ক্ষুধার ছায়ায় হারানো সকাল
মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন
ছোটগল্প | জানুয়ারি ২৭, ২০২৬
অভিক ও নিশি, দুই সন্তান নিয়ে ক্ষুধার সঙ্গে লড়ছে। জানুন কীভাবে এক সকালে ক্ষুধা তাদের জীবনের সবকিছু ছাপিয়ে গেল।
অভিক, ৪৮ বছর বয়সী, হাটের বাইপাস অপারেশন করা এক মানুষ। শরীর দুর্বল, হাঁটতে একটু কষ্ট, কিন্তু মনটা চেষ্টা করে ঠিক রাখতে।
নিশি, তার স্ত্রী, সবকিছু নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে, কিন্তু সংসারের চাপ ও পেটের ক্ষুধা তাদের কাঁধে চাপিয়ে রাখে।
তাদের দুটি কন্যা—রিয়া ও রিনি। দুজনেই ভার্সিটিতে পড়ে। মা-বাবা চায় সন্তানরা পড়াশোনায় মন দিক, কিন্তু অভিক ও নিশির দারিদ্র্য সব সময় চাপ তৈরি করে।
হাটের পাশের ছোট্ট বাসা। ব্যস্ত সকাল, রাস্তার শব্দ, দোকানদারদের চিৎকার। অভিক সকালে উঠেই লক্ষ্য করল, ফ্রিজ ফাঁকা। টাকা আছে খুবই কম, খাবার কিনে মেয়েদের ভাত খাওয়ানোও ঝুঁকিপূর্ণ।
শরীরের অসুস্থতা তাকে আরেকটু অসহায় করে তুলছে। নিশি ব্যস্ত, হাতের কাজ সামলাচ্ছে। রিয়া ও রিনি স্কুলের ব্যাগ নিয়ে বসে আছে, জানে না আজ খাবারের জন্য কতটা তাড়াহুড়ো।
অভিকের হাতে মাত্র ৫০০ টাকা। বাজারে ভাত-ডাল-সবজি কিনতে হলে ঠিকমতো হবে না। মেয়েদের ক্ষুধা, নিজের দুর্বলতা—সবই চাপ তৈরি করছে।
নিশি বলল, “আজ তোমরা একটু ধৈর্য ধরো, আমি কিছু করে আসি।”
কিন্তু অভিক জানে, বাইরে যাওয়া তার পক্ষে ঝুঁকিপূর্ণ। হাটে গিয়ে কম দামে কিছু কিনলেও ব্যথা, চাকা ছিঁড়ে যেতে পারে।
রিয়া কাঁদছে, রিনি ছোট্ট চিড়িয়াখেলার মতো ভাতের জন্য আকুতি করছে। অভিক বুঝতে পারছে—চিকিৎসা, জীবন, পেট, সন্তানের ক্ষুধা—সব মিলিয়ে একসাথে চাপ তৈরি করছে।
অভিক সিদ্ধান্ত নিল, “আমি মেয়েদের ভাত খাওয়াবো, নিজের জন্য অপেক্ষা করব।”
রিয়া ও রিনি খেতে লাগল। অভিক দাঁড়িয়ে তাদের দেখছে, শরীরের ব্যথা ও ক্ষুধা উপেক্ষা করে।
হঠাৎ রিনি ছোট্ট পায়ে ফসকে পড়ল। সে মাটিতে পড়ে কাঁদছে। অভিক ছুটে গেল, মেয়েটিকে জড়িয়ে ধরল। নিশি চিৎকার করতে লাগল, পাশের প্রতিবেশীরা সাহায্য করতে এলো।
মেয়েটির পা সামান্য আহত, কিন্তু অনুভূতিটা ছিল ভয়াবহ। অভিকের চোখে পানি, নিজের ক্ষুধা, অসহায়ত্ব, মেয়েদের ব্যথা—সব একসঙ্গে।
অভিক মেয়েদের হাত ধরে দাঁড়িয়ে আছে। আশেপাশের মানুষ সাহায্য করছে, কিন্তু ক্ষুধা ও শহরের বাস্তবতার ছাপ এতই শক্ত যে তার মনে হলো সব হারিয়ে ফেলেছে।
মেয়েরা আছে, হাত ধরে আছে। ক্ষুধা, দারিদ্র্য, ব্যথা—সব ফিকে মনে হলো।
হঠাৎ রাস্তার কোণে গাড়ির শব্দ—হৃদয় থমকে যায়। গল্প এখানেই থেমে গেল। বাস্তবতা, অনিশ্চয়তা এবং অভিকের দুর্বল শরীর—সব একসাথে পরিবেশ কে আবেগমগ্ন করে আর রাস্তায় গাড়ির শব্দ কখনো থামে না।
#ক্ষুধা #দারিদ্র্য #মানবিকমর্যাদা #খাদ্যনিরাপত্তা #অভিকনিশি #ক্ষুধারকাহিনী #সাহিত্যগল্প #মানবিকগল্প #বাংলাসাহিত্য #পরিবারিককাহিনী
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।