Enolej Idea-তে লেখা প্রকাশের নিয়ম জানতে পূর্ণ নির্দেশনা দেখুন...
ই-নলেজ আইডিয়া হলো এমন একটি চিন্তানির্ভর প্ল্যাটফর্ম, যেখানে মানুষ শুধু তথ্য নয়, চিন্তা শেয়ার করে। এখানে জ্ঞানীরা একত্র হন, নতুনরা পথ খুঁজে পান, এবং সবাই মিলে তৈরি হয় একটি জ্ঞানভিত্তিক উম্মাহ। এটি জ্ঞানচর্চাকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ বানানোর একটি প্রচেষ্টা, যেখানে লেখা, ভাবা ও শেখা—সবই হয় মুক্তভাবে।আজই যোগ দিন!নিবন্ধন করতে এখানে ক্লিক করুন...।

-: ই-নলেজ আইডিয়া :-

আপনার লেখার কপিরাইট সুরক্ষা, স্বীকৃতি এবং ফ্রী প্রমোশন, সব এক প্ল্যাটফর্মে!

লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম আপনার লেখার অভিজ্ঞতাই বদলে দিবে। (পড়ুন...)

যদি আপনি হন পাঠক, কিংবা লেখক হিসেবে জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করেন:

যদি আপনার লেখাগুলোর কপিরাইট সুরক্ষা, সুশৃঙ্খলতা, আপনার ভেরিফাইড লেখক পোর্টফলিও এবং লেখক-পাঠকের কেন্দ্রীয় কমিউনিটিতে যুক্ত হতে চান, তাহলে নিবন্ধন করুন লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম “ই-নলেজ আইডিয়া” -এ!

এখানে অনেক প্রতিভাবান লেখক বিভিন্ন সিরিজে লিখছেন। আপনিও চাইলে আপনার লেখাগুলো সিরিজ আকারে সাজাতে পারবেন।

আপনার লেখক প্রোফাইল হবে একদম জীবন্ত পোর্টফলিও, এক ধরনের জীবন্ত বই। এখানে শুধু লেখক নয়, থাকবে পাঠকেরও সংস্পর্শ। ব্যাজ, পয়েন্ট, স্বীকৃতি এবং কপিরাইট সুরক্ষা তো থাকছেই, লেখাগুলো স্ক্যান করলেই আপনার নাম ভেসে উঠবে।

এটি তাই লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

চলুন বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক....

পূর্ণ নির্দেশনা [Full Guideline]

ই-নলেজ আইডিয়া – লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

অন্ধকারের আগে যে মানুষটা ছিল

0 পছন্দ 0 অপছন্দ
2 বার প্রদর্শিত
করেছেন (18,102 পয়েন্ট)   21 ঘন্টা পূর্বে "গল্প" বিভাগে লেখা প্রকাশিত
পোষ্ট আইডি(eID) কার্ড↓ - লেখনীর স্বত্ব ও গুণের পরিচয়!

 অন্ধকারের আগে যে মানুষটা ছিল

মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

ছোট গল্প।মে ০৭, ২০২৬


সারাদিনের বৃষ্টিতে শহরটা আজ অদ্ভুত নিস্তব্ধ, আর অভিকের বুকের ভেতরটা তার চেয়েও বেশি।


বড় রাস্তাগুলো প্রায় ফাঁকা পড়ে আছে। মাঝে মাঝে জমে থাকা পানির ওপর চাকার শব্দ ভেসে আসে। অথচ হাসপাতালগুলোতে উল্টো দৃশ্য—স্ট্রেচারের শব্দ, জরুরি বিভাগের সামনে অপেক্ষা, ভেজা কাপড়ে বসে থাকা মানুষ।


এই সন্ধ্যাতেই আবার চাপটা উঠল অভিকের বুকে।


কয়েক মাস আগে ওপেন হার্ট সার্জারি হয়েছিল। ডাক্তাররা বলেছিলেন, সময় লাগবে। তারপর শরীর মানিয়ে নেবে। কিন্তু বুকের মাঝখানের সেলাইয়ের জায়গাটা এখনও মাঝরাতে জ্বলে ওঠে। কখনও কখনও ধমনির ভেতর এমন টান পড়ে, যেন কেউ সরু তার পাকিয়ে ধরেছে।


