Enolej Idea-তে লেখা প্রকাশের নিয়ম জানতে পূর্ণ নির্দেশনা দেখুন...
ই-নলেজ আইডিয়া হলো এমন একটি চিন্তানির্ভর প্ল্যাটফর্ম, যেখানে মানুষ শুধু তথ্য নয়, চিন্তা শেয়ার করে। এখানে জ্ঞানীরা একত্র হন, নতুনরা পথ খুঁজে পান, এবং সবাই মিলে তৈরি হয় একটি জ্ঞানভিত্তিক উম্মাহ। এটি জ্ঞানচর্চাকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ বানানোর একটি প্রচেষ্টা, যেখানে লেখা, ভাবা ও শেখা—সবই হয় মুক্তভাবে।আজই যোগ দিন!নিবন্ধন করতে এখানে ক্লিক করুন...।

-: ই-নলেজ আইডিয়া :-

আপনার লেখার কপিরাইট সুরক্ষা, স্বীকৃতি এবং ফ্রী প্রমোশন, সব এক প্ল্যাটফর্মে!

লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম আপনার লেখার অভিজ্ঞতাই বদলে দিবে। (পড়ুন...)

যদি আপনি হন পাঠক, কিংবা লেখক হিসেবে জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করেন:

যদি আপনার লেখাগুলোর কপিরাইট সুরক্ষা, সুশৃঙ্খলতা, আপনার ভেরিফাইড লেখক পোর্টফলিও এবং লেখক-পাঠকের কেন্দ্রীয় কমিউনিটিতে যুক্ত হতে চান, তাহলে নিবন্ধন করুন লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম “ই-নলেজ আইডিয়া” -এ!

এখানে অনেক প্রতিভাবান লেখক বিভিন্ন সিরিজে লিখছেন। আপনিও চাইলে আপনার লেখাগুলো সিরিজ আকারে সাজাতে পারবেন।

আপনার লেখক প্রোফাইল হবে একদম জীবন্ত পোর্টফলিও, এক ধরনের জীবন্ত বই। এখানে শুধু লেখক নয়, থাকবে পাঠকেরও সংস্পর্শ। ব্যাজ, পয়েন্ট, স্বীকৃতি এবং কপিরাইট সুরক্ষা তো থাকছেই, লেখাগুলো স্ক্যান করলেই আপনার নাম ভেসে উঠবে।

এটি তাই লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

চলুন বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক....

পূর্ণ নির্দেশনা [Full Guideline]

ই-নলেজ আইডিয়া – লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

বালিশ

0 পছন্দ 0 অপছন্দ
5 বার প্রদর্শিত
করেছেন (29,829 পয়েন্ট)   13 ঘন্টা পূর্বে "গল্প" বিভাগে লেখা প্রকাশিত
পোষ্ট আইডি(eID) কার্ড↓ - লেখনীর স্বত্ব ও গুণের পরিচয়!

বালিশimage

মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

ছোটগল্প। ২৬ অক্টোবর ২০২৬


আমার আট বছরের ছেলে আরাফ কখন কাঁদতে হয়, সেটা শব্দ না করে শিখে গেছে।


ব্যাপারটা টের পেলাম এক মঙ্গলবার রাতে।


আমি আর ওর মা তখন রান্নাঘরের সামনে দাঁড়িয়ে কথা বলছিলাম। কথা বলছিলাম বললে ভুল হবে, গলা চড়ছিল। মাসের বাজার, ইলেকট্রিক বিল, আমার ফিরতে দেরি হওয়া - এসব নিয়ে রোজকার মতোই। ও বলল, আমি কোনোদিন সময় দিই না। আমি বললাম, ও সবকিছুতে খুঁত ধরে।


আমাদের গলা যখন বেশ চড়ে গেছে, তখন খেয়াল করলাম পাশের ঘরের দরজাটা আধভেজানো। ভেতরে আলো জ্বলছে। আরাফের ঘুমানোর কথা।


ওর মা বলল, "আস্তে বলো, ছেলেটা জেগে যাবে।"


আমি আরো জোরে বললাম, "জাগলে জাগবে। ওকে সবকিছুর মধ্যে টানছ কেন? তুমি বলেছিলে, ও নাকি আমার মতো হবে।"


কথাটা বলে নিজেরই খারাপ লাগল। কিন্তু তখন থামতে পারিনি।


রাত সাড়ে এগারোটার দিকে সব চুপচাপ হয়ে গেল। ওর মা অন্য ঘরে গিয়ে শুয়ে পড়ল। আমি বারান্দায় একটা সিগারেট ধরিয়ে নিভিয়ে ফেললাম। তারপর পানি খেতে আরাফের ঘরের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় দেখি, ও উপুড় হয়ে শুয়ে আছে।


ঘুমায়নি।


বালিশে মুখ গুঁজে আছে। পিঠটা অল্প অল্প কাঁপছে।


আমি কাছে গিয়ে মাথায় হাত রাখলাম।


"বাবা?"


