Enolej Idea-তে লেখা প্রকাশের নিয়ম জানতে পূর্ণ নির্দেশনা দেখুন...
ই-নলেজ আইডিয়া হলো এমন একটি চিন্তানির্ভর প্ল্যাটফর্ম, যেখানে মানুষ শুধু তথ্য নয়, চিন্তা শেয়ার করে। এখানে জ্ঞানীরা একত্র হন, নতুনরা পথ খুঁজে পান, এবং সবাই মিলে তৈরি হয় একটি জ্ঞানভিত্তিক উম্মাহ। এটি জ্ঞানচর্চাকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ বানানোর একটি প্রচেষ্টা, যেখানে লেখা, ভাবা ও শেখা—সবই হয় মুক্তভাবে।আজই যোগ দিন!নিবন্ধন করতে এখানে ক্লিক করুন...।

-: ই-নলেজ আইডিয়া :-

আপনার লেখার কপিরাইট সুরক্ষা, স্বীকৃতি এবং ফ্রী প্রমোশন, সব এক প্ল্যাটফর্মে!

লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম আপনার লেখার অভিজ্ঞতাই বদলে দিবে। (পড়ুন...)

যদি আপনি হন পাঠক, কিংবা লেখক হিসেবে জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করেন:

যদি আপনার লেখাগুলোর কপিরাইট সুরক্ষা, সুশৃঙ্খলতা, আপনার ভেরিফাইড লেখক পোর্টফলিও এবং লেখক-পাঠকের কেন্দ্রীয় কমিউনিটিতে যুক্ত হতে চান, তাহলে নিবন্ধন করুন লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম “ই-নলেজ আইডিয়া” -এ!

এখানে অনেক প্রতিভাবান লেখক বিভিন্ন সিরিজে লিখছেন। আপনিও চাইলে আপনার লেখাগুলো সিরিজ আকারে সাজাতে পারবেন।

আপনার লেখক প্রোফাইল হবে একদম জীবন্ত পোর্টফলিও, এক ধরনের জীবন্ত বই। এখানে শুধু লেখক নয়, থাকবে পাঠকেরও সংস্পর্শ। ব্যাজ, পয়েন্ট, স্বীকৃতি এবং কপিরাইট সুরক্ষা তো থাকছেই, লেখাগুলো স্ক্যান করলেই আপনার নাম ভেসে উঠবে।

এটি তাই লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

চলুন বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক....

পূর্ণ নির্দেশনা [Full Guideline]

ই-নলেজ আইডিয়া – লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

আষাঢ়ের শেষ ঠিকানা

0 পছন্দ 0 অপছন্দ
5 বার প্রদর্শিত
করেছেন (17,737 পয়েন্ট)   1 দিন পূর্বে "গল্প" বিভাগে লেখা প্রকাশিত
পোষ্ট আইডি(eID) কার্ড↓ - লেখনীর স্বত্ব ও গুণের পরিচয়!

  আষাঢ়ের শেষ ঠিকানা

মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

ছোট গল্প। মে ০২, ২০২৬


আষাঢ় এলে আকাশটা এমনিতেই ভারী হয়। কিন্তু এবার ভারের মধ্যে এক ধরনের দীর্ঘায়িত নীরবতা আছে, যেন মেঘগুলোও ঠিক করে উঠতে পারছে না—কীভাবে ঝরবে। টিনের চালে বৃষ্টির শব্দ পড়ছে অনবরত, একঘেয়ে নয়, বরং ভাঙা ভাঙা ছন্দে। মনে হয় সময় নিজেই কোথাও থেমে থেমে হাঁটছে। চারপাশে সবুজ আছে, তবে সেটা স্থির নয়—ভেজা, চাপা, একটু ক্লান্ত।


