Enolej Idea-তে লেখা প্রকাশের নিয়ম জানতে পূর্ণ নির্দেশনা দেখুন...
ই-নলেজ আইডিয়া হলো এমন একটি চিন্তানির্ভর প্ল্যাটফর্ম, যেখানে মানুষ শুধু তথ্য নয়, চিন্তা শেয়ার করে। এখানে জ্ঞানীরা একত্র হন, নতুনরা পথ খুঁজে পান, এবং সবাই মিলে তৈরি হয় একটি জ্ঞানভিত্তিক উম্মাহ। এটি জ্ঞানচর্চাকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ বানানোর একটি প্রচেষ্টা, যেখানে লেখা, ভাবা ও শেখা—সবই হয় মুক্তভাবে।আজই যোগ দিন!নিবন্ধন করতে এখানে ক্লিক করুন...।

-: ই-নলেজ আইডিয়া :-

আপনার লেখার কপিরাইট সুরক্ষা, স্বীকৃতি এবং ফ্রী প্রমোশন, সব এক প্ল্যাটফর্মে!

লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম আপনার লেখার অভিজ্ঞতাই বদলে দিবে। (পড়ুন...)

যদি আপনি হন পাঠক, কিংবা লেখক হিসেবে জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করেন:

যদি আপনার লেখাগুলোর কপিরাইট সুরক্ষা, সুশৃঙ্খলতা, আপনার ভেরিফাইড লেখক পোর্টফলিও এবং লেখক-পাঠকের কেন্দ্রীয় কমিউনিটিতে যুক্ত হতে চান, তাহলে নিবন্ধন করুন লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম “ই-নলেজ আইডিয়া” -এ!

এখানে অনেক প্রতিভাবান লেখক বিভিন্ন সিরিজে লিখছেন। আপনিও চাইলে আপনার লেখাগুলো সিরিজ আকারে সাজাতে পারবেন।

আপনার লেখক প্রোফাইল হবে একদম জীবন্ত পোর্টফলিও, এক ধরনের জীবন্ত বই। এখানে শুধু লেখক নয়, থাকবে পাঠকেরও সংস্পর্শ। ব্যাজ, পয়েন্ট, স্বীকৃতি এবং কপিরাইট সুরক্ষা তো থাকছেই, লেখাগুলো স্ক্যান করলেই আপনার নাম ভেসে উঠবে।

এটি তাই লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

চলুন বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক....

পূর্ণ নির্দেশনা [Full Guideline]

ই-নলেজ আইডিয়া – লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

বারান্দার আলো

0 পছন্দ 0 অপছন্দ
47 বার প্রদর্শিত
করেছেন (28,153 পয়েন্ট)   24 অগাস্ট "গল্প" বিভাগে লেখা প্রকাশিত
পোষ্ট আইডি(eID) কার্ড↓ - লেখনীর স্বত্ব ও গুণের পরিচয়!

বারান্দার আলোimage

মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

ছোটগল্প | ২৪ আগস্ট ২০২৬


সন্ধ্যার পর থেকেই বিদ্যুৎ নেই। বারান্দার গ্রিলের ফাঁক দিয়ে পাশের বাড়ির একটা মোমবাতি দেখা যাচ্ছে। বাতাস এলেই শিখাটা কেঁপে উঠছে, দেয়ালের ছায়াটা কখনো লম্বা হচ্ছে, কখনো আবার ছোট হয়ে যাচ্ছে।


নিশি বারান্দার পুরোনো কাঠের চেয়ারটায় বসে আছে। চেয়ারটার হাতলে অনেক দিনের রং উঠে গেছে। বৃষ্টির পানি এসে মেঝেতে ছোট ছোট দাগ ফেলেছে। সে সেদিকেই তাকিয়ে আছে। কী দেখছে, নিজেও জানে না।


অভিক তিন দিন ধরে বাড়ি ফেরেনি।


প্রথম দিন নিশির রাগ হয়েছিল। দ্বিতীয় দিন অভিমান। তৃতীয় দিনে এসে দুটোই কেমন ক্লান্ত হয়ে গেছে। এখন শুধু বুকের ভেতর একটা ফাঁকা জায়গা নিয়ে সে বসে আছে।


মোবাইলটা হাতে নিল। স্ক্রিন জ্বলে উঠল। কোনো নতুন বার্তা নেই।


সেদিনের কথাগুলো আবার মনে পড়ল।


অভিক বলেছিল, “তুমি আমাকে সবকিছুর হিসাব দিতে বলো কেন?”


