Enolej Idea-তে লেখা প্রকাশের নিয়ম জানতে পূর্ণ নির্দেশনা দেখুন...
ই-নলেজ আইডিয়া হলো এমন একটি চিন্তানির্ভর প্ল্যাটফর্ম, যেখানে মানুষ শুধু তথ্য নয়, চিন্তা শেয়ার করে। এখানে জ্ঞানীরা একত্র হন, নতুনরা পথ খুঁজে পান, এবং সবাই মিলে তৈরি হয় একটি জ্ঞানভিত্তিক উম্মাহ। এটি জ্ঞানচর্চাকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ বানানোর একটি প্রচেষ্টা, যেখানে লেখা, ভাবা ও শেখা—সবই হয় মুক্তভাবে।আজই যোগ দিন!নিবন্ধন করতে এখানে ক্লিক করুন...।

-: ই-নলেজ আইডিয়া :-

আপনার লেখার কপিরাইট সুরক্ষা, স্বীকৃতি এবং ফ্রী প্রমোশন, সব এক প্ল্যাটফর্মে!

লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম আপনার লেখার অভিজ্ঞতাই বদলে দিবে। (পড়ুন...)

যদি আপনি হন পাঠক, কিংবা লেখক হিসেবে জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করেন:

যদি আপনার লেখাগুলোর কপিরাইট সুরক্ষা, সুশৃঙ্খলতা, আপনার ভেরিফাইড লেখক পোর্টফলিও এবং লেখক-পাঠকের কেন্দ্রীয় কমিউনিটিতে যুক্ত হতে চান, তাহলে নিবন্ধন করুন লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম “ই-নলেজ আইডিয়া” -এ!

এখানে অনেক প্রতিভাবান লেখক বিভিন্ন সিরিজে লিখছেন। আপনিও চাইলে আপনার লেখাগুলো সিরিজ আকারে সাজাতে পারবেন।

আপনার লেখক প্রোফাইল হবে একদম জীবন্ত পোর্টফলিও, এক ধরনের জীবন্ত বই। এখানে শুধু লেখক নয়, থাকবে পাঠকেরও সংস্পর্শ। ব্যাজ, পয়েন্ট, স্বীকৃতি এবং কপিরাইট সুরক্ষা তো থাকছেই, লেখাগুলো স্ক্যান করলেই আপনার নাম ভেসে উঠবে।

এটি তাই লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

চলুন বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক....

পূর্ণ নির্দেশনা [Full Guideline]

ই-নলেজ আইডিয়া – লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

যেখানে ভাঙা মানুষও দাঁড়িয়ে থাকে

0 পছন্দ 0 অপছন্দ
2 বার প্রদর্শিত
করেছেন (18,347 পয়েন্ট)   59 মিনিট পূর্বে "গল্প" বিভাগে লেখা প্রকাশিত
পোষ্ট আইডি(eID) কার্ড↓ - লেখনীর স্বত্ব ও গুণের পরিচয়!

 যেখানে ভাঙা মানুষও দাঁড়িয়ে থাকে

মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন 

ছোট গল্প। মে ১৪,২০২৬

(বাস্তব কাহিনির অবলম্বনে)


রাত তখন ঠিক কতটা—অভিক জানে না। ঘড়িটা দেয়ালে টিকটিক করছে, কিন্তু সে সময় ধরতে পারছে না। একটু আগে পর্যন্ত গুনছিলো—এক, দুই, তিন… তারপর ছেড়ে দিলো। গুনে কী হবে?