নদীর দিকে তাকালে মনে হয় সে আর নিজের সীমার ভেতরে থাকতে চাইছে না। জল উপচে পড়ছে, কিন্তু সেই উপচে পড়া শুধু পানির নয়—একটা ধীর পরিবর্তনের মতো, যা ধরা যায় না কিন্তু দেখা যায়। ডোবা, খাল, মাঠ একে অন্যের ভেতর মিশে যাচ্ছে। আলাদা করে চেনার চেষ্টা করলেও গুলিয়ে যায়। কোথাও হেলেঞ্চা, কোথাও কলমিলতা—এরা ভেসে আছে ঠিকই, কিন্তু মনে হয় তারা পরিস্থিতিটাকেই মেনে নিয়েছে। কেয়া, কদম, কামিনী, জুঁই, গন্ধরাজ—সব গন্ধ একসঙ্গে বাতাসে জমে গিয়ে এক অচেনা ভার তৈরি করছে।


জানালার পাশে দাঁড়িয়ে আছে পারুল। গ্রিলটা কপালে ঠেকানো, কিন্তু তার মন কোথায় দাঁড়িয়ে—ঘরের ভেতরে নাকি অন্য কোনো সময়ের ভেতরে—তা আলাদা করে বোঝা যায় না। বাইরে বৃষ্টি চলছে, কিন্তু তার দৃষ্টির ভেতরেও যেন অন্য এক আষাঢ় নামছে।


পারুল আর শিমুল—দুই ভাইবোন। পারুল এখন উচ্চমাধ্যমিকের ছাত্রী, শিমুল ছিল ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র।

গত বছরের এই আষাঢ়েই শিমুল আর ফিরে আসেনি।


শিমুল ছিল অস্থির, দৌড়ঝাঁপে ভরা এক শিশু। তার উপস্থিতি ঘরে কোনো ভার তৈরি করত না, বরং অদ্ভুতভাবে হালকা করে দিত। পারুল তাকে খুব কাছ থেকে দেখেছে—ঝগড়া, হাসি, খুনসুটি—সব মিলিয়ে এক ধরনের সহজ সম্পর্ক ছিল তাদের।


সেই দিন সকালে শিমুল বলেছিল,

“বুবু, আজ স্কুল থেকে এসে তোমাকে নিয়ে মোহনপুরের মেলায় যাব।”


কথাটা তখন খুব সাধারণ মনে হয়েছিল। পরে বুঝতে কষ্ট হয়—কোনো কোনো সাধারণ বাক্য আসলে আর সাধারণ থাকে না।


দুপুর গড়িয়ে বিকেল। শিমুলের ফেরার সময় হয়ে এসেছে। পারুলের ভেতরে অকারণ এক অস্থিরতা জমছিল, যেটার কোনো যুক্তি সে তখন খুঁজে পায়নি।


এরপরই সেই দৃশ্য, যা মনে থেকে যায়।


বাড়ির সামনে কিছু মানুষ। প্রথমে অস্পষ্ট, পরে স্পষ্ট। তারা শিমুলকে ধরে নিয়ে আসছে। সে তখনও হাসছে। বলছে,

“আমার কিছু হয়নি, কুকুরে একটু কামড় দিয়েছে।”


কিন্তু পায়ে রক্ত।


পারুল ছুটে গিয়ে ক্ষত পরিষ্কার করে, স্যাভলন দেয়। রক্ত কিছুটা থামে, কিন্তু ভেতরের অস্থিরতা থামে না। এর মধ্যেই খবর পৌঁছে যায় বাবার কাছে।


পরদিন বাবা আসে। শিমুলকে নিয়ে যাওয়া হয় গঞ্জের হাসপাতালে। প্রায় ছাব্বিশ ঘণ্টা দেরি হয়ে গেছে। ডাক্তার প্রথম ইনজেকশন দেন, কিন্তু কণ্ঠে একটা দ্বিধা ছিল—সবকিছু ঠিকমতো এগোচ্ছে কি না, সেটা যেন তিনিও নিশ্চিত নন।


বাড়ি ফেরার দিনও আষাঢ় ছিল। বৃষ্টি থামেনি। বরং আরও ঘন হয়েছে। আকাশটাকে তখন শোকের মতো মনে হচ্ছিল, যদিও সেটা বলা কঠিন।


