Enolej Idea-তে লেখা প্রকাশের নিয়ম জানতে পূর্ণ নির্দেশনা দেখুন...
ই-নলেজ আইডিয়া হলো এমন একটি চিন্তানির্ভর প্ল্যাটফর্ম, যেখানে মানুষ শুধু তথ্য নয়, চিন্তা শেয়ার করে। এখানে জ্ঞানীরা একত্র হন, নতুনরা পথ খুঁজে পান, এবং সবাই মিলে তৈরি হয় একটি জ্ঞানভিত্তিক উম্মাহ। এটি জ্ঞানচর্চাকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ বানানোর একটি প্রচেষ্টা, যেখানে লেখা, ভাবা ও শেখা—সবই হয় মুক্তভাবে।আজই যোগ দিন!নিবন্ধন করতে এখানে ক্লিক করুন...।

-: ই-নলেজ আইডিয়া :-

আপনার লেখার কপিরাইট সুরক্ষা, স্বীকৃতি এবং ফ্রী প্রমোশন, সব এক প্ল্যাটফর্মে!

লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম আপনার লেখার অভিজ্ঞতাই বদলে দিবে। (পড়ুন...)

যদি আপনি হন পাঠক, কিংবা লেখক হিসেবে জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করেন:

যদি আপনার লেখাগুলোর কপিরাইট সুরক্ষা, সুশৃঙ্খলতা, আপনার ভেরিফাইড লেখক পোর্টফলিও এবং লেখক-পাঠকের কেন্দ্রীয় কমিউনিটিতে যুক্ত হতে চান, তাহলে নিবন্ধন করুন লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম “ই-নলেজ আইডিয়া” -এ!

এখানে অনেক প্রতিভাবান লেখক বিভিন্ন সিরিজে লিখছেন। আপনিও চাইলে আপনার লেখাগুলো সিরিজ আকারে সাজাতে পারবেন।

আপনার লেখক প্রোফাইল হবে একদম জীবন্ত পোর্টফলিও, এক ধরনের জীবন্ত বই। এখানে শুধু লেখক নয়, থাকবে পাঠকেরও সংস্পর্শ। ব্যাজ, পয়েন্ট, স্বীকৃতি এবং কপিরাইট সুরক্ষা তো থাকছেই, লেখাগুলো স্ক্যান করলেই আপনার নাম ভেসে উঠবে।

এটি তাই লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

চলুন বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক....

পূর্ণ নির্দেশনা [Full Guideline]

ই-নলেজ আইডিয়া – লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

যে কান্না শোনার কথা ছিল

0 পছন্দ 0 অপছন্দ
485 বার প্রদর্শিত
করেছেন (23,875 পয়েন্ট)   01 মে "গল্প" বিভাগে লেখা প্রকাশিত
পোষ্ট আইডি(eID) কার্ড↓ - লেখনীর স্বত্ব ও গুণের পরিচয়!
যে কান্না শোনার কথা ছিল

মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

ছোট গল্প। মে ০১, ২০২৬

ডাইরির পাতা খুললেই কেমন একটা চুপচাপ ভাব নেমে আসে। একেবারে নিঃশব্দ না—বরং মনে হয়, কথাগুলো বাইরে বের না হয়ে ভেতরেই ঘুরপাক খায়। আজকের তারিখ লিখতে গিয়ে একটু থামলাম। মে মাসের ১ তারিখ। শ্রমিক দিবস। ক্যালেন্ডারে লাল চিহ্ন। কিন্তু দিনটার ভেতরে যে রঙটা থাকার কথা, সেটা চোখে পড়ে না—হয়তো আছে, আমি ধরতে পারছি না।

বারান্দায় দাঁড়িয়ে আছি। সন্ধ্যা নামছে, ধীরে। বাতাসে হালকা ঠান্ডা, তবু আরাম লাগছে না ঠিক। সন্ধ্যামালতী ফুলগুলো দুলছে। ওদের দিকে তাকালে মনে হয়, সবকিছু ঠিকঠাক আছে। আবার একটু পরে মনে হয়—এটা কি শুধু ওপরের দিকটা?

