Enolej Idea-তে লেখা প্রকাশের নিয়ম জানতে পূর্ণ নির্দেশনা দেখুন...
ই-নলেজ আইডিয়া হলো এমন একটি চিন্তানির্ভর প্ল্যাটফর্ম, যেখানে মানুষ শুধু তথ্য নয়, চিন্তা শেয়ার করে। এখানে জ্ঞানীরা একত্র হন, নতুনরা পথ খুঁজে পান, এবং সবাই মিলে তৈরি হয় একটি জ্ঞানভিত্তিক উম্মাহ। এটি জ্ঞানচর্চাকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ বানানোর একটি প্রচেষ্টা, যেখানে লেখা, ভাবা ও শেখা—সবই হয় মুক্তভাবে।আজই যোগ দিন!নিবন্ধন করতে এখানে ক্লিক করুন...।

-: ই-নলেজ আইডিয়া :-

আপনার লেখার কপিরাইট সুরক্ষা, স্বীকৃতি এবং ফ্রী প্রমোশন, সব এক প্ল্যাটফর্মে!

লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম আপনার লেখার অভিজ্ঞতাই বদলে দিবে। (পড়ুন...)

যদি আপনি হন পাঠক, কিংবা লেখক হিসেবে জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করেন:

যদি আপনার লেখাগুলোর কপিরাইট সুরক্ষা, সুশৃঙ্খলতা, আপনার ভেরিফাইড লেখক পোর্টফলিও এবং লেখক-পাঠকের কেন্দ্রীয় কমিউনিটিতে যুক্ত হতে চান, তাহলে নিবন্ধন করুন লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম “ই-নলেজ আইডিয়া” -এ!

এখানে অনেক প্রতিভাবান লেখক বিভিন্ন সিরিজে লিখছেন। আপনিও চাইলে আপনার লেখাগুলো সিরিজ আকারে সাজাতে পারবেন।

আপনার লেখক প্রোফাইল হবে একদম জীবন্ত পোর্টফলিও, এক ধরনের জীবন্ত বই। এখানে শুধু লেখক নয়, থাকবে পাঠকেরও সংস্পর্শ। ব্যাজ, পয়েন্ট, স্বীকৃতি এবং কপিরাইট সুরক্ষা তো থাকছেই, লেখাগুলো স্ক্যান করলেই আপনার নাম ভেসে উঠবে।

এটি তাই লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

চলুন বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক....

পূর্ণ নির্দেশনা [Full Guideline]

ই-নলেজ আইডিয়া – লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

পৃথিবীর মতো তুমি

0 পছন্দ 0 অপছন্দ
48 বার প্রদর্শিত
করেছেন (28,153 পয়েন্ট)   24 অগাস্ট "গল্প" বিভাগে লেখা প্রকাশিত
পোষ্ট আইডি(eID) কার্ড↓ - লেখনীর স্বত্ব ও গুণের পরিচয়!

পৃথিবীর মতো তুমিimage

মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

ছোটগল্প | ২৪ আগস্ট ২০২৬


রাত প্রায় বারোটা। নিশি জানালার পাশে বসে পুরোনো একটা ছবি দেখছিল। ছবিটা সে কাউকে দেখাত না। এমনকি অভিককেও না। আলমারির নিচের তাকে একটা পুরোনো শাড়ির ভাঁজে রেখে দিয়েছিল। আজ কাপড় গোছাতে গিয়ে আবার বেরিয়ে এসেছে।


ছবিতে নদীর ধারে দাঁড়িয়ে আছে নিশি। বয়স তখন কম। চুল বাতাসে এলোমেলো। চোখে রোদের ঝিলিক। মুখে এমন এক হাসি, যেটা এখনকার নিশির মুখে খুব কম দেখা যায়। ছবিটা তুলেছিল অভিক।


অভিক ঘরে ঢুকে তাকে দেখে বলল, “আবার ওইটা?”


নিশি ছবিটা উল্টে রাখল। “কোনটা?”


