Enolej Idea-তে লেখা প্রকাশের নিয়ম জানতে পূর্ণ নির্দেশনা দেখুন...
ই-নলেজ আইডিয়া হলো এমন একটি চিন্তানির্ভর প্ল্যাটফর্ম, যেখানে মানুষ শুধু তথ্য নয়, চিন্তা শেয়ার করে। এখানে জ্ঞানীরা একত্র হন, নতুনরা পথ খুঁজে পান, এবং সবাই মিলে তৈরি হয় একটি জ্ঞানভিত্তিক উম্মাহ। এটি জ্ঞানচর্চাকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ বানানোর একটি প্রচেষ্টা, যেখানে লেখা, ভাবা ও শেখা—সবই হয় মুক্তভাবে।আজই যোগ দিন!নিবন্ধন করতে এখানে ক্লিক করুন...।

ই-নলেজ আইডিয়া

আপনার লেখার কি আছে নিজস্ব পরিচয়, স্বীকৃতি ও স্থায়ী ঠিকানা?

Author ID, স্বতন্ত্র eID, লেখার পরিচয় যাচাই, জীবন্ত পোর্টফোলিও ও ফ্রি প্রমোশন—লেখালেখির পূর্ণাঙ্গ ইকোসিস্টেম।

বিস্তারিত পড়ুন ↓

আমাদের মনের ভেতর প্রতিদিন কত শত ভাবনা আসে, কত অনুভূতি জন্ম নেয়, কত কথা কাউকে বলতে ইচ্ছে করে! অথচ সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তার অনেক কিছুই হারিয়ে যায়। কিছু কথা কাউকে বলা হয় না, কিছু অনুভূতি ভাষা খুঁজে পায় না, আবার কিছু ভাবনা মুহূর্তের ব্যস্ততায় হারিয়ে যায় চিরতরে।

অথচ সেই ভাবনাগুলোই হয়তো একদিন একটি সুন্দর গল্প হয়ে উঠতে পারত, একটি কবিতা হয়ে কারও হৃদয় ছুঁতে পারত, কিংবা এমন কোনো লেখা হয়ে উঠতে পারত, যার মধ্যে অন্য কেউ খুঁজে পেত নিজের জীবনের গল্প।

তাই যা কিছু ভাবনায় আসে, তা এক বাক্যে হলেও লিখে রাখা উচিত। কে জানে, আজকের ছোট্ট একটি ভাবনাই হয়তো একদিন আপনার জীবনের সবচেয়ে প্রিয় লেখাটি হয়ে উঠবে!

আর একটা কথা ভেবেছেন? একদিন হয়তো আপনি অনেক দূরে চলে যাবেন। সময়ের সঙ্গে মানুষের স্মৃতি থেকেও আপনার নাম মুছে যেতে পারে। কিন্তু আপনার রেখে যাওয়া লেখাগুলো আপনার অনুভূতি, চিন্তা ও অস্তিত্বের সাক্ষী হয়ে বেঁচে থাকতে পারে। কেউ হয়তো আপনার লেখা পড়ে নিজের জীবনের মিল খুঁজে পাবেন, আপনার অজানা কোনো অনুভূতি বুঝতে পারবেন। আপনি তাঁর কাছে অপরিচিত হয়েও লেখার মধ্য দিয়ে তাঁর অনুভূতির সঙ্গী হয়ে উঠতে পারেন। এটাই তো লেখার এক অসাধারণ ক্ষমতা!

কিন্তু এত সৃষ্টির স্থায়ী ঠিকানা কোথায়?

