Enolej Idea-তে লেখা প্রকাশের নিয়ম জানতে পূর্ণ নির্দেশনা দেখুন...
ই-নলেজ আইডিয়া হলো এমন একটি চিন্তানির্ভর প্ল্যাটফর্ম, যেখানে মানুষ শুধু তথ্য নয়, চিন্তা শেয়ার করে। এখানে জ্ঞানীরা একত্র হন, নতুনরা পথ খুঁজে পান, এবং সবাই মিলে তৈরি হয় একটি জ্ঞানভিত্তিক উম্মাহ। এটি জ্ঞানচর্চাকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ বানানোর একটি প্রচেষ্টা, যেখানে লেখা, ভাবা ও শেখা—সবই হয় মুক্তভাবে।আজই যোগ দিন!নিবন্ধন করতে এখানে ক্লিক করুন...।

-: ই-নলেজ আইডিয়া :-

আপনার লেখার কপিরাইট সুরক্ষা, স্বীকৃতি এবং ফ্রী প্রমোশন, সব এক প্ল্যাটফর্মে!

লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম আপনার লেখার অভিজ্ঞতাই বদলে দিবে। (পড়ুন...)

যদি আপনি হন পাঠক, কিংবা লেখক হিসেবে জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করেন:

যদি আপনার লেখাগুলোর কপিরাইট সুরক্ষা, সুশৃঙ্খলতা, আপনার ভেরিফাইড লেখক পোর্টফলিও এবং লেখক-পাঠকের কেন্দ্রীয় কমিউনিটিতে যুক্ত হতে চান, তাহলে নিবন্ধন করুন লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম “ই-নলেজ আইডিয়া” -এ!

এখানে অনেক প্রতিভাবান লেখক বিভিন্ন সিরিজে লিখছেন। আপনিও চাইলে আপনার লেখাগুলো সিরিজ আকারে সাজাতে পারবেন।

আপনার লেখক প্রোফাইল হবে একদম জীবন্ত পোর্টফলিও, এক ধরনের জীবন্ত বই। এখানে শুধু লেখক নয়, থাকবে পাঠকেরও সংস্পর্শ। ব্যাজ, পয়েন্ট, স্বীকৃতি এবং কপিরাইট সুরক্ষা তো থাকছেই, লেখাগুলো স্ক্যান করলেই আপনার নাম ভেসে উঠবে।

এটি তাই লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

চলুন বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক....

পূর্ণ নির্দেশনা [Full Guideline]

ই-নলেজ আইডিয়া – লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

টেবিলের দূরত্ব

0 পছন্দ 0 অপছন্দ
2 বার প্রদর্শিত
করেছেন (20,783 পয়েন্ট)   1 দিন পূর্বে "গল্প" বিভাগে লেখা প্রকাশিত
পোষ্ট আইডি(eID) কার্ড↓ - লেখনীর স্বত্ব ও গুণের পরিচয়!

টেবিলের দূরত্বimage

মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

ছোট গল্প।  ২৩ জুন,২০২৬



পঁচিশ বছরের সংসারে এই প্রথম স্বামী-স্ত্রী একই টেবিলে বসে খায়নি।


ঘটনাটা গত শুক্রবারের।

খুব বড় কিছু না। কোনো চিৎকার হয়নি। দরজা বন্ধ করে চলে যাওয়ার মতো কিছু হয়নি।


শুধু একটা কথার পর দুজন মানুষ চুপ হয়ে গিয়েছিল। আর সেই নীরবতা সাত দিন ধরে ঘরের ভেতর বসে ছিল।


রাতের খাবার টেবিলে রাহাত আর মিম বসে আছে। রুবিনা রান্নাঘর থেকে খাবার এনে রাখছে। আরিফ টেবিলের অন্য পাশে বসে মোবাইল দেখছে।


দুজনের মাঝখানে মাত্র কয়েক হাত দূরত্ব। কিন্তু পঁচিশ বছরের সংসারে এই দূরত্বটাই যেন সবচেয়ে বড় হয়ে উঠেছে।


"মা, তুমি বসবে না?"

মিম জিজ্ঞেস করল।


রুবিনা একটু থেমে বলল, "তোমরা খাও। আমার খিদে নেই।"


আরিফ একবার তাকাল। কিছু বলতে গিয়েও থেমে গেল।


শুরুটা হয়েছিল রুবিনার বাবার পুরোনো বাড়ি নিয়ে। বাড়িটা অনেক বছর ধরে খালি পড়ে আছে, নারায়ণগঞ্জের দিকে।


রুবিনার ভাইয়েরা চাচ্ছে বিক্রি করে টাকা ভাগ করে নিতে। রুবিনা চেয়েছিল, সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে আরিফের সঙ্গে কথা বলতে।


সেদিন রাতে আরিফ অফিস থেকে ফিরেছিল ক্লান্ত হয়ে। হাতে ছিল কিছু কাজের কাগজ।


রুবিনা বলেছিল, "বাড়িটার ব্যাপারে তোমার সঙ্গে একটু কথা ছিল।"


