Enolej Idea-তে লেখা প্রকাশের নিয়ম জানতে পূর্ণ নির্দেশনা দেখুন...
ই-নলেজ আইডিয়া হলো এমন একটি চিন্তানির্ভর প্ল্যাটফর্ম, যেখানে মানুষ শুধু তথ্য নয়, চিন্তা শেয়ার করে। এখানে জ্ঞানীরা একত্র হন, নতুনরা পথ খুঁজে পান, এবং সবাই মিলে তৈরি হয় একটি জ্ঞানভিত্তিক উম্মাহ। এটি জ্ঞানচর্চাকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ বানানোর একটি প্রচেষ্টা, যেখানে লেখা, ভাবা ও শেখা—সবই হয় মুক্তভাবে।আজই যোগ দিন!নিবন্ধন করতে এখানে ক্লিক করুন...।

-: ই-নলেজ আইডিয়া :-

আপনার লেখার কপিরাইট সুরক্ষা, স্বীকৃতি এবং ফ্রী প্রমোশন, সব এক প্ল্যাটফর্মে!

লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম আপনার লেখার অভিজ্ঞতাই বদলে দিবে। (পড়ুন...)

যদি আপনি হন পাঠক, কিংবা লেখক হিসেবে জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করেন:

যদি আপনার লেখাগুলোর কপিরাইট সুরক্ষা, সুশৃঙ্খলতা, আপনার ভেরিফাইড লেখক পোর্টফলিও এবং লেখক-পাঠকের কেন্দ্রীয় কমিউনিটিতে যুক্ত হতে চান, তাহলে নিবন্ধন করুন লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম “ই-নলেজ আইডিয়া” -এ!

এখানে অনেক প্রতিভাবান লেখক বিভিন্ন সিরিজে লিখছেন। আপনিও চাইলে আপনার লেখাগুলো সিরিজ আকারে সাজাতে পারবেন।

আপনার লেখক প্রোফাইল হবে একদম জীবন্ত পোর্টফলিও, এক ধরনের জীবন্ত বই। এখানে শুধু লেখক নয়, থাকবে পাঠকেরও সংস্পর্শ। ব্যাজ, পয়েন্ট, স্বীকৃতি এবং কপিরাইট সুরক্ষা তো থাকছেই, লেখাগুলো স্ক্যান করলেই আপনার নাম ভেসে উঠবে।

এটি তাই লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

চলুন বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক....

পূর্ণ নির্দেশনা [Full Guideline]

ই-নলেজ আইডিয়া – লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

যে মানুষটিকে সবাই তুচ্ছ করত

0 পছন্দ 0 অপছন্দ
2 বার প্রদর্শিত
করেছেন (29,003 পয়েন্ট)   15 ঘন্টা পূর্বে "গল্প" বিভাগে লেখা প্রকাশিত
পোষ্ট আইডি(eID) কার্ড↓ - লেখনীর স্বত্ব ও গুণের পরিচয়!

যে মানুষটিকে সবাই তুচ্ছ করতimage

মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

মানবিক ছোটগল্প

১৯ অক্টোবর ২০২৬



বাজারের শেষ মাথায় বৃদ্ধ লোকটার ছোট্ট দোকান ছিল। দোকান বলতে টিনের চালের নিচে একটা কাঠের টেবিল, দুটো কাচের বয়াম আর পাশে রাখা পুরোনো টিনের বাক্স। বাক্সটার ঢাকনা একদিকে বেঁকে গিয়েছিল। বন্ধ করতে গেলে একটু চাপ দিতে হতো।


বৃদ্ধের দোকানে তেমন বিক্রি হতো না। কেউ এক মুঠো মুড়ি কিনত, কেউ কয়েকটা বিস্কুট। অনেকেই দাম না দিয়ে চলে যেত। বৃদ্ধ পেছন থেকে ডাকতেন না। শুধু খুচরা পয়সাগুলো গুনে বাক্সে রাখতেন, তারপর আবার নিজের কাজে মন দিতেন।


বাজারের অন্য দোকানিরা তাঁকে নিয়ে হাসাহাসি করত। কেউ বলত, লোকটা বোকা। কেউ বলত, এই বয়সে একটু বুদ্ধি না থাকলে এমনই হয়। বৃদ্ধ এসব শুনেও মুখ তুলতেন না। দুপুরের ফাঁকা সময়টায় তিনি পুরোনো খবরের কাগজ কেটে ঠোঙা বানাতেন। কাগজের ভাঁজগুলো নখ দিয়ে চেপে ঠিক করতেন, যাতে মুড়ি ভরলে নিচ দিয়ে পড়ে না যায়।


স্কুল ছুটির পর একটা ছেলে প্রায় প্রতিদিন তাঁর দোকানের সামনে এসে দাঁড়াত।


ছেলেটার নাম বৃদ্ধ জানতেন না। গায়ে সাদা শার্ট, নীল প্যান্ট। ব্যাগটার এক পাশের সেলাই খুলে গিয়েছিল। সে দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে কাচের বয়ামের দিকে তাকিয়ে থাকত, কিন্তু কিছু চাইত না।


প্রথম দিন বৃদ্ধ নিজেই জিজ্ঞেস করেছিলেন,


— মুড়ি খাবি?


