Enolej Idea-তে লেখা প্রকাশের নিয়ম জানতে পূর্ণ নির্দেশনা দেখুন...
ই-নলেজ আইডিয়া হলো এমন একটি চিন্তানির্ভর প্ল্যাটফর্ম, যেখানে মানুষ শুধু তথ্য নয়, চিন্তা শেয়ার করে। এখানে জ্ঞানীরা একত্র হন, নতুনরা পথ খুঁজে পান, এবং সবাই মিলে তৈরি হয় একটি জ্ঞানভিত্তিক উম্মাহ। এটি জ্ঞানচর্চাকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ বানানোর একটি প্রচেষ্টা, যেখানে লেখা, ভাবা ও শেখা—সবই হয় মুক্তভাবে।আজই যোগ দিন!নিবন্ধন করতে এখানে ক্লিক করুন...।

-: ই-নলেজ আইডিয়া :-

আপনার লেখার কপিরাইট সুরক্ষা, স্বীকৃতি এবং ফ্রী প্রমোশন, সব এক প্ল্যাটফর্মে!

লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম আপনার লেখার অভিজ্ঞতাই বদলে দিবে। (পড়ুন...)

যদি আপনি হন পাঠক, কিংবা লেখক হিসেবে জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করেন:

যদি আপনার লেখাগুলোর কপিরাইট সুরক্ষা, সুশৃঙ্খলতা, আপনার ভেরিফাইড লেখক পোর্টফলিও এবং লেখক-পাঠকের কেন্দ্রীয় কমিউনিটিতে যুক্ত হতে চান, তাহলে নিবন্ধন করুন লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম “ই-নলেজ আইডিয়া” -এ!

এখানে অনেক প্রতিভাবান লেখক বিভিন্ন সিরিজে লিখছেন। আপনিও চাইলে আপনার লেখাগুলো সিরিজ আকারে সাজাতে পারবেন।

আপনার লেখক প্রোফাইল হবে একদম জীবন্ত পোর্টফলিও, এক ধরনের জীবন্ত বই। এখানে শুধু লেখক নয়, থাকবে পাঠকেরও সংস্পর্শ। ব্যাজ, পয়েন্ট, স্বীকৃতি এবং কপিরাইট সুরক্ষা তো থাকছেই, লেখাগুলো স্ক্যান করলেই আপনার নাম ভেসে উঠবে।

এটি তাই লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

চলুন বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক....

পূর্ণ নির্দেশনা [Full Guideline]

ই-নলেজ আইডিয়া – লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

জুনের ভারী বৃষ্টি

0 পছন্দ 0 অপছন্দ
1 বার দর্শন
করেছেন (20,237 পয়েন্ট)   10 ঘন্টা পূর্বে "গল্প" বিভাগে লেখা প্রকাশিত
পোষ্ট আইডি(eID) কার্ড↓ - লেখনীর স্বত্ব ও গুণের পরিচয়!

জুনের ভারী বৃষ্টি

মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

ছোটগল্প। ১৭, জুন ২০২৬।


জুনের বৃষ্টি সেদিন থামার নামই নিচ্ছিল না।


বিকেল পেরিয়ে সন্ধ্যা নামছিল। আকাশটা অনেক আগেই কালচে হয়ে গেছে। মাঝে মাঝে বিদ্যুৎ চমকাচ্ছিল, আর তার পরপরই দূরে কোথাও মেঘের গর্জন শোনা যাচ্ছিল। ছাদের ওপর, গাছের পাতায়, রাস্তার পানিতে—সবখানে শুধু বৃষ্টির শব্দ।


শহরের ব্যস্ততাও যেন একটু থেমে গিয়েছিল। দোকানের শাটার নেমে যাচ্ছিল। রাস্তায় মানুষ কমে এসেছিল। মাঝে মাঝে কোনো রিকশা বা মোটরসাইকেল পানি ছিটিয়ে চলে যাচ্ছিল।


এই বৃষ্টির মধ্যেই অভিক বসেছিল তাদের বাসার ডাইনিং রুমে।


সামনে উচ্চতর গণিতের বই খোলা। খাতায় কয়েকটা সমীকরণ লেখা। কিন্তু তার চোখ বইয়ে থাকলেও মন ছিল অন্য কোথাও।


