Enolej Idea-তে লেখা প্রকাশের নিয়ম জানতে পূর্ণ নির্দেশনা দেখুন...
ই-নলেজ আইডিয়া হলো এমন একটি চিন্তানির্ভর প্ল্যাটফর্ম, যেখানে মানুষ শুধু তথ্য নয়, চিন্তা শেয়ার করে। এখানে জ্ঞানীরা একত্র হন, নতুনরা পথ খুঁজে পান, এবং সবাই মিলে তৈরি হয় একটি জ্ঞানভিত্তিক উম্মাহ। এটি জ্ঞানচর্চাকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ বানানোর একটি প্রচেষ্টা, যেখানে লেখা, ভাবা ও শেখা—সবই হয় মুক্তভাবে।আজই যোগ দিন!নিবন্ধন করতে এখানে ক্লিক করুন...।

-: ই-নলেজ আইডিয়া :-

আপনার লেখার কপিরাইট সুরক্ষা, স্বীকৃতি এবং ফ্রী প্রমোশন, সব এক প্ল্যাটফর্মে!

লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম আপনার লেখার অভিজ্ঞতাই বদলে দিবে। (পড়ুন...)

যদি আপনি হন পাঠক, কিংবা লেখক হিসেবে জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করেন:

যদি আপনার লেখাগুলোর কপিরাইট সুরক্ষা, সুশৃঙ্খলতা, আপনার ভেরিফাইড লেখক পোর্টফলিও এবং লেখক-পাঠকের কেন্দ্রীয় কমিউনিটিতে যুক্ত হতে চান, তাহলে নিবন্ধন করুন লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম “ই-নলেজ আইডিয়া” -এ!

এখানে অনেক প্রতিভাবান লেখক বিভিন্ন সিরিজে লিখছেন। আপনিও চাইলে আপনার লেখাগুলো সিরিজ আকারে সাজাতে পারবেন।

আপনার লেখক প্রোফাইল হবে একদম জীবন্ত পোর্টফলিও, এক ধরনের জীবন্ত বই। এখানে শুধু লেখক নয়, থাকবে পাঠকেরও সংস্পর্শ। ব্যাজ, পয়েন্ট, স্বীকৃতি এবং কপিরাইট সুরক্ষা তো থাকছেই, লেখাগুলো স্ক্যান করলেই আপনার নাম ভেসে উঠবে।

এটি তাই লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

চলুন বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক....

পূর্ণ নির্দেশনা [Full Guideline]

ই-নলেজ আইডিয়া – লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

নামহীন কবর

0 পছন্দ 0 অপছন্দ
1 বার দর্শন
করেছেন (19,954 পয়েন্ট)   4 ঘন্টা পূর্বে "গল্প" বিভাগে লেখা প্রকাশিত
পোষ্ট আইডি(eID) কার্ড↓ - লেখনীর স্বত্ব ও গুণের পরিচয়!


 নামহীন কবর image  

মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন  

ছোট গল্প | ১৪ জুন, ২০২৬


দুপুরের কবরস্থানটা কেমন জানি চুপচাপ। বাতাসও জোরে বয় না। মনে হয় কেউ ঘুমাচ্ছে, ডাক দিতে ইচ্ছা করে না। কবরগুলোর ফাঁক দিয়ে হাঁটলে একটা জিনিস চোখে লাগে—সবাই একরকম, কিন্তু কেউ কেউ একটু বেশিই হারায় যায়।


এক কোণায় নতুন মাটি। একটু উঁচু। ঠিক শুকায়ও নাই। নাম নাই, ফুল নাই, পাথরে লেখাও নাই। শুধু মাটি। আর কেমন জানি থমথমে ভাব।


কার কবর এটা—আগে মানুষ দুই-এক কথা বলত। এখন বলে না। মানুষ প্রশ্ন করতে পারে ঠিকই, কিন্তু সব প্রশ্ন বইতে পারে না।


আজাহার আলী। নামটা এটাই ছিল। গ্রামের পাশে টিনের ছোট একটা ঘর ছিল। উঠোনে একটা আমগাছ। গরমের দিনে ওই গাছটাই ছিল সবচেয়ে বড় আশ্রয়।


বউ ছিল। দুইটা ছেলে। এককালে ওই ঘরে হাঁকডাক ছিল, খাওয়ার ডাক ছিল। এখন ওসব বললে মনে হয় অন্য কারও কথা বলছি।


সময়টা এমন—একবারে সব কেড়ে নেয় না। একটু একটু করে শেষ করে। এত আস্তে যে টেরই পাওয়া যায় না কখন ফুরায় গেল।


আগে বউটা মরল। তারপর বড় ছেলে শহরে গেল। ছোটটা অন্য জায়গায় কাজ নিল। প্রথমে ফোন দিত রোজ। পরে মাঝেমধ্যে। একসময় ফোন বাজত ঠিকই, কিন্তু ধরত না কেউ।


