Enolej Idea-তে লেখা প্রকাশের নিয়ম জানতে পূর্ণ নির্দেশনা দেখুন...
ই-নলেজ আইডিয়া হলো এমন একটি চিন্তানির্ভর প্ল্যাটফর্ম, যেখানে মানুষ শুধু তথ্য নয়, চিন্তা শেয়ার করে। এখানে জ্ঞানীরা একত্র হন, নতুনরা পথ খুঁজে পান, এবং সবাই মিলে তৈরি হয় একটি জ্ঞানভিত্তিক উম্মাহ। এটি জ্ঞানচর্চাকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ বানানোর একটি প্রচেষ্টা, যেখানে লেখা, ভাবা ও শেখা—সবই হয় মুক্তভাবে।আজই যোগ দিন!নিবন্ধন করতে এখানে ক্লিক করুন...।

-: ই-নলেজ আইডিয়া :-

আপনার লেখার কপিরাইট সুরক্ষা, স্বীকৃতি এবং ফ্রী প্রমোশন, সব এক প্ল্যাটফর্মে!

লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম আপনার লেখার অভিজ্ঞতাই বদলে দিবে। (পড়ুন...)

যদি আপনি হন পাঠক, কিংবা লেখক হিসেবে জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করেন:

যদি আপনার লেখাগুলোর কপিরাইট সুরক্ষা, সুশৃঙ্খলতা, আপনার ভেরিফাইড লেখক পোর্টফলিও এবং লেখক-পাঠকের কেন্দ্রীয় কমিউনিটিতে যুক্ত হতে চান, তাহলে নিবন্ধন করুন লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম “ই-নলেজ আইডিয়া” -এ!

এখানে অনেক প্রতিভাবান লেখক বিভিন্ন সিরিজে লিখছেন। আপনিও চাইলে আপনার লেখাগুলো সিরিজ আকারে সাজাতে পারবেন।

আপনার লেখক প্রোফাইল হবে একদম জীবন্ত পোর্টফলিও, এক ধরনের জীবন্ত বই। এখানে শুধু লেখক নয়, থাকবে পাঠকেরও সংস্পর্শ। ব্যাজ, পয়েন্ট, স্বীকৃতি এবং কপিরাইট সুরক্ষা তো থাকছেই, লেখাগুলো স্ক্যান করলেই আপনার নাম ভেসে উঠবে।

এটি তাই লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

চলুন বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক....

পূর্ণ নির্দেশনা [Full Guideline]

ই-নলেজ আইডিয়া – লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

বাবার পেশা

0 পছন্দ 0 অপছন্দ
1 বার দর্শন
করেছেন (20,116 পয়েন্ট)   3 ঘন্টা পূর্বে "গল্প" বিভাগে লেখা প্রকাশিত
পোষ্ট আইডি(eID) কার্ড↓ - লেখনীর স্বত্ব ও গুণের পরিচয়!
বাবার পেশা

মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

ছোটগল্প। ১৬ জুন ১০২৬

ইন্টারভিউ বোর্ডে প্রশ্নটা খুব স্বাভাবিকভাবেই আসে। এমনভাবে, যেন এটা শুধু একটা তথ্য যাচাই।

“আপনার বাবার পেশা কী?”

ঘরের ভেতর তিনজন মানুষ। টেবিলের ওপারে বসে আছেন এমন ভঙ্গিতে, যেন বহুবার এই উত্তর শুনেছেন। ফাইল খোলা, কলম নড়ছে, চোখে সেই অভ্যস্ত নিরপেক্ষতা—যেটা অনেক কিছু দেখেও প্রতিক্রিয়া না দেখানোর অভ্যাস তৈরি করে ফেলে।

ছেলেটা কিছুক্ষণ চুপ থাকে। সময়টা খুব লম্বা না, কিন্তু তার ভেতরে মনে হয় একটু থেমে গেছে।

