Enolej Idea-তে লেখা প্রকাশের নিয়ম জানতে পূর্ণ নির্দেশনা দেখুন...
ই-নলেজ আইডিয়া হলো এমন একটি চিন্তানির্ভর প্ল্যাটফর্ম, যেখানে মানুষ শুধু তথ্য নয়, চিন্তা শেয়ার করে। এখানে জ্ঞানীরা একত্র হন, নতুনরা পথ খুঁজে পান, এবং সবাই মিলে তৈরি হয় একটি জ্ঞানভিত্তিক উম্মাহ। এটি জ্ঞানচর্চাকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ বানানোর একটি প্রচেষ্টা, যেখানে লেখা, ভাবা ও শেখা—সবই হয় মুক্তভাবে।আজই যোগ দিন!নিবন্ধন করতে এখানে ক্লিক করুন...।

-: ই-নলেজ আইডিয়া :-

আপনার লেখার কপিরাইট সুরক্ষা, স্বীকৃতি এবং ফ্রী প্রমোশন, সব এক প্ল্যাটফর্মে!

লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম আপনার লেখার অভিজ্ঞতাই বদলে দিবে। (পড়ুন...)

যদি আপনি হন পাঠক, কিংবা লেখক হিসেবে জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করেন:

যদি আপনার লেখাগুলোর কপিরাইট সুরক্ষা, সুশৃঙ্খলতা, আপনার ভেরিফাইড লেখক পোর্টফলিও এবং লেখক-পাঠকের কেন্দ্রীয় কমিউনিটিতে যুক্ত হতে চান, তাহলে নিবন্ধন করুন লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম “ই-নলেজ আইডিয়া” -এ!

এখানে অনেক প্রতিভাবান লেখক বিভিন্ন সিরিজে লিখছেন। আপনিও চাইলে আপনার লেখাগুলো সিরিজ আকারে সাজাতে পারবেন।

আপনার লেখক প্রোফাইল হবে একদম জীবন্ত পোর্টফলিও, এক ধরনের জীবন্ত বই। এখানে শুধু লেখক নয়, থাকবে পাঠকেরও সংস্পর্শ। ব্যাজ, পয়েন্ট, স্বীকৃতি এবং কপিরাইট সুরক্ষা তো থাকছেই, লেখাগুলো স্ক্যান করলেই আপনার নাম ভেসে উঠবে।

এটি তাই লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

চলুন বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক....

পূর্ণ নির্দেশনা [Full Guideline]

ই-নলেজ আইডিয়া – লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

যে দরজাটা খোলা ছিল

0 পছন্দ 0 অপছন্দ
1 বার দর্শন
করেছেন (21,086 পয়েন্ট)   7 ঘন্টা পূর্বে "গল্প" বিভাগে লেখা প্রকাশিত
পোষ্ট আইডি(eID) কার্ড↓ - লেখনীর স্বত্ব ও গুণের পরিচয়!

image যে দরজাটা খোলা ছিল

মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

ছোটগল্প | ২৭ জুন, ২০২৬

ঈদের সকাল। বৃদ্ধাশ্রমের রান্নাঘর থেকে সেমাইয়ের গন্ধ ভেসে আসছে। বারান্দার এক কোণায় বসে আবদুল করিম গেটের দিকে তাকিয়ে আছেন।

সকাল থেকে কতবার যে তাকিয়েছেন, সেটা তিনি নিজেও বলতে পারবেন না।

আজ ভোর থেকেই বৃদ্ধাশ্রমটা অন্য দিনের চেয়ে একটু বেশি ব্যস্ত।

কারণ ঈদে অনেকের পরিবার আসে।

অন্তত আসার কথা থাকে।

বারান্দার অন্য পাশে বসে থাকা রহিমা বেগম সকালে তিনবার শাড়ি বদলেছেন। মেয়ে নাকি বলেছিল, দুপুরের আগেই চলে আসবে।

সামনের ঘরের আজিজ সাহেব কর্মচারীকে দিয়ে দাড়ি ছেঁটে নিয়েছেন। নাতিটা তাকে দাড়ি ছাড়া দেখতে চায় না।

করিম চুপচাপ সব দেখেন।

প্রতি ঈদেই।

দুপুর গড়িয়ে বিকেল হয়ে যায়। তারপরও অনেক প্রতিশ্রুতি গেট পেরিয়ে ভেতরে ঢোকে না।

ফজরের নামাজের পরই গোসল করে সাদা পাঞ্জাবিটা পরে নিয়েছেন। গত বছর ছোট ছেলে আমেরিকা থেকে পাঠিয়েছিল। তখন গায়ে বেশ মানিয়েছিল। এখন একটু ঢিলেঢালা লাগে।

করিম এখনও অপেক্ষা করেন।

প্রতি ঈদেই।

আজও।

আজ হয়তো আসবে।

এই ভাবনাটা তিনি প্রতি বছরই ভাবেন। তবু পরের বছর আবারও ভাবেন।

সাড়ে দশটার দিকে গেট খুলে একটা গাড়ি ঢুকল।

করিম অজান্তেই একটু সোজা হয়ে বসলেন।

কিন্তু কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই আবার আগের মতো হয়ে গেলেন।

