Enolej Idea-তে লেখা প্রকাশের নিয়ম জানতে পূর্ণ নির্দেশনা দেখুন...
ই-নলেজ আইডিয়া হলো এমন একটি চিন্তানির্ভর প্ল্যাটফর্ম, যেখানে মানুষ শুধু তথ্য নয়, চিন্তা শেয়ার করে। এখানে জ্ঞানীরা একত্র হন, নতুনরা পথ খুঁজে পান, এবং সবাই মিলে তৈরি হয় একটি জ্ঞানভিত্তিক উম্মাহ। এটি জ্ঞানচর্চাকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ বানানোর একটি প্রচেষ্টা, যেখানে লেখা, ভাবা ও শেখা—সবই হয় মুক্তভাবে।আজই যোগ দিন!নিবন্ধন করতে এখানে ক্লিক করুন...।

-: ই-নলেজ আইডিয়া :-

আপনার লেখার কপিরাইট সুরক্ষা, স্বীকৃতি এবং ফ্রী প্রমোশন, সব এক প্ল্যাটফর্মে!

লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম আপনার লেখার অভিজ্ঞতাই বদলে দিবে। (পড়ুন...)

যদি আপনি হন পাঠক, কিংবা লেখক হিসেবে জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করেন:

যদি আপনার লেখাগুলোর কপিরাইট সুরক্ষা, সুশৃঙ্খলতা, আপনার ভেরিফাইড লেখক পোর্টফলিও এবং লেখক-পাঠকের কেন্দ্রীয় কমিউনিটিতে যুক্ত হতে চান, তাহলে নিবন্ধন করুন লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম “ই-নলেজ আইডিয়া” -এ!

এখানে অনেক প্রতিভাবান লেখক বিভিন্ন সিরিজে লিখছেন। আপনিও চাইলে আপনার লেখাগুলো সিরিজ আকারে সাজাতে পারবেন।

আপনার লেখক প্রোফাইল হবে একদম জীবন্ত পোর্টফলিও, এক ধরনের জীবন্ত বই। এখানে শুধু লেখক নয়, থাকবে পাঠকেরও সংস্পর্শ। ব্যাজ, পয়েন্ট, স্বীকৃতি এবং কপিরাইট সুরক্ষা তো থাকছেই, লেখাগুলো স্ক্যান করলেই আপনার নাম ভেসে উঠবে।

এটি তাই লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

চলুন বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক....

পূর্ণ নির্দেশনা [Full Guideline]

ই-নলেজ আইডিয়া – লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

যে স্বপ্নের দাম বেশি

0 পছন্দ 0 অপছন্দ
3 বার প্রদর্শিত
করেছেন (25,069 পয়েন্ট)   1 ঘন্টা পূর্বে "গল্প" বিভাগে লেখা প্রকাশিত
পোষ্ট আইডি(eID) কার্ড↓ - লেখনীর স্বত্ব ও গুণের পরিচয়!

 যে স্বপ্নের দাম বেশিimage

মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন 

ছোট গল্প। ১৭ আগষ্ট, ২০২৬


মেঘলা একদিন হঠাৎ বলল, “বাবা, আমি কিন্তু একদিন নিজের একটা গাড়ি কিনব।”


অভিক তখন বারান্দার গ্রিল মুছছিল। কাঁধে পুরোনো গামছা। মেয়ের কথা শুনে হাত থামিয়ে তাকাল। “গাড়ি?”


“হ্যাঁ। নিজের টাকায়। তোমার মতো কিস্তি, ধার—এসব ছাড়া।”


পাশের ঘর থেকে মিশি ফোড়ন কাটল, “আগে চাকরিটা পাস কর, তারপর গাড়ি।”


“তুই চুপ করবি?”


“ভুল কী বললাম?”


অভিক হেসে ফেলল। “কিনবি। কেন কিনবি না? স্বপ্ন দেখতে কি টাকা লাগে?”