সোশ্যাল মিডিয়ায় পুরোনো লেখা টাইমলাইনের নিচে হারিয়ে যায়, আইডির কিছু হলে লেখার সোর্সও মুছে যায়। বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে লেখাগুলো ছড়িয়ে থাকায় নিজের লেখক পরিচয়ের একটি পূর্ণাঙ্গ পোর্টফোলিও তৈরি করা কঠিন। নিজের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত লেখার তারিখ বা তথ্যও পরিবর্তন করা সম্ভব। আবার কেউ লেখা কপি করে নিজের নামে প্রকাশ করলে মূল লেখককেই অনেক সময় নিজের লেখার পরিচয় ও প্রকাশনার উৎস খুঁজে বের করে প্রমাণ করতে হয়।

একজন লেখক কি তাঁর সময় ও শ্রম লেখালেখিতে ব্যয় করবেন, নাকি নিজের লেখার লিংক ফেরি করে বেড়াবেন?

এই সমস্যাগুলোর সমাধানের ভাবনা থেকেই গড়ে উঠেছে Enolej Idea। এটি কেবল লেখা প্রকাশের প্ল্যাটফর্ম নয়; লেখকের নিজস্ব পরিচয়, প্রতিটি সৃষ্টির স্বতন্ত্র পরিচয়, লেখার সংরক্ষণ, স্বীকৃতি এবং পাঠকের সঙ্গে সংযোগ গড়ে তোলার একটি সমন্বিত ডিজিটাল লেখালেখির ইকোসিস্টেম।

১. নিজস্ব লেখক পরিচয় — Author ID

প্রতিটি লেখকের জন্য রয়েছে স্বতন্ত্র লেখক আইডি নম্বর। নিজের লেখক প্রোফাইলে পরিচিতি, প্রকাশিত লেখা ও লেখালেখির পথচলা একসঙ্গে তুলে ধরতে পারবেন। এই Author ID Bio, CV কিংবা নিজের বইয়েও ব্যবহার করতে পারবেন। ফলে লেখক হিসেবে আপনার পরিচয়ের জন্য থাকবে একটি নির্দিষ্ট ডিজিটাল ঠিকানা।

২. প্রতিটি লেখার আলাদা পরিচয় — eID

একজন লেখকের প্রতিটি সৃষ্টির জন্য রয়েছে স্বতন্ত্র eID। এটি নির্দিষ্ট লেখাটিকে তার মূল প্রকাশনা ও লেখকের পরিচয়ের সঙ্গে যুক্ত করে। মনে রাখবেন, Author ID হলো লেখকের পরিচয়, আর eID হলো নির্দিষ্ট লেখার পরিচয়।

৩. eID Verification System

eID Verified: লেখার সঙ্গে স্বতন্ত্র eID ও মূল প্রকাশনার রেফারেন্স যুক্ত করার ব্যবস্থা। এর মাধ্যমে লেখাটির পরিচয় ও Enolej Idea-তে মূল প্রকাশনার তথ্য তুলে ধরা যায়।

eID Scan: eID Verified চিহ্নযুক্ত লেখা স্ক্যান করে কয়েক সেকেন্ডে সংশ্লিষ্ট লেখক, eID ও মূল প্রকাশনার পরিচয় যাচাই করার সুবিধা।

eID Bridge: বাইরের প্রকাশনা বা প্ল্যাটফর্মেও eID ব্যবহারের সুযোগ তৈরি করে, যাতে মূল লেখার পরিচয় ও Enolej Idea-তে প্রকাশিত লেখার সঙ্গে সংযোগ বজায় থাকে।

eID ব্যবস্থা লেখার পরিচয় ও মূল প্রকাশনার তথ্য যাচাই এবং স্বত্বের দাবির পক্ষে প্রাসঙ্গিক তথ্য সংরক্ষণে সহায়ক। এটি নিজে থেকে আইনি কপিরাইট নিবন্ধনের বিকল্প নয়।

৪. জীবন্ত লেখক পোর্টফোলিও

আপনার সব লেখা এক জায়গায় সাজিয়ে তৈরি করুন নিজের জীবন্ত পোর্টফোলিও। সময়ের সঙ্গে নতুন লেখা যুক্ত হবে, সমৃদ্ধ হবে আপনার লেখক পরিচয়। পাঠকও সহজেই এক জায়গা থেকে আপনার সব সৃষ্টির সঙ্গে পরিচিত হতে পারবেন।

