Enolej Idea-তে লেখা প্রকাশের নিয়ম জানতে পূর্ণ নির্দেশনা দেখুন...
ই-নলেজ আইডিয়া হলো এমন একটি চিন্তানির্ভর প্ল্যাটফর্ম, যেখানে মানুষ শুধু তথ্য নয়, চিন্তা শেয়ার করে। এখানে জ্ঞানীরা একত্র হন, নতুনরা পথ খুঁজে পান, এবং সবাই মিলে তৈরি হয় একটি জ্ঞানভিত্তিক উম্মাহ। এটি জ্ঞানচর্চাকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ বানানোর একটি প্রচেষ্টা, যেখানে লেখা, ভাবা ও শেখা—সবই হয় মুক্তভাবে।আজই যোগ দিন!নিবন্ধন করতে এখানে ক্লিক করুন...।

-: ই-নলেজ আইডিয়া :-

আপনার লেখার কপিরাইট সুরক্ষা, স্বীকৃতি এবং ফ্রী প্রমোশন, সব এক প্ল্যাটফর্মে!

লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম আপনার লেখার অভিজ্ঞতাই বদলে দিবে। (পড়ুন...)

যদি আপনি হন পাঠক, কিংবা লেখক হিসেবে জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করেন:

যদি আপনার লেখাগুলোর কপিরাইট সুরক্ষা, সুশৃঙ্খলতা, আপনার ভেরিফাইড লেখক পোর্টফলিও এবং লেখক-পাঠকের কেন্দ্রীয় কমিউনিটিতে যুক্ত হতে চান, তাহলে নিবন্ধন করুন লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম “ই-নলেজ আইডিয়া” -এ!

এখানে অনেক প্রতিভাবান লেখক বিভিন্ন সিরিজে লিখছেন। আপনিও চাইলে আপনার লেখাগুলো সিরিজ আকারে সাজাতে পারবেন।

আপনার লেখক প্রোফাইল হবে একদম জীবন্ত পোর্টফলিও, এক ধরনের জীবন্ত বই। এখানে শুধু লেখক নয়, থাকবে পাঠকেরও সংস্পর্শ। ব্যাজ, পয়েন্ট, স্বীকৃতি এবং কপিরাইট সুরক্ষা তো থাকছেই, লেখাগুলো স্ক্যান করলেই আপনার নাম ভেসে উঠবে।

এটি তাই লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

চলুন বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক....

পূর্ণ নির্দেশনা [Full Guideline]

ই-নলেজ আইডিয়া – লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

বাবাকে বলা হয়নি

0 পছন্দ 0 অপছন্দ
24 বার প্রদর্শিত
করেছেন (24,421 পয়েন্ট)   22 জুন "গল্প" বিভাগে লেখা প্রকাশিত
পোষ্ট আইডি(eID) কার্ড↓ - লেখনীর স্বত্ব ও গুণের পরিচয়!

 বাবাকে বলা হয়নিimage

মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

ছোট গল্প।  ২৩ জুন,২০২৬



আদনান প্রতিদিন বাবাকে একটা মিথ্যা বলত।

"সব ঠিক আছে বাবা।"

কিন্তু আসলে কিছুই ঠিক ছিল না। তবু সে বলত। কারণ সে চাইত না, বাবা আবার নতুন করে চিন্তা করুক।


ছোটবেলা থেকেই আদনান জানত, তাদের সংসারে টাকা খুব হিসাব করে খরচ করতে হয়।


বাবা কামাল সাহেব একটা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতেন। মাসের প্রথম সপ্তাহে ঘরে একটু স্বস্তি থাকত। তারপর ধীরে ধীরে হিসাবের খাতা বের হতো।


বাজারের খরচ। বাড়িভাড়া। বোনের স্কুলের টাকা। সব দেওয়ার পর বাবার নিজের জন্য খুব বেশি কিছু থাকত না। তবু তিনি কখনো মুখে সেটা আনতেন না।


আদনান ছোটবেলায় কোনো কিছু চাইলে বাবা প্রায়ই বলতেন, "এখন না হয় থাক বাবা। পরে কিনে দেব।"


সেই "পরে" অনেক সময় আর আসত না। কিন্তু আদনান তখন বুঝত না।


আদনানের একটা স্বপ্ন ছিল। সে ছবি আঁকতে ভালোবাসত। স্কুলের খাতার শেষ পাতাগুলো সবসময় আঁকাআঁকিতে ভরা থাকত।


তার শিক্ষক একদিন বলেছিলেন, "তোর হাত ভালো। এটা ধরে রাখিস।"


আদনানও ভেবেছিল, একদিন ছবি নিয়েই কিছু করবে।


কিন্তু বাবার চাকরিটা চলে যাওয়ার পর অনেক কিছু বদলে গেল। ঘরের কথাবার্তায় তখন শুধু প্রয়োজনের হিসাব। কোথায় কমানো যায়। কোথায় একটু অপেক্ষা করা যায়।


