Enolej Idea-তে লেখা প্রকাশের নিয়ম জানতে পূর্ণ নির্দেশনা দেখুন...
ই-নলেজ আইডিয়া হলো এমন একটি চিন্তানির্ভর প্ল্যাটফর্ম, যেখানে মানুষ শুধু তথ্য নয়, চিন্তা শেয়ার করে। এখানে জ্ঞানীরা একত্র হন, নতুনরা পথ খুঁজে পান, এবং সবাই মিলে তৈরি হয় একটি জ্ঞানভিত্তিক উম্মাহ। এটি জ্ঞানচর্চাকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ বানানোর একটি প্রচেষ্টা, যেখানে লেখা, ভাবা ও শেখা—সবই হয় মুক্তভাবে।আজই যোগ দিন!নিবন্ধন করতে এখানে ক্লিক করুন...।

-: ই-নলেজ আইডিয়া :-

আপনার লেখার কপিরাইট সুরক্ষা, স্বীকৃতি এবং ফ্রী প্রমোশন, সব এক প্ল্যাটফর্মে!

লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম আপনার লেখার অভিজ্ঞতাই বদলে দিবে। (পড়ুন...)

যদি আপনি হন পাঠক, কিংবা লেখক হিসেবে জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করেন:

যদি আপনার লেখাগুলোর কপিরাইট সুরক্ষা, সুশৃঙ্খলতা, আপনার ভেরিফাইড লেখক পোর্টফলিও এবং লেখক-পাঠকের কেন্দ্রীয় কমিউনিটিতে যুক্ত হতে চান, তাহলে নিবন্ধন করুন লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম “ই-নলেজ আইডিয়া” -এ!

এখানে অনেক প্রতিভাবান লেখক বিভিন্ন সিরিজে লিখছেন। আপনিও চাইলে আপনার লেখাগুলো সিরিজ আকারে সাজাতে পারবেন।

আপনার লেখক প্রোফাইল হবে একদম জীবন্ত পোর্টফলিও, এক ধরনের জীবন্ত বই। এখানে শুধু লেখক নয়, থাকবে পাঠকেরও সংস্পর্শ। ব্যাজ, পয়েন্ট, স্বীকৃতি এবং কপিরাইট সুরক্ষা তো থাকছেই, লেখাগুলো স্ক্যান করলেই আপনার নাম ভেসে উঠবে।

এটি তাই লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

চলুন বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক....

পূর্ণ নির্দেশনা [Full Guideline]

ই-নলেজ আইডিয়া – লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

১৭ আশ্বিন

0 পছন্দ 0 অপছন্দ
113 বার প্রদর্শিত
করেছেন (30,112 পয়েন্ট)   15 জুন "গল্প" বিভাগে লেখা প্রকাশিত
পোষ্ট আইডি(eID) কার্ড↓ - লেখনীর স্বত্ব ও গুণের পরিচয়!

১৭ আশ্বিনimage

মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন  

ছোট গল্প। ১৫ জুন, ২০২৬


চিঠিটা কেউ খুঁজছিল না।


অভিকও কারও পড়ার জন্য লিখেনি।


পুরোনো একটা খাতার ভেতরে ভাঁজ করে রাখা ছিল। খাতাটা বিছানার নিচে পড়ে ছিল কতদিন কে জানে। ধুলো জমে মলাটের রংও বোঝা যাচ্ছিল না।


ঘর গুছাতে গিয়ে অভিকের মা খাতাটা পেলেন।

পাতা উল্টাতে উল্টাতে মাঝখান থেকে একটা কাগজ বেরিয়ে এল।


উপরে লেখা— ১৭ আশ্বিন


প্রথমে তিনি ভেবেছিলেন ডায়েরির পাতা হবে।


অভিক আগে লিখত। স্কুলে পড়ার সময় একটা গল্প স্কুল ম্যাগাজিনে ছাপা হয়েছিল।


কিন্তু কয়েক লাইন পড়েই বুঝলেন, এটা গল্প না। এটা এমন কিছু কথা, যা সে কাউকে বলতে পারেনি।


কাগজে লেখা—

"আজ ডাক্তার বলল রাতে যে দুইটা সাদা বড়ি খাই, ওগুলো বন্ধ করা যাবে না। আমি হেসেছিলাম। উনি বুঝতে পারেননি কেন।"


"আমি কখনো কখনো এমন কিছু শুনি, যা আসলে থাকে না। এটা আমি জানি। কিন্তু ওই সময় মনে হয় থাকে। তখন কাকে বোঝাব?"