আরিফ তখন হিসাবের খাতা দেখছিল। অন্যমনস্কভাবে বলেছিল, "তোমাদের ভাইদের সঙ্গে কথা বলে নাও। এসব নিয়ে আমাকে এখন টেনো না।"


কথাটা বলার সময় আরিফ হয়তো বুঝতে পারেনি। কিন্তু রুবিনা শুনেছিল অন্যভাবে।


পঁচিশ বছর ধরে যে মানুষটার সঙ্গে জীবনের সব সিদ্ধান্ত ভাগ করেছে, তার মুখে "আমাকে এখন টেনো না" কথাটা খুব অপরিচিত লেগেছিল।


সেই রাত থেকে রুবিনা চুপ। আরিফও ভেবেছিল, কয়েকদিন পর সব ঠিক হয়ে যাবে।


কিছু নীরবতা সময়ের সঙ্গে কমে না। বরং আরও জমে।


পঁচিশ বছর আগে তাদের শুরুটা ছিল খুব সাধারণ। ছোট একটা ভাড়া বাসা, মিরপুরের দিকে। দুটো কাঠের চেয়ার। একটা পুরোনো ফর্মিকার টেবিল। আর অনেক স্বপ্ন।


বিয়ের পর একদিন আরিফ বলেছিল, "দেখো, আমাদের হয়তো সবকিছু থাকবে না।"


রুবিনা হেসে বলেছিল, "তাহলে?"


আরিফ বলেছিল, "খাওয়ার টেবিলে যেন দুজনের জায়গা থাকে।"


সেদিনের কথাটা রুবিনার মনে ছিল। হয়তো সে কারণেই এই কয়েক দিনের দূরত্বটা তার এত বেশি কষ্ট দিচ্ছিল।


রাহাত আর মিমও বুঝতে পারছিল। বাবা-মায়ের মধ্যে কিছু একটা বদলে গেছে।


আগে বাবা অফিস থেকে ফিরলে মা চা দিত। মা অসুস্থ হলে বাবা নিজের কাজ ফেলে পাশে বসত। এখন প্রয়োজনের বাইরে কোনো কথা হয় না।


এক রাতে রাহাত মিমকে বলল, "আগে কখনো এমন হয়েছে?"


মিম মাথা নাড়ল। "না।"

"তাহলে এবার কেন হলো?"


মিম উত্তর দিল না। বড়দের সম্পর্কের কিছু প্রশ্নের উত্তর সন্তানদের কাছেও থাকে না, সম্ভবত।


একদিন বিকেলে মিম পুরোনো অ্যালবাম দেখছিল। হঠাৎ একটা ছবিতে তার চোখ আটকে গেল।


ছোট একটা ঘর। সামনে প্লাস্টিকের টেবিল। এক প্লেটে খাবার। আর পাশে বসে আছে তরুণ বয়সের আরিফ আর রুবিনা।


মিম ছবিটা নিয়ে মায়ের কাছে গেল। "মা, এটা দেখো।"


রুবিনা ছবিটা হাতে নিল। অনেকক্ষণ তাকিয়ে রইল।


"তখন তো আমাদের কিছুই ছিল না।"


মিম মৃদু হেসে বলল, "কিন্তু তোমরা একসঙ্গে ছিলে।"


রুবিনা আর কিছু বলল না। শুধু ছবিটা হাতে ধরে বসে রইল।


সেদিন রাতে আরিফও আলমারি গোছাতে গিয়ে পুরোনো একটা ডায়েরি পেল। প্রথম পাতায় রুবিনার হাতের লেখা। বিয়ের পরের কিছু দিনের কথা।


এক জায়গায় লেখা, "আজ আরিফ বলল, ঘর ছোট হলে সমস্যা নেই। শুধু যেন আমরা পাশাপাশি থাকি।"


আরিফ ডায়েরিটা বন্ধ করল। অনেক বছর পর সে বুঝল, কিছু কথা মানুষ ভুলে যায় না। শুধু ব্যস্ততার নিচে চাপা পড়ে যায়।


পরদিন রাতে রুবিনা খাবার সাজাচ্ছিল। আরিফ এসে দাঁড়াল।

"রুবিনা।"

সে তাকাল। কিছুক্ষণ দুজনেই চুপ।


তারপর আরিফ বলল, "সেদিন তোমাকে ওইভাবে বলা ঠিক হয়নি।"


রুবিনা কিছু বলল না।


আরিফ ধীরে বলল, "বাড়িটার ব্যাপারে কাল তোমার ভাইদের সঙ্গে বসে কথা বলব। তুমি একা সিদ্ধান্ত নেবে না।"


রুবিনার চোখ একটু ভিজে উঠল। "আমিও হয়তো তোমাকে বুঝতে দিইনি যে কথাটা আমার এত খারাপ লেগেছে।"


আরিফ হালকা হাসল। "পঁচিশ বছর পরেও আমরা দুজনেই অভিমান লুকাতে শিখিনি।"