এরপর শিমুলের শরীর বদলাতে শুরু করে।


দুই-তিন দিনের মধ্যে জ্বর আসে। শুরুতে সাধারণ মনে হলেও দ্রুত পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে। শিমুল অস্বস্তি বোধ করে, মাঝে মাঝে কেঁপে ওঠে। পারুল তার পাশে থাকে সবসময়। হাত ধরে রাখা, মাথায় জল দেওয়া—সবকিছুই সে করছে, যেন এতে কিছুটা হলেও স্থিরতা ফিরে আসে।


একসময় শিমুল বলে ওঠে,

“বুবু… গলায় খুব ব্যথা করছে… পানি গিলতে পারছি না।”


পানি দিলে সে ভয় পায়, আবার পানি ছাড়া থাকতে পারে না। শরীরের ভেতরে একটা অদ্ভুত দ্বন্দ্ব তৈরি হয়, যেটা বাইরে থেকে বোঝা যায় না, শুধু অনুভব করা যায়।


ডাক্তার জানান, জলাতঙ্কের আশঙ্কা আছে। চিকিৎসা কতটা কাজ করবে—তা নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।


এরপর ঘরটা বদলে যায়।


শিমুলের মুখ দিয়ে লালা ঝরতে থাকে, শ্বাস দ্রুত হয়, চোখ স্থির। সেই চোখে ভয় নেই, আছে এক ধরনের বিভ্রান্তি। বাইরে বৃষ্টি চলছে, আর ভেতরে সময় যেন আলাদা করে ভেঙে পড়ছে।


রাত গভীর হলে শিমুল অস্থির হয়ে ওঠে। কখনো পানি চায়, কখনো পানির নাম শুনলেই ভয় পায়। বারবার শুধু একটাই শব্দ—

“পানি…”


শেষের দিকে শরীর ধীরে ধীরে নিস্তেজ হয়ে আসে। শব্দ কমে যায়। নড়াচড়া থেমে যায়। একসময় সবকিছু স্থির।


শিমুল আর নেই।


পরদিন সকালেও বৃষ্টি থামে না। যেন পৃথিবী জানেই না কী ঘটেছে। সাদা কাপড়ে মোড়ানো শরীর নিয়ে সবাই দাঁড়িয়ে থাকে। কবর দেওয়ার জায়গা খুঁজে পাওয়া যায় না। শেষ পর্যন্ত গ্রামের উঁচু ঢিবির মতো একটা জায়গায় তাকে রাখা হয়—যেখানে পানি থামে না, তবুও সেটাই শেষ ঠিকানা হয়ে যায়।


পারুল অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকে।


তার সামনে শুধু বৃষ্টি। আর ভেতরে একটা প্রশ্ন, যার কোনো সহজ উত্তর নেই—যে ছেলেটা পানিকে ভয় পেত, তার শেষ ঠিকানা কি তাহলে এটাই ছিল?


আজও আষাঢ় এলে পারুল জানালার পাশে দাঁড়ায়। বাইরে থেমে না-থাকা বৃষ্টি দেখে তার মনে হয়, শিমুল কোথাও নেই—আবার কোথাও আছেও। পানি, শব্দ, গন্ধ—সবকিছুই তাকে মনে করিয়ে দেয়, কিন্তু কোনো উত্তর আসে না।


শুধু আষাঢ়ের বৃষ্টি নেমে যেতে থাকে—নিঃশব্দে, অবিরাম।

মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

ছোট গল্প। মে ০২, ২০২৬


আষাঢ় এলে আকাশটা এমনিতেই ভারী হয়। কিন্তু এবার ভারের মধ্যে এক ধরনের দীর্ঘায়িত নীরবতা আছে, যেন মেঘগুলোও ঠিক করে উঠতে পারছে না—কীভাবে ঝরবে। টিনের চালে বৃষ্টির শব্দ পড়ছে অনবরত, একঘেয়ে নয়, বরং ভাঙা ভাঙা ছন্দে। মনে হয় সময় নিজেই কোথাও থেমে থেমে হাঁটছে। চারপাশে সবুজ আছে, তবে সেটা স্থির নয়—ভেজা, চাপা, একটু ক্লান্ত।


