Enolej Idea-তে লেখা প্রকাশের নিয়ম জানতে পূর্ণ নির্দেশনা দেখুন...
ই-নলেজ আইডিয়া হলো এমন একটি চিন্তানির্ভর প্ল্যাটফর্ম, যেখানে মানুষ শুধু তথ্য নয়, চিন্তা শেয়ার করে। এখানে জ্ঞানীরা একত্র হন, নতুনরা পথ খুঁজে পান, এবং সবাই মিলে তৈরি হয় একটি জ্ঞানভিত্তিক উম্মাহ। এটি জ্ঞানচর্চাকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ বানানোর একটি প্রচেষ্টা, যেখানে লেখা, ভাবা ও শেখা—সবই হয় মুক্তভাবে।আজই যোগ দিন!নিবন্ধন করতে এখানে ক্লিক করুন...।

-: ই-নলেজ আইডিয়া :-

আপনার লেখার কপিরাইট সুরক্ষা, স্বীকৃতি এবং ফ্রী প্রমোশন, সব এক প্ল্যাটফর্মে!

লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম আপনার লেখার অভিজ্ঞতাই বদলে দিবে। (পড়ুন...)

যদি আপনি হন পাঠক, কিংবা লেখক হিসেবে জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করেন:

যদি আপনার লেখাগুলোর কপিরাইট সুরক্ষা, সুশৃঙ্খলতা, আপনার ভেরিফাইড লেখক পোর্টফলিও এবং লেখক-পাঠকের কেন্দ্রীয় কমিউনিটিতে যুক্ত হতে চান, তাহলে নিবন্ধন করুন লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম “ই-নলেজ আইডিয়া” -এ!

এখানে অনেক প্রতিভাবান লেখক বিভিন্ন সিরিজে লিখছেন। আপনিও চাইলে আপনার লেখাগুলো সিরিজ আকারে সাজাতে পারবেন।

আপনার লেখক প্রোফাইল হবে একদম জীবন্ত পোর্টফলিও, এক ধরনের জীবন্ত বই। এখানে শুধু লেখক নয়, থাকবে পাঠকেরও সংস্পর্শ। ব্যাজ, পয়েন্ট, স্বীকৃতি এবং কপিরাইট সুরক্ষা তো থাকছেই, লেখাগুলো স্ক্যান করলেই আপনার নাম ভেসে উঠবে।

এটি তাই লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

চলুন বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক....

পূর্ণ নির্দেশনা [Full Guideline]

ই-নলেজ আইডিয়া – লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

শেষ কথাটা আর বলা হলো না

0 পছন্দ 0 অপছন্দ
450 বার প্রদর্শিত
করেছেন (27,848 পয়েন্ট)   14 ফেব্রুয়ারি "গল্প" বিভাগে লেখা প্রকাশিত
পোষ্ট আইডি(eID) কার্ড↓ - লেখনীর স্বত্ব ও গুণের পরিচয়!

শেষ কথাটা আর বলা হলো না

মোহাম্মাদ জাহিদ হোসেন

ছোটগল্প | ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০২৬


বিকেলের আলো জানালার কাঁচে আটকে ছিল। ঘরের ভেতর আধা অন্ধকার।

অভিক টেবিলে বসে পুরোনো খাতার পাতায় আঙুল বোলাচ্ছিল। খাতাটা নিশির। শেষ পাতায় তার হাতের লেখা—

“সব কথা না বললেও চলে, তাই না?”


তখন সে হেসেছিল।

আজ উত্তরটা গলায় কাঁটার মতো আটকে আছে।


নিশির চলে যাওয়াটা নাটকীয় ছিল না। কোনো ঝগড়া, কান্না বা প্রতিশ্রুতি ভাঙা নয়।

শুধু এক বিকেলে সে বলেছিল,

“মাকে নিয়ে বাইরে যেতে হবে। চিকিৎসা দীর্ঘ হবে।”


অভিক মাথা নেড়েছিল। তার তখন ভবিষ্যতের হিসাব—মাসিক আয়, বাড়ির ঋণ, বাবার ওষুধ, মায়ের ইনসুলিন। ভালোবাসা তার কাছে তখন বিলাসিতা।

সে বলেছিল, “যাও। তোমার থাকা উচিত ওখানে।”


নিশি তাকিয়ে ছিল কিছুক্ষণ। তার চোখে কোনো আবেগ ছিল না, বরং স্থির জেদ।

যেন সে অভিকের মুখোমুখি নয়, নিজের অন্তর্দ্বন্দ্বের সঙ্গে দাঁড়িয়ে।

সে শেষবারের মতো প্রশ্ন করেছিল,

“তুমি একবারও বলবে না—থাকো?”