রুবিনা প্রথমবারের মতো একটু হাসল।


সেদিন রাতে পঁচিশ বছর পর আবার একই টেবিলে বসে খেয়েছিল তারা।


রুবিনা অভ্যাসবশত আরিফের প্লেটে একটু বেশি মাছ তুলে দিল।


আরিফ কিছু বলল না। শুধু প্লেটটা নিজের দিকে টেনে নিল।


রাহাত আর মিম দূর থেকে তাকিয়ে মুচকি হাসল।


টেবিলটা একই ছিল। শুধু মাঝখানের দূরত্বটা আর ছিল না।

আমি মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন, ই-নলেজ এর একজন যাচাইকৃত লেখক। আমি এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত আছি প্রায় 8 মাস 4 সপ্তাহ ধরে, এবং এ পর্যন্ত 1029 টি লেখা ও 0 টি প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছি। আমার অর্জিত মোট পয়েন্ট 20783। ই-নলেজ আমার চিন্তা, জ্ঞান ও কণ্ঠকে সবার মাঝে পৌঁছে দিতে সহায়তা করেছে।
সংযুক্ত তথ্য
নিজস্ব আইডিয়া, ই-নলেজ আইডিয়া এ প্রথম প্রকাশিত
Enolej ID(eID): 4114
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।

এই লেখকের অন্যান্য সিরিজ


বিজ্ঞাপন: Remembering...

Image

এই ব্লগটির প্রতিক্রিয়া দিতে দয়া করে প্রবেশ কিংবা নিবন্ধন করুন ।

সংশ্লিষ্ট ব্লগগুচ্ছ


image
পথের ওপারের মানুষ মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ছোট গল্প।  ২৩ জুন,২০২৬ কলেজ থেকে ফেরার পথে [...] বিস্তারিত পড়ুন...
2 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
অদেখা যুদ্ধ মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ছোট গল্প।  ২৩ জুন,২০২৬ পুরো ক্লাস তাকে নিয়ে হাস&[...] বিস্তারিত পড়ুন...
2 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
দুটো কাগজের মাঝখানে মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ছোট গল্প।  ২৩ জুন,২০২৬ রাত এগারোটা পঁযù[...] বিস্তারিত পড়ুন...
1 বার দর্শন 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
শাড়ির ভাঁজে লুকানো চিঠি মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ছোট গল্প।  ২৩ জুন,২০২৬ মায়ের পুরú[...] বিস্তারিত পড়ুন...
3 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
হিসাবের খাতা মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ছোট গল্প।  ২৩ জুন,২০২৬ বিয়ের দশ বছর পর সায়মা [...] বিস্তারিত পড়ুন...
2 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ
📢 Notice Board
No active notices
ই-নলেজ আইডিয়া(Enolej Idea) হলো লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম যেখানে যেকোনো ধরনের লেখা—সাহিত্য, বিজ্ঞান, গবেষণা নোট, মতামত, প্রতিবাদী লেখা, ধর্মীয় চিন্তা, ব্যক্তিগত নোট বা দৈনন্দিন ভাবনা—নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা যায়। এটি সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ছড়িয়ে থাকা অগোছালো কনটেন্টকে একটি ভেরিফাইড, রেফারেন্সযোগ্য ডিজিটাল পোর্টফোলিওতে রূপান্তর করে, যা ব্যক্তির বুদ্ধিবৃত্তিক পরিচিতি ও দীর্ঘমেয়াদি ব্র্যান্ডিং গড়ে তোলে। প্রতিটি লেখার জন্য ইউনিক ডিজিটাল আইডি (eID) ও কপিরাইট সুরক্ষা প্রদান করা হয়, ফলে লেখা চুরি হলেও আসল লেখক সহজে শনাক্তযোগ্য থাকে। ধারাবাহিক কনটেন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাজানো, এক ক্লিকেই ই-বুক বা বইয়ের খসড়ায় রূপান্তর, ব্যক্তিগত খসড়া গোপন রাখা এবং একটি সক্রিয় কমিউনিটির মাধ্যমে পাঠকের সাথে সরাসরি সংযোগ—সব সুবিধাই এখানে একসাথে পাওয়া যায়। ই-নলেজ আইডিয়া মূলত ব্যক্তির চিন্তা ও জ্ঞানকে একটি স্থায়ী, সুরক্ষিত ও সার্বজনীনভাবে স্বীকৃত ডিজিটাল লেখক ইকোসিস্টেমে রূপ দেয়। IDEA = Independent Digital Expression & Authorship.
  1. মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

    1481 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    73 টি আইডিয়া ব্লগ

  2. জামিনুল রেজা

    428 পয়েন্ট

    1 প্রতিক্রিয়া

    1 মন্তব্য

    21 টি আইডিয়া ব্লগ

  3. রফিক আতা

    224 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    11 টি আইডিয়া ব্লগ

  4. ক্বলমী সুর

    155 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    7 টি আইডিয়া ব্লগ

...