Enolej Idea-তে লেখা প্রকাশের নিয়ম জানতে পূর্ণ নির্দেশনা দেখুন...
ই-নলেজ আইডিয়া হলো এমন একটি চিন্তানির্ভর প্ল্যাটফর্ম, যেখানে মানুষ শুধু তথ্য নয়, চিন্তা শেয়ার করে। এখানে জ্ঞানীরা একত্র হন, নতুনরা পথ খুঁজে পান, এবং সবাই মিলে তৈরি হয় একটি জ্ঞানভিত্তিক উম্মাহ। এটি জ্ঞানচর্চাকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ বানানোর একটি প্রচেষ্টা, যেখানে লেখা, ভাবা ও শেখা—সবই হয় মুক্তভাবে।আজই যোগ দিন!নিবন্ধন করতে এখানে ক্লিক করুন...।

-: ই-নলেজ আইডিয়া :-

আপনার লেখার কপিরাইট সুরক্ষা, স্বীকৃতি এবং ফ্রী প্রমোশন, সব এক প্ল্যাটফর্মে!

লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম আপনার লেখার অভিজ্ঞতাই বদলে দিবে। (পড়ুন...)

যদি আপনি হন পাঠক, কিংবা লেখক হিসেবে জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করেন:

যদি আপনার লেখাগুলোর কপিরাইট সুরক্ষা, সুশৃঙ্খলতা, আপনার ভেরিফাইড লেখক পোর্টফলিও এবং লেখক-পাঠকের কেন্দ্রীয় কমিউনিটিতে যুক্ত হতে চান, তাহলে নিবন্ধন করুন লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম “ই-নলেজ আইডিয়া” -এ!

এখানে অনেক প্রতিভাবান লেখক বিভিন্ন সিরিজে লিখছেন। আপনিও চাইলে আপনার লেখাগুলো সিরিজ আকারে সাজাতে পারবেন।

আপনার লেখক প্রোফাইল হবে একদম জীবন্ত পোর্টফলিও, এক ধরনের জীবন্ত বই। এখানে শুধু লেখক নয়, থাকবে পাঠকেরও সংস্পর্শ। ব্যাজ, পয়েন্ট, স্বীকৃতি এবং কপিরাইট সুরক্ষা তো থাকছেই, লেখাগুলো স্ক্যান করলেই আপনার নাম ভেসে উঠবে।

এটি তাই লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

চলুন বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক....

পূর্ণ নির্দেশনা [Full Guideline]

ই-নলেজ আইডিয়া – লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

বাবার পুরোনো ঘড়ি

0 পছন্দ 0 অপছন্দ
1 বার দর্শন
করেছেন (21,247 পয়েন্ট)   17 ঘন্টা পূর্বে "গল্প" বিভাগে লেখা প্রকাশিত
পোষ্ট আইডি(eID) কার্ড↓ - লেখনীর স্বত্ব ও গুণের পরিচয়!

বাবার পুরোনো ঘড়িimage   

মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন  

ছোটগল্প। ২৭ জুন, ২০২৬  


বাবার সবচেয়ে প্রিয় ঘড়িটা বিক্রি করার দিনই অভিক প্রথমবার বাবাকে অসহায় দেখেছিল। কথাটা হয়তো বাড়াবাড়ি শোনাবে, কিন্তু সেদিনই।


ঘড়িটা খুব দামী ছিল না। পুরোনো একটা হাতঘড়ি, ডায়ালে কোম্পানির নামটা প্রায় মুছে গেছে। চামড়ার স্ট্র্যাপটা অনেক আগেই ছিঁড়ে গিয়েছিল—বাবা নিজেই সুই-সুতা দিয়ে সেলাই করে পরতেন। কাঁচেও লম্বা একটা আঁচড়।


তবু বাবা বাইরে বেরোনোর আগে ঘড়িটা হাতে না পরে বের হতেন না। যেন সময় দেখার চেয়ে অভ্যাসটা জরুরি।


একদিন অভিক বলেছিল, “নতুন একটা কিনে ফেলো না?”  

