Enolej Idea-তে লেখা প্রকাশের নিয়ম জানতে পূর্ণ নির্দেশনা দেখুন...
ই-নলেজ আইডিয়া হলো এমন একটি চিন্তানির্ভর প্ল্যাটফর্ম, যেখানে মানুষ শুধু তথ্য নয়, চিন্তা শেয়ার করে। এখানে জ্ঞানীরা একত্র হন, নতুনরা পথ খুঁজে পান, এবং সবাই মিলে তৈরি হয় একটি জ্ঞানভিত্তিক উম্মাহ। এটি জ্ঞানচর্চাকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ বানানোর একটি প্রচেষ্টা, যেখানে লেখা, ভাবা ও শেখা—সবই হয় মুক্তভাবে।আজই যোগ দিন!নিবন্ধন করতে এখানে ক্লিক করুন...।

-: ই-নলেজ আইডিয়া :-

আপনার লেখার কপিরাইট সুরক্ষা, স্বীকৃতি এবং ফ্রী প্রমোশন, সব এক প্ল্যাটফর্মে!

লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম আপনার লেখার অভিজ্ঞতাই বদলে দিবে। (পড়ুন...)

যদি আপনি হন পাঠক, কিংবা লেখক হিসেবে জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করেন:

যদি আপনার লেখাগুলোর কপিরাইট সুরক্ষা, সুশৃঙ্খলতা, আপনার ভেরিফাইড লেখক পোর্টফলিও এবং লেখক-পাঠকের কেন্দ্রীয় কমিউনিটিতে যুক্ত হতে চান, তাহলে নিবন্ধন করুন লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম “ই-নলেজ আইডিয়া” -এ!

এখানে অনেক প্রতিভাবান লেখক বিভিন্ন সিরিজে লিখছেন। আপনিও চাইলে আপনার লেখাগুলো সিরিজ আকারে সাজাতে পারবেন।

আপনার লেখক প্রোফাইল হবে একদম জীবন্ত পোর্টফলিও, এক ধরনের জীবন্ত বই। এখানে শুধু লেখক নয়, থাকবে পাঠকেরও সংস্পর্শ। ব্যাজ, পয়েন্ট, স্বীকৃতি এবং কপিরাইট সুরক্ষা তো থাকছেই, লেখাগুলো স্ক্যান করলেই আপনার নাম ভেসে উঠবে।

এটি তাই লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

চলুন বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক....

পূর্ণ নির্দেশনা [Full Guideline]

ই-নলেজ আইডিয়া – লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

পরিচয়পত্র

0 পছন্দ 0 অপছন্দ
3 বার প্রদর্শিত
করেছেন (26,541 পয়েন্ট)   22 ঘন্টা পূর্বে "গল্প" বিভাগে লেখা প্রকাশিত
পোষ্ট আইডি(eID) কার্ড↓ - লেখনীর স্বত্ব ও গুণের পরিচয়!

পরিচয়পত্রimage  

মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

ছোটগল্প। ০২-০৯-২০২৬


ইন্টারভিউ দিয়ে বেরিয়ে অভিক প্রথমে বাসায় ফিরল না। দুপুরের রোদ তখন মাথার ওপর। শার্টের কলার ঘামে ভিজে গেছে। হাতে কালো ফাইলটা—ভেতরে কয়েক কপি জীবনবৃত্তান্ত, একটা কলম আর আগের অফিসের শেষ বেতন সনদ।


রাস্তায় দাঁড়িয়ে সে পকেট থেকে মানিব্যাগ বের করল। তিনশো পঁচিশ টাকা। এক মুহূর্ত ভেবে রাস্তার পাশে একটা চায়ের দোকানে বসে পড়ল। —এক কাপ চা দেন। চা-ওয়ালা গ্লাসটা এগিয়ে দিয়ে জিজ্ঞেস করল, ভাই, বিস্কুট দেব? 

অভিক মাথা নাড়ল।


চায়ের গ্লাস হাতে নিয়ে সে ইন্টারভিউর কথাগুলো মনে করার চেষ্টা করল। “আগের চাকরি কেন ছেড়েছেন?” 


প্রশ্নটা খুব সহজ ছিল। কিন্তু অভিক উত্তর দিতে গিয়ে থেমে গিয়েছিল। সে বলতে পারেনি, বারো বছর কাজ করার পর কোম্পানি তাকে ছাড়িয়ে দিয়েছে। বলেছিল, খরচ কমাতে হবে। 


অভিক তখনও ভেবেছিল, এই শহরে বারো বছরের অভিজ্ঞতা নিয়ে একটা চাকরি পাওয়া কঠিন হবে না। আজ তৃতীয় মাস চলছে।


চা শেষ করে সে টাকা দিল। চা-ওয়ালা পাঁচ টাকা ফেরত দিল। কয়েনটা হাতে নিয়ে অভিক কিছুক্ষণ তাকিয়ে রইল। তারপর পকেটে রেখে উঠে পড়ল।


বাসায় ফিরে দরজা খুলতেই নিশি বলল, 

কেমন হলো? 

