Enolej Idea-তে লেখা প্রকাশের নিয়ম জানতে পূর্ণ নির্দেশনা দেখুন...
ই-নলেজ আইডিয়া হলো এমন একটি চিন্তানির্ভর প্ল্যাটফর্ম, যেখানে মানুষ শুধু তথ্য নয়, চিন্তা শেয়ার করে। এখানে জ্ঞানীরা একত্র হন, নতুনরা পথ খুঁজে পান, এবং সবাই মিলে তৈরি হয় একটি জ্ঞানভিত্তিক উম্মাহ। এটি জ্ঞানচর্চাকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ বানানোর একটি প্রচেষ্টা, যেখানে লেখা, ভাবা ও শেখা—সবই হয় মুক্তভাবে।আজই যোগ দিন!নিবন্ধন করতে এখানে ক্লিক করুন...।

-: ই-নলেজ আইডিয়া :-

আপনার লেখার কপিরাইট সুরক্ষা, স্বীকৃতি এবং ফ্রী প্রমোশন, সব এক প্ল্যাটফর্মে!

লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম আপনার লেখার অভিজ্ঞতাই বদলে দিবে। (পড়ুন...)

যদি আপনি হন পাঠক, কিংবা লেখক হিসেবে জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করেন:

যদি আপনার লেখাগুলোর কপিরাইট সুরক্ষা, সুশৃঙ্খলতা, আপনার ভেরিফাইড লেখক পোর্টফলিও এবং লেখক-পাঠকের কেন্দ্রীয় কমিউনিটিতে যুক্ত হতে চান, তাহলে নিবন্ধন করুন লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম “ই-নলেজ আইডিয়া” -এ!

এখানে অনেক প্রতিভাবান লেখক বিভিন্ন সিরিজে লিখছেন। আপনিও চাইলে আপনার লেখাগুলো সিরিজ আকারে সাজাতে পারবেন।

আপনার লেখক প্রোফাইল হবে একদম জীবন্ত পোর্টফলিও, এক ধরনের জীবন্ত বই। এখানে শুধু লেখক নয়, থাকবে পাঠকেরও সংস্পর্শ। ব্যাজ, পয়েন্ট, স্বীকৃতি এবং কপিরাইট সুরক্ষা তো থাকছেই, লেখাগুলো স্ক্যান করলেই আপনার নাম ভেসে উঠবে।

এটি তাই লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

চলুন বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক....

পূর্ণ নির্দেশনা [Full Guideline]

ই-নলেজ আইডিয়া – লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

শেষ খাম

0 পছন্দ 0 অপছন্দ
2 বার প্রদর্শিত
করেছেন (20,783 পয়েন্ট)   1 দিন পূর্বে "গল্প" বিভাগে লেখা প্রকাশিত
পোষ্ট আইডি(eID) কার্ড↓ - লেখনীর স্বত্ব ও গুণের পরিচয়!

 শেষ খামimage

মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

ছোট গল্প।  ২৩ জুন,২০২৬


বাবা মারা যাওয়ার পর আলমারির নিচের তাকে পাওয়া খামটা তিন ভাইবোনের অনেক হিসাব বদলে দিয়েছিল।


যদিও সেই হিসাব টাকার ছিল না।


বাবা চলে যাওয়ার পর প্রথম কয়েকটা দিন সুমন, মিতা আর রায়হানের কারও ঠিকমতো কিছু মনে থাকত না।


বাড়িটা আগের মতোই ছিল। বারান্দার কোণে বাবার কাঠের চেয়ারটা পড়ে আছে। চশমাটা এখনো টেবিলের ওপর। দেয়ালের ঘড়িটাও ঠিক সময়মতো চলছে।


শুধু মানুষটা নেই।


সকালে উঠে রায়হান এখনো অনেক সময় বাবার ঘরের দিকে তাকিয়ে থাকে। অভ্যাসটা যায়নি। তারপর মনে পড়ে, ঘরের ভেতর আর কেউ নেই।


কিন্তু শোক বেশিদিন মানুষের দৈনন্দিন হিসাব থামিয়ে রাখে না।


একসময় কথা উঠল বাড়ি নিয়ে। জমির কাগজ। ব্যাংকের টাকা। কে কী পাবে।


সুমন ঢাকায় চাকরি করে। সংসার আছে, ঋণ আছে। মিতা বিয়ের পর রাজশাহীতে থাকে। নিজের সংসারের পাশাপাশি বাবার খবরও রাখত। আর রায়হান এতদিন বাবার সঙ্গেই ছিল।


তিনজনেরই মনে হয়েছিল, তারা বাবার জন্য কম কিছু করেনি। সমস্যা হলো, প্রত্যেকের হিসাবটা আলাদা ছিল।


এক বিকেলে সুমন কাগজপত্র দেখতে দেখতে বলল, "বাড়িটার ব্যাপারে একটা সিদ্ধান্ত নেওয়া দরকার। ঝুলিয়ে রেখে তো লাভ নেই।"


রায়হান চুপ করে ছিল। তারপর বলল, "বাবা তো মাত্র গেল। একটু সময় দিলে কী হতো?"


