Enolej Idea-তে লেখা প্রকাশের নিয়ম জানতে পূর্ণ নির্দেশনা দেখুন...
ই-নলেজ আইডিয়া হলো এমন একটি চিন্তানির্ভর প্ল্যাটফর্ম, যেখানে মানুষ শুধু তথ্য নয়, চিন্তা শেয়ার করে। এখানে জ্ঞানীরা একত্র হন, নতুনরা পথ খুঁজে পান, এবং সবাই মিলে তৈরি হয় একটি জ্ঞানভিত্তিক উম্মাহ। এটি জ্ঞানচর্চাকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ বানানোর একটি প্রচেষ্টা, যেখানে লেখা, ভাবা ও শেখা—সবই হয় মুক্তভাবে।আজই যোগ দিন!নিবন্ধন করতে এখানে ক্লিক করুন...।

-: ই-নলেজ আইডিয়া :-

আপনার লেখার কপিরাইট সুরক্ষা, স্বীকৃতি এবং ফ্রী প্রমোশন, সব এক প্ল্যাটফর্মে!

লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম আপনার লেখার অভিজ্ঞতাই বদলে দিবে। (পড়ুন...)

যদি আপনি হন পাঠক, কিংবা লেখক হিসেবে জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করেন:

যদি আপনার লেখাগুলোর কপিরাইট সুরক্ষা, সুশৃঙ্খলতা, আপনার ভেরিফাইড লেখক পোর্টফলিও এবং লেখক-পাঠকের কেন্দ্রীয় কমিউনিটিতে যুক্ত হতে চান, তাহলে নিবন্ধন করুন লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম “ই-নলেজ আইডিয়া” -এ!

এখানে অনেক প্রতিভাবান লেখক বিভিন্ন সিরিজে লিখছেন। আপনিও চাইলে আপনার লেখাগুলো সিরিজ আকারে সাজাতে পারবেন।

আপনার লেখক প্রোফাইল হবে একদম জীবন্ত পোর্টফলিও, এক ধরনের জীবন্ত বই। এখানে শুধু লেখক নয়, থাকবে পাঠকেরও সংস্পর্শ। ব্যাজ, পয়েন্ট, স্বীকৃতি এবং কপিরাইট সুরক্ষা তো থাকছেই, লেখাগুলো স্ক্যান করলেই আপনার নাম ভেসে উঠবে।

এটি তাই লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

চলুন বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক....

পূর্ণ নির্দেশনা [Full Guideline]

ই-নলেজ আইডিয়া – লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

রুদ্রের গর্জন

0 পছন্দ 0 অপছন্দ
210 বার প্রদর্শিত
করেছেন (18,734 পয়েন্ট)   23 ডিসেম্বর 2025 "ছোটগল্প" বিভাগে লেখা প্রকাশিত
পোষ্ট আইডি(eID) কার্ড↓ - লেখনীর স্বত্ব ও গুণের পরিচয়!

image রুদ্রের গর্জন

মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

ছোটগল্প  | ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫


ভোরের দিকে বিমানবন্দরটা যেন অর্ধেক জেগে ওঠা মানুষের মতো।  


আলো আসছে, কিন্তু পুরোপুরি নয়। কাচের দেয়ালে ছায়া পড়ছে, ট্রলির চাকা ঘষছে মেঝেতে, কেউ চুপিচুপি কাঁদছে, কেউ জোর করে হাসছে। এই সবের মাঝখানে দাঁড়িয়ে ছিল এসআই মাহমুদ। চোখে ঘুমের দাগ, তবু চোখ দুটো খোলা। পাশে তার জার্মান শেফার্ড রুদ্র। নামটা তার চেয়ে বেশি কাজ করে।


রুদ্র কখনো অকারণে থামে না।  

থামলে বোঝা যায় সে কিছু শুনছে, গন্ধ পাচ্ছে, বা দেখছে—যেটা আমরা দেখি না।


সেদিন লাইনে একজন মহিলা।  

কালো বোরকা, নতুন জুতো, হাতে ব্যাগ যেটা বেশ দামি মনে হয়। তিনটে বাচ্চা। সবচেয়ে ছোট মেয়েটা তার একদম পেছনে, খুব কাছে। মেয়েটার চোখে কিছু নেই। না ভয়, না আনন্দ, না কৌতূহল। শুধু একটা শূন্যতা, যেমনটা অনেকদিন ধরে ভয় পেয়ে পেয়ে চোখে জমে।