তার সামনে বসেছিলেন নিশি ম্যাডাম।


“অভিক, একই জায়গায় পাঁচ মিনিট ধরে তাকিয়ে আছ।”

অভিক একটু চমকে উঠেছিল।

“না ম্যাডাম... চেষ্টা করছিলাম।”

“চেষ্টা আর সমাধান এক জিনিস না।”


নিশি খাতাটা নিজের দিকে টেনে নিলেন। একটা জায়গায় কলম দিয়ে দাগ দিলেন।


“দেখো, এখানে তুমি দ্বিতীয় ধাপেই ভুল করেছিলে। এই মানটা আগে ঠিক করতে হবে।”


অভিক মাথা নেড়ে আবার খাতার দিকে তাকাল। কিন্তু মনটা ঠিক ফিরছিল না।


“কী হয়েছে তোমার?”

“কিছু না।”

“মিথ্যা বলছ।”


অভিক একটু হেসে ফেলেছিল।

“এত সহজে বুঝে ফেললেন?”


“তোমাদের বয়সে সবাই ভাবে, তারা নিজেদের লুকাতে পারে।”


বাইরে হঠাৎ একটা বজ্রপাত হলো। এক মুহূর্তের জন্য পুরো ঘরটা সাদা আলোয় ভরে গেল। তারপর আবার অন্ধকার। জেনারেটরের আলো জ্বলতে কয়েক সেকেন্ড সময় লাগল। সেই ছোট্ট অন্ধকারে শুধু বৃষ্টির শব্দই শোনা যাচ্ছিল।


নিশি জানালার দিকে তাকালেন।

“আজ মনে হয় রাত পর্যন্ত বৃষ্টি হবে।”

অভিকও জানালার বাইরে তাকাল।


“আপনি ফিরতে পারবেন?”

“ফিরতে হবে।”

“এই বৃষ্টিতে?”


নিশি কিছুক্ষণ কাঁচ বেয়ে নামা পানির দিকে তাকিয়ে রইলেন।


“সব বৃষ্টি এড়িয়ে চলা যায় না।”


কথাটা খুব সাধারণ ছিল। তবু অভিকের মনে হলো, এর ভেতরে যেন অন্য কোনো কথা লুকিয়ে আছে।


কিন্তু মাঝে মাঝে অভিকের মনে হতো, সেই হাসির পেছনে এমন কিছু আছে, যা তিনি কাউকে দেখান না।


“ম্যাডাম?”

“হুম?”

“আপনি কি ছোটবেলায় শিক্ষক হতে চেয়েছিলেন?”

নিশি একটু অবাক হয়ে তাকালেন।

“হঠাৎ এই প্রশ্ন কেন?”

“এমনিই।”


কিছুক্ষণ চুপ থেকে তিনি জানালার বাইরে তাকালেন।


“ছোটবেলায় ডাক্তার হতে চেয়েছিলাম।”

“সত্যি?”

“হ্যাঁ।”

“তাহলে হলেন না কেন?”


নিশি হালকা হাসলেন। কলমটা খাতার ওপর রেখে দিলেন।

“জীবন সবসময় মানুষের ইচ্ছামতো চলে না।”


বাইরে বৃষ্টি একইভাবে পড়ছিল।


“আপনার আফসোস হয়?”

প্রশ্নটার উত্তর দিতে তিনি একটু সময় নিলেন।

“আগে হতো।”


“এখন?”

“এখন মনে হয়, যা হারিয়েছি তার হিসাব করতে থাকলে সামনে এগোনো যায় না।”


কিছুক্ষণ কেউ কথা বলল না। ঘড়ির কাঁটার শব্দ পর্যন্ত শোনা যাচ্ছিল।


অভিক হঠাৎ বুঝতে পারল, সে শুধু গণিত শিখছে না। জীবনের কিছু কঠিন হিসাবও যেন বুঝতে চেষ্টা করছে। যে হিসাব কোনো বইয়ে লেখা থাকে না।


“চলো, এবার প্রশ্নটা শেষ করি।”


“ম্যাডাম?”

“হ্যাঁ?”


“আপনি কি কখনো ক্লান্ত হন না?”

নিশি মৃদু হাসলেন।

“হই।”

“তবু সবসময় এত শান্ত থাকেন কীভাবে?”