নদীর দিকে তাকালে মনে হয় সে আর নিজের সীমার ভেতরে থাকতে চাইছে না। জল উপচে পড়ছে, কিন্তু সেই উপচে পড়া শুধু পানির নয়—একটা ধীর পরিবর্তনের মতো, যা ধরা যায় না কিন্তু দেখা যায়। ডোবা, খাল, মাঠ একে অন্যের ভেতর মিশে যাচ্ছে। আলাদা করে চেনার চেষ্টা করলেও গুলিয়ে যায়। কোথাও হেলেঞ্চা, কোথাও কলমিলতা—এরা ভেসে আছে ঠিকই, কিন্তু মনে হয় তারা পরিস্থিতিটাকেই মেনে নিয়েছে। কেয়া, কদম, কামিনী, জুঁই, গন্ধরাজ—সব গন্ধ একসঙ্গে বাতাসে জমে গিয়ে এক অচেনা ভার তৈরি করছে।


জানালার পাশে দাঁড়িয়ে আছে পারুল। গ্রিলটা কপালে ঠেকানো, কিন্তু তার মন কোথায় দাঁড়িয়ে—ঘরের ভেতরে নাকি অন্য কোনো সময়ের ভেতরে—তা আলাদা করে বোঝা যায় না। বাইরে বৃষ্টি চলছে, কিন্তু তার দৃষ্টির ভেতরেও যেন অন্য এক আষাঢ় নামছে।


পারুল আর শিমুল—দুই ভাইবোন। পারুল এখন উচ্চমাধ্যমিকের ছাত্রী, শিমুল ছিল ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র।

গত বছরের এই আষাঢ়েই শিমুল আর ফিরে আসেনি।


শিমুল ছিল অস্থির, দৌড়ঝাঁপে ভরা এক শিশু। তার উপস্থিতি ঘরে কোনো ভার তৈরি করত না, বরং অদ্ভুতভাবে হালকা করে দিত। পারুল তাকে খুব কাছ থেকে দেখেছে—ঝগড়া, হাসি, খুনসুটি—সব মিলিয়ে এক ধরনের সহজ সম্পর্ক ছিল তাদের।


সেই দিন সকালে শিমুল বলেছিল,

“বুবু, আজ স্কুল থেকে এসে তোমাকে নিয়ে মোহনপুরের মেলায় যাব।”


কথাটা তখন খুব সাধারণ মনে হয়েছিল। পরে বুঝতে কষ্ট হয়—কোনো কোনো সাধারণ বাক্য আসলে আর সাধারণ থাকে না।


দুপুর গড়িয়ে বিকেল। শিমুলের ফেরার সময় হয়ে এসেছে। পারুলের ভেতরে অকারণ এক অস্থিরতা জমছিল, যেটার কোনো যুক্তি সে তখন খুঁজে পায়নি।


এরপরই সেই দৃশ্য, যা মনে থেকে যায়।


বাড়ির সামনে কিছু মানুষ। প্রথমে অস্পষ্ট, পরে স্পষ্ট। তারা শিমুলকে ধরে নিয়ে আসছে। সে তখনও হাসছে। বলছে,

“আমার কিছু হয়নি, কুকুরে একটু কামড় দিয়েছে।”


কিন্তু পায়ে রক্ত।


পারুল ছুটে গিয়ে ক্ষত পরিষ্কার করে, স্যাভলন দেয়। রক্ত কিছুটা থামে, কিন্তু ভেতরের অস্থিরতা থামে না। এর মধ্যেই খবর পৌঁছে যায় বাবার কাছে।


পরদিন বাবা আসে। শিমুলকে নিয়ে যাওয়া হয় গঞ্জের হাসপাতালে। প্রায় ছাব্বিশ ঘণ্টা দেরি হয়ে গেছে। ডাক্তার প্রথম ইনজেকশন দেন, কিন্তু কণ্ঠে একটা দ্বিধা ছিল—সবকিছু ঠিকমতো এগোচ্ছে কি না, সেটা যেন তিনিও নিশ্চিত নন।


বাড়ি ফেরার দিনও আষাঢ় ছিল। বৃষ্টি থামেনি। বরং আরও ঘন হয়েছে। আকাশটাকে তখন শোকের মতো মনে হচ্ছিল, যদিও সেটা বলা কঠিন।