ফুলগুলো নিশ্চিন্ত। তারা ক্ষুধা বোঝে না। অপমানও না। এই না-জানাটা তাদের বাঁচিয়ে রাখে—এমনটা ভাবা যায়।

রাস্তার দিকে তাকাই। শহরটা বদলেছে—কমপক্ষে আমরা তাই বলি। আলো বেড়েছে, শব্দ বেড়েছে, গতি বেড়েছে। কিন্তু আজ রাস্তা ফাঁকা। অস্বাভাবিকভাবে। কয়েকটা কুকুর ঘুরছে। চুপচাপ। তাদের হাঁটার ভঙ্গিতে অদ্ভুত একটা নির্লিপ্তি—যেন কোনো কিছুরই তাড়া নেই, আবার কোথাও পৌঁছানোর দরকারও নেই।

পাশের ফ্ল্যাটে আলো জ্বলছে। ভেতরে মানুষের নড়াচড়া বোঝা যায়। বাইরে থেকে সবকিছু ঠিকঠাক। তবু মনে হয়, ভেতরে কিছু চাপা পড়ে আছে। কেউ চাকরি নিয়ে চিন্তায়, কেউ অসুখ নিয়ে, কেউ হয়তো কাল কী খাবে সেটা নিয়ে—অনিশ্চয়তা আলাদা আলাদা, কিন্তু অনুভূতিটা প্রায় এক।

দূরে মাইকের শব্দ এল, “শ্রমিকের অধিকার চাই।”

কিছুক্ষণ ভেসে থাকল, তারপর মিলিয়ে গেল। খুব স্বাভাবিকভাবেই। যেন থাকার কথা ছিল না।

তাপদাহ চলছে অনেকদিন। রোদে দাঁড়ালে মাথা ঝিমঝিম করে। রাস্তার পিচ নরম হয়ে গেছে—চোখে পড়ার মতো। মানুষের ভেতরেও কি এমন কিছু নরম হয়ে যাচ্ছে? বোঝা মুশকিল। শহরের অন্য পাশে তখনো কিছু মানুষ ঠান্ডা ঘরে বসে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। তাদের কথায় উদ্বেগ আছে—কিন্তু সেটা যেন দূর থেকে বলা উদ্বেগ। কাছ থেকে না।

ঠিক তখনই থামলাম।

একটা শব্দ,খুব ক্ষীণ, ভাঙা।

পেছনের গলি থেকে আসছে। অন্ধকার, স্যাঁতসেঁতে জায়গা। একটা শিশুর কান্না।

প্রথমে গুরুত্ব দিইনি। শহরে এমন শব্দ নতুন কিছু না। কিন্তু আবার এল। এবার একটু পরিষ্কার। তারপর আরও একটা। কয়েকটা কণ্ঠ মিশে গেল একসাথে—একটা থেকে আলাদা করা যায়, তবু পুরোটা আলাদা করা যায় না।

আমি দাঁড়িয়ে থাকি।

নড়ি না।

কান্নাগুলো কেমন করে যেন ভেতরে ঢুকে পড়ে।

মনে হলো—কেউ কি শুনছে?

চারপাশে তাকাই। কেউ জানালা বন্ধ করছে। কেউ টিভির শব্দ বাড়াচ্ছে। কেউ ফোনে কথা বলছে, একদম স্বাভাবিকভাবে। এই স্বাভাবিকতাই একটু অস্বস্তিকর লাগে।

আর আমি? আমি দাঁড়িয়ে আছি। শুনছি।

কিন্তু করছি না কিছুই।

পেটের ভেতর তখন খালি। সারাদিন ঠিকমতো খাওয়া হয়নি। পকেটেও তেমন কিছু নেই। আমি জানি—যদি এখন ওই গলিতে যাই, কিছু দিতে পারব না। এই জানাটাই আটকে দেয়। অদ্ভুতভাবে।