নিশি তখন রান্নাঘর থেকে বেরিয়ে এসে দাঁড়িয়েছিল। “হিসাব চাই না। জানতে চাই।”


“একই কথা।”

“এক না।”

“তোমার কাছে সবকিছুর ব্যাখ্যা লাগে।”


নিশি একটু চুপ করে থেকে বলেছিল, “আর তোমার কাছে কাউকে কিছু বলার দরকার হয় না।”


অভিক তখন বেশ কিছুক্ষণ তার দিকে তাকিয়ে ছিল।


“আমি কি তোমার কাছে বন্দি?”

নিশি কথাটা বলার আগে থামতে পারত। থামেনি।

“না। তুমি তো কোনোদিনই ছিলে না।”


কথাটা বেরিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ঘরটা চুপ হয়ে গিয়েছিল।


অভিক আর কিছু বলেনি। শুধু দরজার পাশে রাখা চাবিটা তুলে নিয়ে বেরিয়ে গিয়েছিল।


তারপর তিন দিন।


নিশি জানে, কথাটা তার বলা উচিত হয়নি। কিন্তু ক্ষমা চাওয়ার জন্যও তো একজন মানুষ দরকার। ফোন করবে ভেবেছে কতবার। নম্বর খুলেছে। আবার বন্ধ করেছে।


অভিক থাকলে রাতের খাবারে ভাত একটু কম হলে বলত, “আবার আন্দাজে রান্না করছ?”


নিশি বলত, “খাবে না?”

“খাব তো।”

“তাহলে?”

“না, এমনি বললাম।”

এই ‘এমনি বললাম’ কথাটাও এখন তার মনে পড়ে।


মানুষ চলে গেলে তার সঙ্গে শুধু মানুষটা যায় না। তার ব্যবহারও থেকে যায়। গ্লাস রাখার শব্দ, চাবি ঘোরানোর শব্দ, বাথরুমের দরজা টেনে বন্ধ করার শব্দ। এমনকি ঘুমানোর আগে বিরক্ত হয়ে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলার শব্দও।


একসময় নিশির মনে পড়ল, একবার তার খুব জ্বর হয়েছিল। রাতভর শরীর পুড়ছিল। অভিক তখন প্রায় ঘুমায়নি। বারবার পানিতে কাপড় ভিজিয়ে তার কপালে রেখেছিল। ভোরের দিকে জ্বর একটু কমলে নিশি আধঘুমে শুনেছিল, অভিক রান্নাঘরে গিয়ে হাঁড়ির ঢাকনা তুলছে।


সকালবেলা নিশি চোখ মেলে দেখেছিল, অভিক চা হাতে দাঁড়িয়ে আছে।


“কেমন লাগছে?”

“একটু ভালো।”

“জ্বর কমেছে।”


তারপর চায়ের কাপটা হাতে দিয়ে বলেছিল, “আজ ভাতটা তুমি রান্না কোরো না। কাল যে কী করেছিলে, ভাত না খিচুড়ি—এখনও বুঝিনি।”


নিশি তখন দুর্বল শরীরেও হেসে ফেলেছিল।


এই মানুষটাকেই সে তিন দিন ধরে দেখতে পাচ্ছে না।


অদ্ভুত ব্যাপার, মানুষকে ভালোবাসার কারণগুলো খুব বড় হয় না। কখনো কপালে ভেজা কাপড় চেপে ধরার মতো ছোট। আবার সেই মানুষটার ওপর রাগ করার কারণও খুব বড় কিছু নয়। একটা কথা, একটা দেরি, একটা উত্তর না দেওয়া—এই সামান্য জিনিসেই কত দূরত্ব তৈরি হয়ে যায়।


নিশি চেয়ার থেকে উঠে রান্নাঘরে গেল। ভাতের হাঁড়ির ঢাকনা তুলল। ভেতরে ঠান্ডা ভাত পড়ে আছে। অভ্যাসবশত সে একটু হাত দিয়ে ভাতটা নেড়ে দিল। তারপর নিজের ওপরই বিরক্ত হলো।


কার জন্য করছে এসব?