তিনি কিছুক্ষণ খাতার দিকে তাকিয়ে রইলেন। তারপর সমীকরণের নিচে একটা দাগ টেনে বললেন,


“সব অংক খাতায় কষা যায় না, অভিক।”

অভিক চুপ করে শুনছিল।

“কিছু অংক মাথার ভেতরেই গুণতে হয়।”


বাইরে বৃষ্টি আরও জোরে নামতে শুরু করেছিল। জানালার কাঁচ বেয়ে পানি নেমে আসছিল। মনে হচ্ছিল, বাইরের পৃথিবীটা এই বৃষ্টির আড়ালে হারিয়ে গেছে।


ঠিক তখন দূরে একটা গাড়ির শব্দ শোনা গেল।


অভিক জানালার দিকে তাকাল।


গেটের বাইরে একটা কালো গাড়ি এসে থেমেছে। বৃষ্টির মধ্যেও গাড়িটা স্পষ্ট দেখা যাচ্ছিল।


নিশিও শব্দটা শুনেছিলেন।


তার মুখের অভিব্যক্তি বদলে গেল। খুব সামান্য। কিন্তু অভিকের চোখ এড়াল না।


“কেউ এসেছে?”


নিশি কোনো উত্তর দিলেন না।

কয়েক সেকেন্ড পর তার ফোন কেঁপে উঠল।

স্ক্রিনে একটা নাম ভেসে উঠল।

তিনি কিছুক্ষণ তাকিয়ে রইলেন।

তারপর ফোনটা উল্টে রাখলেন।


“আপনি ফোন ধরলেন না কেন?”

নিশি জানালার বাইরে তাকিয়ে রইলেন।


“কিছু কিছু ফোন ধরার পর এমন কথা বলতে হয়, যেগুলো মানুষ বলতে চায় না।”


অভিক চুপ করে গেল।


বাইরে বৃষ্টি তখনও পড়ছিল।

কিছুক্ষণ পর নিশি বইগুলো গুছিয়ে নিলেন।


“আজ পড়া থাক।”

“কিন্তু ম্যাডাম...”


“সব উত্তর একদিনে পাওয়া যায় না, অভিক।”


তিনি উঠে দাঁড়ালেন। দরজার কাছে গিয়ে একবার থামলেন।


“আর একটা কথা মনে রেখো, মানুষের মুখ দেখে তার পুরো গল্প বোঝা যায় না।”


অভিক কিছু বলল না।


সে শুধু দেখল, নিশি ছাতা হাতে বৃষ্টির মধ্যে বেরিয়ে গেলেন।


গেটের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা কালো গাড়ির দরজা খুলে গেল।


নিশি কয়েক সেকেন্ড দাঁড়িয়ে রইলেন।

তারপর গাড়িতে উঠে বসলেন।

গাড়িটা ধীরে ধীরে অন্ধকার রাস্তার দিকে চলে গেল।

অভিক জানালার পাশে দাঁড়িয়ে রইল।


সেদিন সে বুঝেছিল, কিছু মানুষ আমাদের জীবনে আসে শুধু কিছু শেখানোর জন্য নয়। কখনো কখনো তাদের নীরবতার ভেতরে লুকিয়ে থাকা গল্পগুলো আমাদের নিজের চোখও খুলে দেয়।


বাইরে তখনও বৃষ্টি পড়ছিল।

কিন্তু অভিক জানত, সবচেয়ে ভারী ঝড়টা বাইরে নয়।

কোনো একজন মানুষের ভেতরে চলছিল।



#জুনের_ভারী_বৃষ্টি #ছোটগল্প #বাংলাসাহিত্য #সমকালীন_কথাসাহিত্য #মনস্তাত্ত্বিক_গল্প #বৃষ্টিভেজা_গল্প #মোহাম্মদ_জাহিদ_হোসেনimage

আমি মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন, ই-নলেজ এর একজন যাচাইকৃত লেখক। আমি এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত আছি প্রায় 8 মাস 3 সপ্তাহ ধরে, এবং এ পর্যন্ত 1002 টি লেখা ও 0 টি প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছি। আমার অর্জিত মোট পয়েন্ট 20237। ই-নলেজ আমার চিন্তা, জ্ঞান ও কণ্ঠকে সবার মাঝে পৌঁছে দিতে সহায়তা করেছে।
সংযুক্ত তথ্য
নিজস্ব আইডিয়া, ই-নলেজ আইডিয়া এ প্রথম প্রকাশিত
Enolej ID(eID): 4079
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।

এই লেখকের অন্যান্য সিরিজ


বিজ্ঞাপন: Remembering...