মহিলা বারবার ঘড়ি দেখছে।  

আঙুল কাঁপছে। ঠোঁট শুকনো।


হঠাৎ রুদ্র থামল।  

শরীর একদম সোজা। কান দুটো খাড়া। লেজ একদম নড়ছে না। মাহমুদ তার দিকে তাকাল। তার মুখে সেই ভাব যখন সে বোঝে—এবার আর ফাঁকি দেওয়া যাবে না।


মেয়েটা মহিলার পিঠে আঙুল দিয়ে টোকা দিল।  

এক। দুই। তিন। চার। পাঁচ।  

ঠিক পাঁচবার। খুব ধীরে। যেন কেউ শেখিয়ে দিয়েছে এই কাজটা।


রুদ্র গর্জন দিল।  

একটা গভীর, ভারী, লম্বা গর্জন। বিমানবন্দরের সব আওয়াজ যেন এক মুহূর্তের জন্য থেমে গেল।


মহিলা দৌড় দিতে চাইল।  

পারল না। রুদ্র পথ আটকে দাঁড়াল। দাঁত বের করল, কিন্তু কামড়াল না। শুধু বলে দিল—আর চলবে না।


কাগজপত্র দেখতে গিয়ে হাত কাঁপছিল মহিলার।  

পাসপোর্টগুলো ভুয়া। একটা ক্যাটালগ বেরোল ব্যাগ থেকে। ছবি, নাম, নম্বর। যেন দোকানের ক্যাটালগ। মানুষের নয়, জিনিসের।


ছোট মেয়েটির নাম লেখা ছিল আয়েশা।  

কিন্তু তার গলায় লকেটে অন্য নাম—নীলা।


মাহমুদ মাটিতে বসল।  

মেয়েটির চোখে চোখ রাখল।  

“কী হয়েছে?”  

নীলা অনেকক্ষণ চুপ। তারপর ফিসফিস করে বলল,  

“উনি বলেছিলেন মা’র কাছে নিয়ে যাবেন। কিন্তু যারা গেছে… তারা আর আসেনি।”


সেই একটা কথায় সব ভেঙে পড়ল।  

মহিলা পরে স্বীকার করল। সে একা নয়। একটা চক্র। অনেক বছর ধরে।


রাতে উত্তরার একটা বাড়িতে অভিযান।  

বেসমেন্টের দরজা ভাঙতেই গন্ধ এলো। কান্না, ঘাম, ভয়, পুরনো প্রস্রাবের গন্ধ।  


অনেকগুলো বাচ্চা। কেউ দেয়ালের দিকে তাকিয়ে। কেউ হাঁটুতে মুখ গুঁজে। চোখে আর আলো নেই।


রুদ্র এক কোণে গিয়ে থামল।  


নাক নিচু করে গন্ধ শুঁকল। তারপর হঠাৎ ছুটল।  

বাইরে গাড়ির ইঞ্জিন চালু। কেউ পালাচ্ছে।  

রুদ্র পৌঁছে গেল আগে। গাড়ির সামনে দাঁড়াল। ড্রাইভার লাফ দিয়ে নামল। দৌড়াতে গেল। রুদ্র তাকে মাটিতে ফেলে দিল। কামড়াল না জোরে। শুধু ধরে রাখল।


পরদিন সকালে থানার সামনে অনেক কান্না।  

আর কিছু হাসি।  


নীলা তার মা’র বুকে মুখ গুঁজে দাঁড়িয়ে ছিল। হঠাৎ সে ছুটে গেল রুদ্রের কাছে। দুই হাতে জড়িয়ে ধরল। রুদ্র কিছু বলল না। শুধু লেজটা একটু নড়ল। চোখটা নরম।


