Enolej Idea-তে লেখা প্রকাশের নিয়ম জানতে পূর্ণ নির্দেশনা দেখুন...
ই-নলেজ আইডিয়া হলো এমন একটি চিন্তানির্ভর প্ল্যাটফর্ম, যেখানে মানুষ শুধু তথ্য নয়, চিন্তা শেয়ার করে। এখানে জ্ঞানীরা একত্র হন, নতুনরা পথ খুঁজে পান, এবং সবাই মিলে তৈরি হয় একটি জ্ঞানভিত্তিক উম্মাহ। এটি জ্ঞানচর্চাকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ বানানোর একটি প্রচেষ্টা, যেখানে লেখা, ভাবা ও শেখা—সবই হয় মুক্তভাবে।আজই যোগ দিন!নিবন্ধন করতে এখানে ক্লিক করুন...।

-: ই-নলেজ আইডিয়া :-

আপনার লেখার কপিরাইট সুরক্ষা, স্বীকৃতি এবং ফ্রী প্রমোশন, সব এক প্ল্যাটফর্মে!

লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম আপনার লেখার অভিজ্ঞতাই বদলে দিবে। (পড়ুন...)

যদি আপনি হন পাঠক, কিংবা লেখক হিসেবে জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করেন:

যদি আপনার লেখাগুলোর কপিরাইট সুরক্ষা, সুশৃঙ্খলতা, আপনার ভেরিফাইড লেখক পোর্টফলিও এবং লেখক-পাঠকের কেন্দ্রীয় কমিউনিটিতে যুক্ত হতে চান, তাহলে নিবন্ধন করুন লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম “ই-নলেজ আইডিয়া” -এ!

এখানে অনেক প্রতিভাবান লেখক বিভিন্ন সিরিজে লিখছেন। আপনিও চাইলে আপনার লেখাগুলো সিরিজ আকারে সাজাতে পারবেন।

আপনার লেখক প্রোফাইল হবে একদম জীবন্ত পোর্টফলিও, এক ধরনের জীবন্ত বই। এখানে শুধু লেখক নয়, থাকবে পাঠকেরও সংস্পর্শ। ব্যাজ, পয়েন্ট, স্বীকৃতি এবং কপিরাইট সুরক্ষা তো থাকছেই, লেখাগুলো স্ক্যান করলেই আপনার নাম ভেসে উঠবে।

এটি তাই লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

চলুন বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক....

পূর্ণ নির্দেশনা [Full Guideline]

ই-নলেজ আইডিয়া – লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

সময়ের আবর্তের ইতিহাস

0 পছন্দ 0 অপছন্দ
40 বার প্রদর্শিত
করেছেন (21,955 পয়েন্ট)   16 জানুয়ারি "গল্প" বিভাগে লেখা প্রকাশিত
পোষ্ট আইডি(eID) কার্ড↓ - লেখনীর স্বত্ব ও গুণের পরিচয়!

সময়ের আবর্তের ইতিহাস

মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

ছোটগল্প। জানুয়ারি,১৬,২০২৬


সময়ের আবর্তের ইতিহাস কখনো বইয়ে লেখা থাকে না, লেখা থাকে মানুষের চোখে, নিঃশ্বাসে আর নীরব মৃত্যুর ভেতরে। একটি হাসপাতালের জরুরি বিভাগ, এক কাপ রং চা, আর হঠাৎ করে থমকে যাওয়া একটি তরুণ জীবন—এই অনুগল্প সেই বাস্তবতার কথা বলে, যেখানে যৌতুক, পারিবারিক কলহ আর সামাজিক চাপ এক কিশোরী মায়ের জীবনকে ইতিহাসে পরিণত করে। সময়ের আবর্তের ইতিহাস শুধু একটি গল্প নয়, এটি আমাদের সমাজের বিবেকের সামনে দাঁড় করানো এক নিষ্ঠুর প্রশ্ন।