"সবাই ভাবে আমি ইচ্ছা করে করি। কেউ কি ইচ্ছা করে নিজের মাথাকে বিশ্বাস করতে পারে না?"


মা থেমে গেলেন। চোখ আটকে রইল একটা লাইনে। আবার পড়লেন ধীরে ধীরে।


"সেদিন বাজারে গিয়েছিলাম। দুইটা ছেলে হাসছিল। মনে হলো আমাকে দেখে। হয়তো না। কিন্তু আমি আর দাঁড়াইনি। বাসায় চলে এসেছিলাম।"


"এখন প্রায়ই এমন হয়। কেউ তাকালেই মনে হয় কিছু একটা আছে। কিছু একটা সমস্যা। আমার সঙ্গে।"

"হয়তো সত্যি না। কিন্তু ওই মুহূর্তে সত্যি মনে হয়।"


এক জায়গায় কালি ছড়িয়ে গেছে। একটা লাইন কেটে আবার লেখা হয়েছে।

"আমি ক্লান্ত।"


কাটা। নিচে আবার লেখা—"না, ক্লান্ত না। আসলে ভয় পাই।"


"তিন বছর আগে যেদিন আমাকে হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছিলে, আমি রাগ করেছিলাম। এখন বুঝি তুমি ভয় পেয়েছিলে।"


"মা মাঝে মাঝে ভাবে আমি বুঝি না। আমি সব বুঝি।"

"রাতে তুমি কাঁদো। দরজা বন্ধ করে। আমি শুনি।"


"বাবা আত্মীয়দের সামনে আমার কথা এড়িয়ে যায়। এটাও দেখি।"

"তোমাদের জন্য খারাপ লাগে।"


"তবু আমি বাঁচতে চাই।"


"চাকরি করতে চাই। নিজের টাকা দিয়ে তোমাকে একটা শাড়ি কিনে দিতে চাই।"


"বন্ধুদের সঙ্গে বসে চা খেতে চাই।"


"ওরা আগে ওই রোগটাই দেখে। আমি যে আছি, সেটা পরে।"


মায়ের বুকের ভেতরটা কেমন যেন করে উঠল।


হঠাৎ মনে পড়ল, কয়েক মাস আগে অভিক তাকে জিজ্ঞেস করেছিল—


"মা, আমি যদি পুরোপুরি ভালো না হই, তখনও কি তুমি আমার ওপর বিরক্ত হবে?"


তিনি কী উত্তর দিয়েছিলেন—মনে পড়ল না।


"আমি জানি না আমি কোনোদিন পুরোপুরি ভালো হব কি না।"


"ডাক্তার? সেও জানে না।"

"আমিও জানি না।"

"শুধু চেষ্টা করি। প্রতিদিন।"


"সবচেয়ে খারাপ লাগে যখন মানুষ ভয় পায়। আমি কিছু বলার আগেই ভয় পায়।"


"আমি খারাপ মানুষ না। অসুস্থ মানুষ। এই দুইটা এক জিনিস না।"


"কষ্ট হয়।"

"তুমি বুঝবে না।"


নিচে আবার লেখা—


"আবার হয়তো বুঝবেও। যদি একটু সময় নিয়ে শোনো।"