আজকের কষ্ট অন্যরকম।


বিছানা থেকে উঠতে গিয়ে দেয়ালে হাত রাখতে হলো। নিঃশ্বাস ছোট হয়ে আসছিল। কিছুক্ষণ নিজেকে সামলানোর চেষ্টা করল অভিক। তারপর পাশের বাসার মামুন সাহেবকে ফোন দিল।


মামুন সাহেব ছাতা মাথায় দ্রুত চলে এলেন। মুখের দিকে তাকিয়েই কিছু বুঝেছিলেন সম্ভবত।


—“চলেন। দেরি করা ঠিক হবে না।”


প্রায় আধঘণ্টা পরে অ্যাম্বুলেন্স এলো। সরু গলির ভেতর নীল আলো ঘুরছিল। স্ট্রেচারের চাকায় ভেজা রাস্তায় টুকটুক শব্দ উঠছিল। দূরে কোথাও কুকুর ডাকছিল। বৃষ্টির ঠান্ডা বাতাসে হাসপাতালের করিডরের মতো একটা গন্ধ লেগে ছিল।


অ্যাম্বুলেন্স চলতে শুরু করল।


স্যালাইনের ঠান্ডা সূচটা হাতে নড়তেই বুকের ভেতর হালকা কেঁপে উঠল অভিক। ঠিক এমন এক বৃষ্টির রাতেই নিশিকে প্রথম ঘরে এনেছিল সে।


ভাড়া বাসার ছোট ঘর। দেয়ালের কোণে স্যাঁতসেঁতে দাগ। নতুন বিছানার চাদরে দোকানের কড়া গন্ধ তখনও লেগে ছিল।


নিশি চারপাশে তাকিয়ে হেসে বলেছিল,

—“ঘরটা ছোট… কিন্তু দেখবা, আস্তে আস্তে সব ঠিক হইয়া যাবে।”


নতুন সকাল, নতুন রাত, নতুন মানুষ—এমনকি চায়ের কাপ ধোয়ার শব্দটাও নতুন লাগত।


মায়ের ডাক। বাবার চুপচাপ আদর। বিকেলের আড্ডা।


তিন ভাই মিলে এক থালায় মাখা মুড়ি। শীতের রাতে এক লেপের নিচে গা ঘেঁষে শোয়া।


লোকাল বাসে ঝুলে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফেরা। বৃষ্টির মাঠে বন্ধুদের সঙ্গে খালি গলায় গান ধরা। তখন মনে হতো, বুকের ভেতর কোনো সেলাই নেই।


একদিন নিশি বলেছিল,

—“এইটারে এখন থিকা মা ডাকবা। নিজের মানুষ ভাববা, ঠিকাছে?”


অভিক সত্যিই তা-ই করেছিল।


নিশির মাকে “মা” বলে ডেকেছিল। সংসারের সব দায়িত্ব নিজের মতো তুলে নিয়েছিল। নিশির আবদার, রাগ, মন খারাপ—সব ধীরে ধীরে তার কাজ হয়ে উঠেছিল।


তারপর ঘরে এলো দুই মেয়ে।


মেয়েদের স্কুল, জ্বর, বই, খেলনা—এসব নিয়েই দিন কেটে যেত। নিজের জন্য আলাদা করে কিছু ভাবার সময় ছিল না। মাস শেষে হিসাব মিলত না। নিজের জন্য একটা শার্ট কিনতেও ভাবতে হতো দুবার।


দুপুরে না খেয়ে অফিস করেছে কতদিন।


সেই টাকায় বাসায় কিছু নিয়ে ফিরেছে। মেয়েরা খুশি হয়েছে। নিশিও।


রাত করে বাসায় ফিরত অভিক। টেবিলে ঢাকা দেওয়া ভাত থাকত। পাশে ছোট্ট কাগজে লেখা—

“বড়টার গণিতটা দেখবা।”