সুমন তাকাল। "সময় কি শুধু তোর জন্য আছে? আমারও তো কিছু দায়িত্ব আছে।"


কথাটা বলেই দুজনেই চুপ হয়ে গেল। কারণ তারা জানত, আসল কথা এটা না। আসল কথা জমি বা টাকা না। অনেকদিনের জমে থাকা কিছু অভিমান।


রায়হানের মনে ছিল, শেষ দুই বছর সে বাবাকে একা ডাক্তার দেখাতে নিয়ে গেছে। রাতে জ্বর এলে পাশে বসেছে।


সুমনের মনে ছিল, সে নিজের সংসার চালিয়েও নিয়মিত বাবার জন্য টাকা পাঠিয়েছে।


মিতার মনে ছিল, দূরে থেকেও সে বাবার ওষুধ, প্রয়োজন, সব খোঁজ নিয়েছে।


কিন্তু কেউ কারও জায়গাটা বুঝতে চাইছিল না। সবাই শুধু নিজের কষ্টটা দেখছিল।


বাবার ঘরটা গোছাতে গিয়ে মিতা আলমারির নিচের তাকে একটা পুরোনো ফাইল পেল। কিছু কাগজের নিচে একটা সাদা খাম।


খামের ওপর লেখা, "আমার তিনজনের জন্য।"


তিনজনই কিছুক্ষণ চুপ করে রইল। সুমন ধীরে ধীরে খামটা খুলল।


ভেতরে বাবার হাতের লেখা।


"তোরা যখন এটা পড়বি, তখন আমি থাকব না।


জানি, আমার রেখে যাওয়া জিনিস নিয়ে তোদের হিসাব করতে হবে।


করিস। জীবনের প্রয়োজন আছে।


কিন্তু একটা কথা মনে রাখিস, তোদের মধ্যে যেন হিসাবটা না ঢুকে যায়।"


সুমন একটু থামল। ঘরের ভেতর শুধু কাগজের শব্দ।


চিঠিতে আরও লেখা ছিল,


"তোরা ছোট থাকতে একটা আম তিন ভাগ করে খেতিস।


কে বড় টুকরো পেল, সেটা নিয়ে ঝগড়া করতিস ঠিকই, কিন্তু বিকেলে আবার একসঙ্গে খেলতে নামতিস।


বড় হয়ে শুধু সেই জায়গাটাই হারিয়ে ফেলিস না।"


মিতা চোখ নামিয়ে বসে রইল। রায়হান জানালার বাইরে তাকিয়ে ছিল। কেউ কিছু বলছিল না।


চিঠির শেষ দিকে বাবা লিখেছিলেন,

"বাড়ি যদি ভাগ করতে হয়, করিস।

টাকা যদি ভাগ করতে হয়, করিস।


কিন্তু এমন কিছু করিস না, যাতে তোদের একে অপরের দরজায় যেতে অস্বস্তি হয়।

আমার ভয় সম্পদ নিয়ে ছিল না।

আমার ভয় ছিল, তোরা যেন একে অপরকে হারিয়ে না ফেলিস।"


অনেকক্ষণ পর সুমন আস্তে করে বলল, "আমি হয়তো কথাটা অন্যভাবে বলতে পারতাম।"


রায়হান কিছু বলল না। শুধু ভাইয়ের দিকে তাকিয়ে মাথা নেড়ে দিল।


মিতা চোখ মুছতে মুছতে বলল, "বাবা শেষ পর্যন্তও আমাদের নিয়েই ভাবল।"


বাড়ির ভাগ শেষ পর্যন্ত হয়েছিল। যার যা প্রয়োজন, সে অনুযায়ী।


কিন্তু তার আগে তারা আরেকটা সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। বছরে কয়েকটা দিন সবাই এই বাড়িতে আসবে। বাবার ঘরে বসবে। একসঙ্গে খাবে। যেভাবে ছোটবেলায় করত।


কয়েক মাস পর এক বিকেলে তিন ভাইবোন আবার বাবার ঘরে বসেছিল। দেয়ালে বাবার ছবি। সামনে সেই পুরোনো চেয়ার।


সুমন ছবিটার দিকে তাকিয়ে হেসে বলল, "বাবা থাকলে বলত, এত দেরিতে বুঝলি?"


