Enolej Idea-তে লেখা প্রকাশের নিয়ম জানতে পূর্ণ নির্দেশনা দেখুন...
ই-নলেজ আইডিয়া হলো এমন একটি চিন্তানির্ভর প্ল্যাটফর্ম, যেখানে মানুষ শুধু তথ্য নয়, চিন্তা শেয়ার করে। এখানে জ্ঞানীরা একত্র হন, নতুনরা পথ খুঁজে পান, এবং সবাই মিলে তৈরি হয় একটি জ্ঞানভিত্তিক উম্মাহ। এটি জ্ঞানচর্চাকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ বানানোর একটি প্রচেষ্টা, যেখানে লেখা, ভাবা ও শেখা—সবই হয় মুক্তভাবে।আজই যোগ দিন!নিবন্ধন করতে এখানে ক্লিক করুন...।

-: ই-নলেজ আইডিয়া :-

আপনার লেখার কপিরাইট সুরক্ষা, স্বীকৃতি এবং ফ্রী প্রমোশন, সব এক প্ল্যাটফর্মে!

লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম আপনার লেখার অভিজ্ঞতাই বদলে দিবে। (পড়ুন...)

যদি আপনি হন পাঠক, কিংবা লেখক হিসেবে জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করেন:

যদি আপনার লেখাগুলোর কপিরাইট সুরক্ষা, সুশৃঙ্খলতা, আপনার ভেরিফাইড লেখক পোর্টফলিও এবং লেখক-পাঠকের কেন্দ্রীয় কমিউনিটিতে যুক্ত হতে চান, তাহলে নিবন্ধন করুন লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম “ই-নলেজ আইডিয়া” -এ!

এখানে অনেক প্রতিভাবান লেখক বিভিন্ন সিরিজে লিখছেন। আপনিও চাইলে আপনার লেখাগুলো সিরিজ আকারে সাজাতে পারবেন।

আপনার লেখক প্রোফাইল হবে একদম জীবন্ত পোর্টফলিও, এক ধরনের জীবন্ত বই। এখানে শুধু লেখক নয়, থাকবে পাঠকেরও সংস্পর্শ। ব্যাজ, পয়েন্ট, স্বীকৃতি এবং কপিরাইট সুরক্ষা তো থাকছেই, লেখাগুলো স্ক্যান করলেই আপনার নাম ভেসে উঠবে।

এটি তাই লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

চলুন বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক....

পূর্ণ নির্দেশনা [Full Guideline]

ই-নলেজ আইডিয়া – লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

ক্ষমা নয়… শুধু বিদায়

0 পছন্দ 0 অপছন্দ
448 বার প্রদর্শিত
করেছেন (27,848 পয়েন্ট)   20 নভেম্বর 2025 "গল্প" বিভাগে লেখা প্রকাশিত
পোষ্ট আইডি(eID) কার্ড↓ - লেখনীর স্বত্ব ও গুণের পরিচয়!

ক্ষমা নয়… শুধু বিদায়image   

মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন  

ছোটগল্প ⋄ ২০ নভেম্বর ২০২৫  


রাতটা অস্বাভাবিক নীরব। মফস্বলের রাস্তাগুলোয় শুধু বাতির ফিকে আলো আর দূরে দূরে ঘুমন্ত মানুষের নিঃশব্দ ছায়া। অভিক দ্রুত হাঁটছে—হাত কাঁপছে, বুক ভারী।  


সকালেই ফোন এসেছিল। এক অচেনা কণ্ঠ—  

“আপনার বাবা… শেষ অবস্থায়।”  


অভিক হঠাৎ থেমে গেল।  

শিশুর মতো মনে হচ্ছিল—একটা ছোট্ট ভুলে যেন সারা জীবনের শাস্তি পেয়ে গেছে।  

বাবা… কবে থেকে এত দূরে চলে গেছেন তিনি?  


অভিক ছোট ছিল।  

মা তার পাশে ছিলেন না, থাকলেও চোখে চোখ রেখে বলতেন, “চেষ্টা কর বাবা, তোর বাবা আছে।”  

তার বাবা—একজন গরিব মানুষ। ইটভাটায় কাজ করে, কোমর ভেঙেছে, কাঠের দোকানে বসে হাতের কাঁপুনি লুকিয়েছে। রাত জেগে স্কুলের ফি জোগাড় করেছে, নিজে না খেয়ে ছেলের স্বপ্ন কিনেছে।  


শাশুড়ি মাঝে মাঝে বিঁধে বলতেন—  

“ছেলের বউ তো শুধু খায়-দায়, শাড়ি বদলায়। ঘরের কাজে হাত লাগে না একটুও।”  


অভিক তখন রাগে ফেটে পড়ত—  

“মা’কে নিয়ে এসব কথা বলার আগে নিজের জায়গাটা মনে রাখবেন। এ বাড়িতে মা যা করেন, তা আপনার চোখে পড়ে না।”  