গ্রামের লোক বলত, “সবারই তো কাজ আছে।”


আজাহার আলী কিছু কইতেন না। সন্ধ্যায় উঠোনে বসে থাকতেন। আমগাছটা ছিলই। কিন্তু গাছ একই থাকলেও ছায়াটা যে বদলায়, এই কথাটা কাউরে বুঝায় নাই।


শেষের দিকে একাই ছিলেন। রান্না করতেন না বললেই চলে। বাজারে যাওয়াও কমে গেছিল। শরীরটাও আর আগের মতো চলত না।


এক প্রতিবেশী একদিন জিগাইল,  

“চাচা, শহরে ছেলের কাছে যান না?”


তিনি একটু হাসলেন।  

“কার কাছে যামু?”


কথা আর আগায় নাই।


এক সকালে ঘরে পাওয়া গেল না। দরজা খোলা। বিছানা এলোমেলো। উঠোনে আমগাছটা দাঁড়ায় ছিল আগের মতোই।


মানুষ আসল। বুঝল, কাহিনি শেষ।


এরপর শুরু হলো ঝামেলার অংশ—যেটা কেউ গল্পে বলে না, কিন্তু করতেই হয়।


কাগজপত্র। নাম। ঠিকানা। আইডি। মরাটাও একটা সিস্টেমে ফেলতে হয়, নাইলে সরকার বোঝে না।


তার কাছে সেরকম কিছু ছিল না। একটা পুরান ভোটার আইডি, অর্ধেক লেখা মুইছা গেছে। আর মানুষের আন্দাজ। কেউ জোর দিয়া কিছু বলতে পারল না।


যা হইল আরকি। দাফন হইল। মাটি দিল। দোয়া পড়ল।


কবর হইল কবরস্থানের এক পাশে। লোকজন দাঁড়াইছিল, বেশি সময় না। জীবনের মতো মৃত্যুটাও একসময় হালকা হয়ে যায়।


প্রথম কয়দিন মানুষ জিগাইত,  

“এটা কার কবর?”


উত্তর আসত,  

“এক বুড়া মানুষ আছিল।”


তারপর জিগানোটাও থেমে গেল।


সময় তার কাজ শুরু করল।


বৃষ্টি আসল, গেল। রোদ পড়ল। ঘাস উঠল। মাটি আগের মতো নাই, কিন্তু বোঝাও যায় না। নাম নাই জায়গাটা আস্তে আস্তে বাকি কবরের মতোই হয়ে গেল।


তফাৎ একটাই—এইটার পাশে কেউ দাঁড়ায় না।


কেউ কেউ জিগায় আবার, কিন্তু মাঝপথে চুপ করে যায়। যেন উত্তরটা দরকার নাই আর।


নাম না থাকলে গল্পও বাঁচে না বেশিদিন।


কয়েক বছর পর ছোট ছেলেটা গ্রামে ফিরল।


এখন শহরে থাকে। কাজ করে। জীবন চলছে বলা যায়। আবার কিছু জায়গায় আটকায়ও আছে—এটা কাউরে বলে না।


এসে কবরস্থান খুঁজল।


কিন্তু মুশকিল—কেউ নিশ্চিত করে বলতে পারে না কোনটা বাপের কবর।


এক বুড়া আঙুল দিয়ে দূরে দেখায় দিল,  

“মনে হয় ওইদিকে…”


“মনে হয়”—এই দুইটা শব্দে অনেক কিছু ঢাকা পড়ে যায়।


ছেলেটা গিয়ে দাঁড়াল।


কিছু বলল না।


চারপাশে বাতাস। পাতার শব্দ। দূরে কারও গলা শোনা যায়, তারপর মিলায় যায়। পৃথিবী থেমে নাই—এই সোজা কথাটাই এমন সময়ে বুকের মধ্যে বিঁধে।


মাটির দিকে তাকায় থাকল।


নাম নাই। তারিখ নাই। শুধু একটা জায়গা। একদিন এখানেই কারও শেষ হইছিল।


মনে হইল, দেরি করে নাই সে। শুধু সময়টা এমনভাবে গেছে যে আর মিলানো যায় নাই।


বসল না। দাঁড়ায় থাকল।


মাটিতে হাত দিল না। কিছু রাখল না। কিছু বললও না।


কারণ দেরি হয়ে গেলে মানুষ বোঝে না কী করতে হয়। মাঝে মাঝে কিছু না করাটাই সবচেয়ে সত্যি কাজ।


একটু পর উঠে দাঁড়াল।


শেষবার কবরটার দিকে তাকাইল।


মনে হইল, সব পরিচয় মুইছা যায়। পড়ে থাকে শুধু জায়গাটা।


পিছন ফিরে হাঁটা ধরল।


আরেকবার তাকাইল পিছনে।


কবরটা আগের মতোই। চুপচাপ। নাম নাই। কারও জন্য বসে নাই।


আর তখনই মাথায় আসে—একটা মানুষের আসল পরিচয় কি নামে?

