Enolej Idea-তে লেখা প্রকাশের নিয়ম জানতে পূর্ণ নির্দেশনা দেখুন...
ই-নলেজ আইডিয়া হলো এমন একটি চিন্তানির্ভর প্ল্যাটফর্ম, যেখানে মানুষ শুধু তথ্য নয়, চিন্তা শেয়ার করে। এখানে জ্ঞানীরা একত্র হন, নতুনরা পথ খুঁজে পান, এবং সবাই মিলে তৈরি হয় একটি জ্ঞানভিত্তিক উম্মাহ। এটি জ্ঞানচর্চাকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ বানানোর একটি প্রচেষ্টা, যেখানে লেখা, ভাবা ও শেখা—সবই হয় মুক্তভাবে।আজই যোগ দিন!নিবন্ধন করতে এখানে ক্লিক করুন...।

-: ই-নলেজ আইডিয়া :-

আপনার লেখার কপিরাইট সুরক্ষা, স্বীকৃতি এবং ফ্রী প্রমোশন, সব এক প্ল্যাটফর্মে!

লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম আপনার লেখার অভিজ্ঞতাই বদলে দিবে। (পড়ুন...)

যদি আপনি হন পাঠক, কিংবা লেখক হিসেবে জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করেন:

যদি আপনার লেখাগুলোর কপিরাইট সুরক্ষা, সুশৃঙ্খলতা, আপনার ভেরিফাইড লেখক পোর্টফলিও এবং লেখক-পাঠকের কেন্দ্রীয় কমিউনিটিতে যুক্ত হতে চান, তাহলে নিবন্ধন করুন লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম “ই-নলেজ আইডিয়া” -এ!

এখানে অনেক প্রতিভাবান লেখক বিভিন্ন সিরিজে লিখছেন। আপনিও চাইলে আপনার লেখাগুলো সিরিজ আকারে সাজাতে পারবেন।

আপনার লেখক প্রোফাইল হবে একদম জীবন্ত পোর্টফলিও, এক ধরনের জীবন্ত বই। এখানে শুধু লেখক নয়, থাকবে পাঠকেরও সংস্পর্শ। ব্যাজ, পয়েন্ট, স্বীকৃতি এবং কপিরাইট সুরক্ষা তো থাকছেই, লেখাগুলো স্ক্যান করলেই আপনার নাম ভেসে উঠবে।

এটি তাই লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

চলুন বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক....

পূর্ণ নির্দেশনা [Full Guideline]

ই-নলেজ আইডিয়া – লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

রাতের পর

0 পছন্দ 0 অপছন্দ
2 বার প্রদর্শিত
করেছেন (27,767 পয়েন্ট)   4 ঘন্টা পূর্বে "ছোটগল্প" বিভাগে লেখা প্রকাশিত
পোষ্ট আইডি(eID) কার্ড↓ - লেখনীর স্বত্ব ও গুণের পরিচয়!

রাতের পরimage

মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

ছোট গল্প | ৪ অক্টোবর ২০২৬


রাত প্রায় দুটো। ঘরের সবাই ঘুমিয়ে গেছে। শুধু অভিকের চোখে ঘুম নেই।


কয়েক দিন ধরে শরীরটা ভালো যাচ্ছে না। সিঁড়ি ভাঙলে বুকের ভেতর চাপ লাগে, একটু হাঁটলেই হাঁপিয়ে ওঠে। মাঝে মাঝে মাথা ঘোরে। ডাক্তার বিশ্রাম নিতে বলেছেন, কিছু পরীক্ষা করাতে বলেছেন।


কিন্তু সংসারে বিশ্রাম বলে আলাদা কোনো জায়গা নেই।


দুপুরে মেয়ের পড়াশোনা, বিকেলে বাজার, রাতে ওষুধের হিসাব। তার ওপর সংসারের আরও কত ছোটখাটো কাজ। সবকিছু শেষ করতে করতে নিজের শরীরটার কথাই ভুলে যায় অভিক।


রাত ২টা ৭ মিনিট।


হঠাৎ বুকের ভেতর চাপটা একটু বেড়ে গেল।


অভিক ধীরে ধীরে উঠে বসল। বিছানার পাশে রাখা পানির বোতলটা হাতে নিতে গিয়ে হাতটা কেঁপে গেল। কয়েক সেকেন্ড বোতলটা ধরে বসে রইল।


নিশি পাশে ঘুমাচ্ছে।


অভিক তাকাল তার দিকে। ডাকবে কি না ভাবল। শেষ পর্যন্ত ডাকল না।


সারাদিন মানুষটা কত কিছু সামলায়। মেয়েদের নিয়ে ব্যস্ত থাকে, ঘরের কাজ করে, তার ওষুধের সময় মনে করিয়ে দেয়। এই সামান্য রাতটুকুও যদি তার ঘুম থেকে কেড়ে নেয়?