কিন্তু মা শুধু মৃদু হেসে চুপ করে থাকতেন। যেন জানতেন—এই কটু কথাগুলো একদিন ছেলের কানেও পৌঁছাবে না, কারণ তিনি নিজেই সব আগলে রাখবেন।  


বছর গড়াল। অভিক বড় হলো। বিদেশে পড়াশোনার সুযোগ এল। মা কাগজগুলো হাতে নিয়ে চোখ মুছে বললেন,  

“তুই পারবি বাবা। আমি পাশে আছি।”  


বিদায়ের দিন বিমানবন্দরে মা কাঁপা গলায় বলেছিলেন,  

“তুই মানুষের মতো মানুষ হবি, টাকা রোজগার হবে, না না—ভালো মানুষ হবি।”  


অভিক তখন বুঝত না—মা কতটা নিঃশব্দ যুদ্ধ করেছেন তার জন্য।  


বিদেশে জীবন ফুলে উঠল। সাফল্য, টাকা, সম্মান—সব এল। কিন্তু বাড়ি থেকে ফোন কমে গেল।  

যদি কখনো মায়ের ফোন আসত, অভিক তাড়াহুড়ো করে কেটে দিত।  


দিনের পর দিন অভিক ব্যস্ত। মা চেষ্টা করতেন ফোন করে—  

“খেয়েছিস বাবা?”  

“ক্লান্ত হয়ে পড়িস না।”  


কিন্তু অভিক ধরত না। মা কখনো অভিযোগ করেননি। প্রতিদিন সন্ধ্যায় দরজার সামনে চুপ করে বসে থাকতেন—যেন ছেলে হঠাৎ ফিরে আসবে।  


সুখী ছেলে, দুঃখী মা-বাবা—এই দূরত্ব সময়ের সাথে আরও গভীর হতে লাগল।  


পাঁচ বছর পর অভিক দেশে ফিরল। বাড়ি নতুন লাগছিল, কিন্তু ভেতরটা নিঃশব্দ শূন্য।  

বাবা কোথায়?  


মা কিছু বললেন না। শুধু চোখে সেই চেনা শূন্যতা।  


এক কোণে বাবা—শীর্ণ, শুকিয়ে যাওয়া, তবু ঠোঁটে নীরব হাসি।  


অভিক কাঁপা গলায় বলল,  

“বাবা… আমি দেরি করে ফেলেছি। ক্ষমা করে দাও।”  


বাবা ধীরে বললেন—  

“ক্ষমা? আমি কারো ওপর রাগ করিনি বাবা।”  


শুধু নিঃশব্দ ত্যাগ। এই নীরবতার মধ্যেই পুরো ভালোবাসা লুকিয়ে ছিল।  


বাবা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললেন—  

“যেদিন তুই নতুন নম্বর করলি, আমি আর তোর মা ফোন করতাম। রিং বাজত, তুই ধরতিস না।  

আমরা ক্লান্তি উপেক্ষা করে কল্পনা করতাম—তোর মুখের হাসি, তোর সাফল্য।”  


অভিক কেঁদে ফেলল।  

“বাবা, তোমরা বললে কেন না? একবার বললেই—”  


মা তখন প্রথম কথা বললেন। গলা ভারী, চোখে অন্ধকার—  

“একবার বললে কি তুই ফিরে আসতিস?  

নাকি শুধু দোষবোধ নিয়ে আরও দূরে চলে যেতিস?”  


এই প্রশ্নটা গলা চেপে ধরল, হৃদয় ছিঁড়ে ফেলল।  

সাফল্য, টাকা, সম্মান—সব যেন ধুলো হয়ে গেল।  


ভোর হওয়ার আগে বাবা চলে গেলেন। কোনো চিৎকার নয়, কোনো অভিযোগ নয়।  

শুধু একটা কাগজ রেখে গেলেন—  


“তুই সুখে থাক। আমি থাকলে তোর কষ্ট হত।”  


অভিক সেই কাগজ বুকে চেপে ধরল।  

মা পাশে দাঁড়িয়ে নিঃশব্দে কাঁদছিলেন।  


বুঝল—শেষ পর্যন্ত ভালোবাসা কখনো ক্ষমা চায় না, শুধু বিদায় দেয়।  


সম্পর্কের মূল্য টাকার চেয়ে বড়। কিন্তু যখন সম্পর্ক নিঃশব্দে ভেঙে যায়—তখন সবচেয়ে বড় সম্পদও অসহায় হয়ে পড়ে।  


পাঠকের জন্য প্রশ্ন  


আপনি কি মনে করেন—  

সন্তানের সাফল্যের জন্য বাবা-মা নিজেদের অদৃশ্য করে ফেলা ঠিক?  

নাকি সত্যিটা বলে, একটু কষ্ট দিয়েও সম্পর্ক টিকিয়ে রাখা উচিত?  