অভিক চুপ করে ছিল। জানত, যদি বলে ‘থাকো’, তার কাঁধে চেপে পড়বে আরেকটি পরিবারের দায়িত্ব। সে দায় নেওয়ার মতো সাহসী ছিল না।

নিশি আর কিছু বলেনি। অভিকের নীরবতাকে অনুমতি না ভেবে, সে এটাকে অবহেলা বুঝেছিল।


প্রথমে নিয়মিত কথা হতো। তারপর কমতে কমতে একদিন বন্ধ।

শেষ বার্তাটা ছিল খুব ছোট—

“এখানেই কাজ পেয়েছি। ফিরতে দেরি হবে। ভালো থেকো।”


অভিক উত্তর লিখেছিল—

“থাকো।”

তারপর মুছে দিয়েছিল। শব্দটার ভেতর তখন আর কোনো আবেগ ছিল না, ছিল শুধু নিজের অপরাধবোধ থেকে মুক্তির চেষ্টা।


দিনগুলো ধীরে ধীরে চলে গেল। অভিক কলেজে, বাসায়, খাতা-পত্রের মাঝে আটকা পড়েছিল। কিন্তু নিশির অভাব তার চারপাশের সবকিছুকে ঢেকে রাখছিল—হাওয়ার নরম দোলা, টেবিলের শাঁস, এমনকি ঘরের আলোও।

প্রতিদিন দুপুরে অভিক জানালার পাশে দাঁড়িয়ে বাইরে তাকাত, যেন কোনো ইঙ্গিত খুঁজে পাচ্ছিল। মানুষের পদচারণা, গাড়ির শব্দ, শিশুদের হাসি—সবই নিশির অনুপস্থিতি মনে করিয়ে দিত।


এক বিকেল, বাতাসে মাটির নরম গন্ধ। অভিক রাস্তার পাশের লম্বা গাছের ছায়া লক্ষ্য করল। বাতাসে লুপ্ত শব্দের মতো—কেউ বলছে না, কেউ ডাকছে না—কিন্তু মনে হচ্ছে, নিশি এখনও কিছুটা এখানে আছে। সে হাত বাড়াল, যেন নিঃশব্দ কাঁচের দেয়ালকে স্পর্শ করতে চাচ্ছে, কিন্তু খালি হাওয়ায় হাতটা পড়ে।


ছয় মাস পর এক সন্ধ্যায় কলেজের সামনে দাঁড়িয়ে অভিক বুঝল—পৃথিবী থেমে থাকে না। বেঞ্চে নতুন নাম, নতুন মুখ।


তার ফোনে নিশির পুরোনো নম্বরটি সেভ ছিল। একদিন ইচ্ছে হলো ফোন করার। কিন্তু রিং হওয়ার আগেই লাইন কেটে দিল।


অভিক মনে করল, নিশি হয়তো ফোনটা ধরবে না। আর ধরলেও কী বলবে? যে মানুষটা সংকটের মুখে তাকে একলা পাঠিয়েছিল, সে কি এখন তার শূন্যতা পূরণ করতে এসেছে?


কয়েকদিন পর এক পরিচিত সিনিয়রের কাছ থেকে সে শুনল, নিশি ওই শহরেই আছে, একটি ছোট ফার্মে চাকরি করছে। সিনিয়র বলেছিলেন,

“ও খুব পরিবর্তন হয়ে গেছে। চুপচাপ, কাজে মনোযোগী। মায়ের সঙ্গে থাকে। তবে… মনে হয়, ও নিজেকে এখানকার জীবন থেকে আলাদা করতে চেয়েছিল।”


অভিকের বুক ভেঙে গেল। সত্যিই কি তাই? নাকি তার হিসাব-নিকাশ, বাস্তববাদী উদাসীনতা নিশিকে তাড়িয়ে দিয়েছে?