তার হাতটা শক্ত হয়ে আসে।

“রিকশা চালান,” সে বলে।

এই একটা বাক্যের পর ঘরের ভেতর কিছু বদলায় না, অথচ তার নিজের কাছে মনে হয় বাতাসটা একটু ভারী হয়ে গেছে। খুব সামান্য, কিন্তু উপেক্ষা করার মতো না।

কেউ আর কিছু জিজ্ঞেস করে না। না বিস্ময়, না আগ্রহ। শুধু একটা ছোট বিরতি। এমন বিরতি, যেটা কথার চেয়েও বেশি কিছু বলে দেয়, আবার কিছুই বলে না।

ছেলেটা এখানে এসেছে অনেক আগের কিছু দিনের ভেতর দিয়ে, যেগুলো এখন আর পরিষ্কারভাবে আলাদা করা যায় না। শুধু কিছু দৃশ্য থেকে গেছে, টুকরো টুকরো।

রাত দুটো। ঘরের লাইট জ্বলে আছে।

টেবিলে বই খোলা, পাশে টিউশনের খাতা।

কালির দাগ শুকিয়ে গেছে, কিন্তু মনোযোগের দাগ এখনও রয়ে গেছে।

একদিন খাতা ভিজে যায় বৃষ্টির পানিতে। শুকানোর পর কিছু লেখা আর আগের মতো থাকে না। তবু সে পড়া থামায়নি। থামার জায়গা ছিল না বলেও হতে পারে, আবার অভ্যাসও হয়ে থাকতে পারে।

কখনো মনে হতো সময়টা এগোচ্ছে না, বরং তাকে টেনে নিয়ে যাচ্ছে। এই পার্থক্যটা সে তখন বোঝেনি, এখনো পুরোপুরি বোঝে কি না, সেটা নিশ্চিত না।

তার বাবা প্রতিদিন ভোরে বের হন।

পুরোনো রিকশাটা উঠতে একটু শব্দ করে। ধাতব চাকার হালকা ঘর্ষণ, তারপর ধীরে ধীরে শহরের রাস্তায় মিশে যাওয়া।

মানুষটা বসেন হ্যান্ডেলে, আর শরীরটা যেন নিজেই গতি শিখে নিয়েছে।

দুপুরে একবার দেখা যেত—রাস্তার ধারে বসে আছেন। পাশে প্লাস্টিকের বোতল। ঢাকাটা খুলে পানি খাচ্ছেন ধীরে, যেন সময়টা তার হাতে নেই, তবু তিনি থামতে চাইছেন না।

একবার ছেলেটা জিজ্ঞেস করেছিল, “ক্লান্ত লাগে না?”

বাবা উত্তর দেননি ঠিকভাবে। শুধু বলেছিলেন,

“পড়াশোনা ঠিকমতো করিস।”

এই বাক্যটা এখন আর শুধু কথা না। এটা একটা নিয়মের মতো। এমন নিয়ম, যেটা কেউ লিখে দেয়নি, কিন্তু সবাই মেনে চলেছে।

ইন্টারভিউ বোর্ডে আবার নড়াচড়া হয়।

একজন ফাইল উল্টে দেখে, আরেকজন একটু ঝুঁকে প্রশ্ন করে, “আর কিছু বলবেন?”

ছেলেটা মাথা নাড়ে। না মানে না। কিন্তু এই “না”-এর ভেতর অনেক কিছু চাপা পড়ে থাকে।

সে বুঝতে পারে না, বাবার পেশা বলা এত ভারী কেন। “রিকশাচালক”—এই শব্দটা ঠিক, আবার অসম্পূর্ণও। এতে হাতের ঘাম আছে, রাস্তার ধুলো আছে, কিন্তু মানুষটার ভেতরের দীর্ঘ সময় নেই।

“ধন্যবাদ, আপনি যেতে পারেন।”

সে উঠে দাঁড়ায়। করিডোরটা লম্বা। জানালার পাশে এসে দাঁড়ায়। বাইরে শহর চলছে—হর্ন, গতি, মানুষের ভিড়, সিগনালের আলো। সব কিছু একসঙ্গে চলছে, কিন্তু কোনো কিছু থেমে নেই।

