Enolej Idea-তে লেখা প্রকাশের নিয়ম জানতে পূর্ণ নির্দেশনা দেখুন...
ই-নলেজ আইডিয়া হলো এমন একটি চিন্তানির্ভর প্ল্যাটফর্ম, যেখানে মানুষ শুধু তথ্য নয়, চিন্তা শেয়ার করে। এখানে জ্ঞানীরা একত্র হন, নতুনরা পথ খুঁজে পান, এবং সবাই মিলে তৈরি হয় একটি জ্ঞানভিত্তিক উম্মাহ। এটি জ্ঞানচর্চাকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ বানানোর একটি প্রচেষ্টা, যেখানে লেখা, ভাবা ও শেখা—সবই হয় মুক্তভাবে।আজই যোগ দিন!নিবন্ধন করতে এখানে ক্লিক করুন...।

-: ই-নলেজ আইডিয়া :-

আপনার লেখার কপিরাইট সুরক্ষা, স্বীকৃতি এবং ফ্রী প্রমোশন, সব এক প্ল্যাটফর্মে!

লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম আপনার লেখার অভিজ্ঞতাই বদলে দিবে। (পড়ুন...)

যদি আপনি হন পাঠক, কিংবা লেখক হিসেবে জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করেন:

যদি আপনার লেখাগুলোর কপিরাইট সুরক্ষা, সুশৃঙ্খলতা, আপনার ভেরিফাইড লেখক পোর্টফলিও এবং লেখক-পাঠকের কেন্দ্রীয় কমিউনিটিতে যুক্ত হতে চান, তাহলে নিবন্ধন করুন লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম “ই-নলেজ আইডিয়া” -এ!

এখানে অনেক প্রতিভাবান লেখক বিভিন্ন সিরিজে লিখছেন। আপনিও চাইলে আপনার লেখাগুলো সিরিজ আকারে সাজাতে পারবেন।

আপনার লেখক প্রোফাইল হবে একদম জীবন্ত পোর্টফলিও, এক ধরনের জীবন্ত বই। এখানে শুধু লেখক নয়, থাকবে পাঠকেরও সংস্পর্শ। ব্যাজ, পয়েন্ট, স্বীকৃতি এবং কপিরাইট সুরক্ষা তো থাকছেই, লেখাগুলো স্ক্যান করলেই আপনার নাম ভেসে উঠবে।

এটি তাই লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

চলুন বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক....

পূর্ণ নির্দেশনা [Full Guideline]

ই-নলেজ আইডিয়া – লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

তবুও জীবন

0 পছন্দ 0 অপছন্দ
483 বার প্রদর্শিত
করেছেন (27,848 পয়েন্ট)   22 অক্টোবর 2025 "ছোটগল্প" বিভাগে লেখা প্রকাশিত
পোষ্ট আইডি(eID) কার্ড↓ - লেখনীর স্বত্ব ও গুণের পরিচয়!

তবুও জীবন

লেখকঃ মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

লেখার ধরনঃ ছোটগল্প

তারিখঃ ২২ অক্টোবর ২০২৫image


গতকাল গভীর রাতে হঠাৎ বুকের ভেতর তীব্র ব্যথা। মনে হলো, হৃদপিণ্ডটা যেন ছিঁড়ে যাচ্ছে। কী করব বুঝে উঠতে পারছি না—ব্যথা কোনোভাবেই কমছে না।


শেষ পর্যন্ত কোনো উপায় না দেখে ছুটে গেলাম মুগদা সরকারি হাসপাতালের কার্ডিয়াক বিভাগে। ইসিজি করার পর ডাক্তার মুখ তুলে তাকালেন, কণ্ঠটা ছিল অদ্ভুত শান্ত অথচ ভয়াবহ—

“আপনার আবার হার্ট অ্যাটাক হয়েছে। এখনই জাতীয় হৃদরোগ হাসপাতালে যান।”