নিশি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছবি দেয় না। প্রোফাইল পিকচারটি মাস ছয়েক আগের। সেখানে সে হাসছে, কিন্তু চোখের কোণে রেখা পড়েছে—ছায়ার মতো, অদৃশ্য কিন্তু ভারী। অভিক ছবিটা বড় করে দেখল না। ফোনটি উল্টে রেখে দিল।


সেদিন রাতে অভিক প্রথমবার বুঝল—ভালোবাসা হঠাৎ হারিয়ে যায় না। এটি ধীরে ধীরে, নিঃশব্দে, শ্বাসরুদ্ধ করে মরে যায়। কিছু মানুষের চলে যাওয়া হয়তো হারানো নয়; এটি নিজেকে ফিরে পাওয়ার প্রথম পদক্ষেপ। নিশি হয়তো ঠিক তাই করেছে।


অভিকের মনে হলো—শুধু ভালোবাসার অভাব নয়, অভাবিত স্পর্শ, অভাবিত শব্দ, অভাবিত হেসে ওঠা—সবই তাকে ঘিরে রাখছে। রাতের নীরবতা, ঘরের ছায়া, বাতাসের কণ্ঠে যেন নিশির উপস্থিতি আছে, কিন্তু কখনো স্পর্শ করা যায় না।


পরদিন ক্লাসে সে বোর্ডে লিখল—

“যদি আমি বলতাম…”


শিক্ষার্থীরা তাকিয়ে রইল। অভিক চক ধরে কিছুক্ষণ চুপ করে রইল। সে জানত, সেই এক শব্দই—‘থাকো’—হয়তো নিশিকে থামিয়ে দিতে পারত। কিন্তু থামলেও, তারা কি সত্যিই একে অপরকে ঠিক রাখতে পারত? না।


তারা দুজনেই জানত, একে অপরকে ঘিরে ধরে হতাশার বৃত্ত তৈরি হতো, যা ভাঙার ক্ষমতা তাদের নেই। তাই নিশি নিজেই পা বাড়িয়ে চলে গিয়েছিল।


অভিক চক নামিয়ে রাখল। কিন্তু বুকের ভেতরে যে জায়গায় নিশির উপস্থিতি লুকিয়ে ছিল, সেটি এখনও শূন্য।

ভালোবাসা হারানো হয় নীরবতায়, নিঃশব্দে। হঠাৎ না, বরং ধীরে ধীরে—শ্বাসরুদ্ধ করে, অবচেতনভাবে মরে যায়।


এটি কোনো বড় ট্র্যাজেডি নয়; এটি হয়তো শুধু একটি শব্দ না বলা, বা বলার সময় না পাওয়া।

সেই রাতের বাতাসে অভিক জানল—কিছু মানুষ চলে যায় এমনভাবে, যেন কখনও ছিলই না। কিন্তু তাদের স্মৃতি, তাদের অব্যক্ত ভালোবাসা, এবং তাদের ধীর নিঃশ্বাস—সবই বেঁচে থাকে।

অভিক জানত, এই নিঃশব্দ ইতিহাস তার সঙ্গে চিরকাল থাকবে। কখনও পূর্ণ হবে না, কখনও ধীরে ধীরে মুছে যাবে না।


বাইরের হালকা বাতাসে, আকাশে সূর্যাস্তের রঙ মিশে আছে। অভিক জানল, কিছু হারানো ভালোবাসা হয়তো তার নিঃশব্দ উপাদান হবে—চোখে অশ্রু নিয়ে, বুকের কোণে ভারী অনুভূতি রেখে। কিন্তু সেই অভাবিত ভালোলাগার স্থিরতা তাকে শেখায়—মানুষ চলে যায়, কিন্তু স্মৃতি, অনুভূতি এবং ধীর নিঃশ্বাস বেঁচে থাকে।


#প্রেম #দুর্দশা #মনস্তাত্ত্বিক #ট্র্যাজেডি #অভিকওনিশিimage


আমি মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন, ই-নলেজ এর একজন যাচাইকৃত লেখক। আমি এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত আছি প্রায় 1 বছর 1 সপ্তাহ ধরে, এবং এ পর্যন্ত 1378 টি লেখা ও 0 টি প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছি। আমার অর্জিত মোট পয়েন্ট 27848। ই-নলেজ আমার চিন্তা, জ্ঞান ও কণ্ঠকে সবার মাঝে পৌঁছে দিতে সহায়তা করেছে।
সংযুক্ত তথ্য
নিজস্ব আইডিয়া, ই-নলেজ আইডিয়া এ প্রথম প্রকাশিত
Enolej ID(eID): 3432
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।

এই লেখকের অন্যান্য সিরিজ


বিজ্ঞাপন: Remembering...