Image

এই ব্লগটির প্রতিক্রিয়া দিতে দয়া করে প্রবেশ কিংবা নিবন্ধন করুন ।

সংশ্লিষ্ট ব্লগগুচ্ছ


image
বৃষ্টি ভেজা কাঁধে সন্তানের স্বপ্ন মোহাম্মাদ জাহিদ হোসেন   ছোটগল্প। ডিসেম্বর ২৮, [...] বিস্তারিত পড়ুন...
386 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

নিঃশব্দ এক সন্ধ্যায়, টেবিলের কোণে রাখা কলমটা– হঠাৎ করেই ভারী হয়ে ওঠে, মনে হয়—ওর [...] বিস্তারিত পড়ুন...
187 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
বিশ্বরেকর্ড সৃষ্টিকারী কুমড়ো: স্টেফানোর কৃষিক্ষেত্র থেকে গিনেস বুকে কৃষিকাজের মাধ্যমে মানুষ কেবল তার জীবিকা নির্বাহই করে না, বরং সৃষ্টি করে অসাধ্য সাধনের নজির। এমনই এক অসাধ্য সাধনের �[...] বিস্তারিত পড়ুন...
273 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
*ঝুম বৃষ্টি*   পর্ব ১: টিনের চালে শব্দ আষাঢ়ের দুপুর। আকাশ কালো মেঘে ঢাকা।   ছোট্ট ট[...] বিস্তারিত পড়ুন...
34 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

সেদিন তুমুল বৃষ্টি ছিল, ‎আর ছিল তোমার পথে দীর্ঘতম প্রতীক্ষা, ‎আমি অপেক্ষার কালো ছ[...] বিস্তারিত পড়ুন...
417 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ
📢 Notice Board
No active notices
ই-নলেজ আইডিয়া(Enolej Idea) হলো লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম যেখানে যেকোনো ধরনের লেখা—সাহিত্য, বিজ্ঞান, গবেষণা নোট, মতামত, প্রতিবাদী লেখা, ধর্মীয় চিন্তা, ব্যক্তিগত নোট বা দৈনন্দিন ভাবনা—নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা যায়। এটি সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ছড়িয়ে থাকা অগোছালো কনটেন্টকে একটি ভেরিফাইড, রেফারেন্সযোগ্য ডিজিটাল পোর্টফোলিওতে রূপান্তর করে, যা ব্যক্তির বুদ্ধিবৃত্তিক পরিচিতি ও দীর্ঘমেয়াদি ব্র্যান্ডিং গড়ে তোলে। প্রতিটি লেখার জন্য ইউনিক ডিজিটাল আইডি (eID) ও কপিরাইট সুরক্ষা প্রদান করা হয়, ফলে লেখা চুরি হলেও আসল লেখক সহজে শনাক্তযোগ্য থাকে। ধারাবাহিক কনটেন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাজানো, এক ক্লিকেই ই-বুক বা বইয়ের খসড়ায় রূপান্তর, ব্যক্তিগত খসড়া গোপন রাখা এবং একটি সক্রিয় কমিউনিটির মাধ্যমে পাঠকের সাথে সরাসরি সংযোগ—সব সুবিধাই এখানে একসাথে পাওয়া যায়। ই-নলেজ আইডিয়া মূলত ব্যক্তির চিন্তা ও জ্ঞানকে একটি স্থায়ী, সুরক্ষিত ও সার্বজনীনভাবে স্বীকৃত ডিজিটাল লেখক ইকোসিস্টেমে রূপ দেয়। IDEA = Independent Digital Expression & Authorship.
  1. মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

    935 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    46 টি আইডিয়া ব্লগ

  2. জামিনুল রেজা

    428 পয়েন্ট

    1 প্রতিক্রিয়া

    1 মন্তব্য

    21 টি আইডিয়া ব্লগ

  3. রফিক আতা

    224 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    11 টি আইডিয়া ব্লগ

  4. ক্বলমী সুর

    134 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    6 টি আইডিয়া ব্লগ

...