Enolej Idea-তে লেখা প্রকাশের নিয়ম জানতে পূর্ণ নির্দেশনা দেখুন...
ই-নলেজ আইডিয়া হলো এমন একটি চিন্তানির্ভর প্ল্যাটফর্ম, যেখানে মানুষ শুধু তথ্য নয়, চিন্তা শেয়ার করে। এখানে জ্ঞানীরা একত্র হন, নতুনরা পথ খুঁজে পান, এবং সবাই মিলে তৈরি হয় একটি জ্ঞানভিত্তিক উম্মাহ। এটি জ্ঞানচর্চাকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ বানানোর একটি প্রচেষ্টা, যেখানে লেখা, ভাবা ও শেখা—সবই হয় মুক্তভাবে।আজই যোগ দিন!নিবন্ধন করতে এখানে ক্লিক করুন...।

-: ই-নলেজ আইডিয়া :-

আপনার লেখার কপিরাইট সুরক্ষা, স্বীকৃতি এবং ফ্রী প্রমোশন, সব এক প্ল্যাটফর্মে!

লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম আপনার লেখার অভিজ্ঞতাই বদলে দিবে। (পড়ুন...)

যদি আপনি হন পাঠক, কিংবা লেখক হিসেবে জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করেন:

যদি আপনার লেখাগুলোর কপিরাইট সুরক্ষা, সুশৃঙ্খলতা, আপনার ভেরিফাইড লেখক পোর্টফলিও এবং লেখক-পাঠকের কেন্দ্রীয় কমিউনিটিতে যুক্ত হতে চান, তাহলে নিবন্ধন করুন লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম “ই-নলেজ আইডিয়া” -এ!

এখানে অনেক প্রতিভাবান লেখক বিভিন্ন সিরিজে লিখছেন। আপনিও চাইলে আপনার লেখাগুলো সিরিজ আকারে সাজাতে পারবেন।

আপনার লেখক প্রোফাইল হবে একদম জীবন্ত পোর্টফলিও, এক ধরনের জীবন্ত বই। এখানে শুধু লেখক নয়, থাকবে পাঠকেরও সংস্পর্শ। ব্যাজ, পয়েন্ট, স্বীকৃতি এবং কপিরাইট সুরক্ষা তো থাকছেই, লেখাগুলো স্ক্যান করলেই আপনার নাম ভেসে উঠবে।

এটি তাই লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

চলুন বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক....

পূর্ণ নির্দেশনা [Full Guideline]

ই-নলেজ আইডিয়া – লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

ফিরে আসার ঠিকানা

0 পছন্দ 0 অপছন্দ
4 বার প্রদর্শিত
করেছেন (25,876 পয়েন্ট)   1 দিন পূর্বে "গল্প" বিভাগে লেখা প্রকাশিত
পোষ্ট আইডি(eID) কার্ড↓ - লেখনীর স্বত্ব ও গুণের পরিচয়!

ফিরে আসার ঠিকানাimage

মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

ছোটগল্প | ২৪ আগস্ট ২০২৬


সেদিন বিকেল থেকে বৃষ্টি হচ্ছিল। একটানা নয়, থেমে থেমে। কখনো জানালার কাচে ঝিরঝির শব্দ, আবার হঠাৎ সব চুপ। কিছুক্ষণ পর আকাশ যেন আর নিজেকে সামলাতে না পেরে আবার বৃষ্টি নামিয়ে দিচ্ছিল। রান্নাঘর থেকে ভাতের গন্ধ আসছিল। চুলার ওপর ডাল ফুটছিল, ঢাকনার নিচে জমে থাকা বাষ্পে সেটি মাঝে মাঝে টুং করে কেঁপে উঠছিল।


নিশি জানালার পাশে বসে খোলা বইয়ের একই পাতার দিকে অনেকক্ষণ তাকিয়ে ছিল। পড়া হচ্ছিল না। অভিক আজও ফিরতে দেরি করছে।


সকালে দুজনের ঝগড়া হয়েছিল। খুব বড় কোনো বিষয় নয়। সংসারের চেনা ঝগড়া। একটা কথা থেকে আরেকটা কথা, তারপর এমন কিছু কথা বেরিয়ে যাওয়া, যেগুলো কেউ আসলে বলতে চায়নি।


অভিক বের হওয়ার সময় বলেছিল, “তুমি সবকিছু নিয়ে এত ভাবো কেন?”


নিশি রান্নাঘরে দাঁড়িয়ে বলেছিল, “তুমি কিছু না ভেবেই সব করে ফেলো বলে।”


“সবসময় কি ভুল করি?”