অভিক ফাইলটা টেবিলে রেখে বলল,

হয়নি। 

কীভাবে বুঝলে? 

বুঝেছি।


নিশি আর প্রশ্ন করল না। রান্নাঘরে গিয়ে ভাত বেড়ে আনল। অভিক খেতে বসে দু-এক লোকমার পর প্লেটটা সরিয়ে রাখল। 

খাবি না? 

ইচ্ছে করছে না। 

নিশি এবার বিরক্ত হয়ে বলল, 

তোমার কোনো কিছুরই তো ইচ্ছে করছে না। 

অভিক চুপ করে রইল। 

চাকরি হয়নি, ঠিক আছে। আবার চেষ্টা করো। কিন্তু সারাদিন ঘরে বসে থেকে কী হবে? 

চেষ্টা করছি। 

কোথায়? 

অভিক এবারও কোনো উত্তর দিল না। 

নিশি বলল, 

তুমি সারাদিন এই জানালার পাশে বসে থাকলে আমি আর কতদিন তোমাকে দেখতে আসব?

 অভিক মাথা তুলল। 

তুমি না এলেও পারো। নিশি চুপ করে গেল। 

তারপর প্লেটটা সরিয়ে নিয়ে বলল, 

ঠিক আছে।


সেদিন সে বেশ তাড়াতাড়ি চলে গেল। দরজা বন্ধ হওয়ার পর অভিক অনেকক্ষণ একই জায়গায় দাঁড়িয়ে রইল। ফোনটা কয়েকবার হাতে নিল, আবার রেখে দিল। চাকরি হারানোর পর সবচেয়ে কঠিন হয়ে উঠেছিল একটা সাধারণ প্রশ্ন—“কী করেন?” প্রথম দিকে অভিক সুন্দর করে উত্তর দিত, “ফাইন্যান্সে ছিলাম।” তারপর ধীরে ধীরে উত্তর ছোট হয়ে গেল, “চাকরি খুঁজছি।” শেষ দিকে প্রশ্নটা এড়ানোর জন্য সে মানুষজনের সঙ্গে দেখাই করা বন্ধ করে দিল। পুরনো সহকর্মীরা ফোন করলে ধরত না। বন্ধুরা দেখা করতে চাইলে বলত, “ব্যস্ত আছি।” আসলে সে কোথাও ব্যস্ত ছিল না। শুধু নিজের বেকার মুখটা কাউকে দেখাতে চাইত না।


একদিন পুরনো অফিসের এক সহকর্মী ফোন করেছিল। অভিক ফোনটা বাজতে দিয়ে পাশে রেখে দিয়েছিল। স্ক্রিনে নামটা জ্বলছিল। তারপর নিভে গেল। সে ফোনটা হাতে নিয়ে দেখল, কলটা আর আসছে না।


এক বিকেলে আলমারি পরিষ্কার করতে গিয়ে পুরনো একটা ব্যাগ পেল। ব্যাগটা খুলতেই পরিচয়পত্রটা বেরিয়ে এল। ছবিতে তার বয়স কম। চুল ছোট। মুখে আত্মবিশ্বাসী একটা ভাব। নিচে লেখা—সিনিয়র এক্সিকিউটিভ। 


অভিক কার্ডটা হাতে নিয়ে আয়নার সামনে দাঁড়াল। আয়নায় এখনকার মানুষটা তাকে ফিরিয়ে তাকিয়ে দেখছে। সে ছবিটার দিকে আবার তাকাল। পদবি চলে গেছে। অফিস চলে গেছে। কিন্তু ছবির মানুষটা তো সে-ই।


কার্ডটা হাতে নিয়ে সে অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে রইল। তারপর টেবিলে বসে ল্যাপটপ খুলল। বারো বছরের অভিজ্ঞতাগুলো এক এক করে লিখতে গিয়ে তার মনে হলো, এত বছর সে শুধু একটা পদে কাজ করেনি। কাজের ভেতর আরও অনেক কিছু শিখেছে, যেগুলোর কোনো পরিচয়পত্র হয় না। সেদিন রাতেই সে তিনটা প্রতিষ্ঠানে জীবনবৃত্তান্ত পাঠাল। পরদিন আরও দুটো।


দুই সপ্তাহ পর একটা ছোট প্রতিষ্ঠানে কাজের সুযোগ হলো। বেতন আগের চেয়ে কম। অফিসও অনেক দূরে। তবু অভিক রাজি হয়ে গেল। 


প্রথম দিন অফিসে যাওয়ার আগে পুরনো পরিচয়পত্রটা সে বের করেছিল। অনেকক্ষণ হাতে নিয়ে থেকে আবার ব্যাগে রেখে দিল। নতুন অফিসে তার জন্য নতুন একটা কার্ড বানানো হবে। কী লেখা থাকবে, সেটা সে জানত না।


কয়েক মাস পর তারা নদীর ধারে দাঁড়িয়েছিল। সন্ধ্যা নেমে এসেছে। নিশি সামনে হাঁটছিল, অভিক একটু পেছনে। হঠাৎ নিশি ফিরে তাকাল।


এত পেছনে কেন?

