Enolej Idea-তে লেখা প্রকাশের নিয়ম জানতে পূর্ণ নির্দেশনা দেখুন...
ই-নলেজ আইডিয়া হলো এমন একটি চিন্তানির্ভর প্ল্যাটফর্ম, যেখানে মানুষ শুধু তথ্য নয়, চিন্তা শেয়ার করে। এখানে জ্ঞানীরা একত্র হন, নতুনরা পথ খুঁজে পান, এবং সবাই মিলে তৈরি হয় একটি জ্ঞানভিত্তিক উম্মাহ। এটি জ্ঞানচর্চাকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ বানানোর একটি প্রচেষ্টা, যেখানে লেখা, ভাবা ও শেখা—সবই হয় মুক্তভাবে।আজই যোগ দিন!নিবন্ধন করতে এখানে ক্লিক করুন...।

-: ই-নলেজ আইডিয়া :-

আপনার লেখার কপিরাইট সুরক্ষা, স্বীকৃতি এবং ফ্রী প্রমোশন, সব এক প্ল্যাটফর্মে!

লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম আপনার লেখার অভিজ্ঞতাই বদলে দিবে। (পড়ুন...)

যদি আপনি হন পাঠক, কিংবা লেখক হিসেবে জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করেন:

যদি আপনার লেখাগুলোর কপিরাইট সুরক্ষা, সুশৃঙ্খলতা, আপনার ভেরিফাইড লেখক পোর্টফলিও এবং লেখক-পাঠকের কেন্দ্রীয় কমিউনিটিতে যুক্ত হতে চান, তাহলে নিবন্ধন করুন লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম “ই-নলেজ আইডিয়া” -এ!

এখানে অনেক প্রতিভাবান লেখক বিভিন্ন সিরিজে লিখছেন। আপনিও চাইলে আপনার লেখাগুলো সিরিজ আকারে সাজাতে পারবেন।

আপনার লেখক প্রোফাইল হবে একদম জীবন্ত পোর্টফলিও, এক ধরনের জীবন্ত বই। এখানে শুধু লেখক নয়, থাকবে পাঠকেরও সংস্পর্শ। ব্যাজ, পয়েন্ট, স্বীকৃতি এবং কপিরাইট সুরক্ষা তো থাকছেই, লেখাগুলো স্ক্যান করলেই আপনার নাম ভেসে উঠবে।

এটি তাই লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

চলুন বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক....

পূর্ণ নির্দেশনা [Full Guideline]

ই-নলেজ আইডিয়া – লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

ক্ষুধার কোনো দেশ নেই

0 পছন্দ 0 অপছন্দ
1 বার দর্শন
করেছেন (17,229 পয়েন্ট)   18 ঘন্টা পূর্বে "গল্প" বিভাগে লেখা প্রকাশিত
পোষ্ট আইডি(eID) কার্ড↓ - লেখনীর স্বত্ব ও গুণের পরিচয়!

ক্ষুধার কোনো দেশ নেইimage

মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

ছোট গল্প। এপ্রিল ২৩, ২০২৬


শহরের ভোরটা আজ কিছুটা অস্বস্তিকর মনে হচ্ছিল—এমন না যে কোনো দৃশ্য আলাদা ছিল, বরং পরিচিত জিনিসগুলোই যেন ঠিক আগের মতো থাকছিল না। রাত পেরিয়ে সকাল এসেছে, তবু আকাশের রঙে এক ধরনের চাপা ধূসরতা। সূর্য উঠেছে, কিন্তু আলোটা পরিষ্কারভাবে নামছে না; বিষয়টা আবহাওয়ার কারণে নাকি অন্য কোনো অনিশ্চয়তার ছায়া—নিশ্চিত করে বলা কঠিন।


জানালার পাশে দাঁড়িয়ে কিছুক্ষণ চুপচাপ থাকলাম। নিচে শহর চলছে তার স্বাভাবিক নিয়মে—গাড়ির শব্দ, মানুষের হাঁটাচলা, দৈনন্দিন ব্যস্ততা। কিন্তু সেই পরিচিত শব্দগুলোর ভেতরেই কেমন যেন একটা দূরত্ব তৈরি হয়েছে, যেন সবকিছু ঘটছে ঠিকই, তবে আমার ভেতরের উপস্থিতি সেখানে পুরোপুরি মিলছে না।


তখনই প্রশ্নটা আসে—মানুষকে আমি আদতে কতটা দেখি, আর কতটা শুধু অনুমান করি?


