Enolej Idea-তে লেখা প্রকাশের নিয়ম জানতে পূর্ণ নির্দেশনা দেখুন...
ই-নলেজ আইডিয়া হলো এমন একটি চিন্তানির্ভর প্ল্যাটফর্ম, যেখানে মানুষ শুধু তথ্য নয়, চিন্তা শেয়ার করে। এখানে জ্ঞানীরা একত্র হন, নতুনরা পথ খুঁজে পান, এবং সবাই মিলে তৈরি হয় একটি জ্ঞানভিত্তিক উম্মাহ। এটি জ্ঞানচর্চাকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ বানানোর একটি প্রচেষ্টা, যেখানে লেখা, ভাবা ও শেখা—সবই হয় মুক্তভাবে।আজই যোগ দিন!নিবন্ধন করতে এখানে ক্লিক করুন...।

-: ই-নলেজ আইডিয়া :-

আপনার লেখার কপিরাইট সুরক্ষা, স্বীকৃতি এবং ফ্রী প্রমোশন, সব এক প্ল্যাটফর্মে!

লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম আপনার লেখার অভিজ্ঞতাই বদলে দিবে। (পড়ুন...)

যদি আপনি হন পাঠক, কিংবা লেখক হিসেবে জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করেন:

যদি আপনার লেখাগুলোর কপিরাইট সুরক্ষা, সুশৃঙ্খলতা, আপনার ভেরিফাইড লেখক পোর্টফলিও এবং লেখক-পাঠকের কেন্দ্রীয় কমিউনিটিতে যুক্ত হতে চান, তাহলে নিবন্ধন করুন লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম “ই-নলেজ আইডিয়া” -এ!

এখানে অনেক প্রতিভাবান লেখক বিভিন্ন সিরিজে লিখছেন। আপনিও চাইলে আপনার লেখাগুলো সিরিজ আকারে সাজাতে পারবেন।

আপনার লেখক প্রোফাইল হবে একদম জীবন্ত পোর্টফলিও, এক ধরনের জীবন্ত বই। এখানে শুধু লেখক নয়, থাকবে পাঠকেরও সংস্পর্শ। ব্যাজ, পয়েন্ট, স্বীকৃতি এবং কপিরাইট সুরক্ষা তো থাকছেই, লেখাগুলো স্ক্যান করলেই আপনার নাম ভেসে উঠবে।

এটি তাই লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

চলুন বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক....

পূর্ণ নির্দেশনা [Full Guideline]

ই-নলেজ আইডিয়া – লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

অদৃশ্য মানুষ

0 পছন্দ 0 অপছন্দ
386 বার প্রদর্শিত
করেছেন (25,432 পয়েন্ট)   20 মার্চ "গল্প" বিভাগে লেখা প্রকাশিত
পোষ্ট আইডি(eID) কার্ড↓ - লেখনীর স্বত্ব ও গুণের পরিচয়!

অদৃশ্য মানুষimage

মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

ছোটগল্প। মার্চ ২০, ২০২৬


শহরের ভিড়ে সে হাঁটে। প্রতিদিন।

দেখা যায়—তবু চোখে লাগে না।


ভোর ঠিকমতো ফোটেনি তখন। আলোটা কেমন মলিন। ফুটপাতের ধুলো নড়ে উঠছে, চায়ের কেটলিতে পানি ফুটছে, ধোঁয়া উঠে এসে মুখে লাগে। এই সবকিছুর মাঝখানেই রফিক দাঁড়িয়ে থাকে—কখন যে দাঁড়িয়েছে, সে নিজেও বুঝতে পারে না।


তার নাম এখানে কেউ জিজ্ঞেস করে না। দরকারও পড়ে না।

“এই, মিস্ত্রি!”—এই ডাকেই কাজ চলে।


কখনো শুধু হাত নাড়ে কেউ—এদিকে আয়।


রফিক এগিয়ে যায়।

কথা কম বলে।

মাথা নাড়ে—হ্যাঁ, না, যেটা দরকার।


ঘুম তার চোখে আছে কি নেই—ওটা নিয়ে ভাবার সময় নেই। বরং মনে হয়, ঘুম অনেক আগেই শরীর ছেড়ে গেছে। থেকে গেছে শুধু অভ্যাস।

সকাল মানেই দাঁড়িয়ে থাকা।

কাজ মিললে দিন। না মিললে… থাক।


আজ কাজ মেলে।


একটা পিকআপ থামে।

—“যাবি?”

—“কী কাজ?”

