Enolej Idea-তে লেখা প্রকাশের নিয়ম জানতে পূর্ণ নির্দেশনা দেখুন...
ই-নলেজ আইডিয়া হলো এমন একটি চিন্তানির্ভর প্ল্যাটফর্ম, যেখানে মানুষ শুধু তথ্য নয়, চিন্তা শেয়ার করে। এখানে জ্ঞানীরা একত্র হন, নতুনরা পথ খুঁজে পান, এবং সবাই মিলে তৈরি হয় একটি জ্ঞানভিত্তিক উম্মাহ। এটি জ্ঞানচর্চাকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ বানানোর একটি প্রচেষ্টা, যেখানে লেখা, ভাবা ও শেখা—সবই হয় মুক্তভাবে।আজই যোগ দিন!নিবন্ধন করতে এখানে ক্লিক করুন...।

-: ই-নলেজ আইডিয়া :-

আপনার লেখার কপিরাইট সুরক্ষা, স্বীকৃতি এবং ফ্রী প্রমোশন, সব এক প্ল্যাটফর্মে!

লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম আপনার লেখার অভিজ্ঞতাই বদলে দিবে। (পড়ুন...)

যদি আপনি হন পাঠক, কিংবা লেখক হিসেবে জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করেন:

যদি আপনার লেখাগুলোর কপিরাইট সুরক্ষা, সুশৃঙ্খলতা, আপনার ভেরিফাইড লেখক পোর্টফলিও এবং লেখক-পাঠকের কেন্দ্রীয় কমিউনিটিতে যুক্ত হতে চান, তাহলে নিবন্ধন করুন লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম “ই-নলেজ আইডিয়া” -এ!

এখানে অনেক প্রতিভাবান লেখক বিভিন্ন সিরিজে লিখছেন। আপনিও চাইলে আপনার লেখাগুলো সিরিজ আকারে সাজাতে পারবেন।

আপনার লেখক প্রোফাইল হবে একদম জীবন্ত পোর্টফলিও, এক ধরনের জীবন্ত বই। এখানে শুধু লেখক নয়, থাকবে পাঠকেরও সংস্পর্শ। ব্যাজ, পয়েন্ট, স্বীকৃতি এবং কপিরাইট সুরক্ষা তো থাকছেই, লেখাগুলো স্ক্যান করলেই আপনার নাম ভেসে উঠবে।

এটি তাই লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

চলুন বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক....

পূর্ণ নির্দেশনা [Full Guideline]

ই-নলেজ আইডিয়া – লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

৬২৫ রুপির বার্গার

0 পছন্দ 0 অপছন্দ
197 বার প্রদর্শিত
করেছেন (23,410 পয়েন্ট)   06 জুন "গল্প" বিভাগে লেখা প্রকাশিত
পোষ্ট আইডি(eID) কার্ড↓ - লেখনীর স্বত্ব ও গুণের পরিচয়!

৬২৫ রুপির বার্গারimage

মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

ছোটগল্প। ৬ জুন, ২০২৬


অনেকে মনে করেন আমি শুধু কষ্টের গল্পই লিখি। আসলে তা না। জীবনে কষ্ট যেমন আছে, তেমনি কিছু ঘটনা আছে যেগুলো মনে পড়লে আজও নিজের ওপরই হাসি পায়।


এই ঘটনাটা তেমনই একটা।


সাল ২০০৯। প্রথমবার বিমানে উঠব।


চিকিৎসার জন্য ভারত গিয়েছিলাম। বেনাপোল দিয়ে কলকাতায় পৌঁছেছি। গিয়ে দেখি দুর্গাপূজা চলছে। পুরো শহর উৎসবের মধ্যে। রাস্তা ভরা মানুষ, আলো, প্যান্ডেল। কিন্তু আমার তখন সেসব দেখার মতো অবস্থা নেই। চিকিৎসা নিয়েই ব্যস্ত।


সমস্যা হলো, ছুটির কারণে অনেক কিছু বন্ধ। হাসপাতালের নিয়মিত কাজও সীমিত। হোটেলে বসে বসে সময় কাটাচ্ছি।


এর মধ্যে কয়েকজন বলল, হার্টের চিকিৎসার জন্য চেন্নাই গেলে ভালো হবে। পরে একজন ডাক্তারও একই কথা বললেন।


চেন্নাই যেতে হবে। ট্রেনে গেলে প্রায় তিন দিন। তিন দিন ট্রেনে বসে থাকার কথা ভাবতেই বিরক্ত লাগল। তাই ঠিক করলাম বিমানে যাব। জীবনে প্রথমবার।


সন্ধ্যায় একটা ট্রাভেল এজেন্সিতে ঢুকে বললাম, চেন্নাইয়ের একটা টিকিট লাগবে। ভদ্রলোক কম্পিউটারে কী যেন করতে লাগলেন। আমি পাশে বসে আছি। হঠাৎ দেখি টিকিটের দাম উঠছে, নামছে, আবার উঠছে।