“আমি তা বলিনি।”


“কিন্তু বলতে চেয়েছ।”


নিশি আর উত্তর দেয়নি।


দরজার কাছে গিয়ে অভিক একবার ফিরে তাকিয়েছিল। “রাতে কথা হবে।”


নিশি মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিল।


সন্ধ্যার পর একবার ফোন করেছিল সে। অভিক ধরেনি। কিছুক্ষণ পর একটা বার্তা এসেছিল—“কাজে আছি। ফিরতে দেরি হবে।”


তারপর আর কোনো কথা হয়নি।


রাত সাড়ে দশটার দিকে নিশি খাবার টেবিলে দুটো প্লেট সাজাল। নিজের প্লেট সামনে রেখেও খেতে পারল না। অভিকের প্লেটটা ঢেকে রাখল। ভাতটা একটু শুকিয়ে যাচ্ছিল। ঢাকনা তুলে অল্প পানি ছিটিয়ে আবার ঢেকে দিল।


রাত এগারোটার কিছু পরে দরজায় চাবির শব্দ হলো।


অভিক ঢুকল। জামা ভেজা। চুলের ডগা থেকে পানি পড়ছে।


নিশি কিছু বলল না।


অভিকও না।


ব্যাগটা রেখে বাথরুমে চলে গেল। ফিরে এসে টেবিলের খাবারের দিকে তাকিয়ে বলল, “খেয়েছ?”


“হ্যাঁ।”


অভিক নিশির দিকে তাকাল। তারপর মৃদু হেসে বলল, “মিথ্যা বলছ।”


নিশি মুখ ফিরিয়ে নিল।


অভিক চুপচাপ বসে খেতে শুরু করল। নিশি দূরে দাঁড়িয়ে দেখছিল। এত বছর একসঙ্গে থাকার পরও কখনো কখনো একই ঘরে থেকেও দুজন মানুষ কত দূরে চলে যেতে পারে।


খাওয়া শেষ করে অভিক হাত ধুয়ে এসে কিছুক্ষণ চুপ করে দাঁড়িয়ে রইল।


“সকালের কথাটা নিয়ে রাগ করে আছ?”


“না।”


“আছ।”


নিশি এবার তাকাল। “তুমিও তো রাগ করেছিলে।”


“করেছিলাম।”


“তাহলে?”


অভিক একটু হেসে বলল, “আমি বেশি বলে ফেলেছি।”


নিশি কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বলল, “আমিও।”


“তাহলে হিসাব সমান।”


নিশি জানালার বাইরে তাকাল। “সবকিছুর হিসাব হয়?”


অভিক এবার আর হাসল না।


“হয় না।”


বাইরে আবার বৃষ্টি শুরু হয়েছে। জানালার কাচ বেয়ে পানি নামছে। নিশি কিছুক্ষণ সেটার দিকে তাকিয়ে থেকে খুব আস্তে বলল, “জানো, কখনো কখনো মনে হয় তোমার কাছে আমার অনেক ঋণ জমে গেছে।”


অভিক অবাক হয়ে তাকাল। “কীসের ঋণ?”


“জানি না।”


“তাহলে শোধ করবে কীভাবে?”


নিশি একটু হাসল। “দিনে দিনে ভুলেই যাব, ঋণ আছে।”


অভিক কিছু বলল না।


নিশি বলল, “আমার যা কিছু দেখা, সবকিছুর মধ্যে তোমার একটু করে দ্বিধা আছে। তুমি কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে কতবার ভাবো, কতবার থেমে যাও। এসব দেখতে দেখতে আমিও শিখেছি, সব কথা সঙ্গে সঙ্গে বলা যায় না।”


অভিক চায়ের কাপটা হাতে নিল। “আর কী শিখেছ?”


“কিছু কথা পাশে বসে থাকলেই বলা হয়ে যায়।”


অভিক তার দিকে তাকিয়ে রইল।


নিশি রান্নাঘর থেকে দুটো চায়ের কাপ এনে একটা তার হাতে দিল। নিজের কাপটা নিয়ে জানালার পাশে দাঁড়াল।


কিছুক্ষণ দুজনের কেউ কথা বলল না।


তারপর নিশি বলল, “শোনো।”


“হুম?”


“তুমি যদি কোনোদিন খুব দূরে চলে যাও?”


অভিক কাপটা নামিয়ে রাখল। “কোথায় যাব?”


“জানি না। মানুষ তো সবসময় নিজের ইচ্ছেমতো থাকতে পারে না।”


অভিক কিছুক্ষণ চুপ করে রইল। তারপর বলল, “ফিরে আসব।”


“সবাই কি ফিরে আসতে পারে?”


“আমি পারব।”


নিশি তার দিকে তাকিয়ে রইল।


অভিক মৃদু হেসে বলল, “তুমি থাকলে পথ ভুললেও একটা ঠিকানা থাকে।”


নিশির চোখ ভিজে উঠল। সে মুখ ফিরিয়ে জানালার বাইরে তাকাল।


অভিক ধীরে ধীরে তার পাশে গিয়ে দাঁড়াল।


“তোমাকে একটা কথা দিই?”