বাবা হেসেছিলেন। “এটা তোর দাদার দেওয়া।”  

এর বেশি কিছু বলেননি। বলেননি যে দাদা যেদিন প্রথম বেতন পেয়েছিলেন, সেদিন কিনেছিলেন।


অনেক বছর পরে সেই ঘড়িটাই আলমারি থেকে বের করলেন। তখন তিনি অসুস্থ। কারখানার কাজে যেতে পারছেন না তিন সপ্তাহ। ঘরে চালের ড্রামে তলায় সামান্য, ওষুধের স্লিপটা টেবিলে পড়ে আছে।


বাবা ঘড়িটা হাতে নিয়ে কিছুক্ষণ বসে রইলেন। কাঁটাটা টিকটিক করছে, কিন্তু স্লো। তারপর বললেন, “চল, একটু বেরোব।”


বাজারের ভেতরের ছোট্ট একটা ঘড়ির দোকান। কাঁচের শোকেসে নতুন ঘড়ি, দেয়ালে লটকানো সেকেন্ড-হ্যান্ড। বাবা ঘড়িটা কাউন্টারের ওপর রাখলেন। শব্দটা হালকা।


দোকানদার ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে দেখল। কাঁচে আঙুল বোলাল। “বেশি দাম হবে না। মেশিন পুরোনো, পার্টস পাওয়া যায় না।”  

বাবা শুধু মাথা নাড়লেন। “যা হয় দেন।”


অভিক বাবার দিকে তাকিয়ে ছিল। বাবা কাউকে দেখছিলেন না। চোখ ছিল ঘড়িটার ডায়ালে। সেকেন্ডের কাঁটাটা তখনো ঘুরছিল।


টাকা নিয়ে বেরিয়ে প্রথমে ফার্মেসিতে গেলেন। প্রেসক্রিপশন মিলিয়ে ওষুধ কিনলেন। পাঁচ দিনের। তারপর চাল, মসুর ডাল, দুটো আলু, একটা লাউ। পলিথিনের ব্যাগটা হাতে ঝুলছে।


ফেরার পথে অভিক আস্তে করে বলল, “ঘড়িটা না বিক্রি করলেও পারতে।”  

বাবা হাঁটতে হাঁটতেই বললেন, “আবার কিনে নেওয়া যাবে।”  


একটু থামলেন। গলির মোড়ে একটা কুকুর শুয়ে ছিল। তারপর খুব আস্তে বললেন, “তুই না খেয়ে থাকলে সেটা আর ফেরত পাব না।”


অভিক আর কোনো কথা বলেনি। রাস্তার ল্যাম্পপোস্টে আলো জ্বলে উঠল তখন।


পরদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে অভ্যাসমতো বাবার হাতের দিকে তাকিয়েছিল। কবজিটা খালি। চামড়ায় হালকা দাগ, যেখানে এত বছর ঘড়ি ছিল। অদ্ভুত লাগছিল। ফাঁকা লাগছিল।  


বাবা যেন ইচ্ছে করেই হাতটা লুঙ্গির কোচায় গুঁজে রাখলেন। চায়ের কাপ তুললেন বাঁ হাতে।


বহু বছর পরে অভিকের নিজেরও ছেলে হলো। নাম রেখেছে রোদ্দুর।


একদিন ছেলেটা পুরোনো অ্যালবাম দেখতে দেখতে জিজ্ঞেস করল, “এইটা দাদু?”  

অভিক ছবিটার দিকে তাকাল। উঠোনে তোলা ছবি। বাবা হাসছেন। রোদ পড়েছে মুখে। হাতে সেই ঘড়িটা, স্ট্র্যাপে সেলাই স্পষ্ট।


অভিক ছবিটা অনেকক্ষণ হাতে ধরে রইল। আঙুলের ছাপ পড়ল কাঁচে। তারপর খুব যত্ন করে আবার অ্যালবামের প্লাস্টিকের পকেটে ঢুকিয়ে দিল।  


বাইরে তখন বৃষ্টি শুরু হয়েছে। টিনের চালে শব্দ হচ্ছে। টুপটাপ। টুপটাপ।

আমি মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন, ই-নলেজ এর একজন যাচাইকৃত লেখক। আমি এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত আছি প্রায় 9 মাস ধরে, এবং এ পর্যন্ত 1052 টি লেখা ও 0 টি প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছি। আমার অর্জিত মোট পয়েন্ট 21247। ই-নলেজ আমার চিন্তা, জ্ঞান ও কণ্ঠকে সবার মাঝে পৌঁছে দিতে সহায়তা করেছে।
সংযুক্ত তথ্য
নিজস্ব আইডিয়া, ই-নলেজ আইডিয়া এ প্রথম প্রকাশিত
Enolej ID(eID): 4158
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।

এই লেখকের অন্যান্য সিরিজ


বিজ্ঞাপন: Remembering...

