Enolej Idea-তে লেখা প্রকাশের নিয়ম জানতে পূর্ণ নির্দেশনা দেখুন...
ই-নলেজ আইডিয়া হলো এমন একটি চিন্তানির্ভর প্ল্যাটফর্ম, যেখানে মানুষ শুধু তথ্য নয়, চিন্তা শেয়ার করে। এখানে জ্ঞানীরা একত্র হন, নতুনরা পথ খুঁজে পান, এবং সবাই মিলে তৈরি হয় একটি জ্ঞানভিত্তিক উম্মাহ। এটি জ্ঞানচর্চাকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ বানানোর একটি প্রচেষ্টা, যেখানে লেখা, ভাবা ও শেখা—সবই হয় মুক্তভাবে।আজই যোগ দিন!নিবন্ধন করতে এখানে ক্লিক করুন...।

-: ই-নলেজ আইডিয়া :-

আপনার লেখার কপিরাইট সুরক্ষা, স্বীকৃতি এবং ফ্রী প্রমোশন, সব এক প্ল্যাটফর্মে!

লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম আপনার লেখার অভিজ্ঞতাই বদলে দিবে। (পড়ুন...)

যদি আপনি হন পাঠক, কিংবা লেখক হিসেবে জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করেন:

যদি আপনার লেখাগুলোর কপিরাইট সুরক্ষা, সুশৃঙ্খলতা, আপনার ভেরিফাইড লেখক পোর্টফলিও এবং লেখক-পাঠকের কেন্দ্রীয় কমিউনিটিতে যুক্ত হতে চান, তাহলে নিবন্ধন করুন লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম “ই-নলেজ আইডিয়া” -এ!

এখানে অনেক প্রতিভাবান লেখক বিভিন্ন সিরিজে লিখছেন। আপনিও চাইলে আপনার লেখাগুলো সিরিজ আকারে সাজাতে পারবেন।

আপনার লেখক প্রোফাইল হবে একদম জীবন্ত পোর্টফলিও, এক ধরনের জীবন্ত বই। এখানে শুধু লেখক নয়, থাকবে পাঠকেরও সংস্পর্শ। ব্যাজ, পয়েন্ট, স্বীকৃতি এবং কপিরাইট সুরক্ষা তো থাকছেই, লেখাগুলো স্ক্যান করলেই আপনার নাম ভেসে উঠবে।

এটি তাই লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

চলুন বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক....

পূর্ণ নির্দেশনা [Full Guideline]

ই-নলেজ আইডিয়া – লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

চার লাখ টাকার শোক

0 পছন্দ 0 অপছন্দ
4 বার প্রদর্শিত
করেছেন (29,829 পয়েন্ট)   13 ঘন্টা পূর্বে "গল্প" বিভাগে লেখা প্রকাশিত
পোষ্ট আইডি(eID) কার্ড↓ - লেখনীর স্বত্ব ও গুণের পরিচয়!

চার লাখ টাকার শোকimage

মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

ছোটগল্প।২৬ অক্টোবর ২০২৬


বাবা মারা যাওয়ার তিন দিন পর জানলাম, আমার মায়ের চার লাখ টাকা ঋণ।


কথাটা শোনার পর মায়ের দিকে তাকিয়েছিলাম। তিনি তখন বাবার পাঞ্জাবিগুলো ভাঁজ করছিলেন।


“কাকে কত টাকা দিতে হবে, মা?”


মায়ের হাত থেমে গেল। “এখন এসব কথা থাক। তোর বাবা মাত্র তিন দিন হলো...”


বাকিটা শেষ করলেন না।


বাবার মৃত্যুর পর বাড়িতে লোকজনের আসা-যাওয়া তখনো কমেনি। কেউ মায়ের মাথায় হাত রেখে সান্ত্বনা দিচ্ছে, কেউ বাবার ভালো মানুষ হওয়ার গল্প বলছে। বাবার ঘরে এখনো তাঁর চশমাটা টেবিলের ওপর পড়ে আছে। বিছানার পাশে স্যান্ডেলজোড়া পাশাপাশি রাখা।


সেদিন বিকেলে একজন লোক এলেন। বাবার কাছে টাকা পেতেন।


“এক লাখ বিশ হাজার টাকা। তোমার বাবা বলেছিলেন, সময় হলে দিয়ে দেবেন।”


আমি তাঁকে কাগজপত্র দেখে জানাব বলে বিদায় দিলাম।


লোকটা চলে যাওয়ার পর মাকে বললাম, “বাবা কখন টাকা নিয়েছিলেন?”