তার চোখের সামনে ভেসে আসে একটা ছবি।

একটা পুরোনো রিকশা।

একজন মানুষ, যিনি কখনো নিজের ক্লান্তিকে নাম দেননি।

যিনি হয়তো জানেনই না, ক্লান্তি নিয়ে আলাদা করে কথা বলা যায়।

বাইরে এসে সে বাবাকে দেখে।

রিকশাটা রোদে দাঁড়িয়ে। রং উঠে গেছে অনেক আগেই। হ্যান্ডেলের একপাশে কাপড় পেঁচানো, ঘষে ঘষে কালচে হয়ে গেছে। চাকার পাশে ধুলো জমে আছে।

বাবা দাঁড়িয়ে আছেন পাশে। শরীরটা একটু ঝুঁকে আছে, কিন্তু দাঁড়িয়ে থাকার ভঙ্গিটা স্থির।

“কেমন হলো?” বাবা জিজ্ঞেস করেন।

ছেলেটা কিছু বলে না। উত্তরটা তার জানা, কিন্তু শব্দে ধরতে পারে না।

“জানি না,” সে বলে।

বাবা মাথা নেড়ে দেন। আর কিছু জানতে চান না। এই “জানি না”-এর ভেতরেও তিনি যেন কিছু পড়ে ফেলেন, যা ব্যাখ্যার দরকার নেই।

রিকশা চলতে শুরু করে।

চাকা ঘোরে ধীরে। প্রথমে একটু শব্দ করে, তারপর সেটা শহরের শব্দের মধ্যে মিশে যায়। রাস্তার ধুলো একটু উড়ে আবার বসে পড়ে। জীবনও যেন সেই ধুলোর মতো—উঠে, ছড়িয়ে, আবার থেমে যায়।

ছেলেটা পেছনে বসে আছে। ফাইলটা হাতে। এখন এটা শুধু কাগজ না, বরং একটা ভারী উপস্থিতি।

হঠাৎ বাবা পেছনে তাকান।

কোনো কথা নেই। কোনো প্রশ্ন নেই। কোনো ব্যাখ্যাও না। শুধু একটা ছোট হাসি—খুব ছোট, প্রায় অদৃশ্য। এই হাসিটা কোনো কথার বিকল্প না, বরং কথার অভাবকে কিছুক্ষণ ঢেকে রাখার মতো।

ছেলেটা প্রথমবার বুঝতে পারে—এই মানুষটা নিজের পরিচয়কে কখনো শব্দে বন্দি করেননি। তিনি শুধু ছিলেন। কাজ করেছেন। থেমে থাকেননি।

রিকশা এগিয়ে যায়।

হ্যান্ডেলের কাপড়টা হালকা বাতাসে নড়ে ওঠে। সূর্যের আলো তাতে পড়ে আবার সরে যায়।

পেছনে সেই হাসিটা থেকে যায়—যেটা কোনো ফর্মে লেখা যায় না, কোনো ইন্টারভিউ বোর্ডে ব্যাখ্যা করা যায় না, কিন্তু ছেলেটার ভেতরে কোথাও স্থির হয়ে বসে থাকে।

আর শহর চলতে থাকে।
আমি মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন, ই-নলেজ এর একজন যাচাইকৃত লেখক। আমি এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত আছি প্রায় 8 মাস 3 সপ্তাহ ধরে, এবং এ পর্যন্ত 996 টি লেখা ও 0 টি প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছি। আমার অর্জিত মোট পয়েন্ট 20116। ই-নলেজ আমার চিন্তা, জ্ঞান ও কণ্ঠকে সবার মাঝে পৌঁছে দিতে সহায়তা করেছে।
সংযুক্ত তথ্য
নিজস্ব আইডিয়া, ই-নলেজ আইডিয়া এ প্রথম প্রকাশিত
Enolej ID(eID): 4076
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।

এই লেখকের অন্যান্য সিরিজ


বিজ্ঞাপন: Remembering...

