Enolej Idea-তে লেখা প্রকাশের নিয়ম জানতে পূর্ণ নির্দেশনা দেখুন...
ই-নলেজ আইডিয়া হলো এমন একটি চিন্তানির্ভর প্ল্যাটফর্ম, যেখানে মানুষ শুধু তথ্য নয়, চিন্তা শেয়ার করে। এখানে জ্ঞানীরা একত্র হন, নতুনরা পথ খুঁজে পান, এবং সবাই মিলে তৈরি হয় একটি জ্ঞানভিত্তিক উম্মাহ। এটি জ্ঞানচর্চাকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ বানানোর একটি প্রচেষ্টা, যেখানে লেখা, ভাবা ও শেখা—সবই হয় মুক্তভাবে।আজই যোগ দিন!নিবন্ধন করতে এখানে ক্লিক করুন...।

-: ই-নলেজ আইডিয়া :-

আপনার লেখার কপিরাইট সুরক্ষা, স্বীকৃতি এবং ফ্রী প্রমোশন, সব এক প্ল্যাটফর্মে!

লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম আপনার লেখার অভিজ্ঞতাই বদলে দিবে। (পড়ুন...)

যদি আপনি হন পাঠক, কিংবা লেখক হিসেবে জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করেন:

যদি আপনার লেখাগুলোর কপিরাইট সুরক্ষা, সুশৃঙ্খলতা, আপনার ভেরিফাইড লেখক পোর্টফলিও এবং লেখক-পাঠকের কেন্দ্রীয় কমিউনিটিতে যুক্ত হতে চান, তাহলে নিবন্ধন করুন লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম “ই-নলেজ আইডিয়া” -এ!

এখানে অনেক প্রতিভাবান লেখক বিভিন্ন সিরিজে লিখছেন। আপনিও চাইলে আপনার লেখাগুলো সিরিজ আকারে সাজাতে পারবেন।

আপনার লেখক প্রোফাইল হবে একদম জীবন্ত পোর্টফলিও, এক ধরনের জীবন্ত বই। এখানে শুধু লেখক নয়, থাকবে পাঠকেরও সংস্পর্শ। ব্যাজ, পয়েন্ট, স্বীকৃতি এবং কপিরাইট সুরক্ষা তো থাকছেই, লেখাগুলো স্ক্যান করলেই আপনার নাম ভেসে উঠবে।

এটি তাই লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

চলুন বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক....

পূর্ণ নির্দেশনা [Full Guideline]

ই-নলেজ আইডিয়া – লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

পর্ব ৬ — একটা বিস্কুটে কি বদলায় জীবন?

0 পছন্দ 0 অপছন্দ
8 বার প্রদর্শিত
করেছেন (25,411 পয়েন্ট)   1 দিন পূর্বে "সাহিত্য(বিশ্লেষণ ধর্মী)" বিভাগে লেখা প্রকাশিত
পোষ্ট আইডি(eID) কার্ড↓ - লেখনীর স্বত্ব ও গুণের পরিচয়!

ফুটপাতের শৈশব

পর্ব ৬ — একটা বিস্কুটে কি বদলায় জীবন?image

মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

বিশ্লেষণধর্মী | ১৮ আগস্ট ২০২৬


এক প্যাকেট বিস্কুট একটা শিশুর ক্ষুধা মেটাতে পারে। কিন্তু তার জীবন বদলে দিতে পারে না।


রাস্তার পাশে একটা শিশুকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখলাম। দেখে মনে হলো, অনেকক্ষণ কিছু খায়নি। পকেট থেকে একটা বিস্কুটের প্যাকেট বের করে তার হাতে দিলাম। শিশুটার মুখে একটু হাসি ফুটল। প্যাকেট খুলে খেতে শুরু করল। আমি হাঁটতে হাঁটতে চলে এলাম।


মনে হলো, ভালো একটা কাজ করলাম।


কিছুদূর যাওয়ার পরই প্রশ্নটা মাথায় এলো—তারপর?


বিস্কুট শেষ হবে। ক্ষুধা আবার আসবে। পরদিন হয়তো শিশুটাকে একই জায়গায় দেখা যাবে। একই রাস্তা, একই ভিড়, একই অনিশ্চয়তা।


তাহলে কি বিস্কুট দেওয়া অর্থহীন?