—“উপর উঠাইতে হবে।”


এর বেশি কিছু জানার দরকার হয় না।

সে উঠে পড়ে।


দুপুরের দিকে রোদটা ধারালো হয়ে যায়। ছাদের সিমেন্ট গরম হয়ে ওঠে। পায়ের তলায় লাগে।

রফিক বালতি তোলে। নামায়। আবার তোলে।


একসময় হাতের তালুতে টান ধরে।

পুরনো ফোস্কার ওপর নতুন চামড়া উঠেছে—সাদা, নরম। সেখানে চাপ পড়লে জ্বালা করে।


সে থামে না।


পাশের লোকটা বলে—

“এই কাজ করতে করতে মরে যাবি দেখিস।”


রফিক হালকা হেসে ফেলে।

“মরলে তো আর কাজ করতে হবে না।”


লোকটা একটু চুপ থাকে। তারপর বলে—

“এই দালানটা শেষ হইলে কোথায় যাবি?”


রফিক নিচে তাকায়। রাস্তা। মানুষ। গাড়ি। সব চলছে।

“আরেকটা ধরমু।”


কথা শেষ।


বিকেলের দিকে তাকে অন্য একটা বিল্ডিংয়ে পাঠানো হয়।


নতুন বিল্ডিং। চকচকে। গেটের সামনে দাঁড়িয়ে থাকে রফিক। ভেতরে ঢুকবে—কাজ আছে।


গার্ড হাত তুলে থামায়।

“এই এই—কোথায়?”


—“উপরে কাজ আছে।”


গার্ড তাকায়। মাথা থেকে পা পর্যন্ত। একটু বেশি সময় নিয়ে।

তারপর বলে—

“এইভাবে ঢোকা যাবে না।”


রফিক দাঁড়িয়ে থাকে।


“এইভাবে”—মানে কী?


সে নিজের জামার দিকে তাকায়। ধুলো। ঘাম।

হাত তুলে দেখে—আঙুলে সিমেন্ট শুকিয়ে সাদা হয়ে আছে।


সে হাত দুটো প্যান্টে ঘষে। একবার। আবার।

যেন মুছে ফেললে সব ঠিক হয়ে যাবে।


মুছে যায় না।


সে কিছু বলতে চায়। মুখ খুলে—

কোনো শব্দ বের হয় না।


গার্ড তখন আর তাকাচ্ছে না। অন্যদিকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে।


রফিক সরে যায়।


ফিরে আসার পথে শহরটা বদলে যায়।

লাইট জ্বলে। কাঁচের ভেতরে জামা ঝুলে থাকে—ঝকঝকে। কেউ কিনছে, কেউ দেখছে। কেউ শুধু দাঁড়িয়ে।


একটা ছেলে কাঁচে হাত দিয়ে বলে—

“এইটা লাগবে।”


রফিক দাঁড়ায়।


তার ছেলের কথা মনে পড়ে। সজিব।

শেষবার ফোনে বলছিল—

“আব্বা, আমারে একটা ব্যাগ কিনে দিবা?”


সেদিন সে চুপ ছিল।

পকেটে টাকা ছিল—কিন্তু হিসাব মিলছিল না।

সে নিজেই কলটা কেটে দিয়েছিল।


আজ সে নিজে ফোন দিতে চায়।


ফোনটা বের করে। স্ক্রিন জ্বলে ওঠে।

নামটা ভেসে থাকে কিছুক্ষণ।


সে তাকিয়ে থাকে।

তারপর স্ক্রিন বন্ধ করে ফেলে।


হাঁটা শুরু করে।


রাতে সে ফিরে আসে তার ঘরে।

টিনের চাল। গরম জমে থাকে ভেতরে।

মাটির ওপর চাটাই। চারজন মানুষ।


ভাত। ডাল।

কেউ একজন বলে—“লবণ আছে?”

আরেকজন হাত বাড়িয়ে দেয়।


খাওয়া শেষ।


পাশের লোকটা বলে—

“শোন… আজ গার্ডটা কী কইল?”


রফিক কিছু বলে না।

তবু বোঝা যায়।


কিছুক্ষণ পর সে বলে—

“কইল, এইভাবে ঢোকা যাবে না।”


লোকটা হেসে ফেলে।

“এইভাবে মানে?”


রফিক হাতের দিকে তাকায়।

নখের ভেতর সিমেন্ট ঢুকে আছে। পুরো পরিষ্কার হয় না।


“এইভাবেই।”


আর কথা বাড়ে না।


রাতে শুয়ে থাকতে থাকতে ঘুম আসে না।

গরম। মশা। শরীরের ভেতরে একটা অস্বস্তি।


সে উঠে বাইরে যায়।


আকাশে তারা আছে—কিন্তু স্পষ্ট না। শহরের আলোয় ঝাপসা লাগে।

সে তাকিয়ে থাকে।


সে দাঁড়িয়ে আছে, না ভেসে আছে—বুঝতে পারে না।


প্রশ্নটা শব্দ পায় না।


কিছুক্ষণ পর সে হালকা হাসে।


ভোর আবার আসে।


একই জায়গা। একই ফুটপাত।

চায়ের ধোঁয়া। লোকজন। ডাক।


“এই, মিস্ত্রি!”


