Enolej Idea-তে লেখা প্রকাশের নিয়ম জানতে পূর্ণ নির্দেশনা দেখুন...
ই-নলেজ আইডিয়া হলো এমন একটি চিন্তানির্ভর প্ল্যাটফর্ম, যেখানে মানুষ শুধু তথ্য নয়, চিন্তা শেয়ার করে। এখানে জ্ঞানীরা একত্র হন, নতুনরা পথ খুঁজে পান, এবং সবাই মিলে তৈরি হয় একটি জ্ঞানভিত্তিক উম্মাহ। এটি জ্ঞানচর্চাকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ বানানোর একটি প্রচেষ্টা, যেখানে লেখা, ভাবা ও শেখা—সবই হয় মুক্তভাবে।আজই যোগ দিন!নিবন্ধন করতে এখানে ক্লিক করুন...।

-: ই-নলেজ আইডিয়া :-

আপনার লেখার কপিরাইট সুরক্ষা, স্বীকৃতি এবং ফ্রী প্রমোশন, সব এক প্ল্যাটফর্মে!

লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম আপনার লেখার অভিজ্ঞতাই বদলে দিবে। (পড়ুন...)

যদি আপনি হন পাঠক, কিংবা লেখক হিসেবে জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করেন:

যদি আপনার লেখাগুলোর কপিরাইট সুরক্ষা, সুশৃঙ্খলতা, আপনার ভেরিফাইড লেখক পোর্টফলিও এবং লেখক-পাঠকের কেন্দ্রীয় কমিউনিটিতে যুক্ত হতে চান, তাহলে নিবন্ধন করুন লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম “ই-নলেজ আইডিয়া” -এ!

এখানে অনেক প্রতিভাবান লেখক বিভিন্ন সিরিজে লিখছেন। আপনিও চাইলে আপনার লেখাগুলো সিরিজ আকারে সাজাতে পারবেন।

আপনার লেখক প্রোফাইল হবে একদম জীবন্ত পোর্টফলিও, এক ধরনের জীবন্ত বই। এখানে শুধু লেখক নয়, থাকবে পাঠকেরও সংস্পর্শ। ব্যাজ, পয়েন্ট, স্বীকৃতি এবং কপিরাইট সুরক্ষা তো থাকছেই, লেখাগুলো স্ক্যান করলেই আপনার নাম ভেসে উঠবে।

এটি তাই লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

চলুন বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক....

পূর্ণ নির্দেশনা [Full Guideline]

ই-নলেজ আইডিয়া – লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

দোলনচাঁপার বিকেল

0 পছন্দ 0 অপছন্দ
199 বার প্রদর্শিত
করেছেন (19,872 পয়েন্ট)   23 এপ্রিল "গল্প" বিভাগে লেখা প্রকাশিত
পোষ্ট আইডি(eID) কার্ড↓ - লেখনীর স্বত্ব ও গুণের পরিচয়!

দোলনচাঁপার বিকেলimage

মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

ছোট গল্প। এপ্রিল ২৩, ২০২৬


জীবনে এমন কিছু সময় আসে—হঠাৎ, কোনো ঘোষণা ছাড়াই—যখন বাইরে সবকিছু আগের মতোই চলতে থাকে, কিন্তু ভেতরে কোথাও একটা দরজা বন্ধ হয়ে যায়। শব্দ হয় না, ধাক্কাও লাগে না, তবু বোঝা যায় কিছু একটা আর আগের জায়গায় নেই। সেই বন্ধ দরজার ওপাশে পড়ে থাকে কিছু দিন—রঙিন, এলোমেলো, অসমাপ্ত।


সেদিনের বিকেলটা ঠিক তেমনই ছিল।


শহরের ভিড়ের মধ্যে দাঁড়িয়ে ছিলাম। গাড়ির লাইন, মানুষের চলাফেরা, দোকানের আলো—সবই স্বাভাবিক। তবু মনে হচ্ছিল, আমি যেন এই দৃশ্যের ভেতরে নেই। দাঁড়িয়ে আছি, কিন্তু জড়িয়ে নেই। এই শহরের সাথে আমার সম্পর্কটা কোথায় যেন আলগা হয়ে গেছে।


আমার জায়গা ছিল অন্য কোথাও।


সেখানে বৈশাখী মেলা বসত। দোকানের সামনে কাগজের ঘুড়ি ঝুলে থাকত—লাল, নীল, কখনো এমন বেগুনি হয়ে যেত, যেটা না ঠিক বেগুনি, না কালো। বাবার হাত ধরে দাঁড়িয়ে থাকতাম, কিন্তু চোখ থাকত আকাশে ওঠার অপেক্ষায় থাকা ঘুড়িগুলোর দিকে। লাটাইটা হাতে পেলেই মনে হতো, আজ পারব—আজ আকাশটা একটু হলেও নিজের মতো করে টেনে নামাতে পারব।


