Enolej Idea-তে লেখা প্রকাশের নিয়ম জানতে পূর্ণ নির্দেশনা দেখুন...
ই-নলেজ আইডিয়া হলো এমন একটি চিন্তানির্ভর প্ল্যাটফর্ম, যেখানে মানুষ শুধু তথ্য নয়, চিন্তা শেয়ার করে। এখানে জ্ঞানীরা একত্র হন, নতুনরা পথ খুঁজে পান, এবং সবাই মিলে তৈরি হয় একটি জ্ঞানভিত্তিক উম্মাহ। এটি জ্ঞানচর্চাকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ বানানোর একটি প্রচেষ্টা, যেখানে লেখা, ভাবা ও শেখা—সবই হয় মুক্তভাবে।আজই যোগ দিন!নিবন্ধন করতে এখানে ক্লিক করুন...।

-: ই-নলেজ আইডিয়া :-

আপনার লেখার কপিরাইট সুরক্ষা, স্বীকৃতি এবং ফ্রী প্রমোশন, সব এক প্ল্যাটফর্মে!

লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম আপনার লেখার অভিজ্ঞতাই বদলে দিবে। (পড়ুন...)

যদি আপনি হন পাঠক, কিংবা লেখক হিসেবে জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করেন:

যদি আপনার লেখাগুলোর কপিরাইট সুরক্ষা, সুশৃঙ্খলতা, আপনার ভেরিফাইড লেখক পোর্টফলিও এবং লেখক-পাঠকের কেন্দ্রীয় কমিউনিটিতে যুক্ত হতে চান, তাহলে নিবন্ধন করুন লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম “ই-নলেজ আইডিয়া” -এ!

এখানে অনেক প্রতিভাবান লেখক বিভিন্ন সিরিজে লিখছেন। আপনিও চাইলে আপনার লেখাগুলো সিরিজ আকারে সাজাতে পারবেন।

আপনার লেখক প্রোফাইল হবে একদম জীবন্ত পোর্টফলিও, এক ধরনের জীবন্ত বই। এখানে শুধু লেখক নয়, থাকবে পাঠকেরও সংস্পর্শ। ব্যাজ, পয়েন্ট, স্বীকৃতি এবং কপিরাইট সুরক্ষা তো থাকছেই, লেখাগুলো স্ক্যান করলেই আপনার নাম ভেসে উঠবে।

এটি তাই লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

চলুন বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক....

পূর্ণ নির্দেশনা [Full Guideline]

ই-নলেজ আইডিয়া – লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

গ্রামের মেলায় একদিন

0 পছন্দ 0 অপছন্দ
263 বার প্রদর্শিত
করেছেন (27,787 পয়েন্ট)   23 জানুয়ারি "গল্প" বিভাগে লেখা প্রকাশিত
পোষ্ট আইডি(eID) কার্ড↓ - লেখনীর স্বত্ব ও গুণের পরিচয়!

গ্রামের মেলায় একদিন

মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন 

ছোটগল্প।জানুয়ারি ২৩,২০২৬


জীবনের এই সময়ে এসে বুঝেছি, কিছু দিন আর জায়গা সময়ের সঙ্গে হারায় না। তারা স্মৃতির ভেতরে জমে থাকে—ধুলো, গন্ধ, শব্দ আর অসম্পূর্ণ কথার মতো। গ্রামের মেলাও তেমনই এক জিনিস। বছরে একদিন বসত, কিন্তু তার রেশ থাকত সারা বছর। এখন শহরের ফ্ল্যাটের বারান্দায় দাঁড়িয়ে যখন শীতের বিকেল দেখি, তখন হঠাৎ করে মনে পড়ে যায়—গ্রামের মেলায় একদিন।


সেই দিনটা শুরু হতো ভোর থেকেই। এখনকার মতো অ্যালার্মে ঘুম ভাঙত না। ঢোলের আওয়াজে ঘুম ভাঙত। কুয়াশার ভেতর দিয়ে ভেসে আসা ঢাকের শব্দ, যেন কেউ বলছে—আজ আলাদা দিন। বয়স তখন কম ছিল, কিন্তু মনে আছে—মায়ের গলায় বাড়তি তাড়া, বাবার মুখে চাপা উত্তেজনা। রান্নাঘর থেকে পিঠে ভাজার গন্ধ আসত। সেই গন্ধে মনে হতো, আজ কিছু একটা ঘটবে।