ছেলেটা কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে মাথা নেড়েছিল।


বৃদ্ধ একটা কাগজের ঠোঙায় মুড়ি ভরে তার হাতে দিলেন। ছেলেটা ঠোঙাটা নিয়ে চলে যাওয়ার আগে পকেটে হাত দিয়েছিল।


— থাক, পরে দিস।


ছেলেটা আর কিছু না বলে রাস্তার ওপারে চলে গেল।


পরদিন আবার এল। তার পরদিনও। প্রতিবার একই ঘটনা। ছেলেটা এসে দাঁড়াত, বৃদ্ধ মুড়ি ভরে দিতেন। কোনো দিন সঙ্গে দুটো চানাচুর মিশিয়ে দিতেন, কোনো দিন একটা ছোট বিস্কুট। ছেলেটা খেতে খেতে চলে যেত।


একদিন পাশের দোকানের মালিক বলল,


— চাচা, আপনার দোকানে তো এখন দাতব্য কাজ চলে! এভাবে দিলে নিজের খাবার জুটবে কী করে?


বৃদ্ধ কাগজের একটা টুকরো ভাঁজ করতে করতে বললেন,


— হিসাব করে দিই।


লোকটা হেসে উঠল।


— কীসের হিসাব?


বৃদ্ধ আর উত্তর দিলেন না। ঠোঙাটার মুখটা ভালো করে চেপে দিলেন।


ছেলেটা কখনো টাকা দেয়নি। বৃদ্ধও আর চায়নি। তবে ছেলেটা এলে তিনি অন্য ক্রেতার জন্য রাখা মুড়ি থেকে তাকে দিতেন না। তার জন্য আলাদা করে একটু মুড়ি সরিয়ে রাখতেন। টিনের বাক্সের ওপর একটা খালি ঠোঙা চাপা দিয়ে রাখতেন, যাতে বাতাসে উড়ে না যায়।


একদিন ছেলেটা আসার পর বৃদ্ধ দেখলেন, তার চোখ লাল। শার্টের কলারটাও ভেজা। তিনি কিছু জিজ্ঞেস করলেন না। মুড়ির সঙ্গে একটা বিস্কুট দিয়ে শুধু বললেন,


— আস্তে খাস। গলায় লাগবে।


ছেলেটা সেদিন দোকানের সামনেই দাঁড়িয়ে খেয়েছিল। যাওয়ার সময় ঠোঙাটা ভাঁজ করে ব্যাগের ভেতর ঢুকিয়ে নিল।


বৃদ্ধের চোখে পড়েছিল, কিন্তু তিনি কিছু বলেননি।


এরপর কয়েক দিন ছেলেটা আসেনি।


প্রথম দিন বৃদ্ধ ভেবেছিলেন, হয়তো স্কুল ছুটি দেরিতে হয়েছে। দ্বিতীয় দিন রাস্তার দিকে কয়েকবার তাকিয়েছিলেন। তৃতীয় দিন মুড়ির বয়াম খুলে ঠোঙা বানাতে গিয়ে হাত থামিয়ে দিলেন।


পাশের দোকানি বলল,


— আপনার সেই খদ্দের আর আসে না কেন?


বৃদ্ধ বললেন,


— জানি না।


— টাকা বাকি রেখে পালিয়েছে নাকি?


বৃদ্ধ এবার তার দিকে তাকালেন। তারপর টেবিলের ওপর রাখা ঠোঙাগুলো গুছিয়ে রাখলেন।


বিকেলে দোকান বন্ধ করার আগে তিনি টিনের বাক্সটা খুললেন। ভেতরে কয়েকটা খুচরা পয়সা, একটা পুরোনো বোতামের টুকরো আর ভাঁজ করা কাগজের ঠোঙা ছিল। ঠোঙাগুলো তিনি সাধারণত ফেলে দিতেন না। কোনোটা আবার ব্যবহার করা যায়, কোনোটা কেবল ভাঁজের স্মৃতি নিয়ে পড়ে থাকে।


একটা ঠোঙার ভেতরের দিকে পেন্সিল দিয়ে লেখা ছিল—‘আজও এল।’


বৃদ্ধ লেখাটার ওপর আঙুল বুলিয়ে ঠোঙাটা আবার ভাঁজ করলেন। কে লিখেছিল, তা তাঁর মনে পড়ল না। হয়তো কোনো দিন নিজের হাতেই লিখেছিলেন।


পরদিন সকালে দোকান খোলার পর তিনি প্রথমেই একটা নতুন ঠোঙা বানালেন। তাতে মুড়ি ভরে টেবিলের এক পাশে রাখলেন। তারপর বয়ামগুলো মুছলেন, খুচরা পয়সা গুনলেন, রাস্তার ধুলো ঝাড়লেন।