নিচে আর কিছু নেই।

শুধু নাম।

অভিক


চিঠি শেষ।


মা কাগজটা নামিয়ে রাখলেন।


সঙ্গে সঙ্গে উঠলেন না।

অনেকক্ষণ বসে রইলেন।


রাগ হয়েছিল নিজের ওপর। লজ্জাও।


কতবার তিনি শুধু জিজ্ঞেস করেছেন ওষুধ খেয়েছিস কি না।


কেমন আছিস—সেটা না।

পাশের ঘরে গিয়ে দেখলেন অভিক ঘুমাচ্ছে।


মুখে দাড়ি উঠেছে।

ঘুমের মধ্যে ওকে অসুস্থ লাগে না।

শুধু খুব ক্লান্ত লাগে।


মা বিছানার পাশে বসে রইলেন কিছুক্ষণ।

তারপর আস্তে করে ছেলের মাথায় হাত রাখলেন।


অভিক একটু নড়ল। চোখ খুলল না।

মা কিছু বললেন না।


শুধু খাতাটা বুকের কাছে চেপে ধরলেন।

আমি মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন, ই-নলেজ এর একজন যাচাইকৃত লেখক। আমি এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত আছি প্রায় 1 বছর 1 মাস ধরে, এবং এ পর্যন্ত 1490 টি লেখা ও 0 টি প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছি। আমার অর্জিত মোট পয়েন্ট 30112। ই-নলেজ আমার চিন্তা, জ্ঞান ও কণ্ঠকে সবার মাঝে পৌঁছে দিতে সহায়তা করেছে।
সংযুক্ত তথ্য
নিজস্ব আইডিয়া, ই-নলেজ আইডিয়া এ প্রথম প্রকাশিত
Enolej ID(eID): 4070
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।

এই লেখকের অন্যান্য সিরিজ


বিজ্ঞাপন: Remembering...

Image

এই ব্লগটির প্রতিক্রিয়া দিতে দয়া করে প্রবেশ কিংবা নিবন্ধন করুন ।

সংশ্লিষ্ট ব্লগগুচ্ছ


image
ভেজা দেশলাই মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ছোটগল্প। ২৯ অক্টোবর ২০২৬ দেশলাইয়ের বাক্সটা ছ[...] বিস্তারিত পড়ুন...
6 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
বাবা, তোমাকে আজও খুঁজি মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন স্মৃতিচারণ | ২৭ অক্টোবর ২০২৬ বাবা, তোমù[...] বিস্তারিত পড়ুন...
6 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
বাবাকে ব্লক করেছি মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ছোটগল্প। ২৭ অক্টোবর ২০২৬ আমি আমার বাবাকে &[...] বিস্তারিত পড়ুন...
16 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
ঝোলে মাছের গন্ধ মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ছোটগল্প। ২৬ অক্টোবর ২০২৬ আমার মা মারা যাওয়&[...] বিস্তারিত পড়ুন...
15 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
ভালো মানুষ মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ছোটগল্প। ২৬ অক্টোবর ২০২৬ আমার স্বামী ভালো মানুষ, [...] বিস্তারিত পড়ুন...
12 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ
📢 Notice Board
No active notices
ই-নলেজ আইডিয়া(Enolej Idea) হলো লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম যেখানে যেকোনো ধরনের লেখা—সাহিত্য, বিজ্ঞান, গবেষণা নোট, মতামত, প্রতিবাদী লেখা, ধর্মীয় চিন্তা, ব্যক্তিগত নোট বা দৈনন্দিন ভাবনা—নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা যায়। এটি সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ছড়িয়ে থাকা অগোছালো কনটেন্টকে একটি ভেরিফাইড, রেফারেন্সযোগ্য ডিজিটাল পোর্টফোলিওতে রূপান্তর করে, যা ব্যক্তির বুদ্ধিবৃত্তিক পরিচিতি ও দীর্ঘমেয়াদি ব্র্যান্ডিং গড়ে তোলে। প্রতিটি লেখার জন্য ইউনিক ডিজিটাল আইডি (eID) ও কপিরাইট সুরক্ষা প্রদান করা হয়, ফলে লেখা চুরি হলেও আসল লেখক সহজে শনাক্তযোগ্য থাকে। ধারাবাহিক কনটেন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাজানো, এক ক্লিকেই ই-বুক বা বইয়ের খসড়ায় রূপান্তর, ব্যক্তিগত খসড়া গোপন রাখা এবং একটি সক্রিয় কমিউনিটির মাধ্যমে পাঠকের সাথে সরাসরি সংযোগ—সব সুবিধাই এখানে একসাথে পাওয়া যায়। ই-নলেজ আইডিয়া মূলত ব্যক্তির চিন্তা ও জ্ঞানকে একটি স্থায়ী, সুরক্ষিত ও সার্বজনীনভাবে স্বীকৃত ডিজিটাল লেখক ইকোসিস্টেমে রূপ দেয়। IDEA = Independent Digital Expression & Authorship.
  1. মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

    2508 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    12 মন্তব্য

    124 টি আইডিয়া ব্লগ

  2. Mayabi Ilmaz Megh

    393 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    19 টি আইডিয়া ব্লগ

  3. মিস্টার পেন্সিল

    252 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    12 টি আইডিয়া ব্লগ

  4. প্রিন্স ফ্রেরাসে

    127 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    6 টি আইডিয়া ব্লগ

...