Enolej Idea-তে লেখা প্রকাশের নিয়ম জানতে পূর্ণ নির্দেশনা দেখুন...
ই-নলেজ আইডিয়া হলো এমন একটি চিন্তানির্ভর প্ল্যাটফর্ম, যেখানে মানুষ শুধু তথ্য নয়, চিন্তা শেয়ার করে। এখানে জ্ঞানীরা একত্র হন, নতুনরা পথ খুঁজে পান, এবং সবাই মিলে তৈরি হয় একটি জ্ঞানভিত্তিক উম্মাহ। এটি জ্ঞানচর্চাকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ বানানোর একটি প্রচেষ্টা, যেখানে লেখা, ভাবা ও শেখা—সবই হয় মুক্তভাবে।আজই যোগ দিন!নিবন্ধন করতে এখানে ক্লিক করুন...।

-: ই-নলেজ আইডিয়া :-

আপনার লেখার কপিরাইট সুরক্ষা, স্বীকৃতি এবং ফ্রী প্রমোশন, সব এক প্ল্যাটফর্মে!

লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম আপনার লেখার অভিজ্ঞতাই বদলে দিবে। (পড়ুন...)

যদি আপনি হন পাঠক, কিংবা লেখক হিসেবে জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করেন:

যদি আপনার লেখাগুলোর কপিরাইট সুরক্ষা, সুশৃঙ্খলতা, আপনার ভেরিফাইড লেখক পোর্টফলিও এবং লেখক-পাঠকের কেন্দ্রীয় কমিউনিটিতে যুক্ত হতে চান, তাহলে নিবন্ধন করুন লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম “ই-নলেজ আইডিয়া” -এ!

এখানে অনেক প্রতিভাবান লেখক বিভিন্ন সিরিজে লিখছেন। আপনিও চাইলে আপনার লেখাগুলো সিরিজ আকারে সাজাতে পারবেন।

আপনার লেখক প্রোফাইল হবে একদম জীবন্ত পোর্টফলিও, এক ধরনের জীবন্ত বই। এখানে শুধু লেখক নয়, থাকবে পাঠকেরও সংস্পর্শ। ব্যাজ, পয়েন্ট, স্বীকৃতি এবং কপিরাইট সুরক্ষা তো থাকছেই, লেখাগুলো স্ক্যান করলেই আপনার নাম ভেসে উঠবে।

এটি তাই লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

চলুন বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক....

পূর্ণ নির্দেশনা [Full Guideline]

ই-নলেজ আইডিয়া – লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

ব্যস্ত মানুষের নিঃসঙ্গ মৃত্যু

0 পছন্দ 0 অপছন্দ
396 বার প্রদর্শিত
করেছেন (25,432 পয়েন্ট)   09 জানুয়ারি "গল্প" বিভাগে লেখা প্রকাশিত
পোষ্ট আইডি(eID) কার্ড↓ - লেখনীর স্বত্ব ও গুণের পরিচয়!

ব্যস্ত মানুষের নিঃসঙ্গ মৃত্যু

মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

ছোটগল্প। জানুয়ারি ১০, ২০২৬


রাত পৌনে বারোটা। শহরের আলো ভেসে যায় জানালা ভেদ করে। রাহুল ডেস্কে বসে আছে, চারপাশে ফোনের নোটিফিকেশন, মেইল, টাস্ক লিস্ট। দিনের মধ্যে হাজারো মিটিং, কনফারেন্স, রিপোর্ট—সবকিছুর চাপে তার শরীর নিস্তেজ, মন ভেঙে।


সেলফোন বাজল। বার্তা পড়ে, মা লিখেছে: 

“রাহুল, রাতে খেয়েছ?”

রাহুল থামল। রাতের খাবারের কথা তার মনের কোন অংশে নেই। সে শুধু টাইপ করতে থাকে: 

“হ্যাঁ মা, খেয়েছি।”

কিন্তু আসলে সে খাবার খায়নি। রাতের ক্লান্তি, একাকীত্ব, বেদনা—সব মিশে যায় কেবল নীরব ইমোজি পাঠাতে।


একটা সময় ছিল, যখন রাহুলের চারপাশে মানুষ ছিল। বাবা-মা, বন্ধু, প্রিয়জন। এখন? 

ফোনের পরিসংখ্যানই তার একমাত্র বন্ধু। হ্যাঁ, চারপাশে মানুষ আছে, কিন্তু কেউ চোখের সঙ্গে চোখ মেলায় না। কেউ বুঝে না সে একা।


কালকের মিটিং, পরশুর রিপোর্ট—সবই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু কেউ বলেনি, “তুমি কেমন আছ?”