“যেটা দেখলে তুমি আমার কাছ থেকে লুকাও।”


“সবকিছু তোমাকে দেখাতে হবে নাকি?”


“না। কিন্তু ওই ছবিটা দেখলে তুমি এমন করো কেন?”


নিশি উত্তর দিল না।


অভিক বিছানার কিনারায় বসে জুতো খুলতে লাগল। গত কয়েকদিন ধরে মানুষটা একটু বেশি চুপচাপ। সন্ধ্যার পর বারান্দায় বসে থাকে। ফোন এলে বাইরে গিয়ে কথা বলে। ফিরে এসে বলে, “কাজের কথা।”


নিশি জানে, কাজের কথায় মানুষের মুখ এমন হয় না।


“আজ ডাক্তার কী বলল?” সে হঠাৎ জিজ্ঞেস করল।


অভিক থেমে গেল। “কোন ডাক্তার?”


“যার কাছে গিয়েছিলে।”


“কিছু না।”


“কিছু না মানে?”


“কয়েকটা পরীক্ষা করতে বলেছে।”


“কী পরীক্ষা?”


অভিক এবার একটু বিরক্ত হয়ে বলল, “নিশি, আজকে না।”


নিশি চুপ করে গেল। এই “আজকে না” কথাটা সে খুব ভালো চেনে।


অভিকও বুঝল, কথাটা একটু বেশি কঠিন হয়ে গেছে। কিছুক্ষণ পর বলল, “রাগ করছ?”


“না।”


“তোমার ‘না’ মানে তো হ্যাঁ।”


“তুমি খুব জ্ঞানী হয়ে গেছ।”


অভিক হেসে ফেলল। নিশিও হাসল। তবে চোখ নামানোই রইল।


ঘরের বাইরে পাশের গলির জেনারেটর গুনগুন করছিল। হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে গেল। ঘর অন্ধকার হয়ে গেল।


নিশি মোবাইলের আলো জ্বালল।


অভিক বলল, “মোমবাতি কোথায়?”


“রান্নাঘরের ওপরের তাকে।”


“তুমি আনো।”


“তুমি যাও।”


“আজকে আমার হাঁটতে ইচ্ছে করছে না।”


নিশি তার দিকে তাকাল। “কী হয়েছে?”


“কিছু না।”


নিশি আর কিছু বলল না। উঠে মোমবাতি নিয়ে এল। মোমবাতি জ্বালানোর পর ঘরটা কেমন পুরোনো মনে হলো।


অভিকের চোখ আবার টেবিলের ওপর রাখা ছবিটার দিকে গেল। সে ছবিটা হাতে নিল।


“এই ছবিটা এত লুকিয়ে রাখো কেন?”


নিশি ধীরে বলল, “কারণ ওই মেয়েটাকে আমি চিনি।”


“কীভাবে?”


“ও অনেক কিছু বিশ্বাস করত।”


“এখন করো না?”


“সবকিছু না।”


অভিক ছবিটার দিকে তাকিয়ে রইল। তারপর বলল, “জানো, তোমার মুখটা আমার কাছে কেমন লাগে?”


নিশি তাকাল। “কেমন?”


অভিক একটু চুপ করে বলল, “মহাকাশ থেকে দেখা পৃথিবীর মতো।”


নিশি হেসে ফেলল। “আবার শুরু করেছ?”


“শোনো না।”


“বলো।”


“দূর থেকে পৃথিবীকে খুব শান্ত লাগে। ছোট্ট একটা গোল বল। অথচ তার ভেতরে কত কিছু—মানুষ, নদী, শহর, যুদ্ধ, ভালোবাসা। বাইরে থেকে কিছুই বোঝা যায় না।”


নিশি চুপ করে শুনছিল।


অভিক ছবিটা তার দিকে বাড়িয়ে দিয়ে বলল, “তোমার মুখও তেমন।”


“আমার মুখে যুদ্ধ আছে?”


“আছে।”


“নদী?”


“আছে।”


নিশি একটু হেসে বলল, “ভালোবাসা?”