৫. লেখালেখির আরও সুবিধা

সিরিজ ও পর্ব: ধারাবাহিক লেখাগুলো সিরিজ আকারে সাজিয়ে রাখুন, যাতে পাঠক সহজেই পরবর্তী পর্বগুলো খুঁজে পান।

Draft ও Notes: অসম্পূর্ণ লেখা, প্রাথমিক ভাবনা ও প্রয়োজনীয় নোট সংরক্ষণ করুন।

এক ক্লিকে ই-বুক ও পাণ্ডুলিপি: নিজের প্রকাশিত লেখাগুলো একত্র করে ই-বুক বা পাণ্ডুলিপি তৈরি করুন।

পাঠকের সঙ্গে সংযোগ: মন্তব্য, প্রতিক্রিয়া ও প্রশ্নের মাধ্যমে পাঠকের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত থাকুন।

Points, Badges ও Ranking: লেখালেখি ও পাঠক সম্পৃক্ততার মাধ্যমে পয়েন্ট, ব্যাজ ও র‍্যাঙ্কিং অর্জনের সুযোগ।

ফ্রি প্রমোশন ও Google Discoverability: নিজের লেখা ও লেখক পরিচিতি আরও পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়ার সুযোগ।

আপনার লেখালেখির যাত্রা শুরু করতে পারেন আজই।

আপনি নতুন লেখক হোন কিংবা দীর্ঘদিন ধরে লেখালেখি করছেন—নিজের ভাবনা প্রকাশ করতে ভালোবাসলেই শুরু করতে পারেন। প্রতিটি লেখাই অসাধারণ হতে হবে, এমন নয়। গুরুত্বপূর্ণ হলো নিজের ভাবনাগুলোকে হারিয়ে যেতে না দেওয়া এবং ধীরে ধীরে নিজের লেখকসত্তাকে গড়ে তোলা।

আপনার ভাবনাগুলো মূল্যবান। সেগুলো শুধু আজকের জন্য নয়, ভবিষ্যতের জন্যও যত্ন করে রেখে দিন।

পূর্ণ নির্দেশনা [Full Guideline] →

Enolej Idea — Write. Preserve. Be remembered.

নিজের মতো

লেখা যখন কণ্ঠে! শুনতে প্রস্তুত? প্রতি শনি, সোম ও বুধবার | বিকেল ৪টা ▶ FACEBOOK | ▶ YOUTUBE
0 পছন্দ 0 অপছন্দ
10 বার প্রদর্শিত
করেছেন (30,375 পয়েন্ট)   19 ঘন্টা পূর্বে "গল্প" বিভাগে লেখা প্রকাশিত
পোষ্ট আইডি(eID) কার্ড↓ - লেখনীর স্বত্ব ও গুণের পরিচয়!
eID স্ক্যান · লেখাটি যাচাই করা হচ্ছে, একটু অপেক্ষা করুন…

নিজের মতোimage

মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

ছোটগল্প | ১ নভেম্বর ২০২৬


বিকেল পাঁচটার দিকে রফিক সাহেব বারান্দার চেয়ারটায় বসেন। হাতে এক কাপ চা, পাশে পুরোনো একটা খবরের কাগজ। চায়ে চিনি দেন না। খবরের কাগজের সব খবরও পড়েন না। মাঝেমধ্যে একটা পাতা উল্টে বাইরে তাকিয়ে থাকেন।


পাশের ফ্ল্যাটের মিজান সাহেব একদিন জিজ্ঞেস করেছিলেন,


—ভাই, সারাদিন একা একা থাকেন কীভাবে? বিরক্ত লাগে না?