Image

এই ব্লগটির প্রতিক্রিয়া দিতে দয়া করে প্রবেশ কিংবা নিবন্ধন করুন ।

সংশ্লিষ্ট ব্লগগুচ্ছ


image
শেষ কথাটা আর বলা হলো না মোহাম্মাদ জাহিদ হোসেন ছোটগল্প | ফেব্রুয়ারি ১৬, ২০২৬ বিকেলের[...] বিস্তারিত পড়ুন...
403 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
যে কথাগুলো আর বলা হল না মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন গদ্যকবিত। ০৩ ডিসেম্বর, ২০২৫ তুই চলে õ[...] বিস্তারিত পড়ুন...
544 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
শেষ পর্যন্ত বলা হয়নি মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ছোটগল্প। ২১ জুন, ২০২৬ বাবার মৃত্যুর পনে[...] বিস্তারিত পড়ুন...
99 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
সিরিজ -আমাদের না-বলা কথা। গল্প-০১ এক মুঠো ভাত মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন  ছোট গল্প। ৫ আগষ্[...] বিস্তারিত পড়ুন...
52 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
ক্লান্ত নূপুরের ধ্বনি তৃতীয় পর্ব: না-বলা কথা মোহম্মদ জাহিদ হোসেন  ২৩ জুলাই, ২০২৬ [...] বিস্তারিত পড়ুন...
42 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ
📢 Notice Board
No active notices
ই-নলেজ আইডিয়া(Enolej Idea) হলো লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম যেখানে যেকোনো ধরনের লেখা—সাহিত্য, বিজ্ঞান, গবেষণা নোট, মতামত, প্রতিবাদী লেখা, ধর্মীয় চিন্তা, ব্যক্তিগত নোট বা দৈনন্দিন ভাবনা—নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা যায়। এটি সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ছড়িয়ে থাকা অগোছালো কনটেন্টকে একটি ভেরিফাইড, রেফারেন্সযোগ্য ডিজিটাল পোর্টফোলিওতে রূপান্তর করে, যা ব্যক্তির বুদ্ধিবৃত্তিক পরিচিতি ও দীর্ঘমেয়াদি ব্র্যান্ডিং গড়ে তোলে। প্রতিটি লেখার জন্য ইউনিক ডিজিটাল আইডি (eID) ও কপিরাইট সুরক্ষা প্রদান করা হয়, ফলে লেখা চুরি হলেও আসল লেখক সহজে শনাক্তযোগ্য থাকে। ধারাবাহিক কনটেন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাজানো, এক ক্লিকেই ই-বুক বা বইয়ের খসড়ায় রূপান্তর, ব্যক্তিগত খসড়া গোপন রাখা এবং একটি সক্রিয় কমিউনিটির মাধ্যমে পাঠকের সাথে সরাসরি সংযোগ—সব সুবিধাই এখানে একসাথে পাওয়া যায়। ই-নলেজ আইডিয়া মূলত ব্যক্তির চিন্তা ও জ্ঞানকে একটি স্থায়ী, সুরক্ষিত ও সার্বজনীনভাবে স্বীকৃত ডিজিটাল লেখক ইকোসিস্টেমে রূপ দেয়। IDEA = Independent Digital Expression & Authorship.
  1. মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

    244 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    3 মন্তব্য

    12 টি আইডিয়া ব্লগ

  2. প্রিন্স ফ্রেরাসে

    122 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    6 টি আইডিয়া ব্লগ

  3. ফাহিম আহমাদ

    61 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    3 টি আইডিয়া ব্লগ

  4. শামীমা আকতার

    41 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    2 টি আইডিয়া ব্লগ

...