আপনার মতামত কমেন্টে জানান।  


#বাবার_ত্যাগ #মায়ের_নীরবতা #নীরব_ভালোবাসা #MoneyVsMorality #শেষ_বিদায় #পরিবারের_মূল্য

আমি মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন, ই-নলেজ এর একজন যাচাইকৃত লেখক। আমি এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত আছি প্রায় 1 বছর 1 সপ্তাহ ধরে, এবং এ পর্যন্ত 1378 টি লেখা ও 0 টি প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছি। আমার অর্জিত মোট পয়েন্ট 27848। ই-নলেজ আমার চিন্তা, জ্ঞান ও কণ্ঠকে সবার মাঝে পৌঁছে দিতে সহায়তা করেছে।
সংযুক্ত তথ্য
"নিজস্ব আইডিয়া"
Enolej ID(eID): 1495
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।

এই লেখকের অন্যান্য সিরিজ


বিজ্ঞাপন: Remembering...

Image

এই ব্লগটির প্রতিক্রিয়া দিতে দয়া করে প্রবেশ কিংবা নিবন্ধন করুন ।

সংশ্লিষ্ট ব্লগগুচ্ছ


image
  মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ছোটগল্প।১২ নভেম্বর ২০২৫ আজ আমি অভিককে দেখতে এসেছি—হাসপা[...] বিস্তারিত পড়ুন...
439 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

#ক্ষমা #মো_নাছির_উদ্দিন  শত শত মজার ছলে- কত যে বলেছি কথা।  কেউ বা নিয়েছ সহজ ভাবে, সরল মনে, কেউবা পেয়েছো ব্যথা।  আমার হৃদয়ও তোমারই মত-  এক বিষাদ সিন্ধু।  কথার ছলেও দিয়ে যদি থাকি- কষ্ট এক বিন্দু।  [...] বিস্তারিত পড়ুন...
125 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
ওসমান হাদি: এক অমর শহীদের কান্নাভেজা বিদায় মোহাম্মাদ জাহিদ হোসেন   বিশ্লেষণধর্মù[...] বিস্তারিত পড়ুন...
510 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
ভুলে যেতে বললে মানুষ ভাবে — তুমি আবার আগের মতো সহ্য করবে। ক্ষমা করো… কিন্তু সেই স্ম[...] বিস্তারিত পড়ুন...
530 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
শীত মানেই কি শুধু ঠান্ডা? মোহাম্মাদ জাহিদ হোসেন   স্মৃতিচারণ | ডিসেম্বর ২২, ২০২৫ আপ&[...] বিস্তারিত পড়ুন...
128 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ
📢 Notice Board
No active notices
ই-নলেজ আইডিয়া(Enolej Idea) হলো লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম যেখানে যেকোনো ধরনের লেখা—সাহিত্য, বিজ্ঞান, গবেষণা নোট, মতামত, প্রতিবাদী লেখা, ধর্মীয় চিন্তা, ব্যক্তিগত নোট বা দৈনন্দিন ভাবনা—নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা যায়। এটি সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ছড়িয়ে থাকা অগোছালো কনটেন্টকে একটি ভেরিফাইড, রেফারেন্সযোগ্য ডিজিটাল পোর্টফোলিওতে রূপান্তর করে, যা ব্যক্তির বুদ্ধিবৃত্তিক পরিচিতি ও দীর্ঘমেয়াদি ব্র্যান্ডিং গড়ে তোলে। প্রতিটি লেখার জন্য ইউনিক ডিজিটাল আইডি (eID) ও কপিরাইট সুরক্ষা প্রদান করা হয়, ফলে লেখা চুরি হলেও আসল লেখক সহজে শনাক্তযোগ্য থাকে। ধারাবাহিক কনটেন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাজানো, এক ক্লিকেই ই-বুক বা বইয়ের খসড়ায় রূপান্তর, ব্যক্তিগত খসড়া গোপন রাখা এবং একটি সক্রিয় কমিউনিটির মাধ্যমে পাঠকের সাথে সরাসরি সংযোগ—সব সুবিধাই এখানে একসাথে পাওয়া যায়। ই-নলেজ আইডিয়া মূলত ব্যক্তির চিন্তা ও জ্ঞানকে একটি স্থায়ী, সুরক্ষিত ও সার্বজনীনভাবে স্বীকৃত ডিজিটাল লেখক ইকোসিস্টেমে রূপ দেয়। IDEA = Independent Digital Expression & Authorship.
  1. মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

    244 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    3 মন্তব্য

    12 টি আইডিয়া ব্লগ

  2. প্রিন্স ফ্রেরাসে

    122 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    6 টি আইডিয়া ব্লগ

  3. ফাহিম আহমাদ

    61 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    3 টি আইডিয়া ব্লগ

  4. শামীমা আকতার

    41 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    2 টি আইডিয়া ব্লগ

...