অভিক পানি খেল।


তারপর জানালার দিকে তাকিয়ে রইল।


একসময় অফিস থেকে ফিরলেই দরজা খুলে দুই মেয়ে দৌড়ে এসে বলত, “বাবা!”


সেই সময়গুলো খুব দূরের মনে হয় এখন।


এক রাতে ছোট মেয়েটা ঘুমানোর আগে তার বুকের ওপর মাথা রেখে বলেছিল, “বাবা, তুমি কাল তাড়াতাড়ি আসবে?”


অভিক বলেছিল, “আসব।”


কত সহজ ছিল তখন একটা কথা রাখা।


এখন একটা দিন শেষ করাই যেন অনেক বড় কাজ।


বুকের চাপটা আবার বাড়ল।


অভিক এবার চোখ বন্ধ করল। ভয় পেল।


মৃত্যুর ভয়টা আসলে মৃত্যুর চেয়ে আলাদা। মানুষ তখন নিজের চলে যাওয়ার কথা যতটা ভাবে, তার চেয়ে বেশি ভাবে—তার চলে যাওয়ার পর ঘরের মানুষগুলো কীভাবে থাকবে।


মেয়েদের কথা মনে হলো। নিশির কথা মনে হলো।


তারপর নিজের অজান্তেই চোখের কোণে পানি জমল।


অভিক মুখ ঘুরিয়ে নিল।


পুরুষ মানুষ অনেক সময় কাঁদে না বলে কাঁদে না। বরং কোথায় কাঁদবে, কার সামনে কাঁদবে, সেই জায়গাটা খুঁজে পায় না।


হঠাৎ পাশে নিশির ঘুম ভেঙে গেল।


“অভিক?”


অভিক চমকে তাকাল।


“কী হয়েছে?”


“কিছু না।”


নিশি উঠে বসল। অন্ধকারে তার মুখটা ভালো দেখা যাচ্ছিল না।


“বুক ধরেছে?”


অভিক কিছু বলল না।


নিশি হাত বাড়িয়ে তার কপালে হাত রাখল। কপাল ঘামে ভেজা।


“এত ঘামছো কেন?”


“একটু চাপ লাগছে।”


নিশি আর কোনো প্রশ্ন করল না। পানির বোতলটা এগিয়ে দিল। তারপর বিছানার পাশে রাখা ওষুধের বাক্সটা টেনে নিল।


“কাল আবার ডাক্তারকে ফোন করব।”


অভিক ধীরে বলল, “তোমার ঘুমটা নষ্ট করে দিলাম।”


নিশি ওষুধটা তার হাতে দিয়ে বলল, “তাতে কী?”


মাত্র দুটি শব্দ।


অভিক নিশির হাতের দিকে তাকিয়ে রইল।


এই হাতটা কত বছর ধরে তার সঙ্গে আছে। কখনো বাজারের ব্যাগ ধরেছে, কখনো মেয়ের স্কুলের খাতা, কখনো তার ওষুধ। আজ রাতে শুধু তার কপালের ঘাম মুছে দিচ্ছে।


অভিক হঠাৎ মুখ ফিরিয়ে নিল।


চোখের পানি এবার আর লুকাতে পারল না।


নিশি দেখেও কিছু বলল না।


কিছুক্ষণ পর অভিক খুব আস্তে বলল, “নিশি।”


“হুম?”


“আমি মাঝে মাঝে খুব ভয় পাই।”


নিশি তার দিকে তাকাল।


“কীসের?”


