Enolej Idea-তে লেখা প্রকাশের নিয়ম জানতে পূর্ণ নির্দেশনা দেখুন...
ই-নলেজ আইডিয়া হলো এমন একটি চিন্তানির্ভর প্ল্যাটফর্ম, যেখানে মানুষ শুধু তথ্য নয়, চিন্তা শেয়ার করে। এখানে জ্ঞানীরা একত্র হন, নতুনরা পথ খুঁজে পান, এবং সবাই মিলে তৈরি হয় একটি জ্ঞানভিত্তিক উম্মাহ। এটি জ্ঞানচর্চাকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ বানানোর একটি প্রচেষ্টা, যেখানে লেখা, ভাবা ও শেখা—সবই হয় মুক্তভাবে।আজই যোগ দিন!নিবন্ধন করতে এখানে ক্লিক করুন...।

-: ই-নলেজ আইডিয়া :-

আপনার লেখার কপিরাইট সুরক্ষা, স্বীকৃতি এবং ফ্রী প্রমোশন, সব এক প্ল্যাটফর্মে!

লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম আপনার লেখার অভিজ্ঞতাই বদলে দিবে। (পড়ুন...)

যদি আপনি হন পাঠক, কিংবা লেখক হিসেবে জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করেন:

যদি আপনার লেখাগুলোর কপিরাইট সুরক্ষা, সুশৃঙ্খলতা, আপনার ভেরিফাইড লেখক পোর্টফলিও এবং লেখক-পাঠকের কেন্দ্রীয় কমিউনিটিতে যুক্ত হতে চান, তাহলে নিবন্ধন করুন লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম “ই-নলেজ আইডিয়া” -এ!

এখানে অনেক প্রতিভাবান লেখক বিভিন্ন সিরিজে লিখছেন। আপনিও চাইলে আপনার লেখাগুলো সিরিজ আকারে সাজাতে পারবেন।

আপনার লেখক প্রোফাইল হবে একদম জীবন্ত পোর্টফলিও, এক ধরনের জীবন্ত বই। এখানে শুধু লেখক নয়, থাকবে পাঠকেরও সংস্পর্শ। ব্যাজ, পয়েন্ট, স্বীকৃতি এবং কপিরাইট সুরক্ষা তো থাকছেই, লেখাগুলো স্ক্যান করলেই আপনার নাম ভেসে উঠবে।

এটি তাই লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

চলুন বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক....

পূর্ণ নির্দেশনা [Full Guideline]

ই-নলেজ আইডিয়া – লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

নদীর বুকে আসা

0 পছন্দ 0 অপছন্দ
464 বার প্রদর্শিত
করেছেন (21,955 পয়েন্ট)   28 সেপ্টেম্বর 2025 "ছোটগল্প" বিভাগে লেখা প্রকাশিত
পোষ্ট আইডি(eID) কার্ড↓ - লেখনীর স্বত্ব ও গুণের পরিচয়!

শরতের বিকেলের আকাশে সোনালি আভা ছড়িয়ে আছে। নদীর জলে ভেসে বেড়াচ্ছে মেঘের টুকরো, বাতাসে আছে কদমফুলের গন্ধ। নদীর ধারে বসে অভিক চুপচাপ তাকিয়ে আছে ঢেউয়ের দিকে। তার মনে ভাসছে একটাই বাক্য—


“মাঝে মাঝে জীবনটাকে বড় বিচিত্র লাগে। নদীর মতোন বহমান জীবনে তোমার আসাটা অনেকটা প্রত্যাশিত আর অর্থবহ ছিল।”


এই কথাগুলো তার ঠোঁট ফিসফিস করে উচ্চারণ করছে। কিন্তু পাশে কেউ নেই। শুধু নদী, বাতাস আর এক অনন্ত নীরবতা। অথচ অভিক জানে, এই কথাগুলো কেবল নিশির জন্যই।


অভিকের জীবন সবসময়ই ছিল একঘেয়ে। অফিস, বাসা আর নিঃসঙ্গতা—এই তিনের ভেতরেই বন্দী ছিল তার পৃথিবী। বন্ধুরা বলত, “তুই বড্ড চুপচাপ, তোর মধ্যে হাসি নেই।” কিন্তু অভিক হাসতে জানত না, বা হয়তো ভুলে গিয়েছিল।


একদিন বিকেলে নদীর ধারে হাঁটতে হাঁটতে দেখা হলো নিশির সাথে। সে বসেছিল ঘাটের সিঁড়িতে, পা পানিতে ডুবিয়ে রেখেছিল। অভিকের উপস্থিতি টের পেয়ে মৃদু হাসি দিয়ে বলল—

“আপনি কি সবসময় একা হাঁটেন?”