দুই টাকায় চারটা সিঙ্গারা কিনে ভাগ করে খাওয়া—এইটুকুতেই বিকেল ভরে যেত। এক টাকার আইসক্রিম, দাঁতে ঠান্ডা লাগলেও থামা যেত না। তখন খুব বেশি কিছু লাগত না। যা ছিল, সেটাই যথেষ্ট মনে হতো।


এখন সব আছে। তবু যেন কিছু নেই।


লাটাই আছে, কিন্তু সুতো নেই। ঘুড়ি আছে, কিন্তু আকাশ নেই।


এই ভাবনার মধ্যেই খেয়াল করলাম—আমি একটা পুরোনো পথের সামনে দাঁড়িয়ে আছি। পথটা চেনা। এই আলপথ দিয়েই ছোটবেলায় স্কুল থেকে ফিরতাম। দু’পাশে ঝোপঝাড়, মাঝখানে সরু রাস্তা। জায়গাটা প্রায় বদলায়নি—শুধু আমি বদলে গেছি।


কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই হাঁটা শুরু করলাম।


সন্ধ্যা নামছিল ধীরে। আকাশে লালচে আলো লেগে আছে। বাতাসে মিষ্টি একটা গন্ধ—মুড়ির মোয়া, বাতাসা, কদমা—যেন কোথাও মেলা শেষ হয়েছে, কিন্তু তার চিহ্ন পুরোপুরি মুছে যায়নি।


হাঁটতে হাঁটতে হঠাৎ চোখে পড়ল—একটা ছেলে দৌড়াচ্ছে। হাতে কাঠের চাকার ছোট গাড়ি। থামে না, পেছনে তাকায় না, শুধু দৌড়ায়।


আমি থেমে গেলাম।


দূরে একটা আলো জ্বলল—হারিকেন। টিমটিম করছে, কিন্তু চোখ টানে।


আমি সেদিকেই এগোলাম।


ছোট একটা ঘর। জানালার পাশে বসে কেউ পড়ছে। আলো কম, মুখ পরিষ্কার দেখা যায় না। তবু চিনতে ভুল হলো না।


দোলনচাঁপা।


নামটা মনে পড়তেই বুকের ভেতরটা হালকা কেঁপে উঠল। কতদিন এই নামটা মনে আসেনি! ওর সাথে কোনো বড় গল্প ছিল না—না কোনো প্রতিশ্রুতি, না কোনো শেষ। তবু কিছু মুহূর্ত ছিল, যেগুলো তখন বুঝিনি, পরে ভুলতেও পারিনি।


দূর থেকে দাঁড়িয়ে থাকতেই আরেকটা স্মৃতি ভেসে উঠল। মা একটা ফর্দ দিয়েছিল বাজারে যাওয়ার সময়। কিছু জিনিস আনার কথা ছিল। কিন্তু আমি কিছুই আনিনি।


খালি হাতে ফিরেছিলাম। মায়ের মুখটা এখনও মনে আছে—কঠিন। বিরক্ত। চোখে জল ছিল না, কিন্তু গলার স্বরটা ভেঙে যাচ্ছিল।


ভয় পেয়েছিলাম। তবু সেদিনটা পুরো খারাপ ছিল না। কারণ সেইদিন আমি দোলনচাঁপাকে দেখেছিলাম।


এখন আবার দাঁড়িয়ে আছি। একই জায়গায়, একই আলোয়।


মনে হলো—এবার যদি কিছু বলি?


ঠিক তখনই টের পেলাম, কেউ আমার পাশে এসে দাঁড়িয়েছে।


তাকালাম।


দোলনচাঁপা।


খুব কাছে। ওর হাতের কাঁচের চুড়িগুলো আস্তে নড়ল—টুক করে একটা শব্দ হলো। অকারণে সেই শব্দটাই কানে বেশি বাজল।


আমি কিছু বলতে গেলাম। গলা শুকিয়ে গেল।


ও তাকিয়ে রইল। কোনো প্রশ্ন নেই, কোনো তাড়া নেই। শুধু তাকানো।


আমি চুপ। ও-ও।


আবার একবার চুড়ির শব্দ হলো—এবার আরও হালকা।


তারপর আর কিছু না।


সন্ধ্যা নেমে এলো পুরোপুরি। হারিকেনের আলো কাঁপতে কাঁপতে ছোট হয়ে গেল।


আমি হাঁটা শুরু করলাম। পেছনে তাকাইনি। তাকালে হয়তো দেখতাম—ছেলেটা এখনও দৌড়াচ্ছে, একইভাবে, থামেনি।