“তোর বাবার চিকিৎসার সময়।”


“আমাকে বলোনি কেন?”


মা কাপড় গোছাতে গোছাতে বললেন, “তুই নিজের সংসার নিয়ে ব্যস্ত ছিলি। আর হাসপাতালে টাকা তো সঙ্গে সঙ্গে লাগে। কেউ কি অপেক্ষা করে?”


সেদিন রাতে বাবার আলমারিতে একটা ছোট খাতা পেলাম। পাতায় পাতায় নাম, তারিখ, টাকার অঙ্ক। কোথাও সুদের হিসাব, কোথাও কত টাকা শোধ হয়েছে তার বিবরণ। শেষ পাতায় মায়ের হাতের লেখায় মোট হিসাব—চার লাখের কিছু বেশি।


খাতাটা নিয়ে মায়ের সামনে রাখলাম।


মা কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বললেন, “তোর বাবার চিকিৎসা, ওষুধ, সংসারের খরচ—সব মিলিয়ে হয়েছে।”


বাবার শেষ কয়েক মাসের কথা মনে পড়ল। এক হাসপাতাল থেকে আরেক হাসপাতালে ছোটা, পরীক্ষা, ওষুধ, রাত জেগে অপেক্ষা। আমি টাকা পাঠালে মা বলতেন, “হয়ে গেছে, আর লাগবে না।”


আমি ভেবেছিলাম, সত্যিই আর লাগছে না।


পরদিন পাশের ঘরে দুই আত্মীয়ের কথা শুনলাম।


একজন বললেন, “ভাইয়ের চিকিৎসায় তো অনেক খরচ হয়েছে।”


অন্যজন উত্তর দিলেন, “হ্যাঁ, এখন ভাবির একটু বিশ্রাম দরকার।”


আমি জানতাম, তাঁরা ঋণের কথা জানেন না। জানলে হয়তো বলতেন, স্বামী মারা যাওয়ার তিন দিন পরেই টাকার হিসাব কেন! শোকের বাড়িতে এসব কথা মানায় না।


কিন্তু পাওনাদারদের কাছে শোকের দিন গুনে টাকা চাওয়ার নিয়ম নেই।


মা কাউকে কিছু বললেন না।


একদিন দুপুরে দেখলাম, নিজের আলমারি খুলে বিয়ের সময় পাওয়া সোনার চুড়ি বের করেছেন। হাতে নিয়ে অনেকক্ষণ বসে রইলেন।


“চুড়িটা বিক্রি করবে?”


মা চমকে উঠলেন। “দেখি, কত পাওয়া যায়।”


“আমাকে বলোনি কেন?”


মা চুড়িটা মুঠোর মধ্যে নিয়ে বললেন, “তোর বাবার লাশ ঘর থেকে বের হওয়ার পরদিনই কি বলতাম, আমার এত টাকা দেনা? মানুষ কী বলত?”


আমি মায়ের পাশে বসলাম।


তিনি চুড়ির গায়ে আঙুল বোলাতে বোলাতে বললেন, “তোর বাবা বলেছিল, সুস্থ হয়ে উঠলে সব শোধ করে দেবে। আমি ভেবেছিলাম, সময় আছে।”


বাইরে তখন ফেরিওয়ালা হাঁক দিচ্ছিল। দূরে মসজিদ থেকে আজান ভেসে আসছিল। মা চুড়িটা পুরোনো কাপড়ে মুড়ে আবার আলমারিতে রেখে দিলেন।


সেদিন সন্ধ্যায় আরেকজন পাওনাদার এলেন। আমি তাঁকে বসতে বললাম।


মা পাশের ঘরে ছিলেন। লোকটা টাকা চাওয়ার সময় তিনি দরজার আড়াল থেকে একবার আমার দিকে তাকালেন। তারপর ধীরে ধীরে উঠে রান্নাঘরে চলে গেলেন।