হাঁড়ির ঢাকনা নামিয়ে আবার বারান্দায় এসে বসল।


এই বারান্দাটা তাদের খুব পছন্দের ছিল না। সরু, দুজন পাশাপাশি দাঁড়ালে একজনকে একটু সরে যেতে হয়। বর্ষায় দেয়ালে স্যাঁতসেঁতে গন্ধ হয়। শীতকালে বাতাস সরাসরি এসে লাগে।


তবু সংসারের অনেক কথা এই বারান্দাতেই হয়েছে।


নিশি চোখ বন্ধ করল। অভিকের মুখ মনে পড়ল। তার রাগী মুখ। হাসির মুখ। জ্বরের রাতে জেগে থাকা মুখ। আবার সেই মুখটাই দরজা বন্ধ করে চলে যাওয়ার সময় কেমন শক্ত হয়ে গিয়েছিল।


সবকিছু একসঙ্গে মনে পড়লে মানুষ কাউকে ঠিক কী নামে ডাকে—প্রিয়, অপরাধী, নাকি নিজের মানুষ—নিশি জানে না।


বাইরে অন্ধকার আরও ঘন হয়েছে। দূরের রাস্তার বাতিটা কয়েকবার জ্বলে নিভে আবার জ্বলল।


হঠাৎ নিচে একটা গাড়ি থামার শব্দ হলো।


নিশি চমকে উঠে দাঁড়াল।


গাড়িটা তাদের বাড়ির সামনে থামেনি। পাশের গলি দিয়ে চলে গেল।


সে ধীরে ধীরে আবার বসে পড়ল।


নিজের ওপর এবার সত্যিই রাগ হলো।


“এভাবে আর কত?”


কথাটা মুখ থেকে বেরিয়ে গেল।


ঠিক তখনই মোবাইলটা কেঁপে উঠল।


স্ক্রিনে অভিকের নাম।


নিশি কয়েক সেকেন্ড তাকিয়ে রইল। তারপর বার্তাটা খুলল।


জেগে আছ?

তার আঙুল থেমে রইল।

তারপর লিখল,

হ্যাঁ।

উত্তর আসতে বেশি সময় লাগল না।

বারান্দায়?

নিশির বুকের ভেতরটা হঠাৎ কেঁপে উঠল।

সে লিখল,

তুমি কোথায়?

কিছুক্ষণ কোনো উত্তর নেই।

তারপর,

নিচে।


নিশি চেয়ার থেকে উঠে দাঁড়াল।


বারান্দার গ্রিল ধরে নিচে তাকাতেই অন্ধকারের মধ্যে একটা পরিচিত অবয়ব দেখতে পেল।


অভিক।

মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে আছে।

নিশি কিছুক্ষণ নড়ল না।

তারপর অভিক মাথা তুলে তাকাল।


এই দূরত্ব থেকেও নিশি বুঝতে পারল, মানুষটার চোখে ক্লান্তি।


তিন দিনের রাগ তখনও তার ভেতরে আছে। কথাগুলোও আছে। যে কথাগুলো বলা হয়নি, সেগুলোও।


তবু নিশি বারান্দা থেকে সরে দরজার দিকে এগিয়ে গেল।


দরজার কাছে এসে একবার থামল।

হাতটা ছিটকিনির ওপর রাখল।


নিচে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষটার দিকে তাকিয়ে নিশির মনে হলো, কিছু মানুষকে হারিয়ে ফেললেও পুরোপুরি হারানো যায় না।


তারা থেকে যায়।

কখনো অভ্যাস হয়ে, কখনো রাগ হয়ে, কখনো গভীর রাতের অস্থিরতা হয়ে।


আর কখনো আলো-আঁধারির মাঝখানে দাঁড়িয়ে থাকা একটা সরু বারান্দার ওপারে—একজন মানুষ হয়ে।