কিছু দূর যেতেই আলোটা নিভে গেল।


অন্ধকারটা খারাপ লাগল না।

আমি মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন, ই-নলেজ এর একজন যাচাইকৃত লেখক। আমি এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত আছি প্রায় 8 মাস 2 সপ্তাহ ধরে, এবং এ পর্যন্ত 984 টি লেখা ও 0 টি প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছি। আমার অর্জিত মোট পয়েন্ট 19872। ই-নলেজ আমার চিন্তা, জ্ঞান ও কণ্ঠকে সবার মাঝে পৌঁছে দিতে সহায়তা করেছে।
সংযুক্ত তথ্য
নিজস্ব আইডিয়া, ই-নলেজ আইডিয়া এ প্রথম প্রকাশিত
Enolej ID(eID): 3792
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।

এই লেখকের অন্যান্য সিরিজ


বিজ্ঞাপন: Remembering...

Image

এই ব্লগটির প্রতিক্রিয়া দিতে দয়া করে প্রবেশ কিংবা নিবন্ধন করুন ।

সংশ্লিষ্ট ব্লগগুচ্ছ


image
নুনের স্বাদে লেখা এক বিকেল মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ছোট গল্প  । ২৮ মে, ২০২৬ যে সময় জীবনú[...] বিস্তারিত পড়ুন...
182 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
মোহাম্মাদ জাহিদ হোসেন   ছোটগল্প। ৬ ডিসেম্বর, ২০২৫ সে বসে আছে ফুটপাথের কিনারে। পা&#[...] বিস্তারিত পড়ুন...
410 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
ভাঙা মগ মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ছোটগল্প। ১৩ জুন ১০২৬ ডিভোর্সের কাগজে সই করার সময় মেহ[...] বিস্তারিত পড়ুন...
3 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
 নামটা মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন   ছোটগল্প। ১২ জুন, ২০২৬ সেদিন রাফি স্কুল থেকে ফিরে সো[...] বিস্তারিত পড়ুন...
169 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
 নীরব তৃতীয় মানুষ    মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন   ছোটগল্প। ১২ জুন, ২০২৬ সেদিন রাতের ভাত&#[...] বিস্তারিত পড়ুন...
173 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ
📢 Notice Board
No active notices
ই-নলেজ আইডিয়া(Enolej Idea) হলো লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম যেখানে যেকোনো ধরনের লেখা—সাহিত্য, বিজ্ঞান, গবেষণা নোট, মতামত, প্রতিবাদী লেখা, ধর্মীয় চিন্তা, ব্যক্তিগত নোট বা দৈনন্দিন ভাবনা—নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা যায়। এটি সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ছড়িয়ে থাকা অগোছালো কনটেন্টকে একটি ভেরিফাইড, রেফারেন্সযোগ্য ডিজিটাল পোর্টফোলিওতে রূপান্তর করে, যা ব্যক্তির বুদ্ধিবৃত্তিক পরিচিতি ও দীর্ঘমেয়াদি ব্র্যান্ডিং গড়ে তোলে। প্রতিটি লেখার জন্য ইউনিক ডিজিটাল আইডি (eID) ও কপিরাইট সুরক্ষা প্রদান করা হয়, ফলে লেখা চুরি হলেও আসল লেখক সহজে শনাক্তযোগ্য থাকে। ধারাবাহিক কনটেন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাজানো, এক ক্লিকেই ই-বুক বা বইয়ের খসড়ায় রূপান্তর, ব্যক্তিগত খসড়া গোপন রাখা এবং একটি সক্রিয় কমিউনিটির মাধ্যমে পাঠকের সাথে সরাসরি সংযোগ—সব সুবিধাই এখানে একসাথে পাওয়া যায়। ই-নলেজ আইডিয়া মূলত ব্যক্তির চিন্তা ও জ্ঞানকে একটি স্থায়ী, সুরক্ষিত ও সার্বজনীনভাবে স্বীকৃত ডিজিটাল লেখক ইকোসিস্টেমে রূপ দেয়। IDEA = Independent Digital Expression & Authorship.
  1. মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

    570 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    28 টি আইডিয়া ব্লগ

  2. জামিনুল রেজা

    428 পয়েন্ট

    1 প্রতিক্রিয়া

    1 মন্তব্য

    21 টি আইডিয়া ব্লগ

  3. রফিক আতা

    224 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    11 টি আইডিয়া ব্লগ

  4. ক্বলমী সুর

    134 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    6 টি আইডিয়া ব্লগ

...