অভিক থামল।


“ওটা সবচেয়ে বেশি।”


নিশি মুখ নামিয়ে ফেলল।


কিছুক্ষণ পর সে বলল, “তুমি আমাকে বদলাতে চাওনি কখনো?”


অভিক হেসে উঠল। “চেয়েছি তো।”


“কখন?”


“ওই যে তিন দিন কথা বললা না। তখন মনে হইছিল, একটু কম রাগী হইলে ভালো হইতো।”


“তখন বলোনি কেন?”


“বললে চার দিন কথা বলতে না।”


নিশি এবার হেসে ফেলল।


“ভয় পেতে তুমি খুব ভালো পারো।”


“তোমার কাছে?”


“হুম।”


“ভালো।”


অভিক ছবিটা টেবিলে রেখে দিল। “তোমাতে তুমিই আছো, নিশি। তোমাকে আমার মতো করার দরকার কী? তুমি তুমি থাকলেই তো হলো।”


নিশি কিছু বলল না।


তারপর হঠাৎ বলল, “তুমি যদি না থাকো?”


অভিকের মুখের হাসি মিলিয়ে গেল।


“এই কথাটা কেন?”


“এমনি।”


“এমনি না।”


অভিক কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বলল, “আমি তো আছি।”


“এখন আছ।”


অভিক জানালার দিকে তাকাল। “কাল কী হবে কে জানে?”


নিশির মুখটা শক্ত হয়ে গেল।


“ডাক্তারের কথাটা বলো।”


অভিক দীর্ঘশ্বাস ফেলল। “আরও কিছু পরীক্ষা করতে বলেছে।”


“কেন?”


“একটু সমস্যা ধরা পড়েছে।”


“কী সমস্যা?”


অভিক উত্তর দিল না।


নিশির গলা নিচু হয়ে এল। “তুমি আমাকে বলোনি?”


“ভয় পেয়ে যাবে।”


“আমি তোমার স্ত্রী। ভয় পাব কি না, সেটা আমি ঠিক করব।”


অভিক মাথা নিচু করল।


ঘরে আবার নীরবতা নেমে এল।


তারপর নিশি ধীরে হাত বাড়িয়ে ছবিটা তুলে নিল। ছবির মেয়েটা তখনও হাসছে।


নিশি ছবিটার দিকে তাকিয়ে বলল, “এই মেয়েটা তখন ভাবত, তোমার সঙ্গে সারাজীবন থাকবে।”


অভিক মৃদু হেসে বলল, “থাকবে।”


“যদি না পারে?”


অভিক তার দিকে তাকাল। “তাহলে?”


নিশি কোনো উত্তর দিল না।


রান্নাঘর থেকে দুটো কাপ এনে টেবিলে রাখল।


“চা বানিয়েছি।”


অভিক কাপটা হাতে নিল। “এত রাতে?”


“তাতে কী?”


দুজনেই চুপচাপ চা খেতে লাগল।


কিছুক্ষণ পর নিশি তার কাঁধে মাথা রাখল। অভিক খুব আস্তে বলল, “এই তোমার মুখ—মহাকাশে দেখা পৃথিবীর মতো। দূর থেকে শান্ত। কাছে এলে বুঝি, এর ভেতরেই আমার কত জীবন জমে আছে।”


নিশি কিছু বলল না। তার চোখের পানি অভিকের শার্টে লেগে গেল। সে শুধু অভিকের হাতটা শক্ত করে ধরে রইল।


টেবিলের ওপর পুরোনো ছবিটা পড়ে ছিল। মোমবাতির আলোয় ছবির নিশি হাসছিল।


আর পাশে বসে থাকা নিশি, বহু বছর পর প্রথমবার, ছবিটার দিকে তাকিয়ে হাসতে পারছিল না।


চা ঠান্ডা হয়ে গেল।


কেউ কাপ সরাল না।

আমি মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন, ই-নলেজ এর একজন যাচাইকৃত লেখক। আমি এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত আছি প্রায় 1 বছর 2 সপ্তাহ ধরে, এবং এ পর্যন্ত 1393 টি লেখা ও 0 টি প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছি। আমার অর্জিত মোট পয়েন্ট 28153। ই-নলেজ আমার চিন্তা, জ্ঞান ও কণ্ঠকে সবার মাঝে পৌঁছে দিতে সহায়তা করেছে।
সংযুক্ত তথ্য
নিজস্ব আইডিয়া, ই-নলেজ আইডিয়া এ প্রথম প্রকাশিত
Enolej ID(eID): 4757
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।

এই লেখকের অন্যান্য সিরিজ


বিজ্ঞাপন: Remembering...