ও চমকে মুখ তুলল। চোখ ভেজা, নাক লাল। তাড়াতাড়ি হাতের উল্টো পিঠ দিয়ে মুখ মুছল।


"কিছু হয়নি।"


"তাহলে কাঁপছিস কেন?"


ও বালিশটা বুকের মধ্যে আরো শক্ত করে চেপে ধরল। তারপর ফিসফিস করে বলল, "আস্তে কাঁদছিলাম। জোরে কাঁদলে তোমরা শুনে ফেলবে তো।"


আমার বুকের ভেতরটা কেমন করে উঠল। আট বছরের একটা বাচ্চা কবে থেকে শিখল কান্নার আওয়াজও লুকাতে হয়?


আমি ওকে টেনে তুলতে গেলাম। ও নিজেই উঠে আমার গলা জড়িয়ে ধরল। ওর গালটা ভেজা, গরম।


"তুমি কেঁদো না, বাবা।"


আমি হাসার চেষ্টা করলাম। "আমি কাঁদছি না তো।"


"তোমার চোখ লাল।"


ওর ছোট্ট আঙুল দিয়ে আমার চোখের কোণটা ছুঁল। আমি আর তাকিয়ে থাকতে পারলাম না।


পরদিন সকালে নাস্তার টেবিলে ওর মা বলল, "জানো, ও অনেকদিন ধরেই এমন করে।"


আমি চমকে তাকালাম। "মানে?"


"ঝগড়া শুরু হলেই ও ঘরে গিয়ে দরজা লাগিয়ে দেয়। একদিন জিজ্ঞেস করেছিলাম, বালিশে মুখ গুঁজে থাকিস কেন? বলে, কান্নার শব্দ পেলে তোমরা আরও রাগ করবে।"


ওর মা কথাটা বলে ডিম ভাজতে চলে গেল। যেন খুব সাধারণ একটা কথা।


আমার সামনে তখন আরাফের স্কুলের ব্যাগ। পানির বোতলটা খালি। খাতা খোলা। খাতার মধ্যে পেনসিল দিয়ে আঁকা একটা বাড়ি। বাড়িটার তিনটে জানালা, একটা দরজা। সামনে তিনজন মানুষ হাত ধরে দাঁড়িয়ে আছে। একজন বড়, একজন একটু ছোট, মাঝখানে আরো ছোট। মাঝখানের জনের মাথায় ও লিখেছে - আমি।


আমি ছবিটার দিকে তাকিয়ে রইলাম। কাগজের ওই তিনজন মানুষ কী সুন্দর একসঙ্গে দাঁড়িয়ে আছে।


দুপুরে ওকে স্কুল থেকে আনতে গেলাম। গেটের বাইরে দাঁড়িয়ে ছিল। আমাকে দেখে দৌড়ে এল না, আস্তে হাঁটল। হাত ধরল।


রিকশায় উঠে অনেকক্ষণ চুপ করে ছিল। তারপর হঠাৎ বলল, "বাবা, আজ রাতে ঝগড়া করবে?"


আমি বললাম, "না।"


ও আমার মুখের দিকে তাকিয়ে রইল। বিশ্বাস করল কি না বুঝতে পারলাম না। আট বছরের বাচ্চাও এখন মানুষের মুখ দেখে মিথ্যা ধরতে পারে।


বাসায় ফিরে দরজার বাইরে জুতা খুলতে খুলতে শুনলাম, ওর মা রান্নাঘরে বাসন নামাচ্ছে। শব্দ হচ্ছে। আমি ভেতরে গিয়ে বললাম, "শোনো, আজ থেকে ওর সামনে না। যা বলার পরে বলব।"


ওর মা আমার দিকে তাকাল। চোখের নিচে কালি। অনেক রাত না ঘুমালে যেমন হয়।


বলল, "শুধু আজ?"


আমি কিছু বলতে পারলাম না। "শুধু আজ" কথাটার উত্তর আমার কাছে ছিল না।


রাতে আমরা তিনজন একসঙ্গে খেতে বসলাম। ভাত, ডাল, ডিম ভাজি। কেউ বেশি কথা বললাম না। টিভি বন্ধ। শুধু চামচের শব্দ।


খাওয়ার মাঝখানে আরাফ হঠাৎ বলল, "জানো মা, আজ আমাদের ক্লাসে একটা ছেলে পড়া পারেনি। স্যার বকেছে।"


ওর মা বলল, "তাই?"


"হ্যাঁ। ও কাঁদছিল। কিন্তু শব্দ করেনি।"


আমি আর ওর মা একে অপরের দিকে তাকালাম।


আরাফ আবার ভাত নাড়তে নাড়তে বলল, "আমার মতো।"


কেউ কিছু বললাম না।


রাত সাড়ে দশটায় ও ঘুমাতে গেল। আমি দরজার ফাঁক দিয়ে দেখলাম, আজ ও উপুড় হয়ে শোয়নি। চিত হয়ে শুয়েছে। বালিশটা মাথার নিচে, মুখটা বাইরে। একটা হাত বুকের ওপর।


আমি আস্তে করে দরজাটা ভেজিয়ে দিলাম।


করিডরে এসে লাইটটা নিভিয়ে দিলাম। অন্ধকারে দেয়ালে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে রইলাম। ভেতর থেকে ওর মায়ের গলা ভেসে এল, "আরাফ ঘুমালো?"