না।


ক্ষুধার্ত শিশুকে খাবার দেওয়া কখনোই অর্থহীন নয়। সেই মুহূর্তে তার সবচেয়ে জরুরি প্রয়োজন যদি খাবার হয়, তাহলে খাবারই দরকার। সমস্যা খাবার দেওয়ায় নয়; সমস্যা হলো, খাবার দেওয়ার পর আমরা অনেক সময় শিশুটার জীবনের আর কোনো প্রশ্ন করি না।


একটা শিশুর অভাব শুধু খাবারের অভাব নয়। আজ সে ক্ষুধার্ত, কাল অসুস্থ হতে পারে। বৃষ্টির রাতে মাথার ওপর ছাদ নাও থাকতে পারে। স্কুলে যাওয়ার বয়সে তাকে কাজে নামতে হতে পারে। ধীরে ধীরে বই, খাতা আর স্কুল তার জীবন থেকে দূরে সরে যেতে পারে।


তাই একটা বিস্কুট আজকের ক্ষুধা মেটায়, কিন্তু আগামীকালের অনিশ্চয়তা দূর করে না।


সেখানেই দীর্ঘমেয়াদি চিন্তার প্রয়োজন।


শিশুটিকে শিক্ষার সুযোগ দিতে হবে। কিন্তু শুধু স্কুলে ভর্তি করালেই দায়িত্ব শেষ নয়। সে কোথায় থাকবে, খাবার পাবে কি না, স্কুলে নিরাপদে যেতে পারবে কি না, বই-খাতা ও চিকিৎসার ব্যবস্থা হবে কি না—এসবও দেখতে হবে।


দীর্ঘদিন স্কুলের বাইরে থাকা শিশুকে হঠাৎ বয়স অনুযায়ী শ্রেণিতে বসিয়ে দিলেই সব ঠিক হয়ে যাবে না। তার শেখার ঘাটতি পূরণ করতে সেতু-শিক্ষা বা নমনীয় পাঠদানের ব্যবস্থা প্রয়োজন হতে পারে।


পরিবারের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। শিশুটি যদি পরিবারের আয়ের অংশ হয়ে থাকে, তাকে শুধু কাজ থেকে সরিয়ে দিলে সমস্যাটা আবার ফিরে আসবে। প্রাপ্তবয়স্কদের কাজের সুযোগ, সামাজিক সহায়তা বা প্রয়োজনভিত্তিক আর্থিক সহযোগিতার মাধ্যমে পরিবারকে কিছুটা স্থিতিশীল করতে হবে।


আর যার নিরাপদ থাকার জায়গা নেই, তার জন্য আশ্রয়ের ব্যবস্থাও জরুরি। রাতে কোথায় ঘুমাবে—এই চিন্তা মাথায় নিয়ে একটা শিশুকে ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখানো কঠিন।


তবে সাহায্য করতে গিয়ে আরেকটা ভুল করা যাবে না। শিশুকে কাজে পাঠিয়ে সেটাকে ‘দক্ষতা শেখানো’ বলা ঠিক নয়। বয়স ও নিরাপত্তা অনুযায়ী উপযুক্ত পর্যায়ে পৌঁছালে বড় কিশোর-কিশোরীদের কারিগরি বা দক্ষতা প্রশিক্ষণের সুযোগ দেওয়া যেতে পারে। কিন্তু শিশুশ্রম কখনো ভবিষ্যৎ তৈরির পথ নয়।


তাহলে একটা বিস্কুটের জায়গা কোথায়?


খুব গুরুত্বপূর্ণ জায়গায়।


কারণ একটা ছোট সাহায্য কখনো কখনো আমাদের থামিয়ে দিতে পারে।


আপনি একটা শিশুকে বিস্কুট দিলেন। পরে দেখলেন, সে প্রতিদিন একই জায়গায় থাকে। জানলেন, সে স্কুলে যায় না। তখন নিজের মতো করে তাকে কোথাও নিয়ে যাওয়ার বদলে স্থানীয় বিশ্বস্ত শিশু সহায়তা প্রতিষ্ঠান, সমাজকর্মী বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা যেতে পারে।


তখন বিস্কুটটা শুধু খাবার থাকে না।


সেটা হয়ে ওঠে তার গল্পটা জানার শুরু।


একদিনের সাহায্য আর দীর্ঘমেয়াদি সহায়তার পার্থক্য এখানেই।


আজ একটা বিস্কুট তার ক্ষুধা কমাবে। এটা ছোট কাজ নয়। কিন্তু যদি সেই বিস্কুট দেওয়ার পর আমরা একবার ভাবি—‘এই শিশুটার আগামীকাল কী হবে?’—তাহলে সেই ছোট কাজের অর্থ অনেক বড় হয়ে যায়।


তারপর খাবার।

তারপর শিক্ষা।

তারপর নিরাপদ আশ্রয়।

পরিবারের জন্য আয়ের পথ।

তারপর একটা সুযোগ।


জীবন একদিনে বদলায় না। একটা বিস্কুটও একা জীবন বদলায় না। কিন্তু সেই বিস্কুট যদি একজন মানুষকে শিশুটার ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবায় এবং তাকে নিরাপদ, দীর্ঘমেয়াদি সহায়তার পথে পৌঁছে দেয়, তাহলে সেই ছোট কাজটাই হয়তো বড় পরিবর্তনের শুরু।


হয়তো একদিন সেই শিশুটাই নিজের উপার্জনের টাকা দিয়ে আরেকটা ক্ষুধার্ত শিশুর হাতে একটা বিস্কুট তুলে দেবে।


সেদিন বুঝব—


বিস্কুটটা জীবন বদলায়নি।

বিস্কুট থেকে শুরু হওয়া একটা পথ জীবন বদলে দিয়েছে।


তাই প্রশ্নটা শুধু—‘একটা বিস্কুটে কি বদলায় জীবন?’