এখন বুঝি, তখনকার মেলাটা শুধু আনন্দের জায়গা ছিল না। ওটা ছিল গ্রামের একমাত্র দিন, যেদিন সবাই একটু বেশি মানুষ হতো। সকালে মাঠে গিয়ে দেখতাম বাঁশের খুঁটি পোঁতা হচ্ছে, রঙিন কাপড় ঝুলছে। প্যান্ডেল উঠছে। যারা সারাবছর আলাদা আলাদা কাজে ব্যস্ত থাকত, তারা সেদিন একসঙ্গে কাজ করত। কারো হাতে দড়ি, কারো হাতে হাতুড়ি। তখন এসব দেখে ভালো লাগত, এখন মনে হয়—এটাই ছিল আমাদের সামাজিক বন্ধনের শেষ চিহ্ন।


দুপুরের দিকে মেলায় ঢোকা মানেই এক ধরনের বিস্ময়। বয়স যতই হোক, চোখ তো চোখই। বেলুন, খেলনা, বাঁশি, চুড়ি—সবকিছু একসঙ্গে দেখা যেত। তখন মনে হতো, দুনিয়ার সব রঙ বুঝি এই মাঠেই জড়ো হয়েছে। এখন শহরের শপিং মলে হাঁটলেও সেই অনুভূতিটা আসে না। কারণ সেখানে রঙ আছে, কিন্তু মানুষ নেই।


মেলায় হাঁটতে হাঁটতে অনেক মুখ চোখে পড়ত। কেউ বহুদিন পর দেখা, কেউ প্রায় হারিয়ে যাওয়া আত্মীয়। জীবনের এই সময়ে এসে বুঝেছি—মেলা আসলে পুনর্মিলনের জায়গা। সেখানে কথা কম, চোখের ভাষা বেশি। কারো দিকে তাকিয়ে শুধু মাথা নাড়ালেই বোঝা যেত—হ্যাঁ, এখনো আছি।


নাগরদোলার সামনে দাঁড়িয়ে আজও মনে পড়ে—ভয় আর আনন্দ কীভাবে একসঙ্গে থাকে। এখন জীবনের নাগরদোলায় চড়ি প্রতিদিন, কিন্তু তখনকার সেই দোলাটাই ছিল সবচেয়ে সৎ। উঠলে ভয়, নামলে হাসি। এখন উল্টো—উঠি দায়িত্বে, নামি ক্লান্তিতে।


সন্ধ্যার পর মেলার রং বদলে যেত। হারিকেনের আলো, যাত্রাপালার ঘোষণা, সার্কাসের ডাকে ভিড়। তখন বুঝিনি, কিন্তু আজ জানি—ওই যাত্রাগুলো শুধু বিনোদন ছিল না। ওগুলো ছিল আমাদের সমাজের আয়না। অন্যায়, ভালোবাসা, লড়াই—সবকিছু খোলা মাঠে মঞ্চস্থ হতো। মানুষ হাততালি দিত, কখনো চোখ মুছত। আজ টিভি আর মোবাইলেও গল্প দেখি, কিন্তু শরীর দিয়ে অনুভব করি না।


খাবারের দোকানগুলো তখন আলাদা আনন্দ। জিলিপির গন্ধ, চায়ের ধোঁয়া। বাবার কাছে দাঁড়িয়ে থাকা, “কি খাবি?” প্রশ্নটার অপেক্ষা। এখন নিজের সন্তানকে সেই প্রশ্ন করি, কিন্তু জানি—তার কাছে এটা আর উৎসব নয়। সময় বদলে গেছে।


রাত বাড়লে মেলা ধীরে ধীরে নিভে যেত। দোকান গুটোত, ভিড় কমত। মাঠে পড়ে থাকত কাগজ, ভাঙা খেলনা, নিভে যাওয়া আলো। তখনই প্রথম বুঝতাম—সব ভালো জিনিস শেষ হয়। আজ জীবনেও সেটাই সবচেয়ে বেশি দেখি।


মেলা শেষ হলে গ্রাম আবার আগের মতো হয়ে যেত। কিন্তু মানুষগুলোর মধ্যে একটা আলাদা নীরবতা নেমে আসত। যেন সবাই জানত—আর এক বছর অপেক্ষা। এখন বুঝি, ওই অপেক্ষার ভেতরেই ছিল জীবনের ছন্দ।


আজ শহরে থাকি। গ্রাম অনেক দূরে। মেলাও হয়তো আর আগের মতো হয় না। অনেক মানুষ নেই, অনেক গল্প থেমে গেছে। কিন্তু গ্রামের মেলায় একদিন এখনো বেঁচে আছে আমার ভেতরে। কারণ সেটা শুধু উৎসব ছিল না—ওটা ছিল জীবনের একটা অধ্যায়, যেখানে মানুষ কম, অনুভূতি বেশি ছিল।


জীবনের এই সময়ে এসে এইটুকুই বুঝেছি—কিছু দিন ক্যালেন্ডারে থাকে না। তারা মানুষ হয়ে আমাদের ভেতরে বাস করে। গ্রামের মেলায় একদিনও তেমনই এক মানুষ।



