Enolej Idea-তে লেখা প্রকাশের নিয়ম জানতে পূর্ণ নির্দেশনা দেখুন...
ই-নলেজ আইডিয়া হলো এমন একটি চিন্তানির্ভর প্ল্যাটফর্ম, যেখানে মানুষ শুধু তথ্য নয়, চিন্তা শেয়ার করে। এখানে জ্ঞানীরা একত্র হন, নতুনরা পথ খুঁজে পান, এবং সবাই মিলে তৈরি হয় একটি জ্ঞানভিত্তিক উম্মাহ। এটি জ্ঞানচর্চাকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ বানানোর একটি প্রচেষ্টা, যেখানে লেখা, ভাবা ও শেখা—সবই হয় মুক্তভাবে।আজই যোগ দিন!নিবন্ধন করতে এখানে ক্লিক করুন...।

-: ই-নলেজ আইডিয়া :-

আপনার লেখার কপিরাইট সুরক্ষা, স্বীকৃতি এবং ফ্রী প্রমোশন, সব এক প্ল্যাটফর্মে!

লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম আপনার লেখার অভিজ্ঞতাই বদলে দিবে। (পড়ুন...)

যদি আপনি হন পাঠক, কিংবা লেখক হিসেবে জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করেন:

যদি আপনার লেখাগুলোর কপিরাইট সুরক্ষা, সুশৃঙ্খলতা, আপনার ভেরিফাইড লেখক পোর্টফলিও এবং লেখক-পাঠকের কেন্দ্রীয় কমিউনিটিতে যুক্ত হতে চান, তাহলে নিবন্ধন করুন লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম “ই-নলেজ আইডিয়া” -এ!

এখানে অনেক প্রতিভাবান লেখক বিভিন্ন সিরিজে লিখছেন। আপনিও চাইলে আপনার লেখাগুলো সিরিজ আকারে সাজাতে পারবেন।

আপনার লেখক প্রোফাইল হবে একদম জীবন্ত পোর্টফলিও, এক ধরনের জীবন্ত বই। এখানে শুধু লেখক নয়, থাকবে পাঠকেরও সংস্পর্শ। ব্যাজ, পয়েন্ট, স্বীকৃতি এবং কপিরাইট সুরক্ষা তো থাকছেই, লেখাগুলো স্ক্যান করলেই আপনার নাম ভেসে উঠবে।

এটি তাই লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

চলুন বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক....

পূর্ণ নির্দেশনা [Full Guideline]

ই-নলেজ আইডিয়া – লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

শেষ প্রেসক্রিপশন

0 পছন্দ 0 অপছন্দ
50 বার প্রদর্শিত
করেছেন (27,603 পয়েন্ট)   28 জুন "গল্প" বিভাগে লেখা প্রকাশিত
পোষ্ট আইডি(eID) কার্ড↓ - লেখনীর স্বত্ব ও গুণের পরিচয়!

শেষ প্রেসক্রিপশন  image

মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন  

ছোটগল্প। ২৭ জুন, ২০২৬  


অভিক ফার্মেসি থেকে বের হলো। হাতে একটা ভাঁজ করা প্রেসক্রিপশন। ব্যস। ওষুধের প্যাকেট নেই। 


কাউন্টারের লোকটা কাগজটা ফিরিয়ে দিয়ে বলল, “মোট চার হাজার ছয়শো আশি টাকা।”  

অভিক পকেট হাতড়ে টাকা বের করল। গুনল। আটশো চল্লিশ। আর কিছু বলল না সে। কাগজটা ভাঁজ করে রাস্তায় নামল।


রাস্তার ওপারে নিশি দাঁড়িয়ে ছিল। অভিককে দেখেই সে হয়তো আন্দাজ করেছিল, ব্যাগ খালি। জিজ্ঞেস করল না কিছুই। শুধু পাশে এসে হাঁটা ধরল। 


অনেকটা পথ পেরিয়ে অভিক নিজে থেকেই বলল, “টাকা কম পড়ল।”  

নিশি সংক্ষেপে উত্তর দিল, “চলো।”


বাড়ি ঢুকতেই বাবা কাশতে কাশতে উঠে বসলেন। বিছানার পাশের স্টিলের গ্লাসটা কাঁপছিল।  

“ওষুধ আনলি?”  