প্রতিদিন, প্রতিটি ‘হ্যাঁ’ মেনে নেওয়া দায়িত্বের বোঝা। প্রতিটি ‘না’ বলা অসম্ভব। রাহুল বেঁচে আছে কাজের জন্য, জীবনের জন্য নয়।


সপ্তাহান্তে অফিস বন্ধ, শহর নিরব। রাহুল বাড়িতে ফিরল। দরজার চাবি ঘুরল। ঘরটা ফাঁকা। রান্নাঘরের ঘড়ি টিক টিক করছে। টিক টিক শব্দটা যেন তার হৃদয়ের সঙ্গে মিলছে। তিনি বসে থাকলেন সোফায়। মনে হচ্ছে, তার চারপাশের প্রতিটি জিনিস—ফ্রেম, টেবিল, কিতাব, চেয়ার—সব তার একাকীত্বের সাক্ষী।


রাত বাড়তে থাকল। সে নিজের জীবনের হিসাব করতে লাগল। কত বছর কেটে গেছে ব্যস্ততার ছদ্মাবরণে? 

কত বন্ধু এসেছে, কতই না চলে গেছে? 

কতবার হাসি মুখে ভেতরে কেঁদেছে? 

প্রতিটি টাস্ক, প্রতিটি ডেডলাইন, প্রতিটি মিটিং—সবই তাকে আরও নিঃসঙ্গ করে তুলেছে।


ফেসবুকের স্ট্যাটাস পড়ল, 

“বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটাও, জীবন একবারই আসে।”

রাহুল হেসে ফেলল। কখনো বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানো মানেই নতুন রিপোর্টের চাপ, মিটিংয়ের প্রস্তুতি। তাই বন্ধুত্বও এখন স্ক্রিনের ভেতর সীমাবদ্ধ।


কেন মানুষের জীবনে সময় থাকা সত্ত্বেও সম্পর্ক অদৃশ্য হয়ে যায়? 

সে নিজেও বুঝতে পারছে না। পরিবার আছে, ঘর আছে, ভালোবাসা আছে। কিন্তু নিজের হৃদয় কোথায়? 

সেই হৃদয় চাপা পড়ে গেছে ফোন, মেইল, কাজের চাপে।


মাঝরাতে হঠাৎ দরজায় কোন শব্দ হলো। রাহুল ঘুম ভাঙল। কেউ নেই। মনে হল, তিনি নাকি এই ঘরে একাই। একা হয়েছেন জীবনের সবচেয়ে ব্যস্ত মুহূর্তে। একা হলেও দায়িত্ব টিক আছে। পরিবারের জন্য, চাকরির জন্য, সমাজের জন্য—সব কিছুর জন্য। নিজের জন্য নয়।


তিনি বুঝতে পারলেন—ব্যস্ততা যদি মানুষের জীবনের একমাত্র লক্ষ্য হয়ে যায়, তবে মৃত্যু আসে নিঃশব্দে। শারীরিক মৃত্যু নয়, বরং মানসিক, আবেগিক, আত্মার মৃত্যু।


রাতশেষে রাহুল জানালার পাশে বসে বাইরে তাকাল। শহরের আলো এখন নিঃশব্দ। মানুষ ঘুমোয়, পরিবার ঘুমোয়, কিন্তু সে এখনও কাজ করছে—নিজেকে, নিজের দায়িত্বকে বাঁচাতে। নিজের হাসি বিক্রি করেছে, নিজের আনন্দ বিলিয়েছে।

ক্লান্তি? আছে। ব্যথা? আছে। 

তবে কেউ জানে না। কেউ বোঝে না।


পরিশেষে রাহুল বুঝতে পারল—ব্যস্ত জীবনের মধ্যে নিঃসঙ্গতা এমন এক সঙ্গী, যা সাথে থাকবে যতদিন তিনি বেঁচে থাকবেন। কিন্তু এই একাকীত্বই তাকে মানবিক করে তোলে, সমাজের জন্য দায়িত্বশীল করে তোলে।


আমরা যদি প্রতিদিন ব্যস্ততার ছদ্মাবরণে নিজের পরিবার, বন্ধু ও আত্মীয়কে ভুলে যাই, তবে আমাদের জীবনের শেষ মুহূর্তে কেউ থাকবে না। নিঃশব্দ মৃত্যু তখন আসে, যে মৃত্যু দেখার কেউ থাকে না।


তাই আজ, যদি আপনি রাহুলের মতো জীবন কাটান—একটু সময় বের করুন। ফোন, মেইল, মিটিং ছেড়ে আপনার চারপাশের মানুষকে দেখুন। তাদের সঙ্গে চোখ মেলান, হাসি ভাগ করুন। ব্যস্ততা জীবনের অংশ হতে পারে, তবে মানুষ হওয়া তার চেয়ে বড়।


নিঃসঙ্গ মৃত্যু এড়ানো যায় না, কিন্তু তা কমিয়ে আনা সম্ভব। তাই সচেতন হোন—নিজের জন্যও, পরিবারের জন্যও, বন্ধুদের জন্যও।