আজ বৃহস্পতিবার। দুপুরের পর থেকেই বুকের ভেতর এক অদ্ভুত ব্যথা। শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে, অক্সিজেনের ওঠানামায় মনে হচ্ছিল জীবনটা বুঝি এখানেই থেমে যাবে। বিকেলের দিকে নিজের অজান্তেই আতঙ্কে লোডিং ডোজটা খেয়ে ফেললাম। সন্ধ্যায় সিদ্ধান্ত নিলাম—একটা ইসিজি করানো দরকার।


বাসার কাছেই মুগধা হাসপাতাল। তাই সোজা চলে গেলাম হাসপাতালের জরুরি বিভাগে।


জরুরি বিভাগে বসে ছিলেন অল্প বয়সী একজন ডাক্তার। আমার ইসিজি ও আগের চিকিৎসার কাগজপত্র মনোযোগ দিয়ে দেখছিলেন তিনি। কথা বলতে বলতে ভালোই লাগছিল। প্রসঙ্গক্রমে জানলাম, তিনি এফসিপিএস করছেন। ওষুধ, চিকিৎসা—সব মিলিয়ে আলোচনা জমে উঠল। এমনকি এক কাপ রং চাও চলে এলো, যেন মুহূর্তের জন্য বুকের ব্যথাটাও ভুলে গেলাম।


জরুরি বিভাগে রোগী আসছে, যাচ্ছে। ডাক্তার সংক্ষেপে চিকিৎসা দিয়ে বেশিরভাগ রোগীকেই সংশ্লিষ্ট বিভাগে পাঠাচ্ছেন।


ঠিক তখনই জরুরি বিভাগের ব্রাদার এসে জানালেন—একজন জরুরি রোগী এসেছে।


ডাক্তার রোগীকে ভেতরে ডাকলেন।


দরজার দিকে তাকিয়ে দেখি, ১৩–১৪ বছরের চিকন-চাকন একটি মেয়ে। পরনে বোরকা, তবে মুখ ঢাকা নয়। সঙ্গে একজন বয়স্ক মহিলা—নিজেকে মেয়েটির মা বলে পরিচয় দিলেন।


আমার পাশের চেয়ারটি ফাঁকা থাকায় ডাক্তার মেয়েটিকে সেখানে বসতে বললেন। মেয়েটি আমার পাশে বসলো। তার মা বললেন, মেয়েটি একসঙ্গে ১৫টি নাপা ট্যাবলেট খেয়ে ফেলেছে।


কথাটা শুনে অবচেতনে বলে ফেললাম,

“আম্মু, আর কিছু পেলি না? নাপাটাই খেতে হলো! ওয়াশের পর জীবনে আর ওষুধের নাম মুখে আনবি না।”


মেয়েটি আমার দিকে তাকিয়ে মিষ্টি করে হাসল।


এই প্রথম ভালো করে লক্ষ্য করলাম—তার চোখের নিচে গভীর কালো ছাপ। মনে হচ্ছিল, অনেক দিন ধরেই সে ঘুমাতে পারেনি। সেই চোখে ছিল ক্লান্তি, ভয় আর এক অদ্ভুত নীরবতা।


ডাক্তার কোনো কথা না বলে ব্রাদারকে বললেন, নার্সকে ডেকে ওয়াশের ব্যবস্থা করতে।


নার্স আসতেই মেয়েটি তার সঙ্গে চলে গেল। যাওয়ার সময় খেয়াল করলাম—ওর মধ্যে কেমন একটা আতঙ্ক কাজ করছে।


মেয়েটি চলে যাওয়ার পর আমরা আবার আগের আলোচনায় ফিরে গেলাম। সময় গড়িয়ে গেল প্রায় বিশ মিনিট।