অভিক উত্তর দিল না।


নিশিও আর জিজ্ঞেস করল না।


শুধু বিছানার ওপর হাত বাড়িয়ে অভিকের হাতটা ধরে রাখল।


রাত তখনও শেষ হয়নি।


নিশি পাশেই বসে ছিল।


কিছু বলল না।


শুধু তার হাতটা ধরে রাখল।

আমি মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন, ই-নলেজ এর একজন যাচাইকৃত লেখক। আমি এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত আছি প্রায় 1 বছর 1 সপ্তাহ ধরে, এবং এ পর্যন্ত 1374 টি লেখা ও 0 টি প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছি। আমার অর্জিত মোট পয়েন্ট 27767। ই-নলেজ আমার চিন্তা, জ্ঞান ও কণ্ঠকে সবার মাঝে পৌঁছে দিতে সহায়তা করেছে।
সংযুক্ত তথ্য
নিজস্ব আইডিয়া, ই-নলেজ আইডিয়া এ প্রথম প্রকাশিত
Enolej ID(eID): 4927
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।

এই লেখকের অন্যান্য সিরিজ


বিজ্ঞাপন: Remembering...

Image

এই ব্লগটির প্রতিক্রিয়া দিতে দয়া করে প্রবেশ কিংবা নিবন্ধন করুন ।

সংশ্লিষ্ট ব্লগগুচ্ছ


image
অসুখের পর মানুষটা মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন বিশ্লেষণমূলক লেখা। ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ মা[...] বিস্তারিত পড়ুন...
28 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
সাত বছর পর মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ছোটগল্প | ০২-০৯-২০২৬ সাত বছর পর নিশিকে দেখে অভিক প্র[...] বিস্তারিত পড়ুন...
43 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
শেষ আপসের পর মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন বিশ্লেষণধর্মী | ২৪ আগস্ট ২০২৬ “কথা দিচ্ছি শবযাত[...] বিস্তারিত পড়ুন...
44 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
তোকে দেখার পর মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন গদ্য কবিতা। ০৩ আগষ্ট, ২০২৬ তোকে দেখলেই নীরবতা ন[...] বিস্তারিত পড়ুন...
47 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
অতঃপর বেঁচে থাকা শামীমা আকতার ভর দুপুর। সূর্য মাথার উপর। পিটার বেড়াবার জন্য সবসময়[...] বিস্তারিত পড়ুন...
130 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ
📢 Notice Board
No active notices
ই-নলেজ আইডিয়া(Enolej Idea) হলো লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম যেখানে যেকোনো ধরনের লেখা—সাহিত্য, বিজ্ঞান, গবেষণা নোট, মতামত, প্রতিবাদী লেখা, ধর্মীয় চিন্তা, ব্যক্তিগত নোট বা দৈনন্দিন ভাবনা—নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা যায়। এটি সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ছড়িয়ে থাকা অগোছালো কনটেন্টকে একটি ভেরিফাইড, রেফারেন্সযোগ্য ডিজিটাল পোর্টফোলিওতে রূপান্তর করে, যা ব্যক্তির বুদ্ধিবৃত্তিক পরিচিতি ও দীর্ঘমেয়াদি ব্র্যান্ডিং গড়ে তোলে। প্রতিটি লেখার জন্য ইউনিক ডিজিটাল আইডি (eID) ও কপিরাইট সুরক্ষা প্রদান করা হয়, ফলে লেখা চুরি হলেও আসল লেখক সহজে শনাক্তযোগ্য থাকে। ধারাবাহিক কনটেন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাজানো, এক ক্লিকেই ই-বুক বা বইয়ের খসড়ায় রূপান্তর, ব্যক্তিগত খসড়া গোপন রাখা এবং একটি সক্রিয় কমিউনিটির মাধ্যমে পাঠকের সাথে সরাসরি সংযোগ—সব সুবিধাই এখানে একসাথে পাওয়া যায়। ই-নলেজ আইডিয়া মূলত ব্যক্তির চিন্তা ও জ্ঞানকে একটি স্থায়ী, সুরক্ষিত ও সার্বজনীনভাবে স্বীকৃত ডিজিটাল লেখক ইকোসিস্টেমে রূপ দেয়। IDEA = Independent Digital Expression & Authorship.
  1. মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

    163 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    3 মন্তব্য

    8 টি আইডিয়া ব্লগ

  2. প্রিন্স ফ্রেরাসে

    82 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    4 টি আইডিয়া ব্লগ

  3. ফাহিম আহমাদ

    61 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    3 টি আইডিয়া ব্লগ

  4. শামীমা আকতার

    41 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    2 টি আইডিয়া ব্লগ

...