রফিক সাহেব হেসে বলেছিলেন,


—বিরক্ত হলে তো সঙ্গী খুঁজতাম।


কথাটা শুনে মিজান সাহেব হেসেছিলেন। কিন্তু তাঁর হাসির মধ্যে একটু অবিশ্বাস ছিল।


রফিক সাহেবের বয়স ষাটের কাছাকাছি। সরকারি চাকরি থেকে অবসর নিয়েছেন বছর পাঁচেক হলো। স্ত্রী মারা গেছেন আট বছর আগে। একমাত্র মেয়ে থাকে কানাডায়। বছরে একবার দেশে আসে। ফোনে কথা হয়, ভিডিও কলে নাতির মুখও দেখেন। মেয়ের সংসার ভালো চলছে। এই খবরটুকুই তাঁর কাছে যথেষ্ট।


স্ত্রী মারা যাওয়ার পর প্রথম কয়েকটা বছর তিনি একা থাকতে পারতেন না। রাতের খাবার খেতে বসে বারবার মনে হতো, কেউ একজন বুঝি রান্নাঘর থেকে ডাকবে। সকালে ঘুম ভাঙলে মনে হতো, পাশের মানুষটা হয়তো একটু পরেই উঠে চা বানাবে।


একসময় তিনি টেলিভিশন চালিয়ে ঘুমাতেন। ঘরে শব্দ না থাকলে তাঁর বুকের ভেতর কেমন একটা অস্বস্তি হতো। পরিচিত মানুষদের ফোন করতেন। কেউ ব্যস্ত থাকলে আবার ফোন করতেন। পুরোনো সহকর্মীদের সঙ্গে দেখা করতে যেতেন। আড্ডায় বসে অন্যদের কথা শুনতেন, কিন্তু বাসায় ফিরে দরজা বন্ধ করার পর মনে হতো, সারাদিন এত মানুষের মধ্যে থেকেও তাঁর নিজের জন্য কেউ নেই।


একদিন মেয়ে ফোন করে বলেছিল,


—বাবা, তুমি চাইলে আমার কাছে চলে আসতে পারো। এখানে তোমার একা থাকতে হবে না।


রফিক সাহেব সঙ্গে সঙ্গে উত্তর দেননি।


মেয়ের কথায় ভালোবাসা ছিল, দায়িত্ববোধ ছিল। কিন্তু নিজের বাড়ি ছেড়ে অন্যের সংসারে গিয়ে থাকার কথা ভাবতেই তাঁর কেমন অস্বস্তি হচ্ছিল।


তিনি জানতেন, মেয়ে তাঁকে যত্ন করবে। নাতি দাদুর সঙ্গে খেলবে। জামাইও যথেষ্ট সম্মান করে। তবু সকালবেলা কখন ঘুম থেকে উঠবেন, কখন গোসল করবেন, দুপুরে কী খাবেন, বিকেলে কোথায় বসবেন, এসবের জন্য অন্য কারও সময়ের সঙ্গে নিজের সময় মেলাতে হবে।


তিনি মেয়েকে বলেছিলেন,


—এখনই যাচ্ছি না মা। তোদের কাছে বেড়াতে যাব। কিন্তু নিজের ঘরটা ছেড়ে থাকতে মন চায় না।


মেয়ে কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বলেছিল,


—তুমি একা থাকতে থাকতে অভ্যস্ত হয়ে গেছ, বাবা।


রফিক সাহেব সেদিন কথাটার উত্তর দেননি।


আসলে অভ্যস্ত হওয়া আর ভালো থাকা এক জিনিস নয়। এই পার্থক্যটা বুঝতে তাঁর আরও সময় লেগেছিল।


স্ত্রী মারা যাওয়ার দ্বিতীয় বছরে একদিন তিনি বাজার থেকে একটা ছোট মানিপ্ল্যান্ট কিনে এনেছিলেন। বারান্দার এক কোণে টবে লাগিয়ে পানি দিতেন। প্রথম কয়েক সপ্তাহ গাছটার কোনো পরিবর্তন দেখেননি। পরে এক সকালে দেখলেন, পুরোনো পাতার পাশে নতুন একটা পাতা বের হয়েছে।


পাতাটা এত ছোট যে চোখে না পড়লেও চলত।


কিন্তু সেদিন অফিসে যাওয়ার তাড়া ছিল না, কারও জন্য নাশতা বানানোর দায় ছিল না। তিনি চেয়ার টেনে গাছটার সামনে বসে রইলেন। পাতাটা একটু বড় হয়েছে কি না, সেটাই দেখছিলেন।