তবু এবার পুরোটা এড়িয়ে যেতে পারলাম না।

দরজা খুলে বের হলাম। সিঁড়ি দিয়ে নামলাম ধীরে। গলির মুখ পর্যন্ত গেলাম।

ভেতরে ঢুকিনি।

অন্ধকারটা ঘন। ভেতরে নড়াচড়া আছে—শব্দে বোঝা যায়। কান্না তখনো চলছে।

আমি দাঁড়িয়ে থাকলাম কিছুক্ষণ।

তারপর ফিরে এলাম।

কেন এলাম—ঠিক বুঝিয়ে বলতে পারব না। ভয় ছিল? লজ্জা? নাকি শুধু অভ্যাস?

ঘরে ঢুকে দরজা বন্ধ করলাম।

শব্দটা কমে না।

তাই আরেকটা কাজ করলাম—নিজের ভেতরে একটা দেয়াল তুললাম। ইচ্ছা করে।

ডাইরি খুলে বসি, কলম হাতে নিই।

লিখতে শুরু করি। শব্দ আসে—সমাজ, অবস্থা, দায়—এই ধরনের কথা। লিখতে লিখতে মনে হয়, আমি যেন একটু দূরে সরে যাচ্ছি। ঘটনাটা থেকে, নিজের থেকেও।

কিন্তু বেশিক্ষণ টেকে না।

হঠাৎ মনে হলো—আমি লিখছি না, আমি এড়িয়ে যাচ্ছি।

জানালার বাইরে তাকাই। চাঁদ উঠেছে। পুরো গোল না, তবু আলো আছে। বৈশাখের রাত—গরম, সঙ্গে ধুলার গন্ধ, কোথাও পাকা ফলের হালকা মিষ্টি গন্ধ। কৃষ্ণচূড়া গাছটা স্থির দাঁড়িয়ে। লাল ফুলগুলো চোখে লাগে—অতিরিক্ত না, আবার অদৃশ্যও না।

মনে হয়, আকাশ আর গাছের মধ্যে কিছু একটা চলছে। কথা না, তবু যোগাযোগ।

হিংসা হয়—কিছুটা। হয়তো অদ্ভুত শোনাবে।

কারণ তারা অন্তত প্রতিক্রিয়া পায়।

আমরা পাই কিনা, সেটা নিশ্চিত না।

ডাইরির দিকে আবার তাকাই। হাত একটু কাঁপে।

লিখি—“আজ নিজেকে এড়িয়ে গেছি। শুনেছি, কিন্তু যাইনি পুরোটা। দেখেছি, কিন্তু চোখ সরিয়েছি।”

এর বেশি এগোয় না।

চোখ ভিজে আসে—কারণটা পরিষ্কার না।

হয়তো ক্লান্তি। হয়তো অন্য কিছু।

মনে হয়, সমস্যা শুধু তাপ না। ক্ষুধাও না। এগুলো চোখে পড়ে।

আরও ভেতরে কিছু আছে—একটা অভ্যাস, নিজেকে গুটিয়ে রাখার। অন্যের কষ্টকে দূরে রাখার।

বাইরে কান্নাটা থেমেছে কিনা—জানি না। জানতে চাই না।

শেষে লিখি—

“বেঁচে আছি। আর এই বেঁচে থাকাটা ঠিক কী, সেটা এখনো ঠিক বুঝে উঠতে পারিনি। তবু লিখে রাখছি—হয়তো পরে দরকার হবে।”