এরপর শিমুলের শরীর বদলাতে শুরু করে।


দুই-তিন দিনের মধ্যে জ্বর আসে। শুরুতে সাধারণ মনে হলেও দ্রুত পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে। শিমুল অস্বস্তি বোধ করে, মাঝে মাঝে কেঁপে ওঠে। পারুল তার পাশে থাকে সবসময়। হাত ধরে রাখা, মাথায় জল দেওয়া—সবকিছুই সে করছে, যেন এতে কিছুটা হলেও স্থিরতা ফিরে আসে।


একসময় শিমুল বলে ওঠে,

“বুবু… গলায় খুব ব্যথা করছে… পানি গিলতে পারছি না।”


পানি দিলে সে ভয় পায়, আবার পানি ছাড়া থাকতে পারে না। শরীরের ভেতরে একটা অদ্ভুত দ্বন্দ্ব তৈরি হয়, যেটা বাইরে থেকে বোঝা যায় না, শুধু অনুভব করা যায়।


ডাক্তার জানান, জলাতঙ্কের আশঙ্কা আছে। চিকিৎসা কতটা কাজ করবে—তা নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।


এরপর ঘরটা বদলে যায়।


শিমুলের মুখ দিয়ে লালা ঝরতে থাকে, শ্বাস দ্রুত হয়, চোখ স্থির। সেই চোখে ভয় নেই, আছে এক ধরনের বিভ্রান্তি। বাইরে বৃষ্টি চলছে, আর ভেতরে সময় যেন আলাদা করে ভেঙে পড়ছে।


রাত গভীর হলে শিমুল অস্থির হয়ে ওঠে। কখনো পানি চায়, কখনো পানির নাম শুনলেই ভয় পায়। বারবার শুধু একটাই শব্দ—

“পানি…”


শেষের দিকে শরীর ধীরে ধীরে নিস্তেজ হয়ে আসে। শব্দ কমে যায়। নড়াচড়া থেমে যায়। একসময় সবকিছু স্থির।


শিমুল আর নেই।


পরদিন সকালেও বৃষ্টি থামে না। যেন পৃথিবী জানেই না কী ঘটেছে। সাদা কাপড়ে মোড়ানো শরীর নিয়ে সবাই দাঁড়িয়ে থাকে। কবর দেওয়ার জায়গা খুঁজে পাওয়া যায় না। শেষ পর্যন্ত গ্রামের উঁচু ঢিবির মতো একটা জায়গায় তাকে রাখা হয়—যেখানে পানি থামে না, তবুও সেটাই শেষ ঠিকানা হয়ে যায়।


পারুল অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকে।


তার সামনে শুধু বৃষ্টি। আর ভেতরে একটা প্রশ্ন, যার কোনো সহজ উত্তর নেই—যে ছেলেটা পানিকে ভয় পেত, তার শেষ ঠিকানা কি তাহলে এটাই ছিল?


আজও আষাঢ় এলে পারুল জানালার পাশে দাঁড়ায়। বাইরে থেমে না-থাকা বৃষ্টি দেখে তার মনে হয়, শিমুল কোথাও নেই—আবার কোথাও আছেও। পানি, শব্দ, গন্ধ—সবকিছুই তাকে মনে করিয়ে দেয়, কিন্তু কোনো উত্তর আসে না।


শুধু আষাঢ়ের বৃষ্টি নেমে যেতে থাকে—নিঃশব্দে, অবিরাম।

আমি মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন, ই-নলেজ এর একজন যাচাইকৃত লেখক। আমি এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত আছি প্রায় 7 মাস 1 সপ্তাহ ধরে, এবং এ পর্যন্ত 879 টি লেখা ও 0 টি প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছি। আমার অর্জিত মোট পয়েন্ট 17737। ই-নলেজ আমার চিন্তা, জ্ঞান ও কণ্ঠকে সবার মাঝে পৌঁছে দিতে সহায়তা করেছে।
সংযুক্ত তথ্য
নিজস্ব আইডিয়া, ই-নলেজ আইডিয়া এ প্রথম প্রকাশিত
Enolej ID(eID): 3827
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।

এই লেখকের অন্যান্য সিরিজ


বিজ্ঞাপন: Remembering...