সেই প্রথম তাঁর মনে হয়েছিল, দিনের প্রতিটি মুহূর্ত কাউকে দিয়ে পূর্ণ করে রাখতে হয় না।


এরপর থেকে ছোট ছোট কিছু কাজ নিজের জন্য জমিয়ে রাখতে শুরু করলেন।


বাজারে গেলে নিজের পছন্দের মাছ কিনতেন। দুপুরে রান্না করতে ইচ্ছে না করলে ডিম ভেজে ভাত খেতেন। শুক্রবার সকালে পুরোনো গান শুনতেন। কখনো বই পড়তে পড়তে ঘুমিয়ে পড়তেন। ঘুম ভাঙার পর নিজেকে কারও কাছে কৈফিয়ত দিতে হতো না।


একদিন রাতে স্ত্রীর ছবিটার সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। ছবিটা শোবার ঘরের আলমারির ওপর রাখা। বিয়ের পরের বছরের ছবি। স্ত্রীর মুখে তখনকার সেই চেনা হাসি।


ছবিটার ওপর ধুলো জমেছিল। রফিক সাহেব আলমারি থেকে কাপড় নিয়ে ছবিটা নামিয়ে মুছলেন। কিছুক্ষণ হাতে ধরে রাখলেন। তারপর আগের জায়গায় রেখে দিলেন।


ছবির দিকে তাকিয়ে তাঁর মনে হলো, মানুষটা থাকলে ভালো হতো। অনেক কথা বলা যেত। বিকেলে একসঙ্গে চা খাওয়া যেত। বাজার থেকে মাছ কিনে এনে দুজনে মিলে রান্নার গল্প করা যেত।


কিন্তু ছবির সামনে দাঁড়িয়ে তিনি আর আগের মতো ভেঙে পড়লেন না।


জানালাটা একটু খুলে দিয়ে ঘুমাতে গেলেন।


এর মধ্যে একদিন মেয়ে ফোন করে জানাল, সামনের মাসে দেশে আসবে। বাবাকে নিয়ে কয়েক দিন কক্সবাজার ঘুরতে যেতে চায়।


রফিক সাহেব খুশি হলেন। মেয়ের সঙ্গে সময় কাটাতে তাঁর ভালো লাগে। নাতির দুষ্টুমি দেখতে ভালো লাগে। কিন্তু মেয়ে যখন বলল, এবার যাওয়ার সময় বাবাকে সঙ্গে করে নিয়ে যাবে, তখন তিনি একটু থামলেন।


—কেন মা?


—একা থাকো বলে চিন্তা হয়। তোমার বয়স হচ্ছে। কিছু হলে কে দেখবে?


—কিছু হলে তোমাকে ফোন করব।


—বাবা, সবকিছু কি ফোন করে সামলানো যায়?


রফিক সাহেব বুঝলেন, মেয়ের চিন্তাটা অমূলক নয়। বয়স বাড়ছে। অসুস্থ হলে পাশে কাউকে পাওয়া দরকার। কিন্তু শুধু একা থাকেন বলেই তিনি অসহায়, এই ধারণাটা তাঁর ভালো লাগল না।


তিনি বললেন,


—শোন মা, একা থাকি বলে আমার দিনগুলো খারাপ কাটে না। তোর সঙ্গে কথা বলতে ভালো লাগে, তোরা এলে আরও ভালো লাগে। কিন্তু সারাক্ষণ কাউকে পাশে না পেলে আমার জীবন থেমে থাকে না।


মেয়ে কিছুক্ষণ চুপ করে রইল।


তারপর বলল,


—তুমি আগের চেয়ে অনেক বদলে গেছ।


—হয়তো নিজের সঙ্গে একটু পরিচয় হয়েছে।


কথাটা বলেই তিনি হেসে ফেললেন।


পরের মাসে মেয়ে এল। বাড়িতে কয়েক দিন বেশ হৈচৈ হলো। নাতি দাদুর টবের গাছ থেকে পাতা ছিঁড়তে গিয়ে বকা খেল। মেয়ে বাবার আলমারি গোছাতে গিয়ে পুরোনো একটা পাঞ্জাবি বের করল। জামাই বাজার থেকে মিষ্টি আনল।


