Enolej Idea-তে লেখা প্রকাশের নিয়ম জানতে পূর্ণ নির্দেশনা দেখুন...
ই-নলেজ আইডিয়া হলো এমন একটি চিন্তানির্ভর প্ল্যাটফর্ম, যেখানে মানুষ শুধু তথ্য নয়, চিন্তা শেয়ার করে। এখানে জ্ঞানীরা একত্র হন, নতুনরা পথ খুঁজে পান, এবং সবাই মিলে তৈরি হয় একটি জ্ঞানভিত্তিক উম্মাহ। এটি জ্ঞানচর্চাকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ বানানোর একটি প্রচেষ্টা, যেখানে লেখা, ভাবা ও শেখা—সবই হয় মুক্তভাবে।আজই যোগ দিন!নিবন্ধন করতে এখানে ক্লিক করুন...।

-: ই-নলেজ আইডিয়া :-

আপনার লেখার কপিরাইট সুরক্ষা, স্বীকৃতি এবং ফ্রী প্রমোশন, সব এক প্ল্যাটফর্মে!

লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম আপনার লেখার অভিজ্ঞতাই বদলে দিবে। (পড়ুন...)

যদি আপনি হন পাঠক, কিংবা লেখক হিসেবে জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করেন:

যদি আপনার লেখাগুলোর কপিরাইট সুরক্ষা, সুশৃঙ্খলতা, আপনার ভেরিফাইড লেখক পোর্টফলিও এবং লেখক-পাঠকের কেন্দ্রীয় কমিউনিটিতে যুক্ত হতে চান, তাহলে নিবন্ধন করুন লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম “ই-নলেজ আইডিয়া” -এ!

এখানে অনেক প্রতিভাবান লেখক বিভিন্ন সিরিজে লিখছেন। আপনিও চাইলে আপনার লেখাগুলো সিরিজ আকারে সাজাতে পারবেন।

আপনার লেখক প্রোফাইল হবে একদম জীবন্ত পোর্টফলিও, এক ধরনের জীবন্ত বই। এখানে শুধু লেখক নয়, থাকবে পাঠকেরও সংস্পর্শ। ব্যাজ, পয়েন্ট, স্বীকৃতি এবং কপিরাইট সুরক্ষা তো থাকছেই, লেখাগুলো স্ক্যান করলেই আপনার নাম ভেসে উঠবে।

এটি তাই লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

চলুন বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক....

পূর্ণ নির্দেশনা [Full Guideline]

ই-নলেজ আইডিয়া – লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

প্রথমবার বাবার বুকে

0 পছন্দ 0 অপছন্দ
3 বার প্রদর্শিত
করেছেন (29,829 পয়েন্ট)   13 ঘন্টা পূর্বে "গল্প" বিভাগে লেখা প্রকাশিত
পোষ্ট আইডি(eID) কার্ড↓ - লেখনীর স্বত্ব ও গুণের পরিচয়!

প্রথমবার বাবার বুকেimage

মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

ছোটগল্প। ২৬ অক্টোবর ২০২৬


আমার বাবা আমাকে জড়িয়ে ধরেছিলেন, যেদিন আমার ডিভোর্স হলো। প্রথমবার।


খবরটা শুনে বাবা প্রথমে কিছু বলেননি। শুধু চশমাটা খুলে টেবিলের ওপর রেখেছিলেন। আমি ভেবেছিলাম, এবারও হয়তো সেই পুরোনো কথাটাই শুনতে হবে—“কী করছিস জীবনে? একটা সংসারও টিকিয়ে রাখতে পারলি না?”


ছোটবেলা থেকে বাবার মুখে এমন কথা শুনেই বড় হয়েছি। পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে, চাকরির ইন্টারভিউ থেকে খালি হাতে ফিরলে, নিজের পছন্দে কিছু করতে গিয়ে ভুল করলে—বাবার প্রশ্ন একটাই ছিল, “কী করছিস জীবনে?”