ঘরের ভেতর হালকা গরম। ফ্যানটা ঘুরছে, তবু বাতাস যেন পৌঁছায় না। পাশে মেয়ের পড়ার টেবিল। বইগুলো গুছানো। উপরে একটা খাতা খোলা—পাতার কোণ ভাঁজ করা। অভিক কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকে, তারপর চোখ সরিয়ে নেয়।


সবকিছু এমন ছিল না।


একসময় তার দিনগুলো ছিল খুব সোজা। সকালে বের হওয়া, সন্ধ্যায় ফেরা। ক্লান্তি থাকতো, কিন্তু দরজা খুললেই যে হাসিটা পেত—সেটা সব মুছে দিত। তার মেয়ে। ছোট্ট, চঞ্চল, সারাক্ষণ কথা বলে।


জন্মের দিনটা মাঝে মাঝে মনে পড়ে। হাসপাতালের করিডোরে দাঁড়িয়ে ছিলো সে। ভেতর থেকে কান্নার শব্দ এলো। প্রথমে বুক কেঁপে উঠেছিলো—তারপর নার্স এসে বললো, “মেয়ে হয়েছে।” অদ্ভুতভাবে তখন তার নিজের চোখেই পানি চলে এসেছিলো। মেয়েটা কাঁদছিলো, আর সে হাসছিলো।


সেই কান্নাটা ছিল শুরুর।


তারপর সময় গড়িয়েছে। মেয়েটা হাঁটতে শিখেছে, স্কুলে গেছে। প্রথম দিন ইউনিফর্ম পরে দরজার সামনে দাঁড়িয়ে বলেছিলো,

“আব্বা, আমি বড় হয়ে গেছি, না?”

অভিক হেসে বলেছিলো, “হ, অনেক বড়।”


সেদিন বিকেলে সে একটু তাড়াতাড়ি ফিরেছিলো—শুধু শুনবে বলে, মেয়ের প্রথম দিনের গল্প।


সব চলছিলো নিজের মতো।


তারপর সেই দিনটা।


সকালটা সাধারণই ছিল। মেয়ে তখন কলেজে পড়ে। টিউশনি থেকে ফিরে বললো,

“আব্বা, চা দিবা? খুব ক্লান্ত লাগতেছে।”


অভিক রান্নাঘরে গেলো। কেটলিতে পানি বসালো। ঠিক তখনই বুকের ভেতরটা কেমন যেন মোচড় দিয়ে উঠলো। প্রথমে পাত্তা দেয়নি। ভেবেছিলো গ্যাস। কিন্তু ব্যথাটা থামলো না। ছড়িয়ে পড়লো। হাত কাঁপতে লাগলো। কেটলির ঢাকনা পড়ে গিয়ে শব্দ হলো।


মেয়ে দৌড়ে এলো—“আব্বা?”


তারপর সব এলোমেলো। পাশের বাসার লোক, রিকশা, হাসপাতাল। সাদা আলো, ফিনাইলের গন্ধ, দূরে কারো কান্না। কেউ বলছে, “প্রেশার নামতেছে।” আরেকজন—“অ্যাটাক।”


সেই রাতে মেয়েটাকে সে দ্বিতীয়বার কাঁদতে দেখেছিলো। বিছানার পাশে দাঁড়িয়ে ছিলো। কোনো শব্দ নেই, শুধু চোখ দিয়ে পানি পড়ছে। অভিক হাত তুলতে চেয়েছিলো—পারেনি।


সেখান থেকেই সব বদলে গেলো।


শরীর আর আগের মতো রইলো না। ডাক্তার বললো সাবধানে থাকতে। কিন্তু সাবধানে থাকলে কি সংসার চলে?


চাকরিটা বেশিদিন টিকলো না। একদিন ডেকে নিয়ে সোজা বললো,

“ভাই, আপনাকে আর রাখা যাইতেছে না।”

কথাটা ছোট ছিল, কিন্তু ভেতরে যা ভাঙার, সেখানেই ভাঙলো।


তারপর শুরু হলো দৌড়। এক অফিস থেকে আরেক অফিস। পরিচিতদের ফোন। “কিছু থাকলে জানাইও”—এই কথাটা বারবার শুনেছে। তারপর আর কিছু হয়নি।


একসময় তার নিজের কথাবার্তার ভঙ্গিও বদলে গেলো।


“চাকরি গেসে গা… একটু টানাটানিতে আছি… কোনো ব্যবস্থা করা যায় নাকি?”


সবাই মুখ ফিরিয়ে নেয়নি। কেউ কেউ সাহায্য করেছে। কিন্তু তাতে কি পুরোটা সামলায়?