অভিক চমকে উঠল। এই সহজ প্রশ্নের ভেতর যেন তার সমস্ত নিঃসঙ্গতা উন্মোচিত হয়ে গেল। কেউ এত সহজে তাকে পড়ে ফেলবে, তা সে কল্পনাও করেনি।


সেদিন থেকে তাদের আলাপ শুরু হলো। ছোট ছোট কথোপকথন ধীরে ধীরে গড়িয়ে গেল দীর্ঘ সময়ের আড্ডায়। নদীর ধারে বসে গল্প করা, আকাশের মেঘ গোনা, বাতাসে ভেসে আসা কদমফুলের গন্ধ ভাগাভাগি করা—সবকিছু যেন হঠাৎ করে অভিকের জীবনে নতুন প্রাণের সঞ্চার করল।


নিশির চোখে ছিল অদ্ভুত আলো। সেই চোখে তাকালে অভিক অনুভব করত, সে একা নয়। নদীর স্রোতের মতো তাদের সম্পর্ক চলতে শুরু করল—অন্তহীন, বহমান, আর অনিবার্য।


অভিক ভাবত, নিশি তার জীবনের পূর্ণতা। নিশি তাকে বলত—

“জানো, অভিক, নদীর মতো সম্পর্কেরও স্রোত আছে। কখনো শান্ত, কখনো উত্তাল, কিন্তু শেষ পর্যন্ত বহমান।”


অভিক মৃদু হেসে জবাব দিত—

“তুমি যদি আমার নদী হও, তবে আমি তোমার তীর হতে চাই। যেখানে তোমার ঢেউ এসে ঠেকে, আমি সেখানেই থাকব।”


এই সহজ বাক্যগুলোতেই গড়ে উঠছিল তাদের ভালোবাসার গভীরতা। অভিক বুঝতে শুরু করেছিল, জীবনের মানে কেবল বেঁচে থাকা নয়, বরং কারও আগমনের মাধ্যমে বেঁচে ওঠা।


কিন্তু সুখের গল্পের ভেতরও লুকিয়ে থাকে অপ্রত্যাশিত বাঁক। হঠাৎ করেই নিশির শরীর ভেঙে পড়তে লাগল। প্রথমে সামান্য জ্বর, তারপর ধীরে ধীরে এক ভয়ংকর রোগ তার শরীরকে গ্রাস করল।


হাসপাতালের সাদা দেয়ালের ভেতর অভিক প্রথমবারের মতো অসহায় হয়ে পড়ল। দিন রাত নিশির পাশে বসে থাকত সে। এক রাতে নিশির হাত ধরে কাঁপা কণ্ঠে বলল—

“তুমি না থাকলে আমার জীবনও থেমে যাবে, নিশি।”


নিশি মৃদু হেসে চোখ তুলে তাকাল,

“অভিক, নদী কি কখনো থেমে থাকে? আমি যদি না থাকি, তবুও তুমি বয়ে চলবে। আমি তোমার স্রোতে থেকে যাব।”


অভিক কান্না চেপে বলল,

“কিন্তু নদী যদি তীর হারায়?”


নিশি মৃদু গলায় উত্তর দিল—

“তীর সবসময় থাকে, অভিক। শুধু চোখের দৃষ্টিতে নয়, হৃদয়ের ভেতরেও।”


এক শরতের রাতে নিশি নিঃশব্দে হারিয়ে গেল। অভিকের কোলের ওপর মাথা রেখে শেষ নিঃশ্বাস ফেলল সে। অভিকের ভেতর যেন সব নদী শুকিয়ে গেল। পৃথিবী থেমে গেলেও নদীর স্রোত চলতে থাকে—কিন্তু সেই স্রোতে অভিক এখন কেবল শুনতে পায় একটাই শব্দ—


“আমি আছি তোমার ভেতরে, তোমার নদীর গভীরে।”


আজ বহু বছর পর অভিক আবার নদীর ধারে দাঁড়িয়ে আছে। ঢেউয়ের শব্দে, বাতাসের গন্ধে, আকাশের মেঘে সে নিশিকে খুঁজে পায়। নদীর ঢেউ ভেঙে প্রতিধ্বনি হয়ে বাজে নিশির কণ্ঠস্বর।