ডাইরিটা বন্ধ করি।

কিন্তু একটা শব্দ থেকে যায়।

শুরুতে যেটা এসেছিল—

সেটা থামে না।
আমি মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন, ই-নলেজ এর একজন যাচাইকৃত লেখক। আমি এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত আছি প্রায় 10 মাস 1 সপ্তাহ ধরে, এবং এ পর্যন্ত 1182 টি লেখা ও 0 টি প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছি। আমার অর্জিত মোট পয়েন্ট 23875। ই-নলেজ আমার চিন্তা, জ্ঞান ও কণ্ঠকে সবার মাঝে পৌঁছে দিতে সহায়তা করেছে।
সংযুক্ত তথ্য
নিজস্ব আইডিয়া, ই-নলেজ আইডিয়া এ প্রথম প্রকাশিত
Enolej ID(eID): 3824
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।

এই লেখকের অন্যান্য সিরিজ


বিজ্ঞাপন: Remembering...

Image

এই ব্লগটির প্রতিক্রিয়া দিতে দয়া করে প্রবেশ কিংবা নিবন্ধন করুন ।

সংশ্লিষ্ট ব্লগগুচ্ছ


image
শেষ পর্যন্ত কেউ জেতেনি   পর্ব–৯ : যে প্রশ্নের উত্তর কারও কাছে ছিল না   মোহাম্মদ জাহ[...] বিস্তারিত পড়ুন...
16 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
যে দরজাটা খোলা ছিল মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ছোটগল্প | ২৭ জুন, ২০২৬ ঈদের সকাল। বৃদ্ধাশ্রম&[...] বিস্তারিত পড়ুন...
24 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

 অন্ধকারের আগে যে মানুষটা ছিল মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ছোট গল্প।মে ০৭, ২০২৬ সারাদিনে[...] বিস্তারিত পড়ুন...
356 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
শোনা হয়নি যে কথা মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ছোটগল্প | ২৯ জুলাই, ২০২৬ অনেক শিশু কথা বলতে চ[...] বিস্তারিত পড়ুন...
3 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
শেষ রায়ের পরও কান্না থামেনি মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন  ছোট গল্প ১৩ জুলাই, ২০২৬ অভিক আ[...] বিস্তারিত পড়ুন...
25 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ
📢 Notice Board
No active notices
ই-নলেজ আইডিয়া(Enolej Idea) হলো লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম যেখানে যেকোনো ধরনের লেখা—সাহিত্য, বিজ্ঞান, গবেষণা নোট, মতামত, প্রতিবাদী লেখা, ধর্মীয় চিন্তা, ব্যক্তিগত নোট বা দৈনন্দিন ভাবনা—নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা যায়। এটি সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ছড়িয়ে থাকা অগোছালো কনটেন্টকে একটি ভেরিফাইড, রেফারেন্সযোগ্য ডিজিটাল পোর্টফোলিওতে রূপান্তর করে, যা ব্যক্তির বুদ্ধিবৃত্তিক পরিচিতি ও দীর্ঘমেয়াদি ব্র্যান্ডিং গড়ে তোলে। প্রতিটি লেখার জন্য ইউনিক ডিজিটাল আইডি (eID) ও কপিরাইট সুরক্ষা প্রদান করা হয়, ফলে লেখা চুরি হলেও আসল লেখক সহজে শনাক্তযোগ্য থাকে। ধারাবাহিক কনটেন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাজানো, এক ক্লিকেই ই-বুক বা বইয়ের খসড়ায় রূপান্তর, ব্যক্তিগত খসড়া গোপন রাখা এবং একটি সক্রিয় কমিউনিটির মাধ্যমে পাঠকের সাথে সরাসরি সংযোগ—সব সুবিধাই এখানে একসাথে পাওয়া যায়। ই-নলেজ আইডিয়া মূলত ব্যক্তির চিন্তা ও জ্ঞানকে একটি স্থায়ী, সুরক্ষিত ও সার্বজনীনভাবে স্বীকৃত ডিজিটাল লেখক ইকোসিস্টেমে রূপ দেয়। IDEA = Independent Digital Expression & Authorship.
  1. মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

    41 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    2 টি আইডিয়া ব্লগ

...