কিছুক্ষণ পর রান্নাঘর থেকে চায়ের কাপ রাখার শব্দ এল।


মা দুজনের জন্য চা বানাচ্ছিলেন।


এক কাপ আমার, আরেক কাপ বাবার পুরোনো কাপটা।

আমি মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন, ই-নলেজ এর একজন যাচাইকৃত লেখক। আমি এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত আছি প্রায় 1 বছর 1 মাস ধরে, এবং এ পর্যন্ত 1476 টি লেখা ও 0 টি প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছি। আমার অর্জিত মোট পয়েন্ট 29829। ই-নলেজ আমার চিন্তা, জ্ঞান ও কণ্ঠকে সবার মাঝে পৌঁছে দিতে সহায়তা করেছে।
সংযুক্ত তথ্য
নিজস্ব আইডিয়া, ই-নলেজ আইডিয়া এ প্রথম প্রকাশিত
Enolej ID(eID): 5094
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।

এই লেখকের অন্যান্য সিরিজ


বিজ্ঞাপন: Remembering...

Image

এই ব্লগটির প্রতিক্রিয়া দিতে দয়া করে প্রবেশ কিংবা নিবন্ধন করুন ।

সংশ্লিষ্ট ব্লগগুচ্ছ


image
যে চিঠি কখনো পোস্ট হয়নি মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ছয় পর্বের ছোটগল্প ২৪ আগষ্ট, ২০২৬ প[...] বিস্তারিত পড়ুন...
53 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
অসমাপ্ত শোক মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ছোট গল্প । ০৪ আগষ্ট, ২০২৬ রফিকুলের সকালে একটা ছোট[...] বিস্তারিত পড়ুন...
46 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
ধারাবাহিক গল্প গোপন উত্তরাধিকার পর্ব ২: টাকার গন্ধ ২০ জুন, ২০২৬ নিশি জানত, টাকা কখন&[...] বিস্তারিত পড়ুন...
62 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
টাকার ওপারে (সম্পর্ক ও সামাজিক মনস্তত্ত্ব) মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন  বিশ্লেষণমূলক লে[...] বিস্তারিত পড়ুন...
6 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
টাকার ক্ষমতা মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন বিশ্লেষণধর্মী | ২২ আগস্ট ২০২৬ “যে মানুষ টাকা দ[...] বিস্তারিত পড়ুন...
48 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ
📢 Notice Board
No active notices
ই-নলেজ আইডিয়া(Enolej Idea) হলো লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম যেখানে যেকোনো ধরনের লেখা—সাহিত্য, বিজ্ঞান, গবেষণা নোট, মতামত, প্রতিবাদী লেখা, ধর্মীয় চিন্তা, ব্যক্তিগত নোট বা দৈনন্দিন ভাবনা—নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা যায়। এটি সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ছড়িয়ে থাকা অগোছালো কনটেন্টকে একটি ভেরিফাইড, রেফারেন্সযোগ্য ডিজিটাল পোর্টফোলিওতে রূপান্তর করে, যা ব্যক্তির বুদ্ধিবৃত্তিক পরিচিতি ও দীর্ঘমেয়াদি ব্র্যান্ডিং গড়ে তোলে। প্রতিটি লেখার জন্য ইউনিক ডিজিটাল আইডি (eID) ও কপিরাইট সুরক্ষা প্রদান করা হয়, ফলে লেখা চুরি হলেও আসল লেখক সহজে শনাক্তযোগ্য থাকে। ধারাবাহিক কনটেন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাজানো, এক ক্লিকেই ই-বুক বা বইয়ের খসড়ায় রূপান্তর, ব্যক্তিগত খসড়া গোপন রাখা এবং একটি সক্রিয় কমিউনিটির মাধ্যমে পাঠকের সাথে সরাসরি সংযোগ—সব সুবিধাই এখানে একসাথে পাওয়া যায়। ই-নলেজ আইডিয়া মূলত ব্যক্তির চিন্তা ও জ্ঞানকে একটি স্থায়ী, সুরক্ষিত ও সার্বজনীনভাবে স্বীকৃত ডিজিটাল লেখক ইকোসিস্টেমে রূপ দেয়। IDEA = Independent Digital Expression & Authorship.
  1. মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

    2225 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    11 মন্তব্য

    110 টি আইডিয়া ব্লগ

  2. Mayabi Ilmaz Megh

    210 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    10 টি আইডিয়া ব্লগ

  3. প্রিন্স ফ্রেরাসে

    127 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    6 টি আইডিয়া ব্লগ

  4. জামিনুল রেজা

    83 পয়েন্ট

    1 প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    4 টি আইডিয়া ব্লগ

...