নিচে কোনো নাম থাকত না।


আস্তে আস্তে ঘরে জিনিসপত্র বাড়ল। ফ্রিজ এলো। কাঠের আলমারি এলো। দেয়ালে নতুন রঙ লাগল।


রাতের খাবারের টেবিলে নিশি মোবাইলের দিকে তাকিয়ে হাসত। অভিক চুপচাপ প্লেটের ভাত নাড়ত।


তবু সবসময় নিশি একরকম ছিল না।


প্রথম হার্ট অ্যাটাকের পর এক রাতে চুপচাপ অভিকের ওষুধগুলো গুছিয়ে রেখেছিল সে। পানির গ্লাসটাও পাশে এনে দিয়েছিল। সকালে অবশ্য আবার আগের মতো দূরত্ব।


প্রথম হার্ট অ্যাটাকের দিনটার কথা এখনও পরিষ্কার।


সাদা আলো। মনিটরের শব্দ। বুকের ভেতর অসহ্য চাপ। ডাক্তাররা হার্টে রিং বসিয়েছিলেন। কোনোমতে বেঁচে ফিরেছিল অভিক।


সাত দিনের হাসপাতালে নিশি মাত্র দুবার এসেছিল।


তবু কাউকে দোষ দেয়নি অভিক।


ব্যস্ত ছিল হয়তো।


এক মাসও বিশ্রাম নেয়নি ঠিকমতো। আবার অফিসে যাওয়া শুরু করেছিল। শরীর চলত না, তবু সংসার থেমে থাকে না।


রাতে ক্লান্ত শরীর নিয়ে ফিরেও বিশ্রাম মিলত না। কখনও বাজার, কখনও বিল, কখনও মেয়েদের পড়া।


আর নিশি তখন নিজের জগতে ব্যস্ত।


আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে একদিন টাই বাঁধতে গিয়ে থেমে গিয়েছিল অভিক। কয়েক সেকেন্ড নিজের মুখটাই চিনতে পারেনি।


তবু সে টিকে ছিল।


মূলত ছোট মেয়েটার জন্য।


মেয়েটা ঘুমানোর সময় তাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরত। ছোট্ট হাত দুটো বুকের ওপর পড়ে থাকত অনেকক্ষণ।


অ্যাম্বুলেন্স তখন দ্রুত এগিয়ে চলছে। সামনে জল জমে আছে। ওয়াইপারটা ঠিকমতো কাজ করছে না। ভেজা কাঁচের ওপারে লাল ব্রেকলাইটগুলো ঝাপসা হয়ে ছড়িয়ে পড়ছে।


ড্রাইভার বারবার হর্ন দিচ্ছে। অ্যাম্বুলেন্সটা একবার ডানে, একবার বাঁয়ে কাটছে। পাশে বসে মামুন সাহেব সামনের রড শক্ত করে ধরে আছেন।


চাপটা এবার আরও বাড়ল।


জীবনটা একসময় ভরা নদীর মতো ছিল। স্রোত ছিল। কোথাও পৌঁছানোর তাড়া ছিল। মা-বাবা, ভাই, স্ত্রী, সন্তান—সবাইকে নিয়ে বাঁচতে চেয়েছিল সে।


সে চোখ বন্ধ করল।


বৃষ্টির মাঠে গান ধরা ছেলেটাকে আবার একবার দেখতে পেল।


ঠিক তখনই সামনে একটা ট্রাক হঠাৎ বাঁক নিল।


ড্রাইভার জোরে ব্রেক চাপল।

এক মুহূর্তের জন্য সব আলো নিভে গেল বলে মনে হলো।


তারপর—

অন্ধকার।

আমি মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন, ই-নলেজ এর একজন যাচাইকৃত লেখক। আমি এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত আছি প্রায় 7 মাস 1 সপ্তাহ ধরে, এবং এ পর্যন্ত 897 টি লেখা ও 0 টি প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছি। আমার অর্জিত মোট পয়েন্ট 18102। ই-নলেজ আমার চিন্তা, জ্ঞান ও কণ্ঠকে সবার মাঝে পৌঁছে দিতে সহায়তা করেছে।
সংযুক্ত তথ্য
নিজস্ব আইডিয়া, ই-নলেজ আইডিয়া এ প্রথম প্রকাশিত
Enolej ID(eID): 3850
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।

এই লেখকের অন্যান্য সিরিজ


বিজ্ঞাপন: Remembering...