রাতের আঁধারে সোজা ছুটলাম সেখানে। বুকের ভেতর আগুন জ্বলছে, প্রতিটি শ্বাস যেন কাঁটার মতো বিঁধছে। সিসিইউতে নেওয়া হলো আমাকে।


ডাক্তাররা যথাসাধ্য চেষ্টা করলেন—ইনজেকশন, অক্সিজেন, মনিটর—সব কিছুই চলছে টানা তৎপরতায়। এরপর জানালেন, এনজিওগ্রাম করতে হবে। কিন্তু সিরিয়াল দীর্ঘ, তাড়াতাড়ি করা সম্ভব নয়।


ব্যথা অসহনীয় হয়ে উঠলে বাধ্য হয়ে গেলাম বেসরকারি ইব্রাহিম কার্ডিয়াক হাসপাতালে। প্রফেসর ডা. লিয়াকত আলী আমাকে দেখলেন জরুরি বিভাগে।

বললেন, “আগামীকাল ভর্তি হোন, এনজিওগ্রাম করতে হবে।”


কিন্তু বাধা এলো অর্থের অভাবে। এনজিওগ্রামের আগেই যেন জীবনের হিসাব গুলিয়ে গেল। টাকাটা কীভাবে জোগাড় হলো—সে গল্প অন্য একদিন বলব।


হাসপাতালের বেডে শুয়ে থাকা অবস্থায় গায়ে পরানো হলো হাসপাতালের পোশাক। মনে হচ্ছিল, যেন ফাঁসির আসামির গায়ে শেষ কাপড়টি পরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। তবুও পাশে স্ত্রী ছিল—চোখে ভয়, মুখে দৃঢ়তা। ওর উপস্থিতিতেই নিজেকে স্থির রাখলাম।


একটু পর সেবিকারা এসে ক্যানোলা লাগাল, স্যালাইন চলছে, মুখে অক্সিজেন। মনিটরে হৃদস্পন্দনের ওঠানামা যেন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াইয়ের সুর বাজাচ্ছে। ভিজিটিং সময় শেষ হলে স্ত্রীও চলে গেল। বেডে রইলাম শুধু আমি, আমার নিঃসঙ্গতা, আর হাসপাতালের সাদা দেয়াল।


বাইরে শাহবাগ মোড়ের গর্জন শুনতে পাই, কিন্তু দেখতে পাই না কিছুই। সেই শব্দগুলো যেন জীবনের বাইরে থেকে আমার বেঁচে থাকার প্রমাণ দিচ্ছে।

চোখে ভাসে প্রিয় মুখগুলো—দু’টি মেয়ে, স্ত্রী, পরিবার—সবাইকে মনে পড়ে, অথচ কাউকে ছুঁতে পারি না।


পরের দিন সকালে হুইলচেয়ারে করে নিয়ে যাওয়া হলো ক্যাথল্যাবে।

দু’মেয়ে দরজায় দাঁড়িয়ে—চোখ দু’টি অজানা আতঙ্কে ভিজে। স্ত্রী তাকিয়ে আছে দৃঢ় মুখে, কিন্তু আমি জানি, তার বুকের ভেতর কান্না ঝড় তুলছে। আমি শুধু তাকিয়ে ছিলাম, কিছু বলিনি—কারণ চোখের ভাষা তখন অনেক গভীর হয়ে উঠেছে।


এনজিওগ্রাম শেষে ডাক্তার জানালেন ফলাফল—

“আপনার আগের বাইপাস সার্জারির সময় যে দুটি রগ লাগানো হয়েছিল, তার মাঝখানের একটি ধমনীতে ৯৮% ব্লক। তাও আবার এলইডি অংশে।”


তারপর ধীরে ধীরে ব্যাখ্যা করলেন—


১. যেহেতু আগে একবার ওপেন হার্ট সার্জারি করা হয়েছে, দ্বিতীয়বার অপারেশন অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।