#গ্রামেরমেলায়একদিন #জীবনেরএইসময়

#মধ্যবয়সেরবোধ #গ্রামবাংলা #লোকজস্মৃতি

#বাংলাছোটগল্প #নস্টালজিয়াimage

আমি মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন, ই-নলেজ এর একজন যাচাইকৃত লেখক। আমি এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত আছি প্রায় 1 বছর 1 সপ্তাহ ধরে, এবং এ পর্যন্ত 1375 টি লেখা ও 0 টি প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছি। আমার অর্জিত মোট পয়েন্ট 27787। ই-নলেজ আমার চিন্তা, জ্ঞান ও কণ্ঠকে সবার মাঝে পৌঁছে দিতে সহায়তা করেছে।
সংযুক্ত তথ্য
নিজস্ব আইডিয়া, ই-নলেজ আইডিয়া এ প্রথম প্রকাশিত
Enolej ID(eID): 3167
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।

এই লেখকের অন্যান্য সিরিজ


বিজ্ঞাপন: Remembering...

Image

এই ব্লগটির প্রতিক্রিয়া দিতে দয়া করে প্রবেশ কিংবা নিবন্ধন করুন ।

সংশ্লিষ্ট ব্লগগুচ্ছ


image
কোর্টপাড়ায় একদিন মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ভ্রমণকাহিনি | ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ সেদিন কো&#[...] বিস্তারিত পড়ুন...
34 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
সিএমসিতে একদিন মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ভ্রমণ কাহিনি। ১৬ আগস্ট ২০২৬ ভ্রমণ বলতেই আমা&#[...] বিস্তারিত পড়ুন...
51 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
রিষড়া ভ্রমণের একদিন মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ভ্রমণ কাহিনি | ১৫ আগস্ট, ২০২৬ ভ্রমণ মানে[...] বিস্তারিত পড়ুন...
43 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
সিরিজ -আমাদের না-বলা কথা। গল্প-১০  আলোটা একদিন ফিরবেই মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন  ছোট গল&#[...] বিস্তারিত পড়ুন...
44 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
নীরব মানুষটার শেষ সীমা   পর্ব–১ : কথা বলতে বলতে মানুষটা একদিন চুপ হয়ে গেল   একটি ধা[...] বিস্তারিত পড়ুন...
49 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ
📢 Notice Board
No active notices
ই-নলেজ আইডিয়া(Enolej Idea) হলো লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম যেখানে যেকোনো ধরনের লেখা—সাহিত্য, বিজ্ঞান, গবেষণা নোট, মতামত, প্রতিবাদী লেখা, ধর্মীয় চিন্তা, ব্যক্তিগত নোট বা দৈনন্দিন ভাবনা—নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা যায়। এটি সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ছড়িয়ে থাকা অগোছালো কনটেন্টকে একটি ভেরিফাইড, রেফারেন্সযোগ্য ডিজিটাল পোর্টফোলিওতে রূপান্তর করে, যা ব্যক্তির বুদ্ধিবৃত্তিক পরিচিতি ও দীর্ঘমেয়াদি ব্র্যান্ডিং গড়ে তোলে। প্রতিটি লেখার জন্য ইউনিক ডিজিটাল আইডি (eID) ও কপিরাইট সুরক্ষা প্রদান করা হয়, ফলে লেখা চুরি হলেও আসল লেখক সহজে শনাক্তযোগ্য থাকে। ধারাবাহিক কনটেন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাজানো, এক ক্লিকেই ই-বুক বা বইয়ের খসড়ায় রূপান্তর, ব্যক্তিগত খসড়া গোপন রাখা এবং একটি সক্রিয় কমিউনিটির মাধ্যমে পাঠকের সাথে সরাসরি সংযোগ—সব সুবিধাই এখানে একসাথে পাওয়া যায়। ই-নলেজ আইডিয়া মূলত ব্যক্তির চিন্তা ও জ্ঞানকে একটি স্থায়ী, সুরক্ষিত ও সার্বজনীনভাবে স্বীকৃত ডিজিটাল লেখক ইকোসিস্টেমে রূপ দেয়। IDEA = Independent Digital Expression & Authorship.
  1. মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

    183 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    3 মন্তব্য

    9 টি আইডিয়া ব্লগ

  2. প্রিন্স ফ্রেরাসে

    122 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    6 টি আইডিয়া ব্লগ

  3. ফাহিম আহমাদ

    61 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    3 টি আইডিয়া ব্লগ

  4. শামীমা আকতার

    41 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    2 টি আইডিয়া ব্লগ

...