Enolej Idea-তে লেখা প্রকাশের নিয়ম জানতে পূর্ণ নির্দেশনা দেখুন...
ই-নলেজ আইডিয়া হলো এমন একটি চিন্তানির্ভর প্ল্যাটফর্ম, যেখানে মানুষ শুধু তথ্য নয়, চিন্তা শেয়ার করে। এখানে জ্ঞানীরা একত্র হন, নতুনরা পথ খুঁজে পান, এবং সবাই মিলে তৈরি হয় একটি জ্ঞানভিত্তিক উম্মাহ। এটি জ্ঞানচর্চাকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ বানানোর একটি প্রচেষ্টা, যেখানে লেখা, ভাবা ও শেখা—সবই হয় মুক্তভাবে।আজই যোগ দিন!নিবন্ধন করতে এখানে ক্লিক করুন...।

-: ই-নলেজ আইডিয়া :-

আপনার লেখার কপিরাইট সুরক্ষা, স্বীকৃতি এবং ফ্রী প্রমোশন, সব এক প্ল্যাটফর্মে!

লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম আপনার লেখার অভিজ্ঞতাই বদলে দিবে। (পড়ুন...)

যদি আপনি হন পাঠক, কিংবা লেখক হিসেবে জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করেন:

যদি আপনার লেখাগুলোর কপিরাইট সুরক্ষা, সুশৃঙ্খলতা, আপনার ভেরিফাইড লেখক পোর্টফলিও এবং লেখক-পাঠকের কেন্দ্রীয় কমিউনিটিতে যুক্ত হতে চান, তাহলে নিবন্ধন করুন লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম “ই-নলেজ আইডিয়া” -এ!

এখানে অনেক প্রতিভাবান লেখক বিভিন্ন সিরিজে লিখছেন। আপনিও চাইলে আপনার লেখাগুলো সিরিজ আকারে সাজাতে পারবেন।

আপনার লেখক প্রোফাইল হবে একদম জীবন্ত পোর্টফলিও, এক ধরনের জীবন্ত বই। এখানে শুধু লেখক নয়, থাকবে পাঠকেরও সংস্পর্শ। ব্যাজ, পয়েন্ট, স্বীকৃতি এবং কপিরাইট সুরক্ষা তো থাকছেই, লেখাগুলো স্ক্যান করলেই আপনার নাম ভেসে উঠবে।

এটি তাই লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

চলুন বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক....

পূর্ণ নির্দেশনা [Full Guideline]

ই-নলেজ আইডিয়া – লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

ফেরার ঠিকানা (জীবন, একাকিত্ব ও আশ্রয়ের খোঁজ)

0 পছন্দ 0 অপছন্দ
3 বার প্রদর্শিত
করেছেন (29,507 পয়েন্ট)   14 ঘন্টা পূর্বে "গল্প" বিভাগে লেখা প্রকাশিত
পোষ্ট আইডি(eID) কার্ড↓ - লেখনীর স্বত্ব ও গুণের পরিচয়!

ফেরার ঠিকানা

(জীবন, একাকিত্ব ও আশ্রয়ের খোঁজ)image

মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

ছোটগল্প | ২৩ অক্টোবর ২০২৬


বয়স আটাশ। চাকরি আছে, মাসের শেষে বেতন আসে, নিজের খরচ নিজেই চালাতে পারে। আত্মীয়স্বজনের চোখে রাফি এখন প্রতিষ্ঠিত মানুষ। অথচ মাঝেমধ্যে অফিস থেকে ফেরার পথে তার ইচ্ছে করে, কেউ ফোন করে জিজ্ঞেস করুক, “কোথায় আছিস? কখন ফিরবি?”


ছোটবেলায় মা প্রতিদিন সন্ধ্যায় দরজার কাছে দাঁড়িয়ে থাকতেন। স্কুল থেকে ফিরতে দেরি হলেই বলতেন, “এত দেরি হলো কেন?”


রাফি বিরক্ত হয়ে উত্তর দিত, “একটু খেলেছি, মা। এত চিন্তা করো কেন?”


মা তখন বলতেন, “বড় হলে বুঝবি।”


রাফির বাবা মারা গিয়েছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময়। সকালে অফিসে যাওয়ার জন্য বেরিয়ে আর বাড়ি ফেরেননি। সেই দিনটার পর মা যেন আরও বেশি করে ছেলেকে আঁকড়ে ধরেছিলেন। রাফি কোথাও গেলে বারবার ফোন করতেন, রাতে ফিরতে দেরি হলে জানালার পর্দা সরিয়ে রাস্তার দিকে তাকিয়ে থাকতেন।


বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিতে গেলে মায়ের ফোন দেখে বিরক্ত হতো রাফি। কখনো ফোন ধরত না। পরে বাড়ি ফিরে বলত, “আমি কি ছোট বাচ্চা? বারবার ফোন করতে হবে কেন?”