২. আপনার হার্টের পাম্পিং বা LVEF মাত্র ৩০%; এ অবস্থায় কোনো অপারেশন ১০০% ঝুঁকিপূর্ণ।

৩. হার্টের টিস্যুগুলো অনেক দুর্বল, তাই দ্বিতীয়বার ঝুঁকি নিলেও তেমন লাভ হবে না।

৪. রিং বসানো সম্ভব নয়, কারণ আগের রিংয়ের ভেতর দিয়ে নতুন রিং নেওয়া যায় না, আর ব্লকের জায়গাটাও খুব সরু।

৫. আমাদের বোর্ডের সিদ্ধান্ত—ঔষধ দিয়েই চিকিৎসা চালাতে হবে, যদিও মাঝে মাঝে ইনজেকশন বা সিসিইউ লাগতে পারে। তবে ওষুধগুলো বেশ দামী।


ডাক্তারের কথা শুনে মনে হলো মাথার ওপরের আকাশটা ভেঙে পড়ল। সেই মুহূর্তে ‘বেঁচে থাকা’ যেন এক ধরনের বিলাসিতা।


কারণ, যদি জীবন অর্থের কাছে বন্দি হয়—তবে মৃত্যু কি মুক্তি নয়?


এনজিওগ্রাম শেষে আমাকে ফিরিয়ে আনা হলো বেডে। অচেতন দেহে ঘুম এসে ভর করল। কতক্ষণ কেটে গেছে জানি না।


হঠাৎ কপালে এক শীতল ছোঁয়া। চোখ খুলে দেখি—আমার ছোট মেয়ে দাঁড়িয়ে আছে, ছোট্ট হাতটা আমার কপালে। চোখদুটি ভিজে, হয়তো যে কোনো মুহূর্তে জল গড়িয়ে পড়বে।


সেই মুহূর্তে বুঝলাম, এটাই ভালোবাসার সবচেয়ে নির্মল রূপ—

শর্তহীন, শব্দহীন, অথচ অনন্ত সত্য।


মনে হলো, হৃদয়ের ভেতর নতুন করে আলো জ্বলে উঠেছে।

অন্ধকারের বুক চিরে যেন সূর্যের প্রথম রশ্মি এসে পড়েছে আমার ওপর।


হয়তো এটাই জীবনের আসল অর্থ—

বেঁচে থাকা মানে শুধু নিঃশ্বাস নয়, কারও চোখে নিজের অস্তিত্ব টের পাওয়া।


আরও একদিন হাসপাতালে থেকে সাময়িকভাবে বাসায় ফিরলাম।

ডাক্তার বললেন—বাঁচতে চাইলে নিয়মিত চেকআপে থাকতে হবে।


কিন্তু প্রতিমাসের ঔষধ আর ইনজেকশনের টাকার যোগান অসম্ভবের কাছাকাছি।

মনে হলো, হয়তো নিঃশব্দে মরে যাওয়া সহজতর।


প্রতিদিন বুকের এই অসহনীয় যন্ত্রণা, শ্বাসের এই লড়াই চলছেই…

তবুও আমি বেঁচে আছি।


কারণ বুঝেছি—

যতদিন ভালোবাসা আছে, ততদিন জীবন আছে।


#তবুওজীবন #মানুষেরগল্প #ভালোবাসাআরবেঁচে_থাকা #জীবনসংগ্রাম #মোহাম্মদজাহিদহোসেন #অনুগল্প #হৃদয়েরগল্প #জীবনেরঅর্থ #বাংলাসাহিত্য

আমি মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন, ই-নলেজ এর একজন যাচাইকৃত লেখক। আমি এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত আছি প্রায় 1 বছর 1 সপ্তাহ ধরে, এবং এ পর্যন্ত 1378 টি লেখা ও 0 টি প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছি। আমার অর্জিত মোট পয়েন্ট 27848। ই-নলেজ আমার চিন্তা, জ্ঞান ও কণ্ঠকে সবার মাঝে পৌঁছে দিতে সহায়তা করেছে।
সংযুক্ত তথ্য
"নিজস্ব আইডিয়া"
Enolej ID(eID): 1295
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।

এই লেখকের অন্যান্য সিরিজ


বিজ্ঞাপন: Remembering...