প্রশ্ন হলো—


আমরা কি একটা বিস্কুট দেওয়ার পরও শিশুটার কথা মনে রাখি?

আমি মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন, ই-নলেজ এর একজন যাচাইকৃত লেখক। আমি এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত আছি প্রায় 10 মাস 3 সপ্তাহ ধরে, এবং এ পর্যন্ত 1258 টি লেখা ও 0 টি প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছি। আমার অর্জিত মোট পয়েন্ট 25411। ই-নলেজ আমার চিন্তা, জ্ঞান ও কণ্ঠকে সবার মাঝে পৌঁছে দিতে সহায়তা করেছে।
সংযুক্ত তথ্য
নিজস্ব আইডিয়া, ই-নলেজ আইডিয়া এ প্রথম প্রকাশিত
Enolej ID(eID): 4680
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।

এই লেখকের অন্যান্য সিরিজ


বিজ্ঞাপন: Remembering...

Image

এই ব্লগটির প্রতিক্রিয়া দিতে দয়া করে প্রবেশ কিংবা নিবন্ধন করুন ।

সংশ্লিষ্ট ব্লগগুচ্ছ


image
বছর বদলায় মানুষ কি বদলায়? মোহাম্মাদ জাহিদ হোসেন   বিশ্লেষণধর্মী প্রবন্ধ। ডিসেম্÷[...] বিস্তারিত পড়ুন...
450 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
সিরিজের নামঃ- নিজের জীবনটাও ছিল গল্প ৪-একটা জীবন ধার করে মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ছোট গ&#[...] বিস্তারিত পড়ুন...
22 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
উপন্যাসঃ-ছইয়ের নিচে জীবন গল্প-৬-হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্য মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ২৬ জù[...] বিস্তারিত পড়ুন...
19 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
শেষ পর্যন্ত কেউ জেতেনি   পর্ব–৬ : একা বাবার সংসার   মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন "নিজের কষ[...] বিস্তারিত পড়ুন...
21 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
নীরব মানুষটার শেষ সীমা   পর্ব–৬ : যে পুরুষটা কাঁদতে পারেনি   একটি ধারাবাহিক গল্প  [...] বিস্তারিত পড়ুন...
23 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ
📢 Notice Board
No active notices
ই-নলেজ আইডিয়া(Enolej Idea) হলো লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম যেখানে যেকোনো ধরনের লেখা—সাহিত্য, বিজ্ঞান, গবেষণা নোট, মতামত, প্রতিবাদী লেখা, ধর্মীয় চিন্তা, ব্যক্তিগত নোট বা দৈনন্দিন ভাবনা—নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা যায়। এটি সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ছড়িয়ে থাকা অগোছালো কনটেন্টকে একটি ভেরিফাইড, রেফারেন্সযোগ্য ডিজিটাল পোর্টফোলিওতে রূপান্তর করে, যা ব্যক্তির বুদ্ধিবৃত্তিক পরিচিতি ও দীর্ঘমেয়াদি ব্র্যান্ডিং গড়ে তোলে। প্রতিটি লেখার জন্য ইউনিক ডিজিটাল আইডি (eID) ও কপিরাইট সুরক্ষা প্রদান করা হয়, ফলে লেখা চুরি হলেও আসল লেখক সহজে শনাক্তযোগ্য থাকে। ধারাবাহিক কনটেন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাজানো, এক ক্লিকেই ই-বুক বা বইয়ের খসড়ায় রূপান্তর, ব্যক্তিগত খসড়া গোপন রাখা এবং একটি সক্রিয় কমিউনিটির মাধ্যমে পাঠকের সাথে সরাসরি সংযোগ—সব সুবিধাই এখানে একসাথে পাওয়া যায়। ই-নলেজ আইডিয়া মূলত ব্যক্তির চিন্তা ও জ্ঞানকে একটি স্থায়ী, সুরক্ষিত ও সার্বজনীনভাবে স্বীকৃত ডিজিটাল লেখক ইকোসিস্টেমে রূপ দেয়। IDEA = Independent Digital Expression & Authorship.
  1. মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

    1577 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    78 টি আইডিয়া ব্লগ

  2. Monsoon Harmony

    904 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    45 টি আইডিয়া ব্লগ

  3. Mayabi Ilmaz Megh

    742 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    37 টি আইডিয়া ব্লগ

  4. রফিক আতা

    367 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    18 টি আইডিয়া ব্লগ

...