Enolej Idea-তে লেখা প্রকাশের নিয়ম জানতে পূর্ণ নির্দেশনা দেখুন...
ই-নলেজ আইডিয়া হলো এমন একটি চিন্তানির্ভর প্ল্যাটফর্ম, যেখানে মানুষ শুধু তথ্য নয়, চিন্তা শেয়ার করে। এখানে জ্ঞানীরা একত্র হন, নতুনরা পথ খুঁজে পান, এবং সবাই মিলে তৈরি হয় একটি জ্ঞানভিত্তিক উম্মাহ। এটি জ্ঞানচর্চাকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ বানানোর একটি প্রচেষ্টা, যেখানে লেখা, ভাবা ও শেখা—সবই হয় মুক্তভাবে।আজই যোগ দিন!নিবন্ধন করতে এখানে ক্লিক করুন...।

-: ই-নলেজ আইডিয়া :-

আপনার লেখার কপিরাইট সুরক্ষা, স্বীকৃতি এবং ফ্রী প্রমোশন, সব এক প্ল্যাটফর্মে!

লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম আপনার লেখার অভিজ্ঞতাই বদলে দিবে। (পড়ুন...)

যদি আপনি হন পাঠক, কিংবা লেখক হিসেবে জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করেন:

যদি আপনার লেখাগুলোর কপিরাইট সুরক্ষা, সুশৃঙ্খলতা, আপনার ভেরিফাইড লেখক পোর্টফলিও এবং লেখক-পাঠকের কেন্দ্রীয় কমিউনিটিতে যুক্ত হতে চান, তাহলে নিবন্ধন করুন লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম “ই-নলেজ আইডিয়া” -এ!

এখানে অনেক প্রতিভাবান লেখক বিভিন্ন সিরিজে লিখছেন। আপনিও চাইলে আপনার লেখাগুলো সিরিজ আকারে সাজাতে পারবেন।

আপনার লেখক প্রোফাইল হবে একদম জীবন্ত পোর্টফলিও, এক ধরনের জীবন্ত বই। এখানে শুধু লেখক নয়, থাকবে পাঠকেরও সংস্পর্শ। ব্যাজ, পয়েন্ট, স্বীকৃতি এবং কপিরাইট সুরক্ষা তো থাকছেই, লেখাগুলো স্ক্যান করলেই আপনার নাম ভেসে উঠবে।

এটি তাই লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

চলুন বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক....

পূর্ণ নির্দেশনা [Full Guideline]

ই-নলেজ আইডিয়া – লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

বৃষ্টির ভেতর যে গল্প জন্ম নেয়

0 পছন্দ 0 অপছন্দ
3 বার প্রদর্শিত
করেছেন (17,636 পয়েন্ট)   22 ঘন্টা পূর্বে "গল্প" বিভাগে লেখা প্রকাশিত
পোষ্ট আইডি(eID) কার্ড↓ - লেখনীর স্বত্ব ও গুণের পরিচয়!

 বৃষ্টির ভেতর যে গল্প জন্ম নেয়

মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

ছোট গল্প । এপ্রিল ৩০, ২০২৬


বৃষ্টি নামছিল সেদিন অদ্ভুতভাবে ধীর লয়ে। না ঝড়, না টুপটাপ শব্দের তাড়া—বরং এমন এক স্থিরতা, যেন শহরটাকে একটু সময় নিয়ে ভিজিয়ে দিতে চায়। রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে ছিলাম। ভিজছিলামও, কিন্তু সেটাকে পুরোপুরি ইচ্ছাকৃত বলা যায় না। আশপাশে মানুষ ছিল, গাড়ির আলো কেটে যাচ্ছিল, দোকানের ভেতর আলো জ্বলছিল—তবুও এই সবকিছু যেন আলাদা এক স্তরে ঘটছে। আমার সঙ্গে তাদের যোগাযোগ ঠিক বসছিল না।