রান্নাঘর থেকে নিশি বলল, “স্বপ্ন দেখতে লাগে না। পূরণ করতে লাগে।”


অভিক আর কথা বাড়াল না। গামছাটা দিয়ে আবার গ্রিল ঘষতে লাগল।


মাসের শেষদিকে সংসারটা এমনিতেই টানাটানিতে চলে। ফ্রিজের মাথায় রাখা ছোট খাতাটা খুলে আগের রাতে অভিক হিসাব করেছিল—বাড়িভাড়া, বাজার, বিদ্যুৎ, মেঘলার বিশ্ববিদ্যালয়ের ফি, মিশির সেমিস্টার ফি। সব যোগ করার পর পাতার নিচে নিজের জন্য আর কিছুই থাকল না। খাতাটা বন্ধ করে সে উঠে গিয়েছিল।


মেঘলা তখন বিশ্ববিদ্যালয়ের শেষ বর্ষে। কয়েক মাস ধরে বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য একটা স্কলারশিপের চেষ্টা করছিল। এক সন্ধ্যায় দরজা খুলেই চিৎকার করে উঠল, “বাবা!”


অভিক টেবিলে বসে পেঁয়াজ কাটছিল। “কী হলো?”


“আমার নাম এসেছে!”

“কোথায়?”

মেঘলা মোবাইলটা তার সামনে ধরল। “শর্টলিস্টে।”


অভিক চশমা চোখে দিয়ে অনেকক্ষণ তাকিয়ে রইল। “ভালো করেছিস।”

“শুধু ভালো?”

“খুব ভালো করেছিস।”

মেঘলা বাবাকে জড়িয়ে ধরল। একটু পর আস্তে করে বলল, “একটা সমস্যা আছে।”


“কী?”

“কিছু টাকা লাগবে।”


অভিকের হাতে থাকা ছুরিটা থেমে গেল। “কত?”


মেঘলা অঙ্কটা বলল। কয়েক সেকেন্ড চুপ থেকে অভিক বলল, “হবে।”


“সত্যি?”

“হবে বলছি তো।”


মেঘলা চলে যেতেই নিশি রান্নাঘর থেকে বেরিয়ে এল। “কোথা থেকে হবে?”


অভিক আবার পেঁয়াজ কাটতে শুরু করল। “দেখব।”


নিশি তাকিয়ে রইল। “তোমার এই ‘দেখব’ কথাটাই আমার ভয় লাগে।”


“কেন?”


“এরপর তুমি নিজের কিছু একটা বিক্রি করে দাও।”


অভিক একটু বিরক্ত হয়ে বলল, “সবকিছুতেই আগে থেকে ভয় পাও কেন?”


“কারণ তোমাকে চিনি।”


দুদিন পর আলমারি খুলে অভিক বাবার দেওয়া পুরোনো ঘড়িটা বের করল। কাঁচে সরু একটা আঁচড়। বেল্ট শক্ত হয়ে গেছে। নিশি দরজায় দাঁড়িয়ে বলল, “ওটা নিও না।”


“কেন?”

“তোমার বাবার ঘড়ি।”

“জানি।”

“তাহলে?”

অভিক ঘড়িটা হাতে ঘুরিয়ে বলল, “মেঘলার দরকার।”


“সব প্রশ্নের এক উত্তর দাও কেন?”


অভিক পকেটে ঘড়িটা ঢুকিয়ে বলল, “আছে তো, তোরাই তো আছিস। আর কী লাগে?”


নিশি ধীরে বলল, “তোমার নিজের কিছু লাগে না?”


অভিক উত্তর দিল না।


সেদিন রাতে মেঘলা আবার টাকার কথা তুলল। “বাবা, ওরা সময় দিয়েছে।”


“জানি।”

“আর কতদিন?”

“দুদিন দে।”

“তুমি সবসময় দুদিন বলো।”


অভিক বিরক্ত হয়ে বলল, “তাহলে কী বলব? কালই হবে?”


“আমি সেটা বলিনি। তুমি যদি আগে বলতে টাকার সমস্যা, আমি অন্যভাবে চেষ্টা করতাম।”


“আমি কি বলেছি পারব না?”