অভিক চোখ বন্ধ করে ফিসফিস করে বলে,

“তোমার আসাটাই ছিল আমার জীবনের সবচেয়ে প্রত্যাশিত আর অর্থবহ অলৌকিকতা। তুমি না থাকলেও, তুমি আমার স্রোতে আছো, নিশি।”


নদী যেন সেদিনের মতোই উত্তর দেয়,

“আমি আছি…”image

আমি মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন, ই-নলেজ এর একজন যাচাইকৃত লেখক। আমি এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত আছি প্রায় 9 মাস 1 সপ্তাহ ধরে, এবং এ পর্যন্ত 1087 টি লেখা ও 0 টি প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছি। আমার অর্জিত মোট পয়েন্ট 21955। ই-নলেজ আমার চিন্তা, জ্ঞান ও কণ্ঠকে সবার মাঝে পৌঁছে দিতে সহায়তা করেছে।
সংযুক্ত তথ্য
"নিজস্ব আইডিয়া"
Enolej ID(eID): 1104
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।

এই লেখকের অন্যান্য সিরিজ


বিজ্ঞাপন: Remembering...

Image

এই ব্লগটির প্রতিক্রিয়া দিতে দয়া করে প্রবেশ কিংবা নিবন্ধন করুন ।

সংশ্লিষ্ট ব্লগগুচ্ছ


image
মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন বিশ্লেষণধর্মী ⋄ ১৬ নভেম্বর, ২০২৫ বাংলাদেশের লোকসংস্কৃতির &#[...] বিস্তারিত পড়ুন...
530 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
রক্তঝরা নদীর গান লেখকঃ মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন লেখার ধরণঃ গদ্যকবিতা   তারিখঃ ২০ অক্&[...] বিস্তারিত পড়ুন...
515 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
রুদ্রের গর্জন মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ছোটগল্প  | ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫ ভোরের দিকে বিমান÷[...] বিস্তারিত পড়ুন...
429 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
অন্ধ ভক্তি চুপ করে থাকার একটা সহজ নাম মোহাম্মাদ জাহিদ হোসেন বিশ্লেষণমূলক | ০৮ ডিসেম[...] বিস্তারিত পড়ুন...
218 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
লাইফ সাপোর্টে তিন দিন   মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন   ছোটগল্প।০৮ ডিসেম্বর ২০২৫   অনেক[...] বিস্তারিত পড়ুন...
149 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ
📢 Notice Board
No active notices
ই-নলেজ আইডিয়া(Enolej Idea) হলো লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম যেখানে যেকোনো ধরনের লেখা—সাহিত্য, বিজ্ঞান, গবেষণা নোট, মতামত, প্রতিবাদী লেখা, ধর্মীয় চিন্তা, ব্যক্তিগত নোট বা দৈনন্দিন ভাবনা—নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা যায়। এটি সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ছড়িয়ে থাকা অগোছালো কনটেন্টকে একটি ভেরিফাইড, রেফারেন্সযোগ্য ডিজিটাল পোর্টফোলিওতে রূপান্তর করে, যা ব্যক্তির বুদ্ধিবৃত্তিক পরিচিতি ও দীর্ঘমেয়াদি ব্র্যান্ডিং গড়ে তোলে। প্রতিটি লেখার জন্য ইউনিক ডিজিটাল আইডি (eID) ও কপিরাইট সুরক্ষা প্রদান করা হয়, ফলে লেখা চুরি হলেও আসল লেখক সহজে শনাক্তযোগ্য থাকে। ধারাবাহিক কনটেন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাজানো, এক ক্লিকেই ই-বুক বা বইয়ের খসড়ায় রূপান্তর, ব্যক্তিগত খসড়া গোপন রাখা এবং একটি সক্রিয় কমিউনিটির মাধ্যমে পাঠকের সাথে সরাসরি সংযোগ—সব সুবিধাই এখানে একসাথে পাওয়া যায়। ই-নলেজ আইডিয়া মূলত ব্যক্তির চিন্তা ও জ্ঞানকে একটি স্থায়ী, সুরক্ষিত ও সার্বজনীনভাবে স্বীকৃত ডিজিটাল লেখক ইকোসিস্টেমে রূপ দেয়। IDEA = Independent Digital Expression & Authorship.
  1. মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

    486 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    24 টি আইডিয়া ব্লগ

  2. শামীমা আকতার

    22 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    0 টি আইডিয়া ব্লগ

  3. Adiba jannat

    21 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    1 আইডিয়া ব্লগ

  4. মুহাম্মদ সালমান

    1 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    0 টি আইডিয়া ব্লগ

...