্য

    21 টি আইডিয়া ব্লগ

  3. রফিক আতা

    224 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    11 টি আইডিয়া ব্লগ

  4. ক্বলমী সুর

    134 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    6 টি আইডিয়া ব্লগ

...