বৃষ্টিতে হারানো অভিক
মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন
ছোট গল্প | ১৩-১১-২০২৫
সবে অভিক হাসপাতাল থেকে ফিরেছে। হার্টের বিশাল অপারেশনের পর প্রথমবার নিশিকে নিয়ে বেরিয়েছে।
“অভিক… অভিক?”
নিশি ডাকছে, কিন্তু অভিক আনমনে সামনের বৃষ্টির দিকে তাকিয়ে। মুশলধারে বৃষ্টি, সঙ্গে তীব্র বাতাস।
হঠাৎ চমকে উঠল অভিক। “কী?”
“চলো না, বৃষ্টিতে ভিজি?” নিশির গলায় আদুরে অনুরোধ।
“না।” অভিকের কণ্ঠ গম্ভীর।
“কেন? এমন সুন্দর বৃষ্টি…” নিশি এক নিঃশ্বাসে বলে ফেলল।
“আমার বৃষ্টি ভালো লাগে না।”
“তবে কী ভালো লাগে?” নিশির গলা কঠিন।
“নীল আকাশ। সাদা মেঘেরা যখন উড়ে বেড়ায়… মনে হয়, ওদের সঙ্গে খেলি।”
“আর?” নিশির গলায় আবেগ।
“দেখতে চাও? চলো।”
“কোথায়?”
“ওই খোলা মাঠে।”
মাঠে পৌঁছে অভিক গেঞ্জি খুলে ফেলল। খালি পায়ে নাচতে লাগল বৃষ্টির তালে। উচ্চস্বরে ডাকল, “ধরো আমাকে! দৌড়াই?”
“আসছি!” নিশি হাসতে হাসতে ছুটল।
দুজনে বাচ্চাদের মতো দৌড়াল। বৃষ্টির মাঝে অভিককে দেখে নিশির মনে হল—যেন এক বন্দি পাখি খাঁচা ভেঙে নীল আকাশে ডানা মেলেছে।
হাঁপিয়ে উঠল দুজন।
“চল, বাড়ি ফিরি?” নিশি বলল।
“না। তুমি যাও। আমি আজ মাটির বুকে ঘুমোব।”
নিশি চুপ করে তাকাল। অভিকের এই শিশুসুলভ পাগলামী—তার প্রতি অজান্তেই ভালোবাসা জন্মেছে।
“অভিক… একটা কথা বলব?”
“বলো।”
“আমি তোমাকে ভালোবেসে ফেলেছি। সারা জীবন পাশে রাখবে?”
অভিক দুষ্টু হেসে বলল, “না। শুধু দুই দিন। রাজি?”
“ছি! আমি তোমাকে অন্যরকম ভেবেছিলাম…” নিশির চোখে জল।
অভিক কিছু বলতে পারল না। শুধু চোখ দিয়ে বর্ষা নামল।
তিন দিন পর।
নিশি ফোন করল। অভিক ধরল না।
মেসেজ: “শেষবারের মতো বলো, ‘ভালোবাসি’। আর কখনো শুনতে চাইব না।”
কোনো জবাব এল না।
রাতে অভিকের মায়ের নম্বরে ফোন।
“অভিক তোমাকে অনেক ভালোবাসে, নিশি।”
“ও কোথায়? দিন…”
“অভিক আর এই পৃথিবীতে নেই।”
অপারেশন সফল হয়নি। বৃষ্টিতে ভিজে ঠান্ডা লেগে হার্ট আরও খারাপ। চেষ্টা করেও বাঁচানো গেল না।
ফোন হাত থেকে পড়ে গেল। নিশি মাটিতে বসে পড়ল।
আজ বুঝল—কেন অভিক বৃষ্টিতে ভিজতে দিতে চায়নি।
আজও বৃষ্টি পড়ছে।
সবাই মনের আনন্দে ভিজছে।
আর নিশির চোখ দিয়ে গড়িয়ে পড়ছে—
ভালোবাসার অশ্রু ধারা।
#বৃষ্টিতে_হারানো_অভিক #প্রেমের_শেষ_দিন #নিশির_কান্না #ভালোবাসার_অশ্রু #বাংলা_ছোটগল্প #মানুষের_ভালোবাসা #HumanTears
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।