মাহমুদ দূরে দাঁড়িয়ে সিগারেট ধরাল।  

টান দিল। ধোঁয়া ছাড়তে ছাড়তে ভাবল—  

যদি সেদিন রুদ্র থামত না,  

যদি পাঁচটা টোকা কেউ না দেখত,  

তাহলে আজ এই কান্নাগুলো আরও অনেকদিন চলত।


বিমানবন্দর আবার শুরু হয়ে গেল। লোকজন ছুটছে। কেউ স্বপ্ন নিয়ে, কেউ ভয় নিয়ে।  

কিন্তু কোথাও, অন্ধকারের এক কোণে, রুদ্রের সেই গর্জনটা এখনো পড়ে আছে।  


যেন বলছে—দেখো, কখনো কখনো নীরবতার মধ্যেও চিৎকার থাকে।  

আর সবচেয়ে বড় রক্ষকটা হয়তো চার পায়ে হাঁটে।


#রুদ্রেরগর্জন #জার্মানশেফার্ড #নীরবনায়ক  #শিশুপাচারবিরোধী #মানবতারগল্প  

#বাংলাগল্প

আমি মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন, ই-নলেজ এর একজন যাচাইকৃত লেখক। আমি এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত আছি প্রায় 7 মাস 3 সপ্তাহ ধরে, এবং এ পর্যন্ত 928 টি লেখা ও 0 টি প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছি। আমার অর্জিত মোট পয়েন্ট 18734। ই-নলেজ আমার চিন্তা, জ্ঞান ও কণ্ঠকে সবার মাঝে পৌঁছে দিতে সহায়তা করেছে।
সংযুক্ত তথ্য
"নিজস্ব আইডিয়া"
Enolej ID(eID): 2159
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।

এই লেখকের অন্যান্য সিরিজ


বিজ্ঞাপন: Remembering...

Image

এই ব্লগটির প্রতিক্রিয়া দিতে দয়া করে প্রবেশ কিংবা নিবন্ধন করুন ।

সংশ্লিষ্ট ব্লগগুচ্ছ


image
অন্ধ ভক্তি চুপ করে থাকার একটা সহজ নাম মোহাম্মাদ জাহিদ হোসেন বিশ্লেষণমূলক | ০৮ ডিসেম[...] বিস্তারিত পড়ুন...
180 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
লাইফ সাপোর্টে তিন দিন   মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন   ছোটগল্প।০৮ ডিসেম্বর ২০২৫   অনেক[...] বিস্তারিত পড়ুন...
90 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
ডানা (স্বপ্ন পূরণের ছোট্ট গল্প) মোহাম্মাদ জাহিদ হোসেন অনুপ্রেরণামূলক | ০৭ ডিসেম্ব[...] বিস্তারিত পড়ুন...
173 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

অনুরাগের শেষ রাত্রি  লেখকঃ মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ধরনঃ ছোটগল্প তারিখঃ ২৪ অক্টোবর ২&[...] বিস্তারিত পড়ুন...
179 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
তবুও জীবন লেখকঃ মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন লেখার ধরনঃ ছোটগল্প তারিখঃ ২২ অক্টোবর ২০২৫ õ[...] বিস্তারিত পড়ুন...
234 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ
📢 Notice Board
No active notices
ই-নলেজ আইডিয়া(Enolej Idea) হলো লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম যেখানে যেকোনো ধরনের লেখা—সাহিত্য, বিজ্ঞান, গবেষণা নোট, মতামত, প্রতিবাদী লেখা, ধর্মীয় চিন্তা, ব্যক্তিগত নোট বা দৈনন্দিন ভাবনা—নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা যায়। এটি সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ছড়িয়ে থাকা অগোছালো কনটেন্টকে একটি ভেরিফাইড, রেফারেন্সযোগ্য ডিজিটাল পোর্টফোলিওতে রূপান্তর করে, যা ব্যক্তির বুদ্ধিবৃত্তিক পরিচিতি ও দীর্ঘমেয়াদি ব্র্যান্ডিং গড়ে তোলে। প্রতিটি লেখার জন্য ইউনিক ডিজিটাল আইডি (eID) ও কপিরাইট সুরক্ষা প্রদান করা হয়, ফলে লেখা চুরি হলেও আসল লেখক সহজে শনাক্তযোগ্য থাকে। ধারাবাহিক কনটেন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাজানো, এক ক্লিকেই ই-বুক বা বইয়ের খসড়ায় রূপান্তর, ব্যক্তিগত খসড়া গোপন রাখা এবং একটি সক্রিয় কমিউনিটির মাধ্যমে পাঠকের সাথে সরাসরি সংযোগ—সব সুবিধাই এখানে একসাথে পাওয়া যায়। ই-নলেজ আইডিয়া মূলত ব্যক্তির চিন্তা ও জ্ঞানকে একটি স্থায়ী, সুরক্ষিত ও সার্বজনীনভাবে স্বীকৃত ডিজিটাল লেখক ইকোসিস্টেমে রূপ দেয়। IDEA = Independent Digital Expression & Authorship.
  1. মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

    1119 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    55 টি আইডিয়া ব্লগ

  2. মাহাতাব হোসেন অপল

    170 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    8 টি আইডিয়া ব্লগ

  3. রফিক আতা

    146 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    7 টি আইডিয়া ব্লগ

  4. প্রিন্স ফ্রেরাসে

    124 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    6 টি আইডিয়া ব্লগ

...