 নাকি সে কয়জনের মনে কতদিন থাকে, ওইটাতে?

আমি মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন, ই-নলেজ এর একজন যাচাইকৃত লেখক। আমি এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত আছি প্রায় 8 মাস 2 সপ্তাহ ধরে, এবং এ পর্যন্ত 988 টি লেখা ও 0 টি প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছি। আমার অর্জিত মোট পয়েন্ট 19954। ই-নলেজ আমার চিন্তা, জ্ঞান ও কণ্ঠকে সবার মাঝে পৌঁছে দিতে সহায়তা করেছে।
সংযুক্ত তথ্য
নিজস্ব আইডিয়া, ই-নলেজ আইডিয়া এ প্রথম প্রকাশিত
Enolej ID(eID): 4066
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।

এই লেখকের অন্যান্য সিরিজ


বিজ্ঞাপন: Remembering...

Image

এই ব্লগটির প্রতিক্রিয়া দিতে দয়া করে প্রবেশ কিংবা নিবন্ধন করুন ।

সংশ্লিষ্ট ব্লগগুচ্ছ


image
 নামটা    মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন   ছোটগল্প। ১৪ জুন, ২০২৬ সেদিন রাফি স্কুল থেকে এসে স[...] বিস্তারিত পড়ুন...
4 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
বেতন মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ছোট গল্প । ১৪, জুন ২০২৬ বাবা ফোন করেছিলেন বিকেলের দিকে। õ[...] বিস্তারিত পড়ুন...
4 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
 শেষ সাক্ষী মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন গল্প । ১৪, জুন ২০২৬ লোকটা মারা গেল ভোরের ঠিক আগে। [...] বিস্তারিত পড়ুন...
3 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
ভাঙা মগ মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ছোটগল্প। ১৩ জুন ১০২৬ ডিভোর্সের কাগজে সই করার সময় মেহ[...] বিস্তারিত পড়ুন...
4 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
 নামটা মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন   ছোটগল্প। ১২ জুন, ২০২৬ সেদিন রাফি স্কুল থেকে ফিরে সো[...] বিস্তারিত পড়ুন...
171 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ
📢 Notice Board
No active notices
ই-নলেজ আইডিয়া(Enolej Idea) হলো লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম যেখানে যেকোনো ধরনের লেখা—সাহিত্য, বিজ্ঞান, গবেষণা নোট, মতামত, প্রতিবাদী লেখা, ধর্মীয় চিন্তা, ব্যক্তিগত নোট বা দৈনন্দিন ভাবনা—নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা যায়। এটি সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ছড়িয়ে থাকা অগোছালো কনটেন্টকে একটি ভেরিফাইড, রেফারেন্সযোগ্য ডিজিটাল পোর্টফোলিওতে রূপান্তর করে, যা ব্যক্তির বুদ্ধিবৃত্তিক পরিচিতি ও দীর্ঘমেয়াদি ব্র্যান্ডিং গড়ে তোলে। প্রতিটি লেখার জন্য ইউনিক ডিজিটাল আইডি (eID) ও কপিরাইট সুরক্ষা প্রদান করা হয়, ফলে লেখা চুরি হলেও আসল লেখক সহজে শনাক্তযোগ্য থাকে। ধারাবাহিক কনটেন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাজানো, এক ক্লিকেই ই-বুক বা বইয়ের খসড়ায় রূপান্তর, ব্যক্তিগত খসড়া গোপন রাখা এবং একটি সক্রিয় কমিউনিটির মাধ্যমে পাঠকের সাথে সরাসরি সংযোগ—সব সুবিধাই এখানে একসাথে পাওয়া যায়। ই-নলেজ আইডিয়া মূলত ব্যক্তির চিন্তা ও জ্ঞানকে একটি স্থায়ী, সুরক্ষিত ও সার্বজনীনভাবে স্বীকৃত ডিজিটাল লেখক ইকোসিস্টেমে রূপ দেয়। IDEA = Independent Digital Expression & Authorship.
  1. মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

    652 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    32 টি আইডিয়া ব্লগ

  2. জামিনুল রেজা

    428 পয়েন্ট

    1 প্রতিক্রিয়া

    1 মন্তব্য

    21 টি আইডিয়া ব্লগ

  3. রফিক আতা

    224 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    11 টি আইডিয়া ব্লগ

  4. ক্বলমী সুর

    134 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    6 টি আইডিয়া ব্লগ

...