Image

এই ব্লগটির প্রতিক্রিয়া দিতে দয়া করে প্রবেশ কিংবা নিবন্ধন করুন ।

সংশ্লিষ্ট ব্লগগুচ্ছ


যে কান্না শোনার কথা ছিল মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ছোট গল্প। মে ০১, ২০২৬ ডাইরির পাতা খুললেই কেমন একটা চুপচাপ ভাব নেমে আসে। একেবারে নিঃশব্দ না—বরং মনে হয়, কথাগুলো বাইরে বের না হয়ে ভেতরেই ঘুরপাক খা�[...] বিস্তারিত পড়ুন...
162 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

 গোধূলির আগে শেষ হিসাব   মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন   ছোট গল্প। মে ০৬, ২০২৬   দিন অভিক হ[...] বিস্তারিত পড়ুন...
5 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
যদি দশ বছর আগে দেখা হতো মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ছোট গল্প। এপ্রিল ২২, ২০২৬ কিছু প্রশ্ন [...] বিস্তারিত পড়ুন...
71 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

 যে প্রেম শব্দে ধরা পড়ে না মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ছোট গল্প। মে ০৩, ২০২৬ রাতটা শুরু থেক[...] বিস্তারিত পড়ুন...
52 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

 বৃষ্টির ভেতর যে গল্প জন্ম নেয় মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ছোট গল্প । এপ্রিল ৩০, ২০২৬ বৃষ্[...] বিস্তারিত পড়ুন...
16 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ
📢 Notice Board
No active notices
ই-নলেজ আইডিয়া(Enolej Idea) হলো লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম যেখানে যেকোনো ধরনের লেখা—সাহিত্য, বিজ্ঞান, গবেষণা নোট, মতামত, প্রতিবাদী লেখা, ধর্মীয় চিন্তা, ব্যক্তিগত নোট বা দৈনন্দিন ভাবনা—নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা যায়। এটি সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ছড়িয়ে থাকা অগোছালো কনটেন্টকে একটি ভেরিফাইড, রেফারেন্সযোগ্য ডিজিটাল পোর্টফোলিওতে রূপান্তর করে, যা ব্যক্তির বুদ্ধিবৃত্তিক পরিচিতি ও দীর্ঘমেয়াদি ব্র্যান্ডিং গড়ে তোলে। প্রতিটি লেখার জন্য ইউনিক ডিজিটাল আইডি (eID) ও কপিরাইট সুরক্ষা প্রদান করা হয়, ফলে লেখা চুরি হলেও আসল লেখক সহজে শনাক্তযোগ্য থাকে। ধারাবাহিক কনটেন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাজানো, এক ক্লিকেই ই-বুক বা বইয়ের খসড়ায় রূপান্তর, ব্যক্তিগত খসড়া গোপন রাখা এবং একটি সক্রিয় কমিউনিটির মাধ্যমে পাঠকের সাথে সরাসরি সংযোগ—সব সুবিধাই এখানে একসাথে পাওয়া যায়। ই-নলেজ আইডিয়া মূলত ব্যক্তির চিন্তা ও জ্ঞানকে একটি স্থায়ী, সুরক্ষিত ও সার্বজনীনভাবে স্বীকৃত ডিজিটাল লেখক ইকোসিস্টেমে রূপ দেয়। IDEA = Independent Digital Expression & Authorship.
  1. মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

    487 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    24 টি আইডিয়া ব্লগ

  2. মাহাতাব হোসেন অপল

    106 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    5 টি আইডিয়া ব্লগ

  3. আল-মামুন রেজা

    42 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    2 টি আইডিয়া ব্লগ

  4. তামান্না আক্তার

    22 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    1 আইডিয়া ব্লগ

...