Enolej Idea-তে লেখা প্রকাশের নিয়ম জানতে পূর্ণ নির্দেশনা দেখুন...
ই-নলেজ আইডিয়া হলো এমন একটি চিন্তানির্ভর প্ল্যাটফর্ম, যেখানে মানুষ শুধু তথ্য নয়, চিন্তা শেয়ার করে। এখানে জ্ঞানীরা একত্র হন, নতুনরা পথ খুঁজে পান, এবং সবাই মিলে তৈরি হয় একটি জ্ঞানভিত্তিক উম্মাহ। এটি জ্ঞানচর্চাকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ বানানোর একটি প্রচেষ্টা, যেখানে লেখা, ভাবা ও শেখা—সবই হয় মুক্তভাবে।আজই যোগ দিন!নিবন্ধন করতে এখানে ক্লিক করুন...।

-: ই-নলেজ আইডিয়া :-

আপনার লেখার কপিরাইট সুরক্ষা, স্বীকৃতি এবং ফ্রী প্রমোশন, সব এক প্ল্যাটফর্মে!

লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম আপনার লেখার অভিজ্ঞতাই বদলে দিবে। (পড়ুন...)

যদি আপনি হন পাঠক, কিংবা লেখক হিসেবে জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করেন:

যদি আপনার লেখাগুলোর কপিরাইট সুরক্ষা, সুশৃঙ্খলতা, আপনার ভেরিফাইড লেখক পোর্টফলিও এবং লেখক-পাঠকের কেন্দ্রীয় কমিউনিটিতে যুক্ত হতে চান, তাহলে নিবন্ধন করুন লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম “ই-নলেজ আইডিয়া” -এ!

এখানে অনেক প্রতিভাবান লেখক বিভিন্ন সিরিজে লিখছেন। আপনিও চাইলে আপনার লেখাগুলো সিরিজ আকারে সাজাতে পারবেন।

আপনার লেখক প্রোফাইল হবে একদম জীবন্ত পোর্টফলিও, এক ধরনের জীবন্ত বই। এখানে শুধু লেখক নয়, থাকবে পাঠকেরও সংস্পর্শ। ব্যাজ, পয়েন্ট, স্বীকৃতি এবং কপিরাইট সুরক্ষা তো থাকছেই, লেখাগুলো স্ক্যান করলেই আপনার নাম ভেসে উঠবে।

এটি তাই লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

চলুন বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক....

পূর্ণ নির্দেশনা [Full Guideline]

ই-নলেজ আইডিয়া – লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

যে শব্দটা অভিক ভুলতে পারেনি

0 পছন্দ 0 অপছন্দ
1 বার দর্শন
করেছেন (19,261 পয়েন্ট)   2 ঘন্টা পূর্বে "গল্প" বিভাগে লেখা প্রকাশিত
পোষ্ট আইডি(eID) কার্ড↓ - লেখনীর স্বত্ব ও গুণের পরিচয়!

যে শব্দটা অভিক ভুলতে পারেনিimage

মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

ছোট গল্প  । ৩০ মে , ২০২৬


দুর্ঘটনার পর অভিককে কেমন যেন অন্য মানুষ লাগত। পুরোপুরি বদলে গেছে, তা না। অফিসে যেত, কথা বলত, মেসেজের উত্তরও দিত। বাইরে থেকে দেখলে ঠিকই লাগত। কিন্তু কাছের মানুষ বুঝত, ওর ভেতরে কিছু একটা ঠিক জায়গায় নেই। সব সময় কেমন টেনশনে থাকা মানুষদের যেমন লাগে, তেমন। হঠাৎ একটু জোরে শব্দ হলেই চমকে উঠত।


ঘটনাটা হয়েছিল তিন মাস আগে।


সেদিন রাতে বৃষ্টি হচ্ছিল হালকা। রাস্তা পিচ্ছিল ছিল। অভিক বাসায় ফিরছিল। একটা মোড় ঘোরার সময় হঠাৎ সামনে ট্রাকটা আসে। তারপর শুধু শব্দ। খুব বাজে একটা শব্দ। লোহা চাপা পড়ার মতো। কাঁচ একসঙ্গে ভাঙলে যেমন হয়।


অভিক পরে বলেছিল, পুরো জিনিসটা কয়েক সেকেন্ডের ছিল হয়তো, কিন্তু তার কাছে মনে হয়েছিল অনেকক্ষণ ধরে হচ্ছে সবকিছু।


জ্ঞান ফেরার পর সে হাসপাতালে। হাতে ব্যান্ডেজ, মাথায় সেলাই। ডাক্তার বলেছিলেন, “অল্পের জন্য বেঁচে গেছেন।”


এরপর কয়েক দিন সবাই একই কথা বলেছে।


“ভাগ্য ভালো ছিল।”

“বেঁচে গেছিস, এটাই বড় কথা।”


অভিকও মাথা নেড়ে হাসত একটু। ওই ধরনের হাসি, মানুষ যখন বুঝতে পারে না কী বলা উচিত, তখন যেমন দেয়।