বাইরে বের হলাম।


রাস্তার মোড়ে এক রিকশাচালক চোখে পড়ে। গায়ের রং গাঢ়, শরীর ঘামে ভেজা, ক্লান্তির ভার যেন তার চলার গতি নির্ধারণ করছে। ঠিক তার পাশেই আরেকজন মানুষ—সাদা শার্ট পরা, হাতে মোবাইল, মুখে তাড়াহুড়োর ছাপ। দুজন একই জায়গায় দাঁড়িয়ে আছে, কিন্তু তাদের দিনযাপনের ভেতরে যে ব্যবধান, সেটা চোখে না পড়ার মতো নয়।


এই ব্যবধানটা শুধু অর্থনৈতিক কি না, নাকি জীবন দেখার ভিন্ন ভিন্ন অভ্যাস থেকেও তৈরি হয়—তা নিয়ে নিশ্চিত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না।


আমি হাঁটতে থাকি।


কিছু দূর এগিয়ে দেখি এক জায়গায় ভিন্ন ভিন্ন বিশ্বাসের মানুষ। কেউ মসজিদ থেকে বের হচ্ছে, কপালে সেজদার দাগ স্পষ্ট। আরেক পাশে মন্দির থেকে আসা মানুষ, তিলক আর তুলসীর মালা গলায়। একটু দূরে চার্চের দিক থেকে ক্রুশধারী কেউ হাঁটছে, আর কোণায় গেরুয়া বসনে একজন স্থির হয়ে বসে আছেন।


প্রথম দেখায় এদের আলাদা মনে হয়, কিন্তু একটু সময় দিলে মনে হতে পারে, প্রত্যেকেই কোনো না কোনো অভ্যন্তরীণ শূন্যতা পূরণের চেষ্টা করছে—যদিও সেটা একই জিনিস কি না, তা বলা যায় না।


এই পর্যবেক্ষণ থেকেই একটা অস্বস্তিকর ভাব তৈরি হয়—আমরা কি সত্যিই আলাদা, নাকি আলাদা হয়ে যাওয়াটাই অভ্যাসে পরিণত হয়েছে?


আরও কিছুটা এগোই।


ফুটপাথে এক বৃদ্ধা বসে আছেন, সামনে ছোট একটা থালা। পাশে একটি শিশু, শুকনো রুটির টুকরো ধীরে ধীরে খাচ্ছে। তাদের মুখে অভিযোগ নেই, কিন্তু অপেক্ষার মতো একটা দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তি আছে, যা শব্দে ব্যাখ্যা করা কঠিন।


দৃশ্যটা আমাকে থামিয়ে দেয়।


মনে হয়, এত পরিচয়, এত শ্রেণি, এত বিভাজন—সবকিছু কি শেষ পর্যন্ত এই জায়গাটাতেই এসে মিলছে?