একদিন রাগের মাথায় বলে ফেলেছিল, “তোমার এই অতিরিক্ত চিন্তার জন্যই আমার দম বন্ধ হয়ে আসে। আমাকে নিজের মতো থাকতে দাও।”


মা চুপ করে ভাতের হাঁড়ির ঢাকনা নামিয়ে রেখেছিলেন। রাফিরও খারাপ লেগেছিল, কিন্তু ক্ষমা চায়নি। ভেবেছিল, মা তো মা-ই। কিছুক্ষণ রাগ করবেন, তারপর সব ঠিক হয়ে যাবে।


চাকরি নিয়ে ঢাকায় আসার পর প্রথম দিকে মা প্রায় প্রতিদিন ফোন করতেন। খেয়েছে কি না জানতে চাইতেন, কখনো বলতেন, বাড়ির পাশের দোকানে তার পছন্দের বিস্কুট এসেছে।


রাফি ছোট ছোট উত্তর দিত।


“হ্যাঁ, খেয়েছি।”


“এখন ব্যস্ত আছি, পরে কথা বলব।”


ধীরে ধীরে মায়ের ফোন কমে গেল। রাফি মনে মনে স্বস্তি পেয়েছিল।


এক শুক্রবার বাড়ি গিয়ে দেখল, মা আগের চেয়ে অনেক শুকিয়ে গেছেন। তবু ছেলেকে দেখে সেই পুরোনো প্রশ্নটাই করলেন, “খেয়েছিস?”


রাফি ব্যাগ নামিয়ে বলল, “মা, আমি এখন আর ছোট নেই। নিজের খেয়াল রাখতে পারি।”


মা হেসে বললেন, “তা তো জানি।”


পরের মাসে মা অসুস্থ হয়ে পড়লেন। জ্বরের পর শ্বাসকষ্ট শুরু হলে রাফি বাড়ি ছুটে গেল। হাসপাতালে মায়ের হাত ধরে বসেছিল অনেকক্ষণ।


চোখ খুলে মা জিজ্ঞেস করলেন, “কাজ ফেলে এলি?”


“তুমি এসব কথা বলো না তো।”


মা ছেলের হাতটা একটু শক্ত করে ধরেছিলেন।


সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরার পর মা আর আগের মতো ফোন করতেন না। হয়তো বুঝেছিলেন, ছেলে বড় হয়েছে, বারবার খোঁজ নেওয়াটা তার পছন্দ নয়। রাফি ফোন করলে কথা বলতেন, তবে নিজে থেকে বেশি কিছু জানতে চাইতেন না।


একদিন অফিস থেকে ফেরার পথে রাফির মনটা খুব খারাপ ছিল। কাজ নষ্ট হয়েছে, বসের কাছে কথা শুনতে হয়েছে। হঠাৎ মায়ের কথা মনে পড়ল। ফোন করে বলতে ইচ্ছে হলো, “মা, আজকে খুব খারাপ একটা দিন গেল।”


মা ফোন ধরতেই জিজ্ঞেস করলেন, “কী রে?”


“কিছু না। এমনি ফোন দিলাম।”


“ভালো করেছিস। খেয়েছিস?”


রাফি চেয়েছিল, মা আরও কিছুক্ষণ কথা বলুন। গলার স্বর শুনে জিজ্ঞেস করুন, কিছু হয়েছে কি না। কিন্তু সে নিজেও কিছু বলল না।


“আচ্ছা মা, রাখি। পরে কথা বলব।”


“আচ্ছা, বাবা।”


কয়েক মাস পর মা আবার অসুস্থ হলেন। এবার রাফি পৌঁছানোর আগেই সব শেষ হয়ে গেল।


বাড়িতে ঢুকে সে দেখল, মায়ের চশমাটা টেবিলে, পাশে আধখোলা ওষুধের বাক্স। রান্নাঘরের তাকে তার পছন্দের বিস্কুটের একটা প্যাকেট পড়ে আছে।


রাতে সবাই চলে যাওয়ার পর মায়ের ঘরে বসে পুরোনো একটা ছবি হাতে নিল রাফি। ছবিতে সে ছোট্ট শিশু, মায়ের কোলে বসে শাড়ির আঁচল মুঠো করে ধরে আছে।


তার চোখ ভিজে উঠল।


মায়ের নম্বরটা এখনো ফোনে আছে। মাঝে মাঝে খুলে তাকিয়ে থাকে। বলতে ইচ্ছে করে, “মা, আজকে মনটা ভালো নেই। একটু কথা বলবে?”


তারপর মনে পড়ে, ওপাশে আর কেউ ফোন ধরবে না।


কোনো কোনো সন্ধ্যায় বাসায় ফিরে দরজার তালা খুলতে খুলতে তার মনে হয়, কেউ যদি ভেতর থেকে দরজাটা খুলে দিত! কেউ যদি জিজ্ঞেস করত, “এত দেরি হলো কেন?”


সেদিন হয়তো সে বিরক্ত হতো না। ব্যাগ নামিয়ে বলত, “মা, আজকে রাস্তায় খুব জ্যাম ছিল। তুমি খেয়েছ?”