Image

এই ব্লগটির প্রতিক্রিয়া দিতে দয়া করে প্রবেশ কিংবা নিবন্ধন করুন ।

সংশ্লিষ্ট ব্লগগুচ্ছ


image
তবুও তুমি আছো মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন লেখার ধরণঃ গদ্যকবিতা পোস্টের তারিখঃ ১১ অক্টোব[...] বিস্তারিত পড়ুন...
524 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
“খারাপরা টিকে যায়, ভালোরা ভেঙে পড়ে—এটা কি কাকতাল, নাকি সিস্টেমের নীরব নিয়ম?” ভালো মù[...] বিস্তারিত পড়ুন...
757 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
কোথাও না কোথাও, একটু থেমে আবার শুরু করার নামই জীবন মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন   বিশ্লেষণ&#[...] বিস্তারিত পড়ুন...
535 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
৫. আমরা তিনজন দ্রুত রিকশাচালক ভাইটাকে সতর্ক করতে করতে সরে পড়লাম। কিন্তু সে রিকশার ক[...] বিস্তারিত পড়ুন...
198 বার প্রদর্শিত 1 প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
৪. — "এই খালি যাবেন?" বলতেই নিকটে এসে দাঁড়ালো সে। আমরা আর অতশত না ভেবে রিকশায় চেপে বসলাম&#[...] বিস্তারিত পড়ুন...
147 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ
📢 Notice Board
No active notices
ই-নলেজ আইডিয়া(Enolej Idea) হলো লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম যেখানে যেকোনো ধরনের লেখা—সাহিত্য, বিজ্ঞান, গবেষণা নোট, মতামত, প্রতিবাদী লেখা, ধর্মীয় চিন্তা, ব্যক্তিগত নোট বা দৈনন্দিন ভাবনা—নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা যায়। এটি সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ছড়িয়ে থাকা অগোছালো কনটেন্টকে একটি ভেরিফাইড, রেফারেন্সযোগ্য ডিজিটাল পোর্টফোলিওতে রূপান্তর করে, যা ব্যক্তির বুদ্ধিবৃত্তিক পরিচিতি ও দীর্ঘমেয়াদি ব্র্যান্ডিং গড়ে তোলে। প্রতিটি লেখার জন্য ইউনিক ডিজিটাল আইডি (eID) ও কপিরাইট সুরক্ষা প্রদান করা হয়, ফলে লেখা চুরি হলেও আসল লেখক সহজে শনাক্তযোগ্য থাকে। ধারাবাহিক কনটেন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাজানো, এক ক্লিকেই ই-বুক বা বইয়ের খসড়ায় রূপান্তর, ব্যক্তিগত খসড়া গোপন রাখা এবং একটি সক্রিয় কমিউনিটির মাধ্যমে পাঠকের সাথে সরাসরি সংযোগ—সব সুবিধাই এখানে একসাথে পাওয়া যায়। ই-নলেজ আইডিয়া মূলত ব্যক্তির চিন্তা ও জ্ঞানকে একটি স্থায়ী, সুরক্ষিত ও সার্বজনীনভাবে স্বীকৃত ডিজিটাল লেখক ইকোসিস্টেমে রূপ দেয়। IDEA = Independent Digital Expression & Authorship.
  1. মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

    244 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    3 মন্তব্য

    12 টি আইডিয়া ব্লগ

  2. প্রিন্স ফ্রেরাসে

    122 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    6 টি আইডিয়া ব্লগ

  3. ফাহিম আহমাদ

    61 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    3 টি আইডিয়া ব্লগ

  4. শামীমা আকতার

    41 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    2 টি আইডিয়া ব্লগ

...