অভিক চোখ সরিয়ে নিল। “একটা ওষুধ ছিল না। বলল কাল দেবে।”


বাবা কিছুক্ষণ ছেলের মুখের দিকে চেয়ে রইলেন। দেয়ালে টাঙানো পুরনো ক্যালেন্ডারের তারিখটা মার্চ থেকে আর বদলায়নি। তারপর তিনি ধীরে আবার শুয়ে পড়লেন। চাদরটা বুক পর্যন্ত টেনে।


রাতে খেতে বসে নিশি নিজের থালায় ভাত নিল সামান্য। এক চামচ ডাল, এক টুকরো আলু।  

অভিক তাকাল। “এত কম?”  

“ক্ষুধা নেই।”  

টেবিলের ওপরে মাছি উড়ছিল। অভিক আর কথা বাড়াল না।


পরদিন ভোরে সে আবার বের হলো। তিন মাস হলো চাকরিটা নেই। তারপর থেকে দিনগুলো প্রায় একই রকম কাটে। একটা অফিসের রিসেপশনে অপেক্ষা, একটা দোকানে ম্যানেজারের সঙ্গে দেখা, কোথাও হয়তো ছোটখাটো ইন্টারভিউ। শেষে উত্তরটা ঘুরেফিরে একই—“এখন লোক লাগবে না।” কখনো কখনো মনে হয়, উত্তরটা তারা মুখস্থ বলছে।


সন্ধ্যায় ফিরে দরজায় টোকা দিতেই নিশি খুলে দিল। অভিকের শার্টের কলার ঘামে ভেজা, চোখ লাল। নিশির বুঝতে দেরি হলো না। 


সে নিঃশব্দে আলমারি খুলল। ভেতর থেকে একটা লাল ভেলভেটের বাক্স বের করল। বিয়ের সময় পাওয়া সোনার দুলজোড়া। অভিক বাক্সটা খুলে দেখেই বন্ধ করে দিল।  

“না।”  

নিশি কিছুক্ষণ চুপ করে রইল। জানালা দিয়ে তখন লোডশেডিংয়ের অন্ধকার। সে আস্তে বলল, “দুল পরে আমি কী করব?”  

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর অভিকের জানা ছিল না।


পরদিন দুল বিক্রি হলো। নিউমার্কেটের একটা দোকানে, যেখানে সাইনবোর্ডে লেখা ‘পুরাতন সোনা ক্রয়’। ওষুধ কেনা হলো। চার পাতা ট্যাবলেট, একটা ইনহেলার, একটা সিরাপ।


বাবা প্যাকেটটা হাতে নিয়ে কেবল জিজ্ঞেস করলেন, “অনেক টাকা লাগল?”  

অভিক হাসল। মিথ্যে হাসি হতে পারে। “না।”  

বাবা আর ঘাঁটালেন না। ছেলের হাতটা একবার চেপে ধরলেন শুধু। তাঁর হাত ঠান্ডা, কাঁপছিল।


এরপর দুদিনে অবস্থা আরও খারাপ হলো। খাওয়া বন্ধ হয়ে গেল প্রায়। কথা বলতেন কম। চোখ দুটো বেশিরভাগ সময় বোজা।


তৃতীয় দিনের ভোরে নিশি পানি খাওয়াতে গেল। গ্লাসটা বাবার ঠোঁটে ছোঁয়াল। তিনি আর চোখ খুললেন না।


ঘরটা হঠাৎ নীরব হয়ে গেল। এমন নীরবতা যেখানে নিঃশ্বাসের শব্দও বেশি শোনায়। সব কাজ শেষ হতে হতে সন্ধ্যা। 


আত্মীয়রা একে একে চলে গেল। কেউ কেউ বলে গেল, “ধৈর্য ধরো”। ঘরে তখন শুধু অভিক আর নিশি। 


বিছানার পাশের ছোট টেবিলে প্রেসক্রিপশনটা পড়ে ছিল। কোণায় একটু ভাঁজ, ডাক্তারের সিলের কালিটা হালকা ছড়িয়ে গেছে। নিশি সেটা তুলে অভিকের হাতে দিল। 


অভিক অনেকক্ষণ তাকিয়ে রইল। এই কাগজটা নিয়েই সে প্রথম দিন ফার্মেসি থেকে ফিরেছিল—খালি হাতে। কাগজটা সে ধীরে ভাঁজ করল। তারপর বুকের কাছে চেপে ধরল। 


