Enolej Idea-তে লেখা প্রকাশের নিয়ম জানতে পূর্ণ নির্দেশনা দেখুন...
ই-নলেজ আইডিয়া হলো এমন একটি চিন্তানির্ভর প্ল্যাটফর্ম, যেখানে মানুষ শুধু তথ্য নয়, চিন্তা শেয়ার করে। এখানে জ্ঞানীরা একত্র হন, নতুনরা পথ খুঁজে পান, এবং সবাই মিলে তৈরি হয় একটি জ্ঞানভিত্তিক উম্মাহ। এটি জ্ঞানচর্চাকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ বানানোর একটি প্রচেষ্টা, যেখানে লেখা, ভাবা ও শেখা—সবই হয় মুক্তভাবে।আজই যোগ দিন!নিবন্ধন করতে এখানে ক্লিক করুন...।

-: ই-নলেজ আইডিয়া :-

আপনার লেখার কপিরাইট সুরক্ষা, স্বীকৃতি এবং ফ্রী প্রমোশন, সব এক প্ল্যাটফর্মে!

লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম আপনার লেখার অভিজ্ঞতাই বদলে দিবে। (পড়ুন...)

যদি আপনি হন পাঠক, কিংবা লেখক হিসেবে জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করেন:

যদি আপনার লেখাগুলোর কপিরাইট সুরক্ষা, সুশৃঙ্খলতা, আপনার ভেরিফাইড লেখক পোর্টফলিও এবং লেখক-পাঠকের কেন্দ্রীয় কমিউনিটিতে যুক্ত হতে চান, তাহলে নিবন্ধন করুন লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম “ই-নলেজ আইডিয়া” -এ!

এখানে অনেক প্রতিভাবান লেখক বিভিন্ন সিরিজে লিখছেন। আপনিও চাইলে আপনার লেখাগুলো সিরিজ আকারে সাজাতে পারবেন।

আপনার লেখক প্রোফাইল হবে একদম জীবন্ত পোর্টফলিও, এক ধরনের জীবন্ত বই। এখানে শুধু লেখক নয়, থাকবে পাঠকেরও সংস্পর্শ। ব্যাজ, পয়েন্ট, স্বীকৃতি এবং কপিরাইট সুরক্ষা তো থাকছেই, লেখাগুলো স্ক্যান করলেই আপনার নাম ভেসে উঠবে।

এটি তাই লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

চলুন বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক....

পূর্ণ নির্দেশনা [Full Guideline]

ই-নলেজ আইডিয়া – লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

মনের অসুখ

0 পছন্দ 0 অপছন্দ
30 বার প্রদর্শিত
করেছেন (27,228 পয়েন্ট)   29 জুলাই "গল্প" বিভাগে লেখা প্রকাশিত
পোষ্ট আইডি(eID) কার্ড↓ - লেখনীর স্বত্ব ও গুণের পরিচয়!

মনের অসুখimage

মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

ছোটগল্প | ২৯ জুলাই, ২০২৬


শরীর খারাপ হলে আমরা ডাক্তারের কাছে যাই। কিন্তু মন খারাপ হলে কজন তার খোঁজ নিই?


প্রথমে অভিক কিছুই বুঝতে পারেনি।


দশ বছরের ঋদ্ধ ছিল গল্পের ভান্ডার। স্কুল থেকে ফিরেই এক নিশ্বাসে সারাদিনের সব কথা উগরে দিত। কোন বন্ধুর সঙ্গে ঝগড়া হলো, কে নতুন পেন্সিল আনল, স্যার ক্লাসে কী মজার কথা বললেন— কিছুই বাদ যেত না।


কিন্তু কয়েক সপ্তাহ ধরে ছেলেটা যেন অন্য মানুষ হয়ে গেছে।


স্কুল থেকে ফিরে সোজা নিজের ঘরে ঢুকে যায়। খাওয়ার টেবিলে চুপচাপ বসে থাকে। বিকেলে মাঠে যাওয়ার নাম করলেই বলে, "ভালো লাগছে না।" মুখের সেই চেনা হাসিটাও কোথায় যেন হারিয়ে গেছে।


অভিক ভেবেছিল, হয়তো পড়ার চাপ বেড়েছে।


একদিন জিজ্ঞেস করল, "কী হয়েছে? শরীর খারাপ?"