আদনান নিজের আঁকার খাতাগুলো আলমারির এক পাশে তুলে রাখল।


বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর সে বাবাকে বলেছিল, "চিন্তা করো না বাবা। নিজের খরচ আমি চালিয়ে নেব।"


বাবা বিশ্বাস করেছিলেন। কিন্তু বাস্তবটা এত সহজ ছিল না।


ক্লাসের পর টিউশনি করেও সব সামলানো যাচ্ছিল না।


একদিন বন্ধু রাকিব বলল, "একটা কাজ আছে। সময় মিলিয়ে করতে পারবি।"


ছোট একটা কম্পিউটার দোকান, ফার্মগেটের দিকে। হিসাব রাখা আর অনলাইনের কিছু কাজ। বেতন বেশি না। কিন্তু মাস শেষে একটা নির্দিষ্ট টাকা পাওয়া যাবে।


আদনান রাজি হয়ে গেল।


সেই দিন থেকেই বাবার কাছে তার আরেকটা জীবন তৈরি হলো।


সকালে বিশ্ববিদ্যালয়। বিকেলে কাজ। রাতে পড়াশোনা।


শরীর ক্লান্ত হয়ে যেত। কিন্তু রাতে বাবা যখন জিজ্ঞেস করতেন, "পড়াশোনা ঠিকমতো হচ্ছে তো?"


সে হাসি দিয়ে বলত, "হ্যাঁ বাবা, সব ঠিক আছে।"


এই কথাটাই ছিল তার সবচেয়ে বেশি বলা মিথ্যা।


একদিন বাবা বললেন, "তুই শুধু পড়াশোনাটা শেষ কর। তারপর দেখিস, সব ঠিক হয়ে যাবে।"


আদনান কিছু বলল না। কারণ সে জানত, বাবা এখনো ভাবছেন ছেলে শুধু পড়াশোনা করছে।


তিনি জানেন না, ছেলে নিজের স্বপ্নের সঙ্গে একটু একটু করে সমঝোতা করছে।


এক সন্ধ্যায় কামাল সাহেব আদনানের ব্যাগে একটা কার্ড পেলেন। একটা ছোট দোকানের আইডি কার্ড।


তিনি কিছুক্ষণ সেটার দিকে তাকিয়ে ছিলেন।


আদনান বাড়ি ফিরলে বাবা শুধু জিজ্ঞেস করলেন, "এটা কার?"


আদনান থেমে গেল। কিছুক্ষণ চুপ থাকার পর বলল, "আমার।"


"কোথায় কাজ করিস?"

আদনান নিচু গলায় বলল, "ছয় মাস হলো।"

বাবা রাগ করলেন না। এটাই আদনানের জন্য আরও কঠিন ছিল।


তিনি শুধু বললেন, "আমাকে বলিসনি কেন?"

আদনান অনেকক্ষণ চুপ থেকে বলল, "তুমি চিন্তা করতে।"


কামাল সাহেব জানালার বাইরে তাকিয়ে রইলেন। তারপর বললেন, "তুই ভাবলি, তোর কষ্টের কথা শুনলে আমি ভেঙে পড়ব?"

আদনানের চোখ নিচু হয়ে গেল।


সেদিন রাতে দুজনের কারও ঘুম আসেনি।

একজন ভাবছিল, ছেলে এত কিছু একা একা করল কেন। আরেকজন ভাবছিল, বাবাকে কষ্ট দিল কি না।


পরদিন সকালে কামাল সাহেব একটা পুরোনো খাতা এনে ছেলের হাতে দিলেন।

"চিনতে পারিস?"

আদনান খাতাটা খুলে থেমে গেল। ভেতরে তার ছোটবেলার আঁকা ছবি। কিছু আধা শেষ ছবি। কিছু রঙ পেন্সিলের দাগ।


বাবা সব রেখে দিয়েছিলেন।

আদনান অবাক হয়ে বলল, "এগুলো এখনো রেখেছ?"