এর কিছু দূরেই বড় বড় ভবন। চকচকে গাড়ি, স্যুট পরা মানুষ, ভবিষ্যৎ নিয়ে হিসাব। তাদের জীবনের কাঠামোতে সময়ও যেন একটি সম্পদ, যেটা খুব হিসাব করে ব্যবহার করতে হয়। আর ঠিক সেই রাস্তাটার ওপারেই অন্য এক জীবন—যেখানে দিনের শেষটা কীভাবে টিকবে, সেটাই মূল প্রশ্ন।


একই শহর, কিন্তু এই দুই বাস্তবতার মধ্যে কোনো সহজ সেতু নেই বলে মনে হয়।


বিকেলে বাজারের ভিড়ে ঢুকে পড়ি।


এক বৃদ্ধ মানুষ থালার দিকে তাকিয়ে আছেন, কিন্তু হাতে কিছুই নেই। চোখে লজ্জা আছে, আবার তার ভেতরে একটা অভ্যস্ত অসহায়তাও আছে—যেন এই অবস্থাটা নতুন নয়, শুধু পুনরাবৃত্ত। পাশে দাঁড়িয়ে থাকা শিশুটি কিছু বলছে না, শুধু তাকিয়ে আছে।


ঠিক সেই মুহূর্তে আশপাশের শব্দগুলো অনেকটা দূরে সরে যায় বলে মনে হয়।


ধর্ম, জাত, বর্ণ—এই পরিচিত শব্দগুলো একে একে গুরুত্ব হারাতে থাকে। তাদের জায়গা দখল করে নেয় একটা একক বাস্তবতা, যেটাকে খুব সরাসরি ভাষায় বলা যায়—ক্ষুধা।


এটা এমন কিছু নয় যা কোনো নীতিবাক্য দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায়। বরং বলা যেতে পারে, এটা এমন এক অবস্থা যা মানুষের পরিচয়ের আগেই উপস্থিত থাকে, এবং প্রায় সব ধরনের সীমারেখাকে অপ্রাসঙ্গিক করে দেয়।


এটা কোনো ভাষা বোঝে না, কোনো সীমান্ত চিনতে চায় না, কোনো পরিচয়ের প্রতি আগ্রহ দেখায় না। বিষয়টা এমন যে, এর সামনে দাঁড়িয়ে সব ধরনের সামাজিক শ্রেণিবিন্যাস কিছুটা অপ্রয়োজনীয় মনে হতে পারে।


রাত নামার আগে নদীর ধারে বসে পড়ি।


পানি ধীরে ধীরে বয়ে যাচ্ছে। তার গতিতে কোনো তাড়াহুড়ো নেই, কোনো পক্ষপাত নেই। মনে হয়, নদীও মানুষের মতো ভাগ হয়ে যায়নি, অন্তত দৃশ্যমানভাবে নয়।


চোখ বন্ধ করি।


এবং তখন একটা উপলব্ধি আসে—হয়তো এতদিন মানুষকে দেখার বদলে আমি তাদের নাম, পরিচয় আর বিভাজনের ভেতরেই আটকে ছিলাম।


আজকের অভিজ্ঞতাগুলো, যদিও সম্পূর্ণভাবে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছায় না, তবু ইঙ্গিত দেয় যে মানুষের নিচে আরও একটি স্তর আছে, যেটা অনেক বেশি মৌলিক এবং প্রায় অপরিবর্তনীয়।


একটা সত্য, যা ধনী-গরিব, ধর্মীয় পরিচয়, কিংবা জন্মের শ্রেণিবিভাগের আগেই উপস্থিত থাকতে পারে।


ক্ষুধা।


আর শেষ পর্যন্ত মনে হয়, এই বাস্তবতার কোনো ভৌগোলিক সীমারেখা নেই—না মানচিত্রে, না মানুষের ভেতরের ধারণায়।

আমি মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন, ই-নলেজ এর একজন যাচাইকৃত লেখক। আমি এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত আছি প্রায় 6 মাস 4 সপ্তাহ ধরে, এবং এ পর্যন্ত 854 টি লেখা ও 0 টি প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছি। আমার অর্জিত মোট পয়েন্ট 17229। ই-নলেজ আমার চিন্তা, জ্ঞান ও কণ্ঠকে সবার মাঝে পৌঁছে দিতে সহায়তা করেছে।
সংযুক্ত তথ্য
নিজস্ব আইডিয়া, ই-নলেজ আইডিয়া এ প্রথম প্রকাশিত
Enolej ID(eID): 3791
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।

এই লেখকের অন্যান্য সিরিজ


বিজ্ঞাপন: Remembering...