নিশি দরজা খুলে দিল।

আমি মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন, ই-নলেজ এর একজন যাচাইকৃত লেখক। আমি এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত আছি প্রায় 1 বছর 2 সপ্তাহ ধরে, এবং এ পর্যন্ত 1393 টি লেখা ও 0 টি প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছি। আমার অর্জিত মোট পয়েন্ট 28153। ই-নলেজ আমার চিন্তা, জ্ঞান ও কণ্ঠকে সবার মাঝে পৌঁছে দিতে সহায়তা করেছে।
সংযুক্ত তথ্য
নিজস্ব আইডিয়া, ই-নলেজ আইডিয়া এ প্রথম প্রকাশিত
Enolej ID(eID): 4754
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।

এই লেখকের অন্যান্য সিরিজ


বিজ্ঞাপন: Remembering...

Image

এই ব্লগটির প্রতিক্রিয়া দিতে দয়া করে প্রবেশ কিংবা নিবন্ধন করুন ।

সংশ্লিষ্ট ব্লগগুচ্ছ


image
বারান্দার নিস্তব্ধতা মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ছোটগল্প - ২৬ জুলাই, ২০২৬ রাত সাড়ে এগার[...] বিস্তারিত পড়ুন...
43 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
ফুটো টিনের নিচে আলো মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ছোট গল্প ১৭ জুলাই, ২০২৬ অভিকের ঘরে এখন আর &[...] বিস্তারিত পড়ুন...
47 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
ফাটলের ভেতর আলো   মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ছোট গল্প। ৬ জুলাই, ২০২৬ ঝনঝন। মাটির ফুলদা÷[...] বিস্তারিত পড়ুন...
54 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
আলো নিভে যাওয়ার আগে   মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন   ছোটগল্প। ২৭ জুন, ২০২৬   সন্ধ্যা নাম[...] বিস্তারিত পড়ুন...
53 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
জানালার ওপাশে একটু আলো মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ছোট গল্প  । ২৮ মে, ২০২৬ বিকেল নামার আগে[...] বিস্তারিত পড়ুন...
239 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ
📢 Notice Board
No active notices
ই-নলেজ আইডিয়া(Enolej Idea) হলো লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম যেখানে যেকোনো ধরনের লেখা—সাহিত্য, বিজ্ঞান, গবেষণা নোট, মতামত, প্রতিবাদী লেখা, ধর্মীয় চিন্তা, ব্যক্তিগত নোট বা দৈনন্দিন ভাবনা—নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা যায়। এটি সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ছড়িয়ে থাকা অগোছালো কনটেন্টকে একটি ভেরিফাইড, রেফারেন্সযোগ্য ডিজিটাল পোর্টফোলিওতে রূপান্তর করে, যা ব্যক্তির বুদ্ধিবৃত্তিক পরিচিতি ও দীর্ঘমেয়াদি ব্র্যান্ডিং গড়ে তোলে। প্রতিটি লেখার জন্য ইউনিক ডিজিটাল আইডি (eID) ও কপিরাইট সুরক্ষা প্রদান করা হয়, ফলে লেখা চুরি হলেও আসল লেখক সহজে শনাক্তযোগ্য থাকে। ধারাবাহিক কনটেন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাজানো, এক ক্লিকেই ই-বুক বা বইয়ের খসড়ায় রূপান্তর, ব্যক্তিগত খসড়া গোপন রাখা এবং একটি সক্রিয় কমিউনিটির মাধ্যমে পাঠকের সাথে সরাসরি সংযোগ—সব সুবিধাই এখানে একসাথে পাওয়া যায়। ই-নলেজ আইডিয়া মূলত ব্যক্তির চিন্তা ও জ্ঞানকে একটি স্থায়ী, সুরক্ষিত ও সার্বজনীনভাবে স্বীকৃত ডিজিটাল লেখক ইকোসিস্টেমে রূপ দেয়। IDEA = Independent Digital Expression & Authorship.
  1. মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

    549 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    4 মন্তব্য

    27 টি আইডিয়া ব্লগ

  2. প্রিন্স ফ্রেরাসে

    124 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    6 টি আইডিয়া ব্লগ

  3. শামীমা আকতার

    82 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    4 টি আইডিয়া ব্লগ

  4. অমিত দত্ত দিলু

    63 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    3 টি আইডিয়া ব্লগ

...