এদিকে মেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে উঠেছে। খরচ বাড়ছে। বই, ফি, যাতায়াত—সব মিলিয়ে একটা চাপা হিসাব। সেই হিসাবটা ধীরে ধীরে তার নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে।


দিনে সে হাসে। কারো সাথে দেখা হলে বলে, “ভালো আছি।”

রাতে উঠে বসে। শ্বাস নেয়। দেয়ালের দিকে তাকিয়ে থাকে।


এইভাবেই কেটে যাচ্ছিলো দিন।


তারপর এলো সেই সময়—সেমিস্টারের ফি। শেষ তারিখ সামনে। মেয়ে কিছু বলছিলো না, কিন্তু চুপচাপ খাতায় হিসাব করছিলো।


এক রাতে অভিক খাতাটা খুলে দেখলো। কত লাগবে, কোথা থেকে আসতে পারে—সব লেখা। শেষে ছোট করে একটা লাইন—“না পারলে থাক।”


সকালে সে মেয়েকে ডাকলো।


দু’জনেই বসে। মাঝখানে টেবিল। একটা কলম পড়ে আছে—কেউ ধরছে না।


অভিক প্রথমে কিছু বলতে পারছিলো না। গলা শুকিয়ে যাচ্ছিলো। শেষে খুব আস্তে বললো,

“তোর পড়াশোনা… কিছুদিন বন্ধ রাখতে হবে।”


ঘরটা চুপ হয়ে গেলো।


মেয়েটা তাকিয়ে রইলো। তারপর ধীরে বললো,

“ঠিক আছে, আব্বা। আমি টিউশনি ধরমু।”


কিছুক্ষণ পর তার চোখ ভিজে উঠলো। মুখ ঘুরিয়ে নিলো।


অভিক জানে—সে তিনবার মেয়েকে কাঁদতে দেখেছে।


প্রথমবার—সে হাসছিলো।

দ্বিতীয়বার—সে বাঁচতে চাইছিলো।

তৃতীয়বার—সে কিছুই করতে পারছিলো না।


সেই দিন থেকে তার ভেতরে কিছু একটা স্থায়ীভাবে ভেঙে গেছে।


রাতে সে এখন আর ঘুমায় না। উঠে বসে। কখনো মেয়ের টেবিলের কাছে যায়। বই ছোঁয়, কিন্তু খুলে না।


একদিন ভাঁজ করা পাতাটা খুলেছিলো। কোণায় লেখা—“আব্বা পারবে।”


অনেকক্ষণ তাকিয়ে ছিলো। তারপর আবার আগের মতো ভাঁজ করে রেখে দিয়েছে।


কারণ সে জানে—এই কথাটার ভার তার বুকের ব্যথার চেয়েও বেশি।


বাইরে থেকে দেখলে মনে হবে, অভিক এখনও বেঁচে আছে,সে দাঁড়িয়ে আছে।


কেমন করে—সেটা সে নিজেও জানে না।

আমি মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন, ই-নলেজ এর একজন যাচাইকৃত লেখক। আমি এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত আছি প্রায় 7 মাস 2 সপ্তাহ ধরে, এবং এ পর্যন্ত 909 টি লেখা ও 0 টি প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছি। আমার অর্জিত মোট পয়েন্ট 18347। ই-নলেজ আমার চিন্তা, জ্ঞান ও কণ্ঠকে সবার মাঝে পৌঁছে দিতে সহায়তা করেছে।
সংযুক্ত তথ্য
নিজস্ব আইডিয়া, ই-নলেজ আইডিয়া এ প্রথম প্রকাশিত
Enolej ID(eID): 3868
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।

এই লেখকের অন্যান্য সিরিজ


বিজ্ঞাপন: Remembering...