“না। কিন্তু তুমি শুধু বলো ব্যবস্থা করছি। কী ব্যবস্থা করছ, সেটা তো বলো না।”


অভিক চেয়ার সরিয়ে উঠে গেল।


রাতে মেঘলার ঘুম এল না। পানি খেতে উঠে দেখল, বারান্দার আলো জ্বলছে। অভিক একা বসে। সামনে হিসাবের খাতা। বাড়িভাড়া, মেঘলার ফি, মিশির ফি, বাজার, বিদ্যুৎ—সব লেখা। তার নিচে ছোট করে লেখা, শার্ট—১২০০। পাশে পেন্সিলের দাগ। কেটে দেওয়া হয়েছে।


মেঘলা আস্তে বলল, “বাবা।”

অভিক খাতা বন্ধ করল। “ঘুমাসনি?”

“না। শার্টটা কেটে দিলে কেন?”

“পরে কিনব।”

“ঘড়িটাও বিক্রি করেছ?”

“হুম।”

“আমার জন্য?”

অভিক একটু থেমে বলল, “তোর ফর্মের জন্য।”


মেঘলা নিচু হয়ে বসে পড়ল। “আমি যদি না যাই?”

“কোথায়?”

“বিদেশে।”

অভিক এবার তাকাল। “কেন?”

“এত টাকা লাগবে...”

“এসব নিয়ে এখন ভাবিস না। তুই পড়াটা ঠিকমতো কর।”


মেঘলা কিছুক্ষণ চুপ থেকে বলল, “তোমার সামনে কিছু নেই?”


অভিক হেসে ফেলল। “আছে তো। কাল সকালে বাজারে যেতে হবে। সকালে গেলে মাছটা একটু কমে পাওয়া যায়।”


মেঘলাও হেসে ফেলল।


পরদিন সে বিদেশ যাওয়ার স্বপ্নটা বাদ দিল না। শুধু পুরোটা বাবার ঘাড়ে চাপিয়ে রাখল না। বিশ্ববিদ্যালয়ের এক স্যারের সঙ্গে কথা বলল, আরেকটা স্কলারশিপে আবেদন করল, পার্টটাইম কাজের খোঁজ শুরু করল। মিশিও তার স্টুডিওর পরিকল্পনা ছোট করল। বন্ধুর সঙ্গে অনলাইনে কাজ শুরু করল।


সংসারের টানাটানি অবশ্য কমল না।


একদিন বাজার থেকে ফিরে নিশি অভিকের শার্টের ছেঁড়া কলারটা দেখে বলল, “এইটা পরে অফিসে যাবে?”


“যাবে।”

“একটা নতুন কিনো।”

“এই মাসে?”

“হ্যাঁ।”

অভিক হেসে বলল, “টাকা দেবে?”


নিশি তার দিকে তাকিয়ে বলল, “দেখব।”

অভিক হেসে ফেলল।

বেতনের দিন অফিস থেকে ফেরার পথে সে একটা দোকানে ঢুকল। অনেকক্ষণ দেখে একটা শার্ট পছন্দ করল। দাম শুনে একটু থামল। তারপর বলল, “এটাই দেন।”


বাড়িতে ঢুকতেই মিশি বলল, “বাবা, নতুন শার্ট?”

“হুম।”


মেঘলা এসে বলল, “ভালো লাগছে।”

অভিক তাকিয়ে হাসল। “সত্যি?”


“হ্যাঁ।”

নিশি রান্নাঘর থেকে বলল, “চা দেব?”

“দাও।”


“আজ এত খুশি কেন?”


অভিক নতুন শার্টের হাতা গুটাতে গুটাতে বলল, “কিছু না। নিজের জন্য কিনলাম তো।”


তারপর বারান্দায় গিয়ে দাঁড়াল। মেঘলা দরজার কাছে দাঁড়িয়ে বাবার দিকে তাকিয়ে রইল।


অভিক নিচের রাস্তার দিকে তাকিয়ে শার্টের হাতাটা আরেকটু গুটিয়ে নিল।

আমি মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন, ই-নলেজ এর একজন যাচাইকৃত লেখক। আমি এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত আছি প্রায় 10 মাস 3 সপ্তাহ ধরে, এবং এ পর্যন্ত 1241 টি লেখা ও 0 টি প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছি। আমার অর্জিত মোট পয়েন্ট 25069। ই-নলেজ আমার চিন্তা, জ্ঞান ও কণ্ঠকে সবার মাঝে পৌঁছে দিতে সহায়তা করেছে।
সংযুক্ত তথ্য
নিজস্ব আইডিয়া, ই-নলেজ আইডিয়া এ প্রথম প্রকাশিত
Enolej ID(eID): 4673
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।

এই লেখকের অন্যান্য সিরিজ


বিজ্ঞাপন: Remembering...