বাবা আমাকে ভালোবাসতেন, কিন্তু তাঁর ভালোবাসা প্রকাশের ধরনটা ছিল অন্য রকম। আমি মন খারাপের কথা বলতে গেলে তিনি সান্ত্বনা দেওয়ার বদলে সমাধান দিতেন। ভুল করলে বুঝিয়ে দিতেন, কোথায় ভুল করেছি। কখনো শুধু পাশে বসে থাকেননি।


বিয়ের পর প্রথম কয়েক মাস সব ঠিকই ছিল। তারপর ছোটখাটো কথা নিয়ে ঝগড়া, একে অন্যকে দোষ দেওয়া, আত্মীয়দের ফোন, বোঝাপড়ার নামে আরও কিছু অপমান। অনেক দিন চেষ্টা করেছি। কখনো নিজের কথা গিলে ফেলেছি, কখনো ভেবেছি, আরেকটু মানিয়ে নিলেই হয়তো সব ঠিক হবে।


শেষ পর্যন্ত যেদিন সম্পর্কটা কাগজে-কলমে শেষ হলো, সেদিন আদালতের সিঁড়ি দিয়ে নামতে নামতে কারও সঙ্গে কথা বলতে ইচ্ছে করছিল না।


বাড়ি ফেরার পথে মাকে ফোন করেছিলাম।


মা শুধু বলেছিলেন, “কোথায় আছিস? তাড়াতাড়ি আয়।”


বাবার কথা জিজ্ঞেস করার সাহস হয়নি।


বাড়িতে ঢুকতেই দেখলাম, বাবা বসার ঘরে বসে আছেন। সামনে খবরের কাগজ খোলা, কিন্তু তাঁর চোখ কাগজে নেই। আমাকে দেখে তিনি উঠে দাঁড়ালেন।


আমি মাথা নিচু করে বললাম, “সব শেষ, বাবা।”


কথাটা বলেই চুপ করে গেলাম।


বাবা কোনো প্রশ্ন করলেন না।


আমার কাছে এসে দুহাতে জড়িয়ে ধরলেন।


আমি প্রথমে শক্ত হয়ে দাঁড়িয়ে ছিলাম। বাবার কাঁধে মাথা রাখার অভ্যাস আমার ছিল না। ছোটবেলায় পড়ে গিয়ে হাঁটু ছড়ালে মা কোলে নিতেন, বাবা বলতেন, “কাঁদলে হবে? উঠে দাঁড়া।” বড় হওয়ার পর মন খারাপের কথা বলতে গেলে তিনি সমাধান দিতেন, সান্ত্বনা নয়।


সেই মানুষটাই সেদিন আমার পিঠে হাত রেখে বললেন, “ঘরে আয়। সব ঠিক হয়ে যাবে।”


কথাটা শুনে বুকের ভেতর জমে থাকা কান্নাটা আর ধরে রাখতে পারলাম না।


আমি কাঁদছিলাম। বাবা আমাকে ছাড়েননি।


মা পাশে দাঁড়িয়ে আঁচল দিয়ে চোখ মুছছিলেন। কেউ আমাকে জিজ্ঞেস করেনি, আমি কেন সংসারটা বাঁচাতে পারলাম না। কেউ বলেনি, মানুষ কী বলবে। সেদিন দুপুরে মা আমার পছন্দের খাবার রান্না করেছিলেন। বাবা নিজের হাতে এক গ্লাস পানি এনে আমার সামনে রেখেছিলেন।


সন্ধ্যার দিকে বাবাকে বারান্দায় একা বসে থাকতে দেখলাম। পাশে গিয়ে দাঁড়াতেই তিনি বললেন, “খেয়েছিস?”


আমি মাথা নাড়লাম।


কিছুক্ষণ চুপ থেকে জিজ্ঞেস করলাম, “তুমি আমার ওপর রাগ করোনি?”


বাবা আমার দিকে তাকালেন। তারপর চোখ ফিরিয়ে নিয়ে বললেন, “তুই কি ইচ্ছে করে কষ্ট পেতে গিয়েছিলি?”


আমি উত্তর দিতে পারলাম না।


বাবা আবার বললেন, “সবকিছু ঠিক রাখতে গিয়ে মানুষ কখনো কখনো নিজেই ভেঙে যায়। তুই বাড়ি ফিরেছিস, এটাই এখন বড় কথা।”


আমি বাবার পাশে বসে রইলাম। তাঁর হাতের ওপর আমার হাত রাখলাম। বাবা হাত সরিয়ে নিলেন না।


সেদিন রাতে নিজের পুরোনো ঘরে শুয়ে অনেকক্ষণ ঘুম আসেনি। পাশের ঘর থেকে মা-বাবার নিচু স্বরে কথা বলার শব্দ আসছিল। কথাগুলো স্পষ্ট শুনতে পাচ্ছিলাম না। শুধু বুঝতে পারছিলাম, তাঁরা জেগে আছেন।


পরদিন সকালে ঘুম ভাঙতেই দেখলাম, দরজার পাশে চায়ের কাপ রাখা। বাবা বসে খবরের কাগজ পড়ছেন। আমাকে দেখে বললেন, “চা ঠান্ডা হয়ে যাবে। খেয়ে নে।”