Image

এই ব্লগটির প্রতিক্রিয়া দিতে দয়া করে প্রবেশ কিংবা নিবন্ধন করুন ।

সংশ্লিষ্ট ব্লগগুচ্ছ


#তুমি_অনিবার্য পর্ব: ১২ লেখনী: ইসরাত জাহান কৃষ্ণনগরের প্রান্তসীমায় যেখানে জলঙ্গী নদী তার চেনা বাঁক ছেড়ে এক নির্জন শ্মশান আর ভাঙা ঘাটের দিকে ধাবিত হয়েছে, সেখানকার বাতাস আজ ভারী হয়ে আছে এক অপ�[...] বিস্তারিত পড়ুন...
46 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

অনিশ্চয়তার ভেতর দাঁড়িয়ে থাকা দিনগুলো মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ছোট গল্প। মে ০৪, ২০২৬ বিশ্ববিদ্যালয়ের গেটের সামনে দাঁড়িয়ে রিয়ান অনেকক্ষণ ধরে শুধু মানুষের চলাচল দেখছিল। কেউ দ্রুত পেরিয়ে যাচ্ছ�[...] বিস্তারিত পড়ুন...
75 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

রবীন্দ্রনাথের ভাঙা লেখা মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন বিশ্লেষণধর্মী। মে ১১, ২০২৬ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে আমরা প্রায়ই এক ধরনের পরিপূর্ণতার কাঠামোর ভেতর রেখে বুঝে নিতে চাই—কবিতা, গান, নাটক, প্রবন্ধ; সব�[...] বিস্তারিত পড়ুন...
26 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
একজন লেখকের ভাঙা রাতগুলো মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন বিশ্লেষণধর্মী | ১৪ মার্চ ২০২৬ সাহ[...] বিস্তারিত পড়ুন...
44 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

  নারী নিরাপত্তা: বাস্তবতা কোথায় দাঁড়িয়েমোহাম্মদ জাহিদ হোসেনবিশ্লেষণধর্মী। মে ০&#[...] বিস্তারিত পড়ুন...
50 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ
📢 Notice Board
No active notices
ই-নলেজ আইডিয়া(Enolej Idea) হলো লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম যেখানে যেকোনো ধরনের লেখা—সাহিত্য, বিজ্ঞান, গবেষণা নোট, মতামত, প্রতিবাদী লেখা, ধর্মীয় চিন্তা, ব্যক্তিগত নোট বা দৈনন্দিন ভাবনা—নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা যায়। এটি সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ছড়িয়ে থাকা অগোছালো কনটেন্টকে একটি ভেরিফাইড, রেফারেন্সযোগ্য ডিজিটাল পোর্টফোলিওতে রূপান্তর করে, যা ব্যক্তির বুদ্ধিবৃত্তিক পরিচিতি ও দীর্ঘমেয়াদি ব্র্যান্ডিং গড়ে তোলে। প্রতিটি লেখার জন্য ইউনিক ডিজিটাল আইডি (eID) ও কপিরাইট সুরক্ষা প্রদান করা হয়, ফলে লেখা চুরি হলেও আসল লেখক সহজে শনাক্তযোগ্য থাকে। ধারাবাহিক কনটেন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাজানো, এক ক্লিকেই ই-বুক বা বইয়ের খসড়ায় রূপান্তর, ব্যক্তিগত খসড়া গোপন রাখা এবং একটি সক্রিয় কমিউনিটির মাধ্যমে পাঠকের সাথে সরাসরি সংযোগ—সব সুবিধাই এখানে একসাথে পাওয়া যায়। ই-নলেজ আইডিয়া মূলত ব্যক্তির চিন্তা ও জ্ঞানকে একটি স্থায়ী, সুরক্ষিত ও সার্বজনীনভাবে স্বীকৃত ডিজিটাল লেখক ইকোসিস্টেমে রূপ দেয়। IDEA = Independent Digital Expression & Authorship.
  1. মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

    732 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    36 টি আইডিয়া ব্লগ

  2. মাহাতাব হোসেন অপল

    149 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    7 টি আইডিয়া ব্লগ

  3. আল-মামুন রেজা

    63 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    3 টি আইডিয়া ব্লগ

  4. তামান্না আক্তার

    24 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    1 আইডিয়া ব্লগ

...