Image

এই ব্লগটির প্রতিক্রিয়া দিতে দয়া করে প্রবেশ কিংবা নিবন্ধন করুন ।

সংশ্লিষ্ট ব্লগগুচ্ছ


image
পুরোনো বইয়ের গন্ধ মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ছোটগল্প  | ১৬ মার্চ ২০২৬ বিকেলের আলো ফিকে [...] বিস্তারিত পড়ুন...
389 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

বাবার পেশা মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ছোটগল্প। ১৬ জুন ১০২৬ ইন্টারভিউ বোর্ডে প্রশ্নটা খুব স্বাভাবিকভাবেই আসে। এমনভাবে, যেন এটা শুধু একটা তথ্য যাচাই। “আপনার বাবার পেশা কী?” ঘরের ভেতর তিনজন মানু�[...] বিস্তারিত পড়ুন...
7 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

বাবার শেষ দিনগুলোর স্মৃতি মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন স্মৃতিচারণ। এপ্রিল ২৭,২০২৬ আমরা প্রায়ই ভাবি সময় আমাদের হাতে। দিনগুলোকে আমরা ব্যবহার করি, পরিকল্পনা করি, সামনে এগিয়ে নিয়ে যাই। কিন্তু কিছু ক�[...] বিস্তারিত পড়ুন...
65 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
বাবার অদৃশ্য যুদ্ধ মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন বিশ্লেষণধর্মী। জানুয়ারি ০৭, ২০২৬ বাবা—[...] বিস্তারিত পড়ুন...
450 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
রঙে বাবার হাতের ছাপ মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন গদ্য কবিতা | জানুয়ারি ০৫, ২০২৬ বাবা জানতে÷[...] বিস্তারিত পড়ুন...
45 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ
📢 Notice Board
No active notices
ই-নলেজ আইডিয়া(Enolej Idea) হলো লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম যেখানে যেকোনো ধরনের লেখা—সাহিত্য, বিজ্ঞান, গবেষণা নোট, মতামত, প্রতিবাদী লেখা, ধর্মীয় চিন্তা, ব্যক্তিগত নোট বা দৈনন্দিন ভাবনা—নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা যায়। এটি সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ছড়িয়ে থাকা অগোছালো কনটেন্টকে একটি ভেরিফাইড, রেফারেন্সযোগ্য ডিজিটাল পোর্টফোলিওতে রূপান্তর করে, যা ব্যক্তির বুদ্ধিবৃত্তিক পরিচিতি ও দীর্ঘমেয়াদি ব্র্যান্ডিং গড়ে তোলে। প্রতিটি লেখার জন্য ইউনিক ডিজিটাল আইডি (eID) ও কপিরাইট সুরক্ষা প্রদান করা হয়, ফলে লেখা চুরি হলেও আসল লেখক সহজে শনাক্তযোগ্য থাকে। ধারাবাহিক কনটেন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাজানো, এক ক্লিকেই ই-বুক বা বইয়ের খসড়ায় রূপান্তর, ব্যক্তিগত খসড়া গোপন রাখা এবং একটি সক্রিয় কমিউনিটির মাধ্যমে পাঠকের সাথে সরাসরি সংযোগ—সব সুবিধাই এখানে একসাথে পাওয়া যায়। ই-নলেজ আইডিয়া মূলত ব্যক্তির চিন্তা ও জ্ঞানকে একটি স্থায়ী, সুরক্ষিত ও সার্বজনীনভাবে স্বীকৃত ডিজিটাল লেখক ইকোসিস্টেমে রূপ দেয়। IDEA = Independent Digital Expression & Authorship.
  1. মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

    1945 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    1 মন্তব্য

    96 টি আইডিয়া ব্লগ

  2. রফিক আতা

    666 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    33 টি আইডিয়া ব্লগ

  3. জামিনুল রেজা

    428 পয়েন্ট

    1 প্রতিক্রিয়া

    1 মন্তব্য

    21 টি আইডিয়া ব্লগ

  4. ক্বলমী সুর

    156 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    7 টি আইডিয়া ব্লগ

...