কারণ আসল সমস্যাটা অন্য জায়গায় ছিল।


বাসায় ফেরার পর থেকেই তার ঘুম কমে যায়। রাতে চোখ বন্ধ করলেই সেই শব্দটা মাথায় ফিরে আসত।


ধাম।


তারপর বুক ধড়ফড়। কয়েকবার এমনও হয়েছে, ঘুম থেকে উঠে সে কিছুক্ষণ বুঝতেই পারেনি সে হাসপাতালে না বাসায়।


একদিন রাতের দিকে তার মা উঠে দেখে, ড্রইংরুমের লাইট জ্বালানো। অভিক সোফায় বসে আছে। টিভি বন্ধ। ফোনও হাতে নেই। শুধু বসে ছিল।


মা জিজ্ঞেস করেছিলেন, “ঘুমাসনি?”


সে বলেছিল, “ঘুম আসতেছে না।”


এইটুকুই।


বাকি কথাগুলো আর বলেনি। যে চোখ বন্ধ করলেই তার মনে হয় ট্রাকটা আবার সামনে চলে আসছে। যে এখন হঠাৎ ব্রেকের শব্দ শুনলে তার বুক কেঁপে ওঠে। যে সে এখন আর গাড়ির সামনে বসতে পারে না।


অফিসে যাওয়ার সময় একটা মোড় এলেই তার ভেতরটা কেমন অস্থির হয়ে যেত। নিজেও বুঝিয়ে বলতে পারত না ঠিক।


একদিন রিকশাওয়ালা হঠাৎ ব্রেক করেছিল। অভিক এমনভাবে চমকে উঠেছিল যে পাশের লোক তাকিয়ে ছিল কিছুক্ষণ। এই জিনিসটাই পরে তাকে সবচেয়ে বেশি অস্বস্তিতে ফেলত। নিজের কাছেই নিজেকে অস্বাভাবিক লাগা। কারণ আশেপাশের সবাই স্বাভাবিক। শুধু সে না।


দুর্ঘটনার পর মানুষ শরীরের আঘাত দেখে। মাথার সেলাই দেখে। হাতে কাটা দাগ দেখে। কিন্তু কিছু ভয় ভেতরে থেকে যায়। ওগুলো কাউকে দেখানোও যায় না ঠিকমতো।


বন্ধুরা কয়েকবার তাকে রাতে বের হতে বলেছিল। সে যায়নি। আগে লং ড্রাইভ খুব পছন্দ করত। এখন সন্ধ্যার পর বের হলেই অস্বস্তি লাগত।


একদিন রাহাত বিরক্ত হয়েই বলেছিল, “তুই এখনও ওই জিনিসটা নিয়ে পড়ে আছিস?”


অভিক তখন একটু হেসেছিল। অস্বস্তির হাসি।


কারণ সে নিজেও বুঝতে পারছিল না, এত দিন পরও ভয়টা যাচ্ছে না কেন। দুর্ঘটনা তো শেষ হয়ে গেছে। তাহলে শরীর ঠিক হয়ে যাওয়ার পরও মাথার ভেতর ওই রাতটা আটকে আছে কেন?


একদিন অফিসে কাজ করার সময় নিচে হঠাৎ বিকট শব্দ হলো। কী একটা পড়েছিল হয়তো। অভিক এত জোরে চমকে উঠল যে হাত থেকে মগ পড়ে ভেঙে যায়।


পুরো অফিস তাকিয়ে ছিল তার দিকে।


ওর তখন মনে হচ্ছিল, সবাই ভাবছে সে বাড়াবাড়ি করছে। কিন্তু সত্যি বলতে, তার বুক তখন এমনভাবে কাঁপছিল যে কথা বলতেও অস্বস্তি হচ্ছিল।


সেদিন বাসায় ফিরে সে অনেকক্ষণ চুপচাপ বসে ছিল। তারপর প্রথমবার গুগলে সার্চ করেছিল, “দুর্ঘটনার পরে বারবার ভয় লাগা।”


সেখান থেকেই প্রথম বুঝতে পারে, শুধু শরীর না, ভয়ও আঘাত পায়। আর কিছু ভয় সহজে যায় না।


পরে একদিন সে কাউন্সেলরের কাছে যায়। প্রথম দিন খুব বেশি কথা বলেনি।


শুধু বলেছিল, “আমি ঠিক আছি। আবার ঠিকও নাই।”


কাউন্সেলর তাকে থামাননি। “এত ভাবছেন কেন” টাইপ কিছু বলেননি। এই জিনিসটাই অভিকের কাছে অদ্ভুত লেগেছিল। কারণ এত দিন সবাই তাকে বোঝাতে চেয়েছে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। কিন্তু কেউ আসলে জানতে চায়নি, সে এখনও এত ভয় পায় কেন।


ধীরে ধীরে সে কথা বলা শুরু করে। সেই রাতটা নিয়ে। ঘুম ভেঙে যাওয়ার ব্যাপারটা নিয়ে। হঠাৎ শব্দ শুনলে বুক ধক করে ওঠা নিয়ে।