কপাল বেয়ে নামা ফোঁটাগুলো চোখের কোণে এসে জমছিল। এই ভেজা কোথা থেকে শুরু হচ্ছে, সেটা আলাদা করে বোঝা কঠিন। কিছু অনুভূতি থাকে—বৃষ্টি আর ভেতরের চাপ—যেগুলো আলাদা করা যায় না সহজে। শুধু বোঝা যায়, কিছু একটা ধীরে ধীরে হালকা হচ্ছে।


পায়ের নিচে জমে থাকা ধুলো বৃষ্টিতে ধুয়ে গিয়ে গন্ধ ছড়াচ্ছিল। সেই গন্ধের একটা নিজস্ব স্মৃতি-ক্ষমতা আছে। হঠাৎ করে মনে পড়ছিল কোনো এক বিকেল—পুরোটা স্পষ্ট না, তবুও তার একটা আবহ আছে। সেই আবহটা ফিরে আসছিল, অপ্রত্যাশিতভাবে।


এই একই রাস্তায়, খুব বেশি দিন আগে না, একা ছিলাম না।


ছাতা ভাগাভাগি করে হাঁটা—এটা আসলে যতটা সহজ শোনায়, ততটা না। এর ভেতরে একটা নীরব ঘনিষ্ঠতা থাকে। ভেজা হাত ধরা, হঠাৎ করে হাসি—কোনো কারণ ছাড়াই। তখন বৃষ্টির প্রতিটা ফোঁটা আলাদা করে চোখে পড়ত। এখন মনে হয়, সেই সময়টাকে আমরা একটু বেশি অর্থ দিয়ে ফেলেছিলাম। তখন যা স্বাভাবিক মনে হয়েছিল, আজ সেটা দূরের কিছু।


পাশেই একটা ছেলে দাঁড়িয়ে ছিল। বয়স খুব বেশি না—আট কিংবা নয়। সে বৃষ্টির দিকে তাকিয়ে ছিল অদ্ভুত স্থিরতায়। তার ভেতরে কোনো অস্থিরতা চোখে পড়ছিল না। হাত বাড়িয়ে ফোঁটা ধরার চেষ্টা করছিল। একটার পর একটা। বেশিরভাগই হাত ফসকে চলে যাচ্ছিল, কিন্তু সে থামছিল না।


এই দৃশ্যটা অকারণে মনে আটকে গেল।


কিছু বলতে ইচ্ছে হয়েছিল। বলা হয়নি। সব কথা বলার জন্য না—কিছু কথা ভেতরে থাকলেই ঠিক থাকে।


হঠাৎ বৃষ্টি একটু জোরে নামল। আশপাশের মানুষজন ছুটে গিয়ে দোকানের ছাউনির নিচে দাঁড়াল। জায়গাটা ফাঁকা হয়ে এল। ভিজে থাকার জন্য যেন একটু বেশি জায়গা পাওয়া গেল। দাঁড়িয়ে রইলাম। এই ভিজে থাকাটা এড়িয়ে গেলে কিছু একটা অসম্পূর্ণ থেকে যেত—এমন একটা বোধ কাজ করছিল।


পায়ের নিচে পানি জমে ছিল। হাঁটা শুরু করতেই ছিটকে উঠছিল। প্রতিটা পদক্ষেপে মনে হচ্ছিল, শুধু সামনে এগোচ্ছি না—কিছু পেছনেও ফেলে যাচ্ছি। একটা সম্পর্ক, যার শেষটা স্পষ্ট ছিল না, সেটার ভেতর থেকে বের হয়ে আসার মতো অনুভূতি। ধীরে ধীরে, কোনো ঘোষণা ছাড়া।