আমার কাছে ব্যাপারটা খুব অদ্ভুত লাগল। আমি তো ভাবতাম ভাড়া মানে ভাড়া। বাসের মতো, ট্রেনের মতো। পরে বুঝলাম বিমানের হিসাব আলাদা।


শেষ পর্যন্ত একটা টিকিট হলো। পরদিন সকালেই ফ্লাইট।


সারারাত ঠিকমতো ঘুম হলো না। চিকিৎসার চিন্তা ছিল, আবার বিমানে ওঠার উত্তেজনাও ছিল।


বিমানবন্দরে গিয়ে বোর্ডিং পাস নেওয়ার সময় জিজ্ঞেস করল, কোন সিট চাই।


আমি সঙ্গে সঙ্গে বললাম,


— সামনের দিকে দিন।


কেন বললাম, নিজেও জানি না। মনে হয়েছিল সামনের সিট মানেই ভালো সিট।


বিমানে উঠে দেখি সামনে কোনো দৃশ্য নেই। সোজা একটা দেয়াল।


তখন বুঝলাম নিজের বুদ্ধির ফল।


আমার দুপাশে দুইজন তামিল ভদ্রলোক বসেছিলেন। নিজেদের মধ্যে কথা বলছিলেন। আমি চুপচাপ বসে আছি।


তারপর বিমান চলা শুরু করল। কিছুক্ষণ পর এমন শব্দ হলো যে বুক ধড়ফড় শুরু হয়ে গেল। মনে হলো বিশাল একটা মেশিন পুরো শক্তিতে চলছে। কয়েক সেকেন্ড পরে বিমান আকাশে উঠল।


আমি একটু স্বস্তি পেলাম। ভাবলাম, এবার সব ঠিক।


কিন্তু আসল ঘটনা তখনও বাকি।


বিমানে ওঠার আগে আমার ধারণা ছিল, বিমানের সব খাবার ফ্রি। কোথা থেকে এই ধারণা পেয়েছিলাম জানি না।


একটু পরে বিমানবালা খাবারের ট্রলি নিয়ে এলেন। বার্গার আছে, ফ্রেঞ্চ ফ্রাই আছে, কোক আছে। আমি একদম বড় বার্গারটাই নিলাম। সঙ্গে ফ্রেঞ্চ ফ্রাই। পরে আবার কোকও নিলাম।


বেশ আরাম করে খাচ্ছি।


খেতে খেতে হঠাৎ খেয়াল করলাম, আশপাশের কেউ কিছু নিচ্ছে না। একটু অবাক হলাম। তারপর ভাবলাম, হয়তো সবাই খেয়ে এসেছে। বিষয়টা নিয়ে আর মাথা ঘামালাম না।


এর মধ্যে পাশের সিট থেকে একটা তামিল পত্রিকা হাতে নিলাম। ভাষা বুঝি না, তবু এমনভাবে ধরে আছি যেন খুব মন দিয়ে পড়ছি।


হঠাৎ পাশের ভদ্রলোক হেসে বললেন,


— দাদা, কাগজটা উল্টো।


আমি সঙ্গে সঙ্গে পত্রিকাটা ভাঁজ করে রেখে দিলাম। মনে হলো, আর একটু হলে মাটির নিচে ঢুকে যাই।


কিন্তু না। আরও বাকি ছিল।


কিছুক্ষণ পরে বিমানবালা আবার এলেন। হাতে একটা ছোট্ট কাগজ।


আমার দিকে বাড়িয়ে দিয়ে বললেন,


— স্যার, আপনার বিল।


আমি অবাক।


— বিল?


— জি, খাবারের বিল।


কাগজটা হাতে নিয়ে দেখি ৬২৫ রুপি।


৬২৫ রুপি দেখে কয়েক সেকেন্ড আমি শুধু কাগজটার দিকেই তাকিয়ে ছিলাম।


বার্গার, ফ্রেঞ্চ ফ্রাই আর কোক মিলে ৬২৫ রুপি!


পরে জানলাম ডোমেস্টিক ফ্লাইটে খাবার কিনে খেতে হয়।


টাকা দিলাম। আর মনে মনে নিজেকেই কয়েকটা কথা শুনিয়ে দিলাম।


চিকিৎসা শেষে সাত দিন পর আবার বিমানে উঠলাম। এবার নিজেকে বেশ অভিজ্ঞ যাত্রী মনে হচ্ছিল।


বিমান আকাশে ওঠার কিছুক্ষণ পরে বিমানবালা এক বোতল পানি এগিয়ে দিলেন।


আমি সঙ্গে সঙ্গে মাথা নাড়লাম।


না ভাই, এবার আর না।


আগের অভিজ্ঞতা যথেষ্ট।


পানি নিলাম না।


কিছুক্ষণ পর দেখি আশপাশের সবাই নিশ্চিন্তে পানি খাচ্ছে।


বিমান নামার আগে পাশের একজন জিজ্ঞেস করলেন,


— পানি নিলেন না কেন?


আমি আস্তে করে বললাম,


— এর জন্য টাকা লাগবে না তো?