রফিক একটু দেরি করে।

যেন ডাকে সাড়া দেওয়ার আগে—ডাকটা তার জন্য কি না, সেটা বুঝে নিতে হয়।


তারপর এগিয়ে যায়।


এই শহরে তার নাম লাগে না।

তার মুখও না।


তবু কাজ চলে।


সে হাঁটে।

দেখা যায়—তবু ধরা পড়ে না।


সে জানে না—কতজন মানুষ তাকে দেখে।

চিনতে পারে কি না—সেটা কেউ বলে না।

আমি মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন, ই-নলেজ এর একজন যাচাইকৃত লেখক। আমি এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত আছি প্রায় 10 মাস 3 সপ্তাহ ধরে, এবং এ পর্যন্ত 1259 টি লেখা ও 0 টি প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছি। আমার অর্জিত মোট পয়েন্ট 25432। ই-নলেজ আমার চিন্তা, জ্ঞান ও কণ্ঠকে সবার মাঝে পৌঁছে দিতে সহায়তা করেছে।
সংযুক্ত তথ্য
নিজস্ব আইডিয়া, ই-নলেজ আইডিয়া এ প্রথম প্রকাশিত
Enolej ID(eID): 3634
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।

এই লেখকের অন্যান্য সিরিজ


বিজ্ঞাপন: Remembering...

Image

এই ব্লগটির প্রতিক্রিয়া দিতে দয়া করে প্রবেশ কিংবা নিবন্ধন করুন ।

সংশ্লিষ্ট ব্লগগুচ্ছ


image
  মাইক্রো এনজিওগ্রাম: হৃদয়ের ভেতরের অদৃশ্য পথ একজন হৃদরোগীর জবানবন্দি মোহাম্মদ জ&[...] বিস্তারিত পড়ুন...
22 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
শ্রাবণদিনের হাহাকার দ্বিতীয় পর্ব: অদৃশ্য ছায়া মোহম্মদ জাহিদ হোসেন  ২২ জুলাই, ২[...] বিস্তারিত পড়ুন...
18 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
পুরুষ মানুষ কাঁদে না মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ছোটগল্প | ১৯ আগস্ট ২০২৬ ছোটবেলায় অভিক এক[...] বিস্তারিত পড়ুন...
5 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
সম্পর্কের শেষ কথাগুলো পর্ব ১ — কাছের মানুষ দূরে মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন বিশ্লেষণধর্[...] বিস্তারিত পড়ুন...
13 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
নিশি উপাখ্যান সিরিজ   গল্প-৬   বন্ধ দরজার মানুষ   মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন   ২৯ জুন,২[...] বিস্তারিত পড়ুন...
31 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ
📢 Notice Board
No active notices
ই-নলেজ আইডিয়া(Enolej Idea) হলো লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম যেখানে যেকোনো ধরনের লেখা—সাহিত্য, বিজ্ঞান, গবেষণা নোট, মতামত, প্রতিবাদী লেখা, ধর্মীয় চিন্তা, ব্যক্তিগত নোট বা দৈনন্দিন ভাবনা—নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা যায়। এটি সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ছড়িয়ে থাকা অগোছালো কনটেন্টকে একটি ভেরিফাইড, রেফারেন্সযোগ্য ডিজিটাল পোর্টফোলিওতে রূপান্তর করে, যা ব্যক্তির বুদ্ধিবৃত্তিক পরিচিতি ও দীর্ঘমেয়াদি ব্র্যান্ডিং গড়ে তোলে। প্রতিটি লেখার জন্য ইউনিক ডিজিটাল আইডি (eID) ও কপিরাইট সুরক্ষা প্রদান করা হয়, ফলে লেখা চুরি হলেও আসল লেখক সহজে শনাক্তযোগ্য থাকে। ধারাবাহিক কনটেন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাজানো, এক ক্লিকেই ই-বুক বা বইয়ের খসড়ায় রূপান্তর, ব্যক্তিগত খসড়া গোপন রাখা এবং একটি সক্রিয় কমিউনিটির মাধ্যমে পাঠকের সাথে সরাসরি সংযোগ—সব সুবিধাই এখানে একসাথে পাওয়া যায়। ই-নলেজ আইডিয়া মূলত ব্যক্তির চিন্তা ও জ্ঞানকে একটি স্থায়ী, সুরক্ষিত ও সার্বজনীনভাবে স্বীকৃত ডিজিটাল লেখক ইকোসিস্টেমে রূপ দেয়। IDEA = Independent Digital Expression & Authorship.
  1. মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

    1598 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    79 টি আইডিয়া ব্লগ

  2. Monsoon Harmony

    904 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    45 টি আইডিয়া ব্লগ

  3. Mayabi Ilmaz Megh

    743 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    37 টি আইডিয়া ব্লগ

  4. রফিক আতা

    367 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    18 টি আইডিয়া ব্লগ

...