ঋদ্ধ মাথা নেড়ে বলল, "না, আমি ঠিক আছি।"


অভিকও আর ঘাঁটাল না।


পরে সে বুঝেছিল, এই "আমি ঠিক আছি" কথাটার আড়ালেই অনেক সময় সবচেয়ে বড় না-বলা কষ্টগুলো লুকিয়ে থাকে।


কয়েকদিন পর স্কুলে অভিভাবক সভা।


সভা শেষে ক্লাস টিচার অভিককে আলাদা করে ডাকলেন। বললেন, "ঋদ্ধ আগের মতো নেই। ক্লাসে মনোযোগ কমে গেছে, বন্ধুদের সঙ্গেও মিশছে না। বাসায়ও কি এমন চুপচাপ থাকে?"


সেদিনই প্রথমবার অভিকের বুকের ভেতর সত্যিকারের দুশ্চিন্তা হলো।


রাতে সে ছেলের ঘরে গিয়ে বসল। ঋদ্ধ বই খুলে বসে আছে, কিন্তু বোঝাই যাচ্ছে চোখ বইয়ের পাতায়, মন অন্য কোথাও।


অভিক আস্তে করে বলল, "বাবা, সত্যি করে বলো তো, কী হয়েছে?"


অনেকক্ষণ কোনো উত্তর এল না।


তারপর খুব নিচু গলায় ঋদ্ধ বলল, "বাবা... আমার মনে হয় কেউ আমাকে পছন্দ করে না।"


অভিক থমকে গেল।


"এমন মনে হচ্ছে কেন?"


ঋদ্ধ চোখ নামিয়ে বলল, "স্কুলে কয়েকজন প্রায়ই আমাকে নিয়ে হাসে। আমি কিছু বলি না। বললে ওরা আরও বেশি হাসে।"


শেষ কথাগুলো বলতে বলতে তার চোখ ভিজে উঠল।


অভিকের মনে হলো, এতদিন সে ছেলের জ্বর, সর্দি, খাওয়া-দাওয়া, সবকিছুর যত্ন নিয়েছে, কিন্তু মনের ভেতরের জ্বরের খবরটা নেওয়াই হয়নি।


সে ঋদ্ধকে কাছে টেনে নিল। বলল, "এই কষ্টগুলো একা বয়ে বেড়াতে হবে না তোমাকে। যখনই মন খারাপ হবে, আমার কাছে চলে আসবে। আমরা দুজন বসে কথা বলব।"


পরদিন সকালেই অভিক স্কুলে গেল। ক্লাস টিচারের সঙ্গে সবটা খুলে বলল। অনুরোধ করল, বিষয়টা যেন গুরুত্ব দিয়ে দেখা হয়, প্রয়োজনে স্কুল কাউন্সেলরের সঙ্গে কথা বলার ব্যবস্থা করা হয়। বকাঝকা বা শাস্তি নয়, বোঝানোটাই যে আসল সমাধান— সেটাও বলল।


বাড়িতেও একটা ছোট পরিবর্তন এল।


রাতের পড়া শেষ হলে আধঘণ্টা শুধু গল্পের সময়। কোনো মোবাইল নেই, পড়ার চাপ নেই। সারাদিনে কী ভালো লাগল, কী খারাপ লাগল, কোন কথায় বুকটা ভারী হয়ে উঠল— সব বলা যাবে।


শুরুর দিকে ঋদ্ধ খুব কম কথা বলত।


তারপর ধীরে ধীরে সেই জমাট বাঁধা নীরবতা গলতে শুরু করল।


একদিন বলল, টিফিনে একা লেগেছিল।

আরেকদিন বলল, একটা অঙ্ক না পারায় খুব লজ্জা পেয়েছে।


অভিক সব কথার উত্তর দিত না। দিতে জানতও না। সে শুধু পাশে বসে বলত, "আমি বুঝতে পারছি। আমি আছি।"


এই দুটো বাক্যই যেন ওষুধের মতো কাজ করল।


মাস কয়েক পর ক্লাস টিচার নিজেই ফোন করলেন।

"ঋদ্ধ আবার আগের মতো হয়ে উঠছে। বন্ধুদের সঙ্গে খেলছে, ক্লাসে হাত তুলে উত্তর দিচ্ছে।"


সেদিন বাড়ি ফেরার পথে অভিকের মনে হলো, সব কষ্টের ওষুধ হয়তো আমাদের হাতে থাকে না।


কিন্তু এমন একজন মানুষ হয়ে ওঠা যায়, যার কাছে একটা শিশুকে নিজের ভয়, কষ্ট আর চোখের জল লুকিয়ে রাখতে হয় না।