হঠাৎ করেই ব্রাদার দৌড়ে এসে ডাক্তারকে জানালেন—

যে মেয়েটিকে ওয়াশ করতে পাঠানো হয়েছিল, সে মারা গেছে।


কিছু বুঝে ওঠার আগেই আমি আর ডাক্তার দৌড়ে বেরিয়ে এলাম। দেখলাম, স্টিলের ট্রলিতে করে মেয়েটির নিথর দেহ সামনে আনা হচ্ছে।


ডাক্তার সঙ্গে সঙ্গে ইসিজি করলেন। ইসিজির নীরব গ্রাফ স্পষ্ট করে বলে দিল—মেয়েটি আর পৃথিবীতে নেই।


একটু পরেই দেখা গেল, এক মহিলা হাউমাউ করে কাঁদছেন। কাছে গিয়ে জানতে চাইলে তিনি বললেন, তিনি মেয়েটির মা। আর যিনি প্রথমে মেয়েটিকে নিয়ে এসেছিলেন, তিনি তার শাশুড়ি। মেয়েটির একটি এক বছরের সন্তানও আছে।


পারিবারিক কলহের কারণ জানতে চাইলে জানা গেল—

মেয়ের জামাইকে বিদেশ পাঠানোর টাকা দিতে না পারায় ঝগড়ার শুরু। সেই ঝগড়ার এক পর্যায়ে মেয়েটি শ্বশুরবাড়িতে বিষ পান করে।


আমার চোখের সামনে তখন ভেসে উঠল মাত্র বিশ মিনিট আগের সেই হাসিমাখা আধো-জাগা চোখ দুটি। একবারও ভাবিনি—বিধাতা তার জন্য এমন এক দীর্ঘ, নিঃশব্দ ঘুমের আয়োজন করে রেখেছেন।


যৌতুক যে কত ভয়ংকর, তা নতুন করে বলার কিছু নেই। আজও সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে ছড়িয়ে আছে এই অমানবিক প্রথা। শুধু আইন দিয়ে কখনোই এই অভিশাপ নির্মূল করা সম্ভব নয়—যতদিন না আমাদের বিবেক জাগ্রত হয়।


ডাক্তার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ কেস রিপোর্ট করলেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ স্টিলের ট্রলিটি ঠেলে মর্গের দিকে নিয়ে যেতে লাগল।


আর আমি দাঁড়িয়ে রইলাম অন্ধকারের মধ্যে।


আমার পাশে তখন শুধু দাঁড়িয়ে ছিল—

সময়ের আবর্তে ইতিহাস হয়ে যাওয়া এক কিশোরীর শেষ হাসি।


#সময়ের_আবর্তের_ইতিহাস #বাংলা_অনুগল্প #যৌতুক_প্রথা #নারী_নির্যাতনের_বিরুদ্ধে #সমাজ_ও_বিবেকimage

আমি মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন, ই-নলেজ এর একজন যাচাইকৃত লেখক। আমি এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত আছি প্রায় 9 মাস 1 সপ্তাহ ধরে, এবং এ পর্যন্ত 1087 টি লেখা ও 0 টি প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছি। আমার অর্জিত মোট পয়েন্ট 21955। ই-নলেজ আমার চিন্তা, জ্ঞান ও কণ্ঠকে সবার মাঝে পৌঁছে দিতে সহায়তা করেছে।
সংযুক্ত তথ্য
নিজস্ব আইডিয়া, ই-নলেজ আইডিয়া এ প্রথম প্রকাশিত
Enolej ID(eID): 3053
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।

এই লেখকের অন্যান্য সিরিজ


বিজ্ঞাপন: Remembering...