একটা দোকানের সামনে এসে থামলাম। ভেতরে নরম আলো। চায়ের কাপ থেকে ধোঁয়া উঠছে। কয়েকজন মানুষ বসে গল্প করছে—তাদের হাসির শব্দ বাইরে পর্যন্ত ভেসে আসছে। দৃশ্যটা খুব সাধারণ, কিন্তু তাতে একটা ধারাবাহিকতা আছে। জীবন থেমে থাকে না—এই কথাটা আলাদা করে বলা না হলেও বোঝা যায়।


ভেতরে ঢুকলাম না।


সব মুহূর্ত ভাগ করে নেওয়ার জন্য না। কিছু সময় একা থাকলে তবেই ঠিকমতো ধরা পড়ে।


আকাশ তখন একটু পরিষ্কার হচ্ছে। মেঘের ফাঁক দিয়ে আলো বেরোচ্ছে—খুব বেশি না, তবুও উপস্থিত। সেই আলো দেখেই মনে হলো, শেষ হয়ে যাওয়ার চেয়ে বদলে যাওয়া কথাটা হয়তো বেশি ঠিক। বৃষ্টি থামে, রাস্তা শুকায়—কিন্তু মাটির গন্ধটা কিছুক্ষণ থাকে। কিছু সম্পর্কও তেমন—শেষ হয়ে যায়, কিন্তু চিহ্ন মুছে যায় না।


রাস্তার পাশে একটা ফুলগাছ। বৃষ্টিতে ভিজে ফুলগুলো আরও উজ্জ্বল দেখাচ্ছিল। পাপড়ির ওপর পানি জমে আছে, আলো পড়লে একটু ঝিলিক দিচ্ছে। দাঁড়িয়ে রইলাম। কোনো নাটকীয়তা নেই, তবুও মন আটকে যায়। ভিজে যাওয়ার মধ্যেও একটা আলাদা রূপ আছে—এটা হয়তো আগে খেয়াল করিনি।


শরীরটা আগের মতো ভারী লাগছিল না। পুরোটা হালকা না, কিন্তু একটা পরিবর্তন ছিল—চাপটা একটু নরম হয়েছে।


হাঁটতে হাঁটতে পেছনে তাকালাম না। ইচ্ছে করেই না। সব পথ ফিরে দেখার জন্য না—কিছু পথ কেবল সামনে এগোনোর দাবি করে।


মোড়ের কাছে এসে থামলাম এক মুহূর্ত। হালকা করে তাকালাম পেছনের দিকে। ছেলেটা আর নেই। রাস্তার ওপর ছোট ছোট গোল দাগ পড়ে আছে—যেখানে সে ফোঁটা ধরার চেষ্টা করছিল। দাগগুলো খুব বেশি সময় থাকবে না, একটু পরেই মিলিয়ে যাবে। তবুও এই মুহূর্তে তারা আছে।


বৃষ্টি প্রায় থেমে গেছে। শুধু হালকা ফোঁটা পড়ছে—শেষের দিকের অনিচ্ছুক উপস্থিতি।


রাস্তার আলো জ্বলে উঠেছে। পানি জমে থাকা জায়গাগুলোতে সেই আলো ভেঙে যাচ্ছে। কোথাও সোজা, কোথাও দুলে উঠছে। শহরটা আবার তার স্বাভাবিক ছন্দে ফিরছে—অথবা হয়তো কখনো ছন্দ ভাঙেইনি, আমি-ই একটু বাইরে সরে গিয়েছিলাম।


আশপাশের আওয়াজগুলো স্পষ্ট শোনা যাচ্ছে এবার—গাড়ির হর্ন, দূরের মানুষের কথা, দোকানের ভেতরের কোলাহল।

থামলাম একবার। শ্বাস নিলাম।


মনে মনে বললাম, “ধন্যবাদ।”

আমি মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন, ই-নলেজ এর একজন যাচাইকৃত লেখক। আমি এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত আছি প্রায় 7 মাস ধরে, এবং এ পর্যন্ত 874 টি লেখা ও 0 টি প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছি। আমার অর্জিত মোট পয়েন্ট 17636। ই-নলেজ আমার চিন্তা, জ্ঞান ও কণ্ঠকে সবার মাঝে পৌঁছে দিতে সহায়তা করেছে।
সংযুক্ত তথ্য
নিজস্ব আইডিয়া, ই-নলেজ আইডিয়া এ প্রথম প্রকাশিত
Enolej ID(eID): 3811
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।

এই লেখকের অন্যান্য সিরিজ


বিজ্ঞাপন: Remembering...