Image

এই ব্লগটির প্রতিক্রিয়া দিতে দয়া করে প্রবেশ কিংবা নিবন্ধন করুন ।

সংশ্লিষ্ট ব্লগগুচ্ছ


শেষ মজুরির দিন মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন  ছোট গল্প। মে ০১,২০২৬ মে মাসের প্রথম সকাল। শহরজুড়ে লাল পতাকা, মাইকে স্লোগান—“শ্রমিকের অধিকার চাই”—সবই যেন ঠিকঠাক আছে। তবুও কোথাও একটা অস্বস্তি রয়ে যায়; [...] বিস্তারিত পড়ুন...
9 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

  শেষ হাসিটামোহাম্মদ জাহিদ হোসেনছোট গল্প । মে ০১, ২০২৫(লেখাটি সম্পূর্ণ বাস্তব কাহি÷[...] বিস্তারিত পড়ুন...
8 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

বাবার শেষ দিনগুলোর স্মৃতি মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন স্মৃতিচারণ। এপ্রিল ২৭,২০২৬ আমরা প্রায়ই ভাবি সময় আমাদের হাতে। দিনগুলোকে আমরা ব্যবহার করি, পরিকল্পনা করি, সামনে এগিয়ে নিয়ে যাই। কিন্তু কিছু ক�[...] বিস্তারিত পড়ুন...
8 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
বাসন্তীর একগুঁয়েমি ও জীবনের শেষ ঠিকানা মোহাম্মাদ জাহিদ হোসেন বিশ্লেষণধর্মী। ০৩ [...] বিস্তারিত পড়ুন...
33 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
শেষ না হওয়া শ্বাস মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ছোট গল্প এপ্রিল ২০, ২০২৬ সিসিইউর নিঃশব্দ স[...] বিস্তারিত পড়ুন...
18 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ
📢 Notice Board
No active notices
ই-নলেজ আইডিয়া(Enolej Idea) হলো লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম যেখানে যেকোনো ধরনের লেখা—সাহিত্য, বিজ্ঞান, গবেষণা নোট, মতামত, প্রতিবাদী লেখা, ধর্মীয় চিন্তা, ব্যক্তিগত নোট বা দৈনন্দিন ভাবনা—নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা যায়। এটি সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ছড়িয়ে থাকা অগোছালো কনটেন্টকে একটি ভেরিফাইড, রেফারেন্সযোগ্য ডিজিটাল পোর্টফোলিওতে রূপান্তর করে, যা ব্যক্তির বুদ্ধিবৃত্তিক পরিচিতি ও দীর্ঘমেয়াদি ব্র্যান্ডিং গড়ে তোলে। প্রতিটি লেখার জন্য ইউনিক ডিজিটাল আইডি (eID) ও কপিরাইট সুরক্ষা প্রদান করা হয়, ফলে লেখা চুরি হলেও আসল লেখক সহজে শনাক্তযোগ্য থাকে। ধারাবাহিক কনটেন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাজানো, এক ক্লিকেই ই-বুক বা বইয়ের খসড়ায় রূপান্তর, ব্যক্তিগত খসড়া গোপন রাখা এবং একটি সক্রিয় কমিউনিটির মাধ্যমে পাঠকের সাথে সরাসরি সংযোগ—সব সুবিধাই এখানে একসাথে পাওয়া যায়। ই-নলেজ আইডিয়া মূলত ব্যক্তির চিন্তা ও জ্ঞানকে একটি স্থায়ী, সুরক্ষিত ও সার্বজনীনভাবে স্বীকৃত ডিজিটাল লেখক ইকোসিস্টেমে রূপ দেয়। IDEA = Independent Digital Expression & Authorship.
  1. মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

    122 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    6 টি আইডিয়া ব্লগ

  2. মাহাতাব হোসেন অপল

    82 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    4 টি আইডিয়া ব্লগ

  3. আল-মামুন রেজা

    21 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    1 আইডিয়া ব্লগ

  4. Mehedi Hasan akanda

    12 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    0 টি আইডিয়া ব্লগ

...