আমি উত্তর দিলাম না।


চোখটা ভিজে উঠেছিল। মুখের সামনে কোনো বালিশ ছিল না।

আমি মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন, ই-নলেজ এর একজন যাচাইকৃত লেখক। আমি এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত আছি প্রায় 1 বছর 1 মাস ধরে, এবং এ পর্যন্ত 1476 টি লেখা ও 0 টি প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছি। আমার অর্জিত মোট পয়েন্ট 29829। ই-নলেজ আমার চিন্তা, জ্ঞান ও কণ্ঠকে সবার মাঝে পৌঁছে দিতে সহায়তা করেছে।
সংযুক্ত তথ্য
নিজস্ব আইডিয়া, ই-নলেজ আইডিয়া এ প্রথম প্রকাশিত
Enolej ID(eID): 5095
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।

এই লেখকের অন্যান্য সিরিজ


বিজ্ঞাপন: Remembering...

Image

এই ব্লগটির প্রতিক্রিয়া দিতে দয়া করে প্রবেশ কিংবা নিবন্ধন করুন ।

সংশ্লিষ্ট ব্লগগুচ্ছ


image
বাবাকে ব্লক করেছি মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ছোটগল্প। ২৭ অক্টোবর ২০২৬ আমি আমার বাবাকে &[...] বিস্তারিত পড়ুন...
7 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
ঝোলে মাছের গন্ধ মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ছোটগল্প। ২৬ অক্টোবর ২০২৬ আমার মা মারা যাওয়&[...] বিস্তারিত পড়ুন...
6 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
ভালো মানুষ মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ছোটগল্প। ২৬ অক্টোবর ২০২৬ আমার স্বামী ভালো মানুষ, [...] বিস্তারিত পড়ুন...
3 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
প্রথমবার বাবার বুকে মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ছোটগল্প। ২৬ অক্টোবর ২০২৬ আমার বাবা আমা&#[...] বিস্তারিত পড়ুন...
3 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
যে জন্মদিনে মা কেঁদেছিল মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ছোটগল্প। ২৬ অক্টোবর ২০২৬ আজ আমার ছে&[...] বিস্তারিত পড়ুন...
7 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ
📢 Notice Board
No active notices
ই-নলেজ আইডিয়া(Enolej Idea) হলো লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম যেখানে যেকোনো ধরনের লেখা—সাহিত্য, বিজ্ঞান, গবেষণা নোট, মতামত, প্রতিবাদী লেখা, ধর্মীয় চিন্তা, ব্যক্তিগত নোট বা দৈনন্দিন ভাবনা—নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা যায়। এটি সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ছড়িয়ে থাকা অগোছালো কনটেন্টকে একটি ভেরিফাইড, রেফারেন্সযোগ্য ডিজিটাল পোর্টফোলিওতে রূপান্তর করে, যা ব্যক্তির বুদ্ধিবৃত্তিক পরিচিতি ও দীর্ঘমেয়াদি ব্র্যান্ডিং গড়ে তোলে। প্রতিটি লেখার জন্য ইউনিক ডিজিটাল আইডি (eID) ও কপিরাইট সুরক্ষা প্রদান করা হয়, ফলে লেখা চুরি হলেও আসল লেখক সহজে শনাক্তযোগ্য থাকে। ধারাবাহিক কনটেন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাজানো, এক ক্লিকেই ই-বুক বা বইয়ের খসড়ায় রূপান্তর, ব্যক্তিগত খসড়া গোপন রাখা এবং একটি সক্রিয় কমিউনিটির মাধ্যমে পাঠকের সাথে সরাসরি সংযোগ—সব সুবিধাই এখানে একসাথে পাওয়া যায়। ই-নলেজ আইডিয়া মূলত ব্যক্তির চিন্তা ও জ্ঞানকে একটি স্থায়ী, সুরক্ষিত ও সার্বজনীনভাবে স্বীকৃত ডিজিটাল লেখক ইকোসিস্টেমে রূপ দেয়। IDEA = Independent Digital Expression & Authorship.
  1. মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

    2225 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    11 মন্তব্য

    110 টি আইডিয়া ব্লগ

  2. Mayabi Ilmaz Megh

    210 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    10 টি আইডিয়া ব্লগ

  3. প্রিন্স ফ্রেরাসে

    127 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    6 টি আইডিয়া ব্লগ

  4. জামিনুল রেজা

    83 পয়েন্ট

    1 প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    4 টি আইডিয়া ব্লগ

...