রফিক সাহেবের ভালো লাগছিল।


কিন্তু মেয়ের ফেরার দিন সন্ধ্যায় বাড়িটা আবার চুপচাপ হয়ে গেল।


নাতির খেলনা পড়ে ছিল সোফার নিচে। রান্নাঘরের টেবিলে মেয়ের রেখে যাওয়া একটা চুলের ক্লিপ। ফ্রিজে দুটো মিষ্টির বাক্স।


আগে এমন সন্ধ্যায় তাঁর বুকের ভেতরটা হু হু করে উঠত। মনে হতো, সবাই চলে গেল, আবার সেই একা ঘর।


সেদিন তিনি খেলনাটা তুলে রাখলেন। চুলের ক্লিপটা ড্রয়ারে রেখে দিলেন। ফ্রিজ থেকে একটা মিষ্টি বের করে খেলেন।


তারপর বারান্দায় গিয়ে গাছে পানি দিলেন।


মোবাইলটা বেজে উঠল। মেয়ের ফোন।


—বাবা, বাসায় পৌঁছেছ?


—আমি তো বাসাতেই আছি মা।


—মানে, সব ঠিক আছে তো?


—হ্যাঁ। তুই চিন্তা করিস না।


—আজ রাতে খেয়ো কিন্তু।


—খাব। তুইও ঠিকমতো খেয়ে নিস।


ফোনটা রেখে তিনি কিছুক্ষণ বারান্দায় দাঁড়িয়ে রইলেন।


আকাশে তখন সন্ধ্যার শেষ আলো। পাশের বাড়ির ছাদে কয়েকটা কাপড় শুকাতে দেওয়া। দূরে কোথাও প্রেসার কুকারের সিটি বাজছে। নিচের রাস্তা দিয়ে একজন বাদামওয়ালা হাঁক দিচ্ছে।


পৃথিবী নিজের নিয়মে চলছিল।


রফিক সাহেব ঘরে ঢুকে ভাত বসালেন। সঙ্গে একটা ডিম ভাজলেন। খাওয়া শেষে নিজের প্লেট নিজেই ধুয়ে রাখলেন।


রাত দশটার দিকে বই নিয়ে বিছানায় গেলেন। পড়তে পড়তে একটা জায়গায় এসে থেমে গেলেন। জানালার বাইরে তাকিয়ে দেখলেন, রাস্তার বাতিটা জ্বলছে। তার নিচে একটা কুকুর গোল হয়ে শুয়ে আছে।


তিনি বাতি নিভিয়ে দিলেন।


পরদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে তিনি বারান্দায় গেলেন।


মানিপ্ল্যান্টের নতুন পাতাটা আগের চেয়ে একটু বড় হয়েছে।


তিনি আঙুল দিয়ে পাতাটার কিনারা ছুঁয়ে দেখলেন। তারপর নিজের কাপটা হাতে নিয়ে চেয়ারে বসলেন।


সেদিন তাঁর কোথাও যাওয়ার কথা ছিল না। কারও আসারও কথা ছিল না।


তবু সকালটা তাঁর কাছে একটুও ফাঁকা মনে হলো।

আমি মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন, ই-নলেজ এর একজন যাচাইকৃত লেখক। আমি এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত আছি প্রায় 1 বছর 1 মাস 1 সপ্তাহ ধরে, এবং এ পর্যন্ত 1503 টি লেখা ও 0 টি প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছি। আমার অর্জিত মোট পয়েন্ট 30375। ই-নলেজ আমার চিন্তা, জ্ঞান ও কণ্ঠকে সবার মাঝে পৌঁছে দিতে সহায়তা করেছে।
সংযুক্ত তথ্য
নিজস্ব আইডিয়া, ই-নলেজ আইডিয়া এ প্রথম প্রকাশিত
Enolej ID(eID): 5165
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।

এই লেখকের অন্যান্য সিরিজ


বিজ্ঞাপন: Remembering...