নিশি পাশে এসে দাঁড়াল। কিছু বলল না। অভিকও না। 


ঘরের ভেতর তখন শুধু দেয়ালঘড়ির শব্দ। টিক। টিক। টিক।

আমি মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন, ই-নলেজ এর একজন যাচাইকৃত লেখক। আমি এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত আছি প্রায় 1 বছর ধরে, এবং এ পর্যন্ত 1366 টি লেখা ও 0 টি প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছি। আমার অর্জিত মোট পয়েন্ট 27603। ই-নলেজ আমার চিন্তা, জ্ঞান ও কণ্ঠকে সবার মাঝে পৌঁছে দিতে সহায়তা করেছে।
সংযুক্ত তথ্য
নিজস্ব আইডিয়া, ই-নলেজ আইডিয়া এ প্রথম প্রকাশিত
Enolej ID(eID): 4161
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।

এই লেখকের অন্যান্য সিরিজ


বিজ্ঞাপন: Remembering...

Image

এই ব্লগটির প্রতিক্রিয়া দিতে দয়া করে প্রবেশ কিংবা নিবন্ধন করুন ।

সংশ্লিষ্ট ব্লগগুচ্ছ


image
শেষ এক বছর মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ছোট গল্প | ১ সেপ্টেম্বর  ২০২৬ সেদিন রাতে রাশেদের ঘু[...] বিস্তারিত পড়ুন...
37 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
শেষ আপসের পর মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন বিশ্লেষণধর্মী | ২৪ আগস্ট ২০২৬ “কথা দিচ্ছি শবযাত[...] বিস্তারিত পড়ুন...
41 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
যে চিঠি কখনো পোস্ট হয়নি মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ছয় পর্বের ছোটগল্প ২৪ আগষ্ট, ২০২৬ প[...] বিস্তারিত পড়ুন...
46 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
সিরিজের নামঃ- নিজের জীবনটাও ছিল গল্প- ১ শেষ শখ মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন  ছোট গল্প । ১০ আõ[...] বিস্তারিত পড়ুন...
82 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
সিরিজ -আমাদের না-বলা কথা। গল্প-০৭ শেষ ফুলটা মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন  ছোট গল্প। ৮ আগষ্[...] বিস্তারিত পড়ুন...
40 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ
📢 Notice Board
No active notices
ই-নলেজ আইডিয়া(Enolej Idea) হলো লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম যেখানে যেকোনো ধরনের লেখা—সাহিত্য, বিজ্ঞান, গবেষণা নোট, মতামত, প্রতিবাদী লেখা, ধর্মীয় চিন্তা, ব্যক্তিগত নোট বা দৈনন্দিন ভাবনা—নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা যায়। এটি সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ছড়িয়ে থাকা অগোছালো কনটেন্টকে একটি ভেরিফাইড, রেফারেন্সযোগ্য ডিজিটাল পোর্টফোলিওতে রূপান্তর করে, যা ব্যক্তির বুদ্ধিবৃত্তিক পরিচিতি ও দীর্ঘমেয়াদি ব্র্যান্ডিং গড়ে তোলে। প্রতিটি লেখার জন্য ইউনিক ডিজিটাল আইডি (eID) ও কপিরাইট সুরক্ষা প্রদান করা হয়, ফলে লেখা চুরি হলেও আসল লেখক সহজে শনাক্তযোগ্য থাকে। ধারাবাহিক কনটেন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাজানো, এক ক্লিকেই ই-বুক বা বইয়ের খসড়ায় রূপান্তর, ব্যক্তিগত খসড়া গোপন রাখা এবং একটি সক্রিয় কমিউনিটির মাধ্যমে পাঠকের সাথে সরাসরি সংযোগ—সব সুবিধাই এখানে একসাথে পাওয়া যায়। ই-নলেজ আইডিয়া মূলত ব্যক্তির চিন্তা ও জ্ঞানকে একটি স্থায়ী, সুরক্ষিত ও সার্বজনীনভাবে স্বীকৃত ডিজিটাল লেখক ইকোসিস্টেমে রূপ দেয়। IDEA = Independent Digital Expression & Authorship.
  1. মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

    1504 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    74 টি আইডিয়া ব্লগ

  2. রফিক আতা

    350 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    17 টি আইডিয়া ব্লগ

  3. প্রিন্স ফ্রেরাসে

    125 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    6 টি আইডিয়া ব্লগ

  4. অমিত দত্ত দিলু

    124 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    6 টি আইডিয়া ব্লগ

...