গাড়ি থেকে নামল কয়েকজন তরুণ-তরুণী।

স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের পক্ষ থেকে ঈদের শুভেচ্ছা জানাতে এসেছে।

তাদের মধ্যে অভিক আর নিশিও ছিল।

নিশির হাতে খাবারের প্যাকেট। অভিক বৃদ্ধাশ্রমের দায়িত্বে থাকা লোকটার সঙ্গে কথা বলছে।

করিম আবার গেটের দিকে তাকালেন।

এমন ভুল তিনি নতুন করেন না।

শুধু ভুলটা এখনও হয়।

অভিক প্রথমে তাকে খেয়াল করেনি।

কিন্তু কিছুক্ষণ পর দেখল, বৃদ্ধ মানুষটা যেন গেটের দিক থেকে চোখ সরাতেই পারছেন না।

সে এগিয়ে গেল।

চাচা, কেমন আছেন?

করিম মুখ তুলে তাকালেন।

ভালো আছি বাবা।

 ঈদে কেউ আসবে?

করিম কিছুক্ষণ চুপ করে থাকলেন।

তারপর হেসে বললেন,

আসার কথা ছিল।

অভিক আর কিছু জিজ্ঞেস করল না।

নিশি এসে পাশে বসল।

কথা বলতে বলতে জানা গেল, করিম একসময় স্কুলশিক্ষক ছিলেন।

চল্লিশ বছরের চাকরি। গ্রামের বাড়িটা বিক্রি করতে হয়েছিল ছেলেমেয়েদের পড়াশোনার খরচ জোগাতে।

বড় ছেলে কানাডায়।

ছোট ছেলে আমেরিকায়।

মেয়ে অস্ট্রেলিয়ায়।

সন্তানদের কথা বলতে গিয়ে তার মুখে গর্বের হাসি ফুটে উঠল।

আল্লাহর রহমতে সবাই ভালো আছে।

কথাটা বলে তিনি আবার গেটের দিকে তাকালেন।

দুপুরে সবাই মিলে খাওয়াদাওয়া করল।

করিমকে অন্য দিনের চেয়ে একটু বেশি কথা বলতে দেখা গেল।

স্কুলের গল্প বললেন।

ছাত্রদের গল্প বললেন।

একজন ছাত্রের কথা বললেন, যে এখন বড় ডাক্তার।

হঠাৎ নিশি খেয়াল করল, করিম নিজের প্লেটের মাংসের টুকরোটা ছুঁয়েও দেখেননি।

খাচ্ছেন না কেন?

করিম মৃদু হেসে বললেন,

আমার নাতিটা মাংস খুব পছন্দ করে। ভিডিও কলে কথা হলে সব সময় প্লেট দেখাতে বলে। আজ ওর কথা মনে পড়ে গেল।

এরপর আর কিছু বললেন না।

মাংসের টুকরোটা প্লেটের এক কোণায় পড়ে রইল।

বিকেলের দিকে একে একে কয়েকজনের পরিবার এল।

কেউ ফুল নিয়ে এসেছে।

কেউ বাড়ির রান্না।

কেউ নাতি-নাতনিকে নিয়ে ছবি তুলছে।

রহিমা বেগমের মেয়ে শেষ পর্যন্ত এল না।

আজিজ সাহেবের নাতিটাও না।

করিম দূর থেকে সব দেখছিলেন।

মুখে ছোট্ট একটা হাসি ছিল।

খাওয়ার পর অভিক বলল,

চাচা, একটা ছবি তুলতে পারি?

করিম হেসে বললেন,

এই বুড়ো মানুষের ছবি রেখে কী হবে?

ভালো লাগবে।

তাহলে তো তুলতেই হয়।

ছবি তোলার সময় তিনি ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে হাসলেন।

বিকেলের দিকে অভিক আর নিশি বিদায় নিতে এলে করিম বললেন,

আবার আসবা তো?