সবকিছু একদিনে ঠিক হয়নি। এখনও মাঝে মাঝে রাতে ঘুম ভেঙে গেলে ওই শব্দটা কানে বাজে।


ধাম।


তারপরও একটা জিনিস বদলেছে। এখন অন্তত সে জানে, সে পাগল হয়ে যাচ্ছে না। সে শুধু একটা ভয়ংকর ঘটনার ভেতর দিয়ে গেছে।


আর কিছু ঘটনা মানুষ পার হয়ে আসে ঠিকই, কিন্তু পুরোপুরি পেছনে ফেলে আসতে পারে না।


#ছোটগল্প #মানসিকস্বাস্থ্য #আতঙ্ক #ট্রমা #বাংলালেখা

আমি মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন, ই-নলেজ এর একজন যাচাইকৃত লেখক। আমি এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত আছি প্রায় 8 মাস ধরে, এবং এ পর্যন্ত 954 টি লেখা ও 0 টি প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছি। আমার অর্জিত মোট পয়েন্ট 19261। ই-নলেজ আমার চিন্তা, জ্ঞান ও কণ্ঠকে সবার মাঝে পৌঁছে দিতে সহায়তা করেছে।
সংযুক্ত তথ্য
নিজস্ব আইডিয়া, ই-নলেজ আইডিয়া এ প্রথম প্রকাশিত
Enolej ID(eID): 3960
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।

এই লেখকের অন্যান্য সিরিজ


বিজ্ঞাপন: Remembering...

Image

এই ব্লগটির প্রতিক্রিয়া দিতে দয়া করে প্রবেশ কিংবা নিবন্ধন করুন ।

সংশ্লিষ্ট ব্লগগুচ্ছ


image
বৃষ্টিতে হারানো অভিক মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ছোট গল্প | ১৩-১১-২০২৫ সবে অভিক হাসপাতাল ö[...] বিস্তারিত পড়ুন...
236 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

 অন্ধকারের আগে যে মানুষটা ছিল মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ছোট গল্প।মে ০৭, ২০২৬ সারাদিনে[...] বিস্তারিত পড়ুন...
164 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

 যে প্রেম শব্দে ধরা পড়ে না মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ছোট গল্প। মে ০৩, ২০২৬ রাতটা শুরু থেক[...] বিস্তারিত পড়ুন...
212 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

যে কান্না শোনার কথা ছিল মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ছোট গল্প। মে ০১, ২০২৬ ডাইরির পাতা খুললেই কেমন একটা চুপচাপ ভাব নেমে আসে। একেবারে নিঃশব্দ না—বরং মনে হয়, কথাগুলো বাইরে বের না হয়ে ভেতরেই ঘুরপাক খা�[...] বিস্তারিত পড়ুন...
313 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

 বৃষ্টির ভেতর যে গল্প জন্ম নেয় মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ছোট গল্প । এপ্রিল ৩০, ২০২৬ বৃষ্[...] বিস্তারিত পড়ুন...
176 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ
📢 Notice Board
No active notices
ই-নলেজ আইডিয়া(Enolej Idea) হলো লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম যেখানে যেকোনো ধরনের লেখা—সাহিত্য, বিজ্ঞান, গবেষণা নোট, মতামত, প্রতিবাদী লেখা, ধর্মীয় চিন্তা, ব্যক্তিগত নোট বা দৈনন্দিন ভাবনা—নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা যায়। এটি সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ছড়িয়ে থাকা অগোছালো কনটেন্টকে একটি ভেরিফাইড, রেফারেন্সযোগ্য ডিজিটাল পোর্টফোলিওতে রূপান্তর করে, যা ব্যক্তির বুদ্ধিবৃত্তিক পরিচিতি ও দীর্ঘমেয়াদি ব্র্যান্ডিং গড়ে তোলে। প্রতিটি লেখার জন্য ইউনিক ডিজিটাল আইডি (eID) ও কপিরাইট সুরক্ষা প্রদান করা হয়, ফলে লেখা চুরি হলেও আসল লেখক সহজে শনাক্তযোগ্য থাকে। ধারাবাহিক কনটেন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাজানো, এক ক্লিকেই ই-বুক বা বইয়ের খসড়ায় রূপান্তর, ব্যক্তিগত খসড়া গোপন রাখা এবং একটি সক্রিয় কমিউনিটির মাধ্যমে পাঠকের সাথে সরাসরি সংযোগ—সব সুবিধাই এখানে একসাথে পাওয়া যায়। ই-নলেজ আইডিয়া মূলত ব্যক্তির চিন্তা ও জ্ঞানকে একটি স্থায়ী, সুরক্ষিত ও সার্বজনীনভাবে স্বীকৃত ডিজিটাল লেখক ইকোসিস্টেমে রূপ দেয়। IDEA = Independent Digital Expression & Authorship.
  1. মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

    1646 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    81 টি আইডিয়া ব্লগ

  2. Monsoon Harmony

    333 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    16 টি আইডিয়া ব্লগ

  3. রফিক আতা

    190 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    9 টি আইডিয়া ব্লগ

  4. মাহাতাব হোসেন অপল

    170 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    8 টি আইডিয়া ব্লগ

...