Image

এই ব্লগটির প্রতিক্রিয়া দিতে দয়া করে প্রবেশ কিংবা নিবন্ধন করুন ।

সংশ্লিষ্ট ব্লগগুচ্ছ


image
ক্ষুধা স্বপ্নের জন্ম নাকি মৃত্যু মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন, প্রাবন্ধিক  নিবন্ধ। এপ্র[...] বিস্তারিত পড়ুন...
14 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
শেষ থেকে নবের জন্ম মোহাম্মাদ জাহিদ হোসেন   বিশ্লেষণধর্মী প্রবন্ধ। ডিসেম্বর ৩০, ২[...] বিস্তারিত পড়ুন...
31 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
স্মৃতি কি সত্য নাকি অসমাপ্ত জীবনের গল্প মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন, প্রাবন্ধিক বিশ্লেষ&#[...] বিস্তারিত পড়ুন...
12 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
পথের পাঁচালী আমরা গল্প পড়ি কিন্তু পাঠ শিখি না মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন  বিশ্লেষণধর্ম[...] বিস্তারিত পড়ুন...
14 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
লেখকরা কেন নিজেদের জীবন থেকে গল্প ‘চুরি’ করেন মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন বিশ্লেষণধর্ম[...] বিস্তারিত পড়ুন...
27 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ
📢 Notice Board
No active notices
ই-নলেজ আইডিয়া(Enolej Idea) হলো লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম যেখানে যেকোনো ধরনের লেখা—সাহিত্য, বিজ্ঞান, গবেষণা নোট, মতামত, প্রতিবাদী লেখা, ধর্মীয় চিন্তা, ব্যক্তিগত নোট বা দৈনন্দিন ভাবনা—নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা যায়। এটি সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ছড়িয়ে থাকা অগোছালো কনটেন্টকে একটি ভেরিফাইড, রেফারেন্সযোগ্য ডিজিটাল পোর্টফোলিওতে রূপান্তর করে, যা ব্যক্তির বুদ্ধিবৃত্তিক পরিচিতি ও দীর্ঘমেয়াদি ব্র্যান্ডিং গড়ে তোলে। প্রতিটি লেখার জন্য ইউনিক ডিজিটাল আইডি (eID) ও কপিরাইট সুরক্ষা প্রদান করা হয়, ফলে লেখা চুরি হলেও আসল লেখক সহজে শনাক্তযোগ্য থাকে। ধারাবাহিক কনটেন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাজানো, এক ক্লিকেই ই-বুক বা বইয়ের খসড়ায় রূপান্তর, ব্যক্তিগত খসড়া গোপন রাখা এবং একটি সক্রিয় কমিউনিটির মাধ্যমে পাঠকের সাথে সরাসরি সংযোগ—সব সুবিধাই এখানে একসাথে পাওয়া যায়। ই-নলেজ আইডিয়া মূলত ব্যক্তির চিন্তা ও জ্ঞানকে একটি স্থায়ী, সুরক্ষিত ও সার্বজনীনভাবে স্বীকৃত ডিজিটাল লেখক ইকোসিস্টেমে রূপ দেয়। IDEA = Independent Digital Expression & Authorship.
  1. মাহাতাব হোসেন অপল

    41 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    2 টি আইডিয়া ব্লগ

  2. মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

    21 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    1 আইডিয়া ব্লগ

  3. ফাহিম আহমাদ

    1 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    0 টি আইডিয়া ব্লগ

...