এক রাতে কাজ শেষে বাড়ি ফিরে মায়ের ছবিটা টেবিলে রাখল রাফি। তারপর ফোনে মায়ের নম্বর খুলে অনেকক্ষণ তাকিয়ে রইল।


ফোনটা নামিয়ে জানালার পাশে দাঁড়াল। বাইরে বৃষ্টি পড়ছে। পাশের বাড়ি থেকে কারও গলা ভেসে এল, “দরজাটা খুলে দাও, ও এসেছে।”


রাফি জানালা বন্ধ করে মায়ের ছবিটার পাশে এসে বসল।


“মা, আমি বাড়ি ফিরেছি,” সে আস্তে করে বলল।


ঘরে আর কোনো শব্দ হলো না।

আমি মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন, ই-নলেজ এর একজন যাচাইকৃত লেখক। আমি এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত আছি প্রায় 1 বছর 4 সপ্তাহ ধরে, এবং এ পর্যন্ত 1460 টি লেখা ও 0 টি প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছি। আমার অর্জিত মোট পয়েন্ট 29507। ই-নলেজ আমার চিন্তা, জ্ঞান ও কণ্ঠকে সবার মাঝে পৌঁছে দিতে সহায়তা করেছে।
সংযুক্ত তথ্য
নিজস্ব আইডিয়া, ই-নলেজ আইডিয়া এ প্রথম প্রকাশিত
Enolej ID(eID): 5067
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।

এই লেখকের অন্যান্য সিরিজ


বিজ্ঞাপন: Remembering...

Image

এই ব্লগটির প্রতিক্রিয়া দিতে দয়া করে প্রবেশ কিংবা নিবন্ধন করুন ।

সংশ্লিষ্ট ব্লগগুচ্ছ


image
উপন্যাসঃ-ছইয়ের নিচে জীবন গল্প-১ -জলছায়ার ঠিকানা মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ২৬ জুলাই, ২[...] বিস্তারিত পড়ুন...
42 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

"আমি তোরই ছায়া" আল-আমিন (আলো) চুপচাপ সন্ধ্যা নামে জানালার কাচে, কেউ নেই ডাকে,কেউ নেই কাছে।  হাওয়ারও শব্দ আজ থেমে আছে বুকে, যেন কারো স্পর্শ ছিল হারিয়ে গেছে সুখে। ঘরভর্তি নিঃশ্বাস, তবু শূন্যতা ব�[...] বিস্তারিত পড়ুন...
56 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
বৃষ্টির ঠিকানা মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ছোটগল্প | ২৬ জুন, ২০২৬ সন্ধ্যার পর থেকেই বৃষ্ট[...] বিস্তারিত পড়ুন...
56 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

  আষাঢ়ের শেষ ঠিকানা মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ছোট গল্প। মে ০২, ২০২৬ আষাঢ় এলে আকাশটা এমন&#[...] বিস্তারিত পড়ুন...
552 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
চলে গিয়েও থেকে যাওয়া (জীবন, কর্ম ও মানবিক সম্পর্ক) মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন বিশ্লেষণ[...] বিস্তারিত পড়ুন...
2 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ
📢 Notice Board
No active notices
ই-নলেজ আইডিয়া(Enolej Idea) হলো লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম যেখানে যেকোনো ধরনের লেখা—সাহিত্য, বিজ্ঞান, গবেষণা নোট, মতামত, প্রতিবাদী লেখা, ধর্মীয় চিন্তা, ব্যক্তিগত নোট বা দৈনন্দিন ভাবনা—নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা যায়। এটি সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ছড়িয়ে থাকা অগোছালো কনটেন্টকে একটি ভেরিফাইড, রেফারেন্সযোগ্য ডিজিটাল পোর্টফোলিওতে রূপান্তর করে, যা ব্যক্তির বুদ্ধিবৃত্তিক পরিচিতি ও দীর্ঘমেয়াদি ব্র্যান্ডিং গড়ে তোলে। প্রতিটি লেখার জন্য ইউনিক ডিজিটাল আইডি (eID) ও কপিরাইট সুরক্ষা প্রদান করা হয়, ফলে লেখা চুরি হলেও আসল লেখক সহজে শনাক্তযোগ্য থাকে। ধারাবাহিক কনটেন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাজানো, এক ক্লিকেই ই-বুক বা বইয়ের খসড়ায় রূপান্তর, ব্যক্তিগত খসড়া গোপন রাখা এবং একটি সক্রিয় কমিউনিটির মাধ্যমে পাঠকের সাথে সরাসরি সংযোগ—সব সুবিধাই এখানে একসাথে পাওয়া যায়। ই-নলেজ আইডিয়া মূলত ব্যক্তির চিন্তা ও জ্ঞানকে একটি স্থায়ী, সুরক্ষিত ও সার্বজনীনভাবে স্বীকৃত ডিজিটাল লেখক ইকোসিস্টেমে রূপ দেয়। IDEA = Independent Digital Expression & Authorship.
  1. মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

    1903 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    10 মন্তব্য

    94 টি আইডিয়া ব্লগ

  2. প্রিন্স ফ্রেরাসে

    127 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    6 টি আইডিয়া ব্লগ

  3. জামিনুল রেজা

    83 পয়েন্ট

    1 প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    4 টি আইডিয়া ব্লগ

  4. অমিত দত্ত দিলু

    65 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    3 টি আইডিয়া ব্লগ

...