Image

এই ব্লগটির প্রতিক্রিয়া দিতে দয়া করে প্রবেশ কিংবা নিবন্ধন করুন ।

সংশ্লিষ্ট ব্লগগুচ্ছ


বাবার শেষ দিনগুলোর স্মৃতি মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন স্মৃতিচারণ। এপ্রিল ২৭,২০২৬ আমরা প্রায়ই ভাবি সময় আমাদের হাতে। দিনগুলোকে আমরা ব্যবহার করি, পরিকল্পনা করি, সামনে এগিয়ে নিয়ে যাই। কিন্তু কিছু ক�[...] বিস্তারিত পড়ুন...
64 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
বাবার অদৃশ্য যুদ্ধ মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন বিশ্লেষণধর্মী। জানুয়ারি ০৭, ২০২৬ বাবা—[...] বিস্তারিত পড়ুন...
449 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
রঙে বাবার হাতের ছাপ মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন গদ্য কবিতা | জানুয়ারি ০৫, ২০২৬ বাবা জানতে÷[...] বিস্তারিত পড়ুন...
43 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
অপেক্ষা    মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন   ছোটগল্প। ১৬ জুন ২০২৬ আসরের আজান শেষ হতেই আবদুল õ[...] বিস্তারিত পড়ুন...
1 বার দর্শন 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
অতীতের ওপারে অধ্যায় দুই  মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ছোট গল্প  । ১৬, জুন ২০২৬ —তুমি কী বল[...] বিস্তারিত পড়ুন...
2 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ
📢 Notice Board
No active notices
ই-নলেজ আইডিয়া(Enolej Idea) হলো লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম যেখানে যেকোনো ধরনের লেখা—সাহিত্য, বিজ্ঞান, গবেষণা নোট, মতামত, প্রতিবাদী লেখা, ধর্মীয় চিন্তা, ব্যক্তিগত নোট বা দৈনন্দিন ভাবনা—নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা যায়। এটি সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ছড়িয়ে থাকা অগোছালো কনটেন্টকে একটি ভেরিফাইড, রেফারেন্সযোগ্য ডিজিটাল পোর্টফোলিওতে রূপান্তর করে, যা ব্যক্তির বুদ্ধিবৃত্তিক পরিচিতি ও দীর্ঘমেয়াদি ব্র্যান্ডিং গড়ে তোলে। প্রতিটি লেখার জন্য ইউনিক ডিজিটাল আইডি (eID) ও কপিরাইট সুরক্ষা প্রদান করা হয়, ফলে লেখা চুরি হলেও আসল লেখক সহজে শনাক্তযোগ্য থাকে। ধারাবাহিক কনটেন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাজানো, এক ক্লিকেই ই-বুক বা বইয়ের খসড়ায় রূপান্তর, ব্যক্তিগত খসড়া গোপন রাখা এবং একটি সক্রিয় কমিউনিটির মাধ্যমে পাঠকের সাথে সরাসরি সংযোগ—সব সুবিধাই এখানে একসাথে পাওয়া যায়। ই-নলেজ আইডিয়া মূলত ব্যক্তির চিন্তা ও জ্ঞানকে একটি স্থায়ী, সুরক্ষিত ও সার্বজনীনভাবে স্বীকৃত ডিজিটাল লেখক ইকোসিস্টেমে রূপ দেয়। IDEA = Independent Digital Expression & Authorship.
  1. মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

    814 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    40 টি আইডিয়া ব্লগ

  2. জামিনুল রেজা

    428 পয়েন্ট

    1 প্রতিক্রিয়া

    1 মন্তব্য

    21 টি আইডিয়া ব্লগ

  3. রফিক আতা

    224 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    11 টি আইডিয়া ব্লগ

  4. ক্বলমী সুর

    134 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    6 টি আইডিয়া ব্লগ

...