Image

এই ব্লগটির প্রতিক্রিয়া দিতে দয়া করে প্রবেশ কিংবা নিবন্ধন করুন ।

সংশ্লিষ্ট ব্লগগুচ্ছ


image
বাংলা সাহিত্যে ক্ষুধার যন্ত্রণা মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন, প্রাবন্ধিক  নিবন্ধ। এপ্রù[...] বিস্তারিত পড়ুন...
12 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

দুঃখের কোনো নির্দিষ্ট ব্যাকরণ নেই, নেই কোনো নির্দিষ্ট বয়স। সে কোনো পঞ্জিকা বা তিথি [...] বিস্তারিত পড়ুন...
18 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

#নাস্তিক_ও_বিধর্মীদের_মিথ্যাচারের_জবাব  সিরিজ পর্ব-৭৪  আসসালামু আলাইকুম ওরাহমাতুল্লাহ   এই হেদু নাস্তিক বলছে যে ইসলামে নাকি ধর্ষণের শাস্তি নেই+ বলাৎকার সম্পর্কে কোনো প্রতিবাদ নেই।       কি[...] বিস্তারিত পড়ুন...
24 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
অতঃপর বেঁচে থাকা শামীমা আকতার ভর দুপুর। সূর্য মাথার উপর। পিটার বেড়াবার জন্য সবসময়[...] বিস্তারিত পড়ুন...
1 বার দর্শন 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
দোলনচাঁপার বিকেল মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ছোট গল্প। এপ্রিল ২৩, ২০২৬ জীবনে এমন কিছু সম[...] বিস্তারিত পড়ুন...
4 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ
📢 Notice Board
No active notices
ই-নলেজ আইডিয়া(Enolej Idea) হলো লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম যেখানে যেকোনো ধরনের লেখা—সাহিত্য, বিজ্ঞান, গবেষণা নোট, মতামত, প্রতিবাদী লেখা, ধর্মীয় চিন্তা, ব্যক্তিগত নোট বা দৈনন্দিন ভাবনা—নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা যায়। এটি সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ছড়িয়ে থাকা অগোছালো কনটেন্টকে একটি ভেরিফাইড, রেফারেন্সযোগ্য ডিজিটাল পোর্টফোলিওতে রূপান্তর করে, যা ব্যক্তির বুদ্ধিবৃত্তিক পরিচিতি ও দীর্ঘমেয়াদি ব্র্যান্ডিং গড়ে তোলে। প্রতিটি লেখার জন্য ইউনিক ডিজিটাল আইডি (eID) ও কপিরাইট সুরক্ষা প্রদান করা হয়, ফলে লেখা চুরি হলেও আসল লেখক সহজে শনাক্তযোগ্য থাকে। ধারাবাহিক কনটেন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাজানো, এক ক্লিকেই ই-বুক বা বইয়ের খসড়ায় রূপান্তর, ব্যক্তিগত খসড়া গোপন রাখা এবং একটি সক্রিয় কমিউনিটির মাধ্যমে পাঠকের সাথে সরাসরি সংযোগ—সব সুবিধাই এখানে একসাথে পাওয়া যায়। ই-নলেজ আইডিয়া মূলত ব্যক্তির চিন্তা ও জ্ঞানকে একটি স্থায়ী, সুরক্ষিত ও সার্বজনীনভাবে স্বীকৃত ডিজিটাল লেখক ইকোসিস্টেমে রূপ দেয়। IDEA = Independent Digital Expression & Authorship.
  1. মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

    1459 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    72 টি আইডিয়া ব্লগ

  2. রফিক আতা

    203 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    8 টি আইডিয়া ব্লগ

  3. প্রিন্স ফ্রেরাসে

    127 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    6 টি আইডিয়া ব্লগ

  4. আল-মামুন রেজা

    105 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    5 টি আইডিয়া ব্লগ

...