কারণ অনেক সময় মনের অসুখ বড় হয় নীরবতা থেকে।

আর তার সেরে ওঠা শুরু হয় একজন মন দিয়ে শোনা মানুষের কাছ থেকে।

আমি মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন, ই-নলেজ এর একজন যাচাইকৃত লেখক। আমি এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত আছি প্রায় 11 মাস 2 সপ্তাহ ধরে, এবং এ পর্যন্ত 1348 টি লেখা ও 0 টি প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছি। আমার অর্জিত মোট পয়েন্ট 27228। ই-নলেজ আমার চিন্তা, জ্ঞান ও কণ্ঠকে সবার মাঝে পৌঁছে দিতে সহায়তা করেছে।
সংযুক্ত তথ্য
নিজস্ব আইডিয়া, ই-নলেজ আইডিয়া এ প্রথম প্রকাশিত
Enolej ID(eID): 4507
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।

এই লেখকের অন্যান্য সিরিজ


বিজ্ঞাপন: Remembering...

Image

এই ব্লগটির প্রতিক্রিয়া দিতে দয়া করে প্রবেশ কিংবা নিবন্ধন করুন ।

সংশ্লিষ্ট ব্লগগুচ্ছ


image
যেখানে মনটা একটু থাকে মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ছোটগল্প | ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ অভিক জানা[...] বিস্তারিত পড়ুন...
15 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
এক পা মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ছোট গল্প  | ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ নিশির বিয়ের খবরটা অভিক প্&#[...] বিস্তারিত পড়ুন...
25 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
আরেকটু জীবন মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন আত্মকথনধর্মী। ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ কখনো কখনো মান&#[...] বিস্তারিত পড়ুন...
24 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
অবশিষ্ট মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ছোট গল্প। ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ রাত এগারোটার পর অভিকের &[...] বিস্তারিত পড়ুন...
22 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
ঘুমহীন মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ছোটগল্প | ০২-০৯-২০২৬ রাত প্রায় দুটো। ঘরের সব আলো নেভা÷[...] বিস্তারিত পড়ুন...
31 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ
📢 Notice Board
No active notices
ই-নলেজ আইডিয়া(Enolej Idea) হলো লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম যেখানে যেকোনো ধরনের লেখা—সাহিত্য, বিজ্ঞান, গবেষণা নোট, মতামত, প্রতিবাদী লেখা, ধর্মীয় চিন্তা, ব্যক্তিগত নোট বা দৈনন্দিন ভাবনা—নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা যায়। এটি সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ছড়িয়ে থাকা অগোছালো কনটেন্টকে একটি ভেরিফাইড, রেফারেন্সযোগ্য ডিজিটাল পোর্টফোলিওতে রূপান্তর করে, যা ব্যক্তির বুদ্ধিবৃত্তিক পরিচিতি ও দীর্ঘমেয়াদি ব্র্যান্ডিং গড়ে তোলে। প্রতিটি লেখার জন্য ইউনিক ডিজিটাল আইডি (eID) ও কপিরাইট সুরক্ষা প্রদান করা হয়, ফলে লেখা চুরি হলেও আসল লেখক সহজে শনাক্তযোগ্য থাকে। ধারাবাহিক কনটেন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাজানো, এক ক্লিকেই ই-বুক বা বইয়ের খসড়ায় রূপান্তর, ব্যক্তিগত খসড়া গোপন রাখা এবং একটি সক্রিয় কমিউনিটির মাধ্যমে পাঠকের সাথে সরাসরি সংযোগ—সব সুবিধাই এখানে একসাথে পাওয়া যায়। ই-নলেজ আইডিয়া মূলত ব্যক্তির চিন্তা ও জ্ঞানকে একটি স্থায়ী, সুরক্ষিত ও সার্বজনীনভাবে স্বীকৃত ডিজিটাল লেখক ইকোসিস্টেমে রূপ দেয়। IDEA = Independent Digital Expression & Authorship.
  1. মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

    1129 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    56 টি আইডিয়া ব্লগ

  2. রফিক আতা

    269 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    13 টি আইডিয়া ব্লগ

  3. আল-আমিন (আলো)

    117 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    5 টি আইডিয়া ব্লগ

  4. প্রিন্স ফ্রেরাসে

    62 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    3 টি আইডিয়া ব্লগ

...