কামাল সাহেব হেসে বললেন, "তোর অনেক জিনিসই তো রাখতে পারিনি। এটা অন্তত রেখেছি।"


কিছুক্ষণ চুপ থেকে আবার বললেন, "সংসারের জন্য দায়িত্ব নিতে হয়। সেটা ঠিক। কিন্তু নিজের পছন্দের জিনিসটা একেবারে মেরে ফেলিস না।"


এরপরও আদনানের জীবন সহজ হয়নি। কাজ ছিল। পড়াশোনা ছিল। দায়িত্ব ছিল।


তবু রাতে কিছুটা সময় বের করে সে আবার আঁকা শুরু করল। এবার লুকিয়ে না। বাবা জানতেন।


কয়েক বছর পর একটা প্রদর্শনীতে আদনানের একটা ছবি জায়গা পেল।


সেদিন প্রথম যে মানুষটা ছবিটার সামনে গিয়ে দাঁড়িয়েছিলেন, তিনি কামাল সাহেব।


অনেকক্ষণ চুপ করে থেকে বললেন, "ছোটবেলায় তোর খাতাতেও এমনই আঁকতিস।"


আদনান হেসে বলল, "তখন তো কেউ কিনত না।"


বাবাও হাসলেন। "এখন কিনবে।"

আমি মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন, ই-নলেজ এর একজন যাচাইকৃত লেখক। আমি এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত আছি প্রায় 10 মাস 1 সপ্তাহ ধরে, এবং এ পর্যন্ত 1209 টি লেখা ও 0 টি প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছি। আমার অর্জিত মোট পয়েন্ট 24421। ই-নলেজ আমার চিন্তা, জ্ঞান ও কণ্ঠকে সবার মাঝে পৌঁছে দিতে সহায়তা করেছে।
সংযুক্ত তথ্য
নিজস্ব আইডিয়া, ই-নলেজ আইডিয়া এ প্রথম প্রকাশিত
Enolej ID(eID): 4108
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।

এই লেখকের অন্যান্য সিরিজ


বিজ্ঞাপন: Remembering...

Image

এই ব্লগটির প্রতিক্রিয়া দিতে দয়া করে প্রবেশ কিংবা নিবন্ধন করুন ।

সংশ্লিষ্ট ব্লগগুচ্ছ


image
শোনা হয়নি যে কথা মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ছোটগল্প | ২৯ জুলাই, ২০২৬ অনেক শিশু কথা বলতে চ[...] বিস্তারিত পড়ুন...
8 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
সিরিজ -আমাদের না-বলা কথা। গল্প-০১ এক মুঠো ভাত মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন  ছোট গল্প। ৫ আগষ্[...] বিস্তারিত পড়ুন...
10 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
ক্লান্ত নূপুরের ধ্বনি তৃতীয় পর্ব: না-বলা কথা মোহম্মদ জাহিদ হোসেন  ২৩ জুলাই, ২০২৬ [...] বিস্তারিত পড়ুন...
11 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
সময় হলে বলা যায়   মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন   ছোটগল্প। ২৫ জুন, ২০২৬ অভিকের বাবা একটা[...] বিস্তারিত পড়ুন...
21 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
সময় হলে বলা যায়   মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন   ছোটগল্প। ২৫ জুন, ২০২৬ অভিকের বাবা একটা [...] বিস্তারিত পড়ুন...
19 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ
📢 Notice Board
No active notices
ই-নলেজ আইডিয়া(Enolej Idea) হলো লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম যেখানে যেকোনো ধরনের লেখা—সাহিত্য, বিজ্ঞান, গবেষণা নোট, মতামত, প্রতিবাদী লেখা, ধর্মীয় চিন্তা, ব্যক্তিগত নোট বা দৈনন্দিন ভাবনা—নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা যায়। এটি সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ছড়িয়ে থাকা অগোছালো কনটেন্টকে একটি ভেরিফাইড, রেফারেন্সযোগ্য ডিজিটাল পোর্টফোলিওতে রূপান্তর করে, যা ব্যক্তির বুদ্ধিবৃত্তিক পরিচিতি ও দীর্ঘমেয়াদি ব্র্যান্ডিং গড়ে তোলে। প্রতিটি লেখার জন্য ইউনিক ডিজিটাল আইডি (eID) ও কপিরাইট সুরক্ষা প্রদান করা হয়, ফলে লেখা চুরি হলেও আসল লেখক সহজে শনাক্তযোগ্য থাকে। ধারাবাহিক কনটেন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাজানো, এক ক্লিকেই ই-বুক বা বইয়ের খসড়ায় রূপান্তর, ব্যক্তিগত খসড়া গোপন রাখা এবং একটি সক্রিয় কমিউনিটির মাধ্যমে পাঠকের সাথে সরাসরি সংযোগ—সব সুবিধাই এখানে একসাথে পাওয়া যায়। ই-নলেজ আইডিয়া মূলত ব্যক্তির চিন্তা ও জ্ঞানকে একটি স্থায়ী, সুরক্ষিত ও সার্বজনীনভাবে স্বীকৃত ডিজিটাল লেখক ইকোসিস্টেমে রূপ দেয়। IDEA = Independent Digital Expression & Authorship.
  1. মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

    587 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    29 টি আইডিয়া ব্লগ

  2. শামীমা আকতার

    42 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    2 টি আইডিয়া ব্লগ

  3. রফিক আতা

    2 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    0 টি আইডিয়া ব্লগ

...