নিশি কিছু বলল না।


“যত দূরেই যাই, যত রাগই হোক, যত ভুলই করি—ফিরে যাব।”


নিশি এবার তার দিকে তাকাল।


অভিক খুব আস্তে বলল, “ঠিক ফিরে যাব।”


বাইরে বৃষ্টি তখন আরও জোরে নামছিল।


নিশি কোনো উত্তর দিল না। শুধু হাত বাড়িয়ে অভিকের হাতটা ধরল।


অভিকও হাতটা শক্ত করে ধরল।


সেদিন তাদের আর কোনো শপথের প্রয়োজন হয়নি।


নিশি অভিকের হাত ছাড়ল না।


বাইরে বৃষ্টি পড়তেই থাকল।

আমি মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন, ই-নলেজ এর একজন যাচাইকৃত লেখক। আমি এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত আছি প্রায় 11 মাস ধরে, এবং এ পর্যন্ত 1281 টি লেখা ও 0 টি প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছি। আমার অর্জিত মোট পয়েন্ট 25876। ই-নলেজ আমার চিন্তা, জ্ঞান ও কণ্ঠকে সবার মাঝে পৌঁছে দিতে সহায়তা করেছে।
সংযুক্ত তথ্য
নিজস্ব আইডিয়া, ই-নলেজ আইডিয়া এ প্রথম প্রকাশিত
Enolej ID(eID): 4755
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।

এই লেখকের অন্যান্য সিরিজ


বিজ্ঞাপন: Remembering...

Image

এই ব্লগটির প্রতিক্রিয়া দিতে দয়া করে প্রবেশ কিংবা নিবন্ধন করুন ।

সংশ্লিষ্ট ব্লগগুচ্ছ

155 বার প্রদর্শিত 1 প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
সেদিন শহরে বৃষ্টি ছিল না,তবু বাতাসে এক অচেনা ভেজা গন্ধ।  আমি হাঁটছিলাম, পুরোনো সেই প[...] বিস্তারিত পড়ুন...
155 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
বাসন্তীর একগুঁয়েমি ও জীবনের শেষ ঠিকানা মোহাম্মাদ জাহিদ হোসেন বিশ্লেষণধর্মী। ০৩ [...] বিস্তারিত পড়ুন...
178 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

ফিরে এলাম ফিরে এলাম বহুদিন পর তোমাদের মাঝে, নীরবতার গল্প নিয়ে পুরোনো সেই সাজে। সময়ের ধুলো মেখে ক্লান্ত পথের শেষে, ফিরে এলাম হারানো কিছু অনুভূতির দেশে। কল্পনার কলম আজ স্মৃতির পাতায় কাঁদ[...] বিস্তারিত পড়ুন...
20 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

ফিরে এলাম বহুদিন পর তোমাদের মাঝে ফিরে এলাম বহুদিন পর তোমাদের মাঝে, চেনা সেই পথ, চেনা বাতাস, চেনা শহর-গাঁয়ে। কত ঋতু পেরিয়ে গেল নীরবতার ঘোরে, কত কথা জমে ছিল বুকের গভীর ঘরে। যে পথে একদিন হেঁটে�[...] বিস্তারিত পড়ুন...
24 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ
📢 Notice Board
No active notices
ই-নলেজ আইডিয়া(Enolej Idea) হলো লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম যেখানে যেকোনো ধরনের লেখা—সাহিত্য, বিজ্ঞান, গবেষণা নোট, মতামত, প্রতিবাদী লেখা, ধর্মীয় চিন্তা, ব্যক্তিগত নোট বা দৈনন্দিন ভাবনা—নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা যায়। এটি সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ছড়িয়ে থাকা অগোছালো কনটেন্টকে একটি ভেরিফাইড, রেফারেন্সযোগ্য ডিজিটাল পোর্টফোলিওতে রূপান্তর করে, যা ব্যক্তির বুদ্ধিবৃত্তিক পরিচিতি ও দীর্ঘমেয়াদি ব্র্যান্ডিং গড়ে তোলে। প্রতিটি লেখার জন্য ইউনিক ডিজিটাল আইডি (eID) ও কপিরাইট সুরক্ষা প্রদান করা হয়, ফলে লেখা চুরি হলেও আসল লেখক সহজে শনাক্তযোগ্য থাকে। ধারাবাহিক কনটেন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাজানো, এক ক্লিকেই ই-বুক বা বইয়ের খসড়ায় রূপান্তর, ব্যক্তিগত খসড়া গোপন রাখা এবং একটি সক্রিয় কমিউনিটির মাধ্যমে পাঠকের সাথে সরাসরি সংযোগ—সব সুবিধাই এখানে একসাথে পাওয়া যায়। ই-নলেজ আইডিয়া মূলত ব্যক্তির চিন্তা ও জ্ঞানকে একটি স্থায়ী, সুরক্ষিত ও সার্বজনীনভাবে স্বীকৃত ডিজিটাল লেখক ইকোসিস্টেমে রূপ দেয়। IDEA = Independent Digital Expression & Authorship.
  1. মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

    2042 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    101 টি আইডিয়া ব্লগ

  2. Monsoon Harmony

    904 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    45 টি আইডিয়া ব্লগ

  3. Mayabi Ilmaz Megh

    744 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    37 টি আইডিয়া ব্লগ

  4. রফিক আতা

    367 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    18 টি আইডিয়া ব্লগ

...