Image

এই ব্লগটির প্রতিক্রিয়া দিতে দয়া করে প্রবেশ কিংবা নিবন্ধন করুন ।

সংশ্লিষ্ট ব্লগগুচ্ছ


image
সিরিজ-শব্দহীন পৃথিবীর গল্প গল্প-৩ এক ফোঁটা সহানুভূতি মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন  ২২ জুল[...] বিস্তারিত পড়ুন...
54 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
সিরিজ-শব্দহীন পৃথিবীর গল্প গল্প-২ সুরের ছোঁয়া মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন  ২১ জুলাই, ২০ý[...] বিস্তারিত পড়ুন...
55 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
সিরিজ-শব্দহীন পৃথিবীর গল্প গল্প-১ আমাদের নীরব ঘর মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন  ২১ জুলাই, ২[...] বিস্তারিত পড়ুন...
56 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
সিরিজের নামঃ- নিজের জীবনটাও ছিল গল্প ৭ -শেষবারের মতো মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ছোট গল্প &#[...] বিস্তারিত পড়ুন...
80 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
নিশি উপাখ্যান সিরিজ   গল্প-৩   শেষবারের মতো দুঃখিত   মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন   ২৯, জ[...] বিস্তারিত পড়ুন...
54 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ
📢 Notice Board
No active notices
ই-নলেজ আইডিয়া(Enolej Idea) হলো লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম যেখানে যেকোনো ধরনের লেখা—সাহিত্য, বিজ্ঞান, গবেষণা নোট, মতামত, প্রতিবাদী লেখা, ধর্মীয় চিন্তা, ব্যক্তিগত নোট বা দৈনন্দিন ভাবনা—নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা যায়। এটি সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ছড়িয়ে থাকা অগোছালো কনটেন্টকে একটি ভেরিফাইড, রেফারেন্সযোগ্য ডিজিটাল পোর্টফোলিওতে রূপান্তর করে, যা ব্যক্তির বুদ্ধিবৃত্তিক পরিচিতি ও দীর্ঘমেয়াদি ব্র্যান্ডিং গড়ে তোলে। প্রতিটি লেখার জন্য ইউনিক ডিজিটাল আইডি (eID) ও কপিরাইট সুরক্ষা প্রদান করা হয়, ফলে লেখা চুরি হলেও আসল লেখক সহজে শনাক্তযোগ্য থাকে। ধারাবাহিক কনটেন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাজানো, এক ক্লিকেই ই-বুক বা বইয়ের খসড়ায় রূপান্তর, ব্যক্তিগত খসড়া গোপন রাখা এবং একটি সক্রিয় কমিউনিটির মাধ্যমে পাঠকের সাথে সরাসরি সংযোগ—সব সুবিধাই এখানে একসাথে পাওয়া যায়। ই-নলেজ আইডিয়া মূলত ব্যক্তির চিন্তা ও জ্ঞানকে একটি স্থায়ী, সুরক্ষিত ও সার্বজনীনভাবে স্বীকৃত ডিজিটাল লেখক ইকোসিস্টেমে রূপ দেয়। IDEA = Independent Digital Expression & Authorship.
  1. মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

    549 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    4 মন্তব্য

    27 টি আইডিয়া ব্লগ

  2. প্রিন্স ফ্রেরাসে

    124 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    6 টি আইডিয়া ব্লগ

  3. শামীমা আকতার

    82 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    4 টি আইডিয়া ব্লগ

  4. অমিত দত্ত দিলু

    63 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    3 টি আইডিয়া ব্লগ

...