Image

এই ব্লগটির প্রতিক্রিয়া দিতে দয়া করে প্রবেশ কিংবা নিবন্ধন করুন ।

সংশ্লিষ্ট ব্লগগুচ্ছ


গল্প: সময়ের শিক্ষা রাফিক নামের এক ছেলে প্রতিদিন সময়কে গুরুত্ব দেয় না। স্কুলে দেরি হয়, পড়াশোনা পিছিয়ে যায়, আর বন্ধুদের সঙ্গে মজা করতেই তার দিন চলে যায়। সে ভাবত, “সময় তো অনেক আছে, পরে সব ঠিক হয়ে য�[...] বিস্তারিত পড়ুন...
90 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

গল্প : সময়ের যাত্রা  মিরপুরের একটা ছোট মসজিদের ইমাম ছিলেন হাফেজ আব্দুল্লাহ। বয়স পঞ্চাশের কাছাকাছি, কিন্তু চোখে যেন আল্লাহর নূর জ্বলত। তার ছেলে রাশিদ, ত্রিশ বছরের যুবক, সারাদিন মোবাইলের দো�[...] বিস্তারিত পড়ুন...
112 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
 বালির নিচে ইতিহাস মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন বিশ্লেষণধর্মী । ২৫ মে, ২০২৬ মরুভূমির বুকে[...] বিস্তারিত পড়ুন...
414 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

তুমি পুরাণকে বলো ইতিহাস, আর ইতিহাসকে বলো পুরোনো। অথচ মানুষের জীবন তো ঠিক উল্টো পুরোনো স্মৃতির ভেতরেই লুকিয়ে থাকে। সবচেয়ে সত্য ইতিহাস, আর কিছু অসমাপ্ত অনুভূতি একদিন পুরাণ হয়ে যায় নিঃশব্দে[...] বিস্তারিত পড়ুন...
75 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
শত মানুষের সাহস এবং আত্মত্যাগেই ছিল বদরের ইতিহাস,   যে ইতিহাসেই হয়েছিল রবের সাহায[...] বিস্তারিত পড়ুন...
63 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ
📢 Notice Board
No active notices
ই-নলেজ আইডিয়া(Enolej Idea) হলো লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম যেখানে যেকোনো ধরনের লেখা—সাহিত্য, বিজ্ঞান, গবেষণা নোট, মতামত, প্রতিবাদী লেখা, ধর্মীয় চিন্তা, ব্যক্তিগত নোট বা দৈনন্দিন ভাবনা—নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা যায়। এটি সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ছড়িয়ে থাকা অগোছালো কনটেন্টকে একটি ভেরিফাইড, রেফারেন্সযোগ্য ডিজিটাল পোর্টফোলিওতে রূপান্তর করে, যা ব্যক্তির বুদ্ধিবৃত্তিক পরিচিতি ও দীর্ঘমেয়াদি ব্র্যান্ডিং গড়ে তোলে। প্রতিটি লেখার জন্য ইউনিক ডিজিটাল আইডি (eID) ও কপিরাইট সুরক্ষা প্রদান করা হয়, ফলে লেখা চুরি হলেও আসল লেখক সহজে শনাক্তযোগ্য থাকে। ধারাবাহিক কনটেন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাজানো, এক ক্লিকেই ই-বুক বা বইয়ের খসড়ায় রূপান্তর, ব্যক্তিগত খসড়া গোপন রাখা এবং একটি সক্রিয় কমিউনিটির মাধ্যমে পাঠকের সাথে সরাসরি সংযোগ—সব সুবিধাই এখানে একসাথে পাওয়া যায়। ই-নলেজ আইডিয়া মূলত ব্যক্তির চিন্তা ও জ্ঞানকে একটি স্থায়ী, সুরক্ষিত ও সার্বজনীনভাবে স্বীকৃত ডিজিটাল লেখক ইকোসিস্টেমে রূপ দেয়। IDEA = Independent Digital Expression & Authorship.
  1. মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

    486 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    24 টি আইডিয়া ব্লগ

  2. শামীমা আকতার

    22 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    0 টি আইডিয়া ব্লগ

  3. Adiba jannat

    21 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    1 আইডিয়া ব্লগ

  4. মুহাম্মদ সালমান

    1 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    0 টি আইডিয়া ব্লগ

...