Image

এই ব্লগটির প্রতিক্রিয়া দিতে দয়া করে প্রবেশ কিংবা নিবন্ধন করুন ।

সংশ্লিষ্ট ব্লগগুচ্ছ


সন্তান ছেলে হবে নাকি মেয়ে? আগেরকার সময়ে মানুষরা ছেলে সন্তান জন্ম দিতে চাইত আর এর জন্য তারা বিভিন্ন পদ্ধতি অবলম্বন করত। প্রাচীন সময়ের থেকে বর্তমান সময় পযন্ত অনেক পদ্ধতি আবিষ্কার করা হয়েছে য�[...] বিস্তারিত পড়ুন...
47 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
পৃথিবীর মতো তুমি মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ছোটগল্প | ২৪ আগস্ট ২০২৬ রাত প্রায় বারোটা। নি[...] বিস্তারিত পড়ুন...
52 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
সিরিজের নামঃ- নিজের জীবনটাও ছিল গল্প ৭ -শেষবারের মতো মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ছোট গল্প &#[...] বিস্তারিত পড়ুন...
95 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
নিশি উপাখ্যান সিরিজ   গল্প-৩   শেষবারের মতো দুঃখিত   মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন   ২৯, জ[...] বিস্তারিত পড়ুন...
55 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
যে চিঠি কখনো পোস্ট হয়নি মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ছয় পর্বের ছোটগল্প ২৪ আগষ্ট, ২০২৬ প[...] বিস্তারিত পড়ুন...
52 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ
📢 Notice Board
No active notices
ই-নলেজ আইডিয়া(Enolej Idea) হলো লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম যেখানে যেকোনো ধরনের লেখা—সাহিত্য, বিজ্ঞান, গবেষণা নোট, মতামত, প্রতিবাদী লেখা, ধর্মীয় চিন্তা, ব্যক্তিগত নোট বা দৈনন্দিন ভাবনা—নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা যায়। এটি সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ছড়িয়ে থাকা অগোছালো কনটেন্টকে একটি ভেরিফাইড, রেফারেন্সযোগ্য ডিজিটাল পোর্টফোলিওতে রূপান্তর করে, যা ব্যক্তির বুদ্ধিবৃত্তিক পরিচিতি ও দীর্ঘমেয়াদি ব্র্যান্ডিং গড়ে তোলে। প্রতিটি লেখার জন্য ইউনিক ডিজিটাল আইডি (eID) ও কপিরাইট সুরক্ষা প্রদান করা হয়, ফলে লেখা চুরি হলেও আসল লেখক সহজে শনাক্তযোগ্য থাকে। ধারাবাহিক কনটেন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাজানো, এক ক্লিকেই ই-বুক বা বইয়ের খসড়ায় রূপান্তর, ব্যক্তিগত খসড়া গোপন রাখা এবং একটি সক্রিয় কমিউনিটির মাধ্যমে পাঠকের সাথে সরাসরি সংযোগ—সব সুবিধাই এখানে একসাথে পাওয়া যায়। ই-নলেজ আইডিয়া মূলত ব্যক্তির চিন্তা ও জ্ঞানকে একটি স্থায়ী, সুরক্ষিত ও সার্বজনীনভাবে স্বীকৃত ডিজিটাল লেখক ইকোসিস্টেমে রূপ দেয়। IDEA = Independent Digital Expression & Authorship.
  1. Mayabi Ilmaz Megh

    202 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    10 টি আইডিয়া ব্লগ

  2. মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

    121 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    6 টি আইডিয়া ব্লগ

  3. Qrrier

    31 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    1 আইডিয়া ব্লগ

  4. Mirza

    21 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    1 আইডিয়া ব্লগ

...