কেননা নিঃশব্দ মৃত্যু নয়, সম্পর্কের মৃত্যু সবচেয়ে ভয়ংকর।


#ব্যস্তমানুষেরনিঃসঙ্গমৃত্যু #একাকীত্ব #শহুরেবিষয়কগল্প #নীরববাস্তবতা #ছোটগল্পimage

আমি মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন, ই-নলেজ এর একজন যাচাইকৃত লেখক। আমি এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত আছি প্রায় 10 মাস 3 সপ্তাহ ধরে, এবং এ পর্যন্ত 1259 টি লেখা ও 0 টি প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছি। আমার অর্জিত মোট পয়েন্ট 25432। ই-নলেজ আমার চিন্তা, জ্ঞান ও কণ্ঠকে সবার মাঝে পৌঁছে দিতে সহায়তা করেছে।
সংযুক্ত তথ্য
নিজস্ব আইডিয়া, ই-নলেজ আইডিয়া এ প্রথম প্রকাশিত
Enolej ID(eID): 2866
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।

এই লেখকের অন্যান্য সিরিজ


বিজ্ঞাপন: Remembering...

Image

এই ব্লগটির প্রতিক্রিয়া দিতে দয়া করে প্রবেশ কিংবা নিবন্ধন করুন ।

সংশ্লিষ্ট ব্লগগুচ্ছ


image
আমি ছোটবেলা থেকে দেখেছি— যে ছেলেটা ভদ্র, চুপচাপ, নম্র; সে-ই হয় ক্লাসের easiest target। স্কুলে এম[...] বিস্তারিত পড়ুন...
224 বার প্রদর্শিত 1 প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

কষ্টের গোধূলি, নিঃসঙ্গ আঁধার —রফিক আতা— সৃজনশীলতাহীন এক গোধূলি নামে, নীরব কষ্টের নিঃশব্দ বার্তা বয়ে; হলুদাভ অস্তাচলে মিলিয়ে যায় আলো, নিঃসঙ্গ আঁধার ডাকে অবিরল ডাকে। বিস্তারিত পড়ুন...
374 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
কবিতা  দোষ খুঁজে ব্যস্ত  কবি সুমন খাঁন ✍️ তুমি ভাবছো কি ভাবছো  আমি ভাবছি তাই। তো[...] বিস্তারিত পড়ুন...
145 বার প্রদর্শিত 1 প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
বিবেকের মৃত্যু শুরু হয় নীরবতা থেকে মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন  বিশ্লেষণধর্মী ১৮ জুলা&[...] বিস্তারিত পড়ুন...
22 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
* মৃত্যু যন্ত্রণা* ১ হিজরি, ১২ রবিউল আউয়াল, সোমবার।   মদিনার সেই ছোট্ট ঘরটা। আয়েশা রা. এ[...] বিস্তারিত পড়ুন...
45 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ
📢 Notice Board
No active notices
ই-নলেজ আইডিয়া(Enolej Idea) হলো লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম যেখানে যেকোনো ধরনের লেখা—সাহিত্য, বিজ্ঞান, গবেষণা নোট, মতামত, প্রতিবাদী লেখা, ধর্মীয় চিন্তা, ব্যক্তিগত নোট বা দৈনন্দিন ভাবনা—নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা যায়। এটি সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ছড়িয়ে থাকা অগোছালো কনটেন্টকে একটি ভেরিফাইড, রেফারেন্সযোগ্য ডিজিটাল পোর্টফোলিওতে রূপান্তর করে, যা ব্যক্তির বুদ্ধিবৃত্তিক পরিচিতি ও দীর্ঘমেয়াদি ব্র্যান্ডিং গড়ে তোলে। প্রতিটি লেখার জন্য ইউনিক ডিজিটাল আইডি (eID) ও কপিরাইট সুরক্ষা প্রদান করা হয়, ফলে লেখা চুরি হলেও আসল লেখক সহজে শনাক্তযোগ্য থাকে। ধারাবাহিক কনটেন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাজানো, এক ক্লিকেই ই-বুক বা বইয়ের খসড়ায় রূপান্তর, ব্যক্তিগত খসড়া গোপন রাখা এবং একটি সক্রিয় কমিউনিটির মাধ্যমে পাঠকের সাথে সরাসরি সংযোগ—সব সুবিধাই এখানে একসাথে পাওয়া যায়। ই-নলেজ আইডিয়া মূলত ব্যক্তির চিন্তা ও জ্ঞানকে একটি স্থায়ী, সুরক্ষিত ও সার্বজনীনভাবে স্বীকৃত ডিজিটাল লেখক ইকোসিস্টেমে রূপ দেয়। IDEA = Independent Digital Expression & Authorship.
  1. মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

    1598 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    79 টি আইডিয়া ব্লগ

  2. Monsoon Harmony

    904 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    45 টি আইডিয়া ব্লগ

  3. Mayabi Ilmaz Megh

    743 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    37 টি আইডিয়া ব্লগ

  4. রফিক আতা

    367 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    18 টি আইডিয়া ব্লগ

...