তিনজনই হেসে ফেলল। হাসির ভেতর একটু কষ্ট ছিল। কিন্তু আগের মতো দূরত্ব ছিল না।

আমি মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন, ই-নলেজ এর একজন যাচাইকৃত লেখক। আমি এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত আছি প্রায় 8 মাস 4 সপ্তাহ ধরে, এবং এ পর্যন্ত 1029 টি লেখা ও 0 টি প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছি। আমার অর্জিত মোট পয়েন্ট 20783। ই-নলেজ আমার চিন্তা, জ্ঞান ও কণ্ঠকে সবার মাঝে পৌঁছে দিতে সহায়তা করেছে।
সংযুক্ত তথ্য
নিজস্ব আইডিয়া, ই-নলেজ আইডিয়া এ প্রথম প্রকাশিত
Enolej ID(eID): 4107
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।

এই লেখকের অন্যান্য সিরিজ


বিজ্ঞাপন: Remembering...

Image

এই ব্লগটির প্রতিক্রিয়া দিতে দয়া করে প্রবেশ কিংবা নিবন্ধন করুন ।

সংশ্লিষ্ট ব্লগগুচ্ছ


image
শেষ পর্যন্ত বলা হয়নি মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ছোটগল্প। ২১ জুন, ২০২৬ বাবার মৃত্যুর পনে[...] বিস্তারিত পড়ুন...
3 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
ধারাবাহিক গল্প গোপন উত্তরাধিকার পর্ব ৬: শেষ গোপন নথি ২০ জুন, ২০২৬ মিতু রহমান দেখতে &[...] বিস্তারিত পড়ুন...
3 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
 শেষ সাক্ষী মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন গল্প । ১৪, জুন ২০২৬ লোকটা মারা গেল ভোরের ঠিক আগে। [...] বিস্তারিত পড়ুন...
10 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

 গোধূলির আগে শেষ হিসাব   মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন   ছোট গল্প। মে ০৬, ২০২৬   দিন অভিক হ[...] বিস্তারিত পড়ুন...
353 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

  আষাঢ়ের শেষ ঠিকানা মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ছোট গল্প। মে ০২, ২০২৬ আষাঢ় এলে আকাশটা এমন&#[...] বিস্তারিত পড়ুন...
512 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ
📢 Notice Board
No active notices
ই-নলেজ আইডিয়া(Enolej Idea) হলো লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম যেখানে যেকোনো ধরনের লেখা—সাহিত্য, বিজ্ঞান, গবেষণা নোট, মতামত, প্রতিবাদী লেখা, ধর্মীয় চিন্তা, ব্যক্তিগত নোট বা দৈনন্দিন ভাবনা—নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা যায়। এটি সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ছড়িয়ে থাকা অগোছালো কনটেন্টকে একটি ভেরিফাইড, রেফারেন্সযোগ্য ডিজিটাল পোর্টফোলিওতে রূপান্তর করে, যা ব্যক্তির বুদ্ধিবৃত্তিক পরিচিতি ও দীর্ঘমেয়াদি ব্র্যান্ডিং গড়ে তোলে। প্রতিটি লেখার জন্য ইউনিক ডিজিটাল আইডি (eID) ও কপিরাইট সুরক্ষা প্রদান করা হয়, ফলে লেখা চুরি হলেও আসল লেখক সহজে শনাক্তযোগ্য থাকে। ধারাবাহিক কনটেন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাজানো, এক ক্লিকেই ই-বুক বা বইয়ের খসড়ায় রূপান্তর, ব্যক্তিগত খসড়া গোপন রাখা এবং একটি সক্রিয় কমিউনিটির মাধ্যমে পাঠকের সাথে সরাসরি সংযোগ—সব সুবিধাই এখানে একসাথে পাওয়া যায়। ই-নলেজ আইডিয়া মূলত ব্যক্তির চিন্তা ও জ্ঞানকে একটি স্থায়ী, সুরক্ষিত ও সার্বজনীনভাবে স্বীকৃত ডিজিটাল লেখক ইকোসিস্টেমে রূপ দেয়। IDEA = Independent Digital Expression & Authorship.
  1. মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

    1481 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    73 টি আইডিয়া ব্লগ

  2. জামিনুল রেজা

    428 পয়েন্ট

    1 প্রতিক্রিয়া

    1 মন্তব্য

    21 টি আইডিয়া ব্লগ

  3. রফিক আতা

    224 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    11 টি আইডিয়া ব্লগ

  4. ক্বলমী সুর

    155 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    7 টি আইডিয়া ব্লগ

...