অভিক হেসে বলল,

আসছি।

সে হাঁটা বাড়াল। নিশির পাশে গিয়ে তার হাত ধরল।


ভেজা মাটির ওপর দুজনের পায়ের ছাপ পাশাপাশি পড়তে লাগল। পেছন থেকে নদীর পানি ধীরে ধীরে এগিয়ে আসছিল।

আমি মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন, ই-নলেজ এর একজন যাচাইকৃত লেখক। আমি এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত আছি প্রায় 11 মাস 1 সপ্তাহ ধরে, এবং এ পর্যন্ত 1314 টি লেখা ও 0 টি প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছি। আমার অর্জিত মোট পয়েন্ট 26541। ই-নলেজ আমার চিন্তা, জ্ঞান ও কণ্ঠকে সবার মাঝে পৌঁছে দিতে সহায়তা করেছে।
সংযুক্ত তথ্য
নিজস্ব আইডিয়া, ই-নলেজ আইডিয়া এ প্রথম প্রকাশিত
Enolej ID(eID): 4801
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।

এই লেখকের অন্যান্য সিরিজ


বিজ্ঞাপন: Remembering...

Image

এই ব্লগটির প্রতিক্রিয়া দিতে দয়া করে প্রবেশ কিংবা নিবন্ধন করুন ।

সংশ্লিষ্ট ব্লগগুচ্ছ


image
অবশিষ্ট মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ছোট গল্প। ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ রাত এগারোটার পর অভিকের &[...] বিস্তারিত পড়ুন...
2 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
ঘুমহীন মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ছোটগল্প | ০২-০৯-২০২৬ রাত প্রায় দুটো। ঘরের সব আলো নেভা÷[...] বিস্তারিত পড়ুন...
7 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
সাত বছর পর মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ছোটগল্প | ০২-০৯-২০২৬ সাত বছর পর নিশিকে দেখে অভিক প্র[...] বিস্তারিত পড়ুন...
4 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
শেষ এক বছর মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ছোট গল্প | ১ সেপ্টেম্বর  ২০২৬ সেদিন রাতে রাশেদের ঘু[...] বিস্তারিত পড়ুন...
7 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
শেষ আপসের পর মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন বিশ্লেষণধর্মী | ২৪ আগস্ট ২০২৬ “কথা দিচ্ছি শবযাত[...] বিস্তারিত পড়ুন...
19 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ
📢 Notice Board
No active notices
ই-নলেজ আইডিয়া(Enolej Idea) হলো লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম যেখানে যেকোনো ধরনের লেখা—সাহিত্য, বিজ্ঞান, গবেষণা নোট, মতামত, প্রতিবাদী লেখা, ধর্মীয় চিন্তা, ব্যক্তিগত নোট বা দৈনন্দিন ভাবনা—নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা যায়। এটি সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ছড়িয়ে থাকা অগোছালো কনটেন্টকে একটি ভেরিফাইড, রেফারেন্সযোগ্য ডিজিটাল পোর্টফোলিওতে রূপান্তর করে, যা ব্যক্তির বুদ্ধিবৃত্তিক পরিচিতি ও দীর্ঘমেয়াদি ব্র্যান্ডিং গড়ে তোলে। প্রতিটি লেখার জন্য ইউনিক ডিজিটাল আইডি (eID) ও কপিরাইট সুরক্ষা প্রদান করা হয়, ফলে লেখা চুরি হলেও আসল লেখক সহজে শনাক্তযোগ্য থাকে। ধারাবাহিক কনটেন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাজানো, এক ক্লিকেই ই-বুক বা বইয়ের খসড়ায় রূপান্তর, ব্যক্তিগত খসড়া গোপন রাখা এবং একটি সক্রিয় কমিউনিটির মাধ্যমে পাঠকের সাথে সরাসরি সংযোগ—সব সুবিধাই এখানে একসাথে পাওয়া যায়। ই-নলেজ আইডিয়া মূলত ব্যক্তির চিন্তা ও জ্ঞানকে একটি স্থায়ী, সুরক্ষিত ও সার্বজনীনভাবে স্বীকৃত ডিজিটাল লেখক ইকোসিস্টেমে রূপ দেয়। IDEA = Independent Digital Expression & Authorship.
  1. মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

    442 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    22 টি আইডিয়া ব্লগ

  2. প্রিন্স ফ্রেরাসে

    62 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    3 টি আইডিয়া ব্লগ

  3. আল-মামুন রেজা

    20 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    1 আইডিয়া ব্লগ

  4. Anandamoye Roy

    11 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    0 টি আইডিয়া ব্লগ

...