দুপুরে স্কুল ছুটি হলো। একদল ছেলে হইচই করতে করতে বাজার পেরিয়ে গেল। বৃদ্ধ মাথা তুলে তাকালেন। সাদা শার্ট, নীল প্যান্ট, কাঁধে ব্যাগ—অনেক ছেলেই ছিল। পরিচিত ছেলেটা ছিল না।


বিকেল নামার পরও ঠোঙাটা টেবিলের এক পাশে পড়ে রইল।


বৃদ্ধ সেটি খুললেন না। শুধু টিনের বাক্সের ঢাকনাটা বন্ধ করে ঠোঙাটার পাশে হাত রেখে বসে থাকলেন।

আমি মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন, ই-নলেজ এর একজন যাচাইকৃত লেখক। আমি এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত আছি প্রায় 1 বছর 3 সপ্তাহ ধরে, এবং এ পর্যন্ত 1435 টি লেখা ও 0 টি প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছি। আমার অর্জিত মোট পয়েন্ট 29003। ই-নলেজ আমার চিন্তা, জ্ঞান ও কণ্ঠকে সবার মাঝে পৌঁছে দিতে সহায়তা করেছে।
সংযুক্ত তথ্য
নিজস্ব আইডিয়া, ই-নলেজ আইডিয়া এ প্রথম প্রকাশিত
Enolej ID(eID): 5017
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।

এই লেখকের অন্যান্য সিরিজ


বিজ্ঞাপন: Remembering...

Image

এই ব্লগটির প্রতিক্রিয়া দিতে দয়া করে প্রবেশ কিংবা নিবন্ধন করুন ।

সংশ্লিষ্ট ব্লগগুচ্ছ


image
হারিয়ে যাওয়া গ্রামের গল্প যে উঠোনে সবাই বসত মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন বিশ্লেষণধর্ম[...] বিস্তারিত পড়ুন...
47 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
সিরিজের নামঃ- নিজের জীবনটাও ছিল গল্প ৮ -সবাই ভালো আছে মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ছোট গল্প &[...] বিস্তারিত পড়ুন...
81 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
যে ছেলেটি প্রতিদিন স্কুলের সামনে দাঁড়াত মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন শিশুর জীবনসংগ্রাম[...] বিস্তারিত পড়ুন...
3 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
যে চিঠি কখনো পোস্ট হয়নি মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ছয় পর্বের ছোটগল্প ২৪ আগষ্ট, ২০২৬ প[...] বিস্তারিত পড়ুন...
57 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
যে চিঠি কখনো পোস্ট হয়নি মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ছয় পর্বের ছোটগল্প ২৪ আগষ্ট, ২০২৬ প[...] বিস্তারিত পড়ুন...
57 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ
📢 Notice Board
No active notices
ই-নলেজ আইডিয়া(Enolej Idea) হলো লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম যেখানে যেকোনো ধরনের লেখা—সাহিত্য, বিজ্ঞান, গবেষণা নোট, মতামত, প্রতিবাদী লেখা, ধর্মীয় চিন্তা, ব্যক্তিগত নোট বা দৈনন্দিন ভাবনা—নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা যায়। এটি সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ছড়িয়ে থাকা অগোছালো কনটেন্টকে একটি ভেরিফাইড, রেফারেন্সযোগ্য ডিজিটাল পোর্টফোলিওতে রূপান্তর করে, যা ব্যক্তির বুদ্ধিবৃত্তিক পরিচিতি ও দীর্ঘমেয়াদি ব্র্যান্ডিং গড়ে তোলে। প্রতিটি লেখার জন্য ইউনিক ডিজিটাল আইডি (eID) ও কপিরাইট সুরক্ষা প্রদান করা হয়, ফলে লেখা চুরি হলেও আসল লেখক সহজে শনাক্তযোগ্য থাকে। ধারাবাহিক কনটেন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাজানো, এক ক্লিকেই ই-বুক বা বইয়ের খসড়ায় রূপান্তর, ব্যক্তিগত খসড়া গোপন রাখা এবং একটি সক্রিয় কমিউনিটির মাধ্যমে পাঠকের সাথে সরাসরি সংযোগ—সব সুবিধাই এখানে একসাথে পাওয়া যায়। ই-নলেজ আইডিয়া মূলত ব্যক্তির চিন্তা ও জ্ঞানকে একটি স্থায়ী, সুরক্ষিত ও সার্বজনীনভাবে স্বীকৃত ডিজিটাল লেখক ইকোসিস্টেমে রূপ দেয়। IDEA = Independent Digital Expression & Authorship.
  1. মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

    1419 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    7 মন্তব্য

    69 টি আইডিয়া ব্লগ

  2. প্রিন্স ফ্রেরাসে

    126 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    6 টি আইডিয়া ব্লগ

  3. জামিনুল রেজা

    83 পয়েন্ট

    1 প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    4 টি আইডিয়া ব্লগ

  4. শামীমা আকতার

    82 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    4 টি আইডিয়া ব্লগ

...