আমি কাপটা হাতে নিয়ে তাঁর পাশে বসলাম।


বাবা কাগজের পাতা উল্টে দিলেন। আমি চায়ে চুমুক দিলাম।

আমি মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন, ই-নলেজ এর একজন যাচাইকৃত লেখক। আমি এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত আছি প্রায় 1 বছর 1 মাস ধরে, এবং এ পর্যন্ত 1476 টি লেখা ও 0 টি প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছি। আমার অর্জিত মোট পয়েন্ট 29829। ই-নলেজ আমার চিন্তা, জ্ঞান ও কণ্ঠকে সবার মাঝে পৌঁছে দিতে সহায়তা করেছে।
সংযুক্ত তথ্য
নিজস্ব আইডিয়া, ই-নলেজ আইডিয়া এ প্রথম প্রকাশিত
Enolej ID(eID): 5099
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।

এই লেখকের অন্যান্য সিরিজ


বিজ্ঞাপন: Remembering...

Image

এই ব্লগটির প্রতিক্রিয়া দিতে দয়া করে প্রবেশ কিংবা নিবন্ধন করুন ।

সংশ্লিষ্ট ব্লগগুচ্ছ


image
বাবার শেষ ফেরা মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন স্মৃতিচারণ | ২৪ অক্টোবর ২০২৬ ২০২২ সালের ২৬ অক্[...] বিস্তারিত পড়ুন...
4 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
বাবার পুরোনো জুতো মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন আবেগঘন ছোটগল্প। ১৯ অক্টোবর ২০২৬ অফিসের অ&#[...] বিস্তারিত পড়ুন...
22 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
বাবার নম্বরটি আজও ফোনে আছে মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন শোক ও স্মৃতির ছোটগল্প ১৯ অক্টোবর [...] বিস্তারিত পড়ুন...
12 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
বাবার মৃত্যুর পর দুই ভাইয়ের দেখা মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন পারিবারিক ছোটগল্প ১৮ অক্ট[...] বিস্তারিত পড়ুন...
16 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
শেষ পর্যন্ত কেউ জেতেনি   পর্ব–৬ : একা বাবার সংসার   মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন "নিজের কষ[...] বিস্তারিত পড়ুন...
53 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ
📢 Notice Board
No active notices
ই-নলেজ আইডিয়া(Enolej Idea) হলো লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম যেখানে যেকোনো ধরনের লেখা—সাহিত্য, বিজ্ঞান, গবেষণা নোট, মতামত, প্রতিবাদী লেখা, ধর্মীয় চিন্তা, ব্যক্তিগত নোট বা দৈনন্দিন ভাবনা—নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা যায়। এটি সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ছড়িয়ে থাকা অগোছালো কনটেন্টকে একটি ভেরিফাইড, রেফারেন্সযোগ্য ডিজিটাল পোর্টফোলিওতে রূপান্তর করে, যা ব্যক্তির বুদ্ধিবৃত্তিক পরিচিতি ও দীর্ঘমেয়াদি ব্র্যান্ডিং গড়ে তোলে। প্রতিটি লেখার জন্য ইউনিক ডিজিটাল আইডি (eID) ও কপিরাইট সুরক্ষা প্রদান করা হয়, ফলে লেখা চুরি হলেও আসল লেখক সহজে শনাক্তযোগ্য থাকে। ধারাবাহিক কনটেন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাজানো, এক ক্লিকেই ই-বুক বা বইয়ের খসড়ায় রূপান্তর, ব্যক্তিগত খসড়া গোপন রাখা এবং একটি সক্রিয় কমিউনিটির মাধ্যমে পাঠকের সাথে সরাসরি সংযোগ—সব সুবিধাই এখানে একসাথে পাওয়া যায়। ই-নলেজ আইডিয়া মূলত ব্যক্তির চিন্তা ও জ্ঞানকে একটি স্থায়ী, সুরক্ষিত ও সার্বজনীনভাবে স্বীকৃত ডিজিটাল লেখক ইকোসিস্টেমে রূপ দেয়। IDEA = Independent Digital Expression & Authorship.
  1. মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

    2225 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    11 মন্তব্য

    110 টি আইডিয়া ব্লগ

  2. Mayabi Ilmaz Megh

    210 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    10 টি আইডিয়া ব্লগ

  3. প্রিন্স ফ্রেরাসে

    127 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    6 টি আইডিয়া ব্লগ

  4. জামিনুল রেজা

    83 পয়েন্ট

    1 প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    4 টি আইডিয়া ব্লগ

...