আসব চাচা।

নিশি উত্তর দিল।

অভিকও বলল,

ইনশাআল্লাহ আসব।

করিম শুধু মাথা নাড়লেন।

সন্ধ্যার একটু আগে তার ফোন বেজে উঠল।

ছোট ছেলে।

অনেক দিন পর।

কথা হলো।

কাজের কথা।

নাতনির স্কুলের কথা।

আবহাওয়ার কথা।

শেষে ছেলেটা বলল,

বাবা, আগামী ঈদে চেষ্টা করব আসতে।

করিম একটু চুপ করে থেকে বললেন,

আচ্ছা বাবা।

এই কথাটাও তিনি আগেও শুনেছেন।

একবার না।

অনেকবার।

ফোন রাখার আগে শুধু বললেন,

ভালো থাকিস।

ওপাশ থেকে ভেসে এল,

তুমিও ভালো থেকো।

কল কেটে গেল।

বারান্দায় আবার নীরবতা নেমে এল।

দূরে কোথাও আতশবাজির শব্দ হচ্ছিল।

করিম ধীরে ধীরে নিজের ঘরের দিকে হাঁটলেন।

করিডোরের দেয়ালে ঝোলানো ছবিগুলোর দিকে চোখ গেল।

কিছু ছবির নিচে ছোট্ট কালো ফিতা বাঁধা।

যারা একদিন এই বারান্দায় বসে গেটের দিকে তাকিয়ে থাকতেন, তারা আর নেই।

দরজার কাছে গিয়ে তিনি একবার পেছনে তাকালেন।

গেটটা তখনও খোলা।

কয়েক সেকেন্ড দাঁড়িয়ে থেকে ভেতরে ঢুকে দরজাটা আস্তে করে টেনে দিলেন।

গেটটা অবশ্য তখনও খোলা ছিল।

আমি মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন, ই-নলেজ এর একজন যাচাইকৃত লেখক। আমি এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত আছি প্রায় 9 মাস ধরে, এবং এ পর্যন্ত 1044 টি লেখা ও 0 টি প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছি। আমার অর্জিত মোট পয়েন্ট 21086। ই-নলেজ আমার চিন্তা, জ্ঞান ও কণ্ঠকে সবার মাঝে পৌঁছে দিতে সহায়তা করেছে।
সংযুক্ত তথ্য
নিজস্ব আইডিয়া, ই-নলেজ আইডিয়া এ প্রথম প্রকাশিত
Enolej ID(eID): 4152
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।

এই লেখকের অন্যান্য সিরিজ


বিজ্ঞাপন: Remembering...

Image

এই ব্লগটির প্রতিক্রিয়া দিতে দয়া করে প্রবেশ কিংবা নিবন্ধন করুন ।

সংশ্লিষ্ট ব্লগগুচ্ছ


 অন্ধকারের আগে যে মানুষটা ছিল মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ছোট গল্প।মে ০৭, ২০২৬ সারাদিনে[...] বিস্তারিত পড়ুন...
345 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

যে কান্না শোনার কথা ছিল মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ছোট গল্প। মে ০১, ২০২৬ ডাইরির পাতা খুললেই কেমন একটা চুপচাপ ভাব নেমে আসে। একেবারে নিঃশব্দ না—বরং মনে হয়, কথাগুলো বাইরে বের না হয়ে ভেতরেই ঘুরপাক খা�[...] বিস্তারিত পড়ুন...
478 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
যে বেঞ্চটায় তিনি বসতেন মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ছোটগল্প | ২৬ জুন, ২০২৬ সকাল ঠিক নয়টাð[...] বিস্তারিত পড়ুন...
1 বার দর্শন 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
যে ঋতুতে বাবা থাকেন না   মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন   ছোটগল্প। ২৫ জুন, ২০২৬ অভিকের মনে হ[...] বিস্তারিত পড়ুন...
2 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
যে শিশুটি সব দেখছে মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন   ছোট গল্প। ১০ জুন, ২০২৬ রাতে খেতে বসেছে রি[...] বিস্তারিত পড়ুন...
189 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ
📢 Notice Board
No active notices
ই-নলেজ আইডিয়া(Enolej Idea) হলো লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম যেখানে যেকোনো ধরনের লেখা—সাহিত্য, বিজ্ঞান, গবেষণা নোট, মতামত, প্রতিবাদী লেখা, ধর্মীয় চিন্তা, ব্যক্তিগত নোট বা দৈনন্দিন ভাবনা—নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা যায়। এটি সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ছড়িয়ে থাকা অগোছালো কনটেন্টকে একটি ভেরিফাইড, রেফারেন্সযোগ্য ডিজিটাল পোর্টফোলিওতে রূপান্তর করে, যা ব্যক্তির বুদ্ধিবৃত্তিক পরিচিতি ও দীর্ঘমেয়াদি ব্র্যান্ডিং গড়ে তোলে। প্রতিটি লেখার জন্য ইউনিক ডিজিটাল আইডি (eID) ও কপিরাইট সুরক্ষা প্রদান করা হয়, ফলে লেখা চুরি হলেও আসল লেখক সহজে শনাক্তযোগ্য থাকে। ধারাবাহিক কনটেন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাজানো, এক ক্লিকেই ই-বুক বা বইয়ের খসড়ায় রূপান্তর, ব্যক্তিগত খসড়া গোপন রাখা এবং একটি সক্রিয় কমিউনিটির মাধ্যমে পাঠকের সাথে সরাসরি সংযোগ—সব সুবিধাই এখানে একসাথে পাওয়া যায়। ই-নলেজ আইডিয়া মূলত ব্যক্তির চিন্তা ও জ্ঞানকে একটি স্থায়ী, সুরক্ষিত ও সার্বজনীনভাবে স্বীকৃত ডিজিটাল লেখক ইকোসিস্টেমে রূপ দেয়। IDEA = Independent Digital Expression & Authorship.
  1. মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

    1784 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    88 টি আইডিয়া ব্লগ

  2. রফিক আতা

    666 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    33 টি আইডিয়া ব্লগ

  3. জামিনুল রেজা

    428 পয়েন্ট

    1 প্রতিক্রিয়া

    1 মন্তব্য

    21 টি আইডিয়া ব্লগ

  4. ক্বলমী সুর

    156 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    7 টি আইডিয়া ব্লগ

...