Image

এই ব্লগটির প্রতিক্রিয়া দিতে দয়া করে প্রবেশ কিংবা নিবন্ধন করুন ।

সংশ্লিষ্ট ব্লগগুচ্ছ


image
শেষ পর্যন্ত কেউ জেতেনি   পর্ব–৭ : যে স্বপ্নের জন্য সব হারিয়েছিল    মোহাম্মদ জাহিদ হ[...] বিস্তারিত পড়ুন...
19 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
একটি সিদ্ধান্তের দাম   পর্ব–৫ : যে সিদ্ধান্ত জীবন বদলে দিল (সমাপ্তি)   মোহাম্মদ জাহ[...] বিস্তারিত পড়ুন...
24 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
শোনা হয়নি যে কথা মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ছোটগল্প | ২৯ জুলাই, ২০২৬ অনেক শিশু কথা বলতে চ[...] বিস্তারিত পড়ুন...
17 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
শেষ পর্যন্ত কেউ জেতেনি   পর্ব–৯ : যে প্রশ্নের উত্তর কারও কাছে ছিল না   মোহাম্মদ জাহ[...] বিস্তারিত পড়ুন...
17 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
নীরব মানুষটার শেষ সীমা   পর্ব–৬ : যে পুরুষটা কাঁদতে পারেনি   একটি ধারাবাহিক গল্প  [...] বিস্তারিত পড়ুন...
20 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ
📢 Notice Board
No active notices
ই-নলেজ আইডিয়া(Enolej Idea) হলো লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম যেখানে যেকোনো ধরনের লেখা—সাহিত্য, বিজ্ঞান, গবেষণা নোট, মতামত, প্রতিবাদী লেখা, ধর্মীয় চিন্তা, ব্যক্তিগত নোট বা দৈনন্দিন ভাবনা—নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা যায়। এটি সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ছড়িয়ে থাকা অগোছালো কনটেন্টকে একটি ভেরিফাইড, রেফারেন্সযোগ্য ডিজিটাল পোর্টফোলিওতে রূপান্তর করে, যা ব্যক্তির বুদ্ধিবৃত্তিক পরিচিতি ও দীর্ঘমেয়াদি ব্র্যান্ডিং গড়ে তোলে। প্রতিটি লেখার জন্য ইউনিক ডিজিটাল আইডি (eID) ও কপিরাইট সুরক্ষা প্রদান করা হয়, ফলে লেখা চুরি হলেও আসল লেখক সহজে শনাক্তযোগ্য থাকে। ধারাবাহিক কনটেন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাজানো, এক ক্লিকেই ই-বুক বা বইয়ের খসড়ায় রূপান্তর, ব্যক্তিগত খসড়া গোপন রাখা এবং একটি সক্রিয় কমিউনিটির মাধ্যমে পাঠকের সাথে সরাসরি সংযোগ—সব সুবিধাই এখানে একসাথে পাওয়া যায়। ই-নলেজ আইডিয়া মূলত ব্যক্তির চিন্তা ও জ্ঞানকে একটি স্থায়ী, সুরক্ষিত ও সার্বজনীনভাবে স্বীকৃত ডিজিটাল লেখক ইকোসিস্টেমে রূপ দেয়। IDEA = Independent Digital Expression & Authorship.
  1. মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

    1235 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    61 টি আইডিয়া ব্লগ

  2. Monsoon Harmony

    904 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    45 টি আইডিয়া ব্লগ

  3. রফিক আতা

    367 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    18 টি আইডিয়া ব্লগ

  4. Mayabi Ilmaz Megh

    81 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    4 টি আইডিয়া ব্লগ

...