লোকটা হেসে ফেললেন।


— না, এটা ফ্রি।


আমি আর কোনো কথা বলিনি।


প্রথমবার বিমানে উঠে ফ্রি ভেবে খাবার খেয়ে বিল দিয়েছিলাম।


দ্বিতীয়বার বিলের ভয়ে ফ্রি পানিটাও খাইনি।


আজ এত বছর পরও ৬২৫ রুপির সেই বার্গারের কথা মনে পড়লে হাসি পায়।


আর উল্টো করে ধরা সেই তামিল পত্রিকার কথাও।

আমি মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন, ই-নলেজ এর একজন যাচাইকৃত লেখক। আমি এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত আছি প্রায় 9 মাস 4 সপ্তাহ ধরে, এবং এ পর্যন্ত 1159 টি লেখা ও 0 টি প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছি। আমার অর্জিত মোট পয়েন্ট 23410। ই-নলেজ আমার চিন্তা, জ্ঞান ও কণ্ঠকে সবার মাঝে পৌঁছে দিতে সহায়তা করেছে।
সংযুক্ত তথ্য
নিজস্ব আইডিয়া, ই-নলেজ আইডিয়া এ প্রথম প্রকাশিত
Enolej ID(eID): 4024
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।

এই লেখকের অন্যান্য সিরিজ


বিজ্ঞাপন: Remembering...

Image

এই ব্লগটির প্রতিক্রিয়া দিতে দয়া করে প্রবেশ কিংবা নিবন্ধন করুন ।

সংশ্লিষ্ট ব্লগগুচ্ছ


image
অন্ধকারের দংশন মোহাম্মাদ জাহিদ হোসেন ছোট গল্প। ২৪ জুলাই, ২০২৬ রাত তখন শেষ প্রহর ছ[...] বিস্তারিত পড়ুন...
4 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
ক্লান্ত নূপুরের ধ্বনি পঞ্চম পর্ব: নতুন ভোর মোহম্মদ জাহিদ হোসেন  ২৩ জুলাই, ২০২৬ ব[...] বিস্তারিত পড়ুন...
6 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
ক্লান্ত নূপুরের ধ্বনি চতুর্থ পর্ব: আলোর স্পর্শ মোহম্মদ জাহিদ হোসেন  ২৩ জুলাই, ২০ý[...] বিস্তারিত পড়ুন...
5 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
ক্লান্ত নূপুরের ধ্বনি তৃতীয় পর্ব: না-বলা কথা মোহম্মদ জাহিদ হোসেন  ২৩ জুলাই, ২০২৬ [...] বিস্তারিত পড়ুন...
4 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
ক্লান্ত নূপুরের ধ্বনি দ্বিতীয় পর্ব: স্মৃতির উঠোন মোহম্মদ জাহিদ হোসেন  ২৩ জুলাই, ý[...] বিস্তারিত পড়ুন...
5 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ
📢 Notice Board
No active notices
ই-নলেজ আইডিয়া(Enolej Idea) হলো লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম যেখানে যেকোনো ধরনের লেখা—সাহিত্য, বিজ্ঞান, গবেষণা নোট, মতামত, প্রতিবাদী লেখা, ধর্মীয় চিন্তা, ব্যক্তিগত নোট বা দৈনন্দিন ভাবনা—নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা যায়। এটি সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ছড়িয়ে থাকা অগোছালো কনটেন্টকে একটি ভেরিফাইড, রেফারেন্সযোগ্য ডিজিটাল পোর্টফোলিওতে রূপান্তর করে, যা ব্যক্তির বুদ্ধিবৃত্তিক পরিচিতি ও দীর্ঘমেয়াদি ব্র্যান্ডিং গড়ে তোলে। প্রতিটি লেখার জন্য ইউনিক ডিজিটাল আইডি (eID) ও কপিরাইট সুরক্ষা প্রদান করা হয়, ফলে লেখা চুরি হলেও আসল লেখক সহজে শনাক্তযোগ্য থাকে। ধারাবাহিক কনটেন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাজানো, এক ক্লিকেই ই-বুক বা বইয়ের খসড়ায় রূপান্তর, ব্যক্তিগত খসড়া গোপন রাখা এবং একটি সক্রিয় কমিউনিটির মাধ্যমে পাঠকের সাথে সরাসরি সংযোগ—সব সুবিধাই এখানে একসাথে পাওয়া যায়। ই-নলেজ আইডিয়া মূলত ব্যক্তির চিন্তা ও জ্ঞানকে একটি স্থায়ী, সুরক্ষিত ও সার্বজনীনভাবে স্বীকৃত ডিজিটাল লেখক ইকোসিস্টেমে রূপ দেয়। IDEA = Independent Digital Expression & Authorship.
  1. মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

    1941 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    96 টি আইডিয়া ব্লগ

  2. ফাহিম আহমাদ

    241 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    12 টি আইডিয়া ব্লগ

  3. প্রিন্স ফ্রেরাসে

    145 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    7 টি আইডিয়া ব্লগ

  4. শামীমা আকতার

    43 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    1 আইডিয়া ব্লগ

...