Enolej Idea-তে লেখা প্রকাশের নিয়ম জানতে পূর্ণ নির্দেশনা দেখুন...
ই-নলেজ আইডিয়া হলো এমন একটি চিন্তানির্ভর প্ল্যাটফর্ম, যেখানে মানুষ শুধু তথ্য নয়, চিন্তা শেয়ার করে। এখানে জ্ঞানীরা একত্র হন, নতুনরা পথ খুঁজে পান, এবং সবাই মিলে তৈরি হয় একটি জ্ঞানভিত্তিক উম্মাহ। এটি জ্ঞানচর্চাকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ বানানোর একটি প্রচেষ্টা, যেখানে লেখা, ভাবা ও শেখা—সবই হয় মুক্তভাবে।আজই যোগ দিন!নিবন্ধন করতে এখানে ক্লিক করুন...।

-: ই-নলেজ আইডিয়া :-

আপনার লেখার কপিরাইট সুরক্ষা, স্বীকৃতি এবং ফ্রী প্রমোশন, সব এক প্ল্যাটফর্মে!

লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম আপনার লেখার অভিজ্ঞতাই বদলে দিবে। (পড়ুন...)

যদি আপনি হন পাঠক, কিংবা লেখক হিসেবে জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করেন:

যদি আপনার লেখাগুলোর কপিরাইট সুরক্ষা, সুশৃঙ্খলতা, আপনার ভেরিফাইড লেখক পোর্টফলিও এবং লেখক-পাঠকের কেন্দ্রীয় কমিউনিটিতে যুক্ত হতে চান, তাহলে নিবন্ধন করুন লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম “ই-নলেজ আইডিয়া” -এ!

এখানে অনেক প্রতিভাবান লেখক বিভিন্ন সিরিজে লিখছেন। আপনিও চাইলে আপনার লেখাগুলো সিরিজ আকারে সাজাতে পারবেন।

আপনার লেখক প্রোফাইল হবে একদম জীবন্ত পোর্টফলিও, এক ধরনের জীবন্ত বই। এখানে শুধু লেখক নয়, থাকবে পাঠকেরও সংস্পর্শ। ব্যাজ, পয়েন্ট, স্বীকৃতি এবং কপিরাইট সুরক্ষা তো থাকছেই, লেখাগুলো স্ক্যান করলেই আপনার নাম ভেসে উঠবে।

এটি তাই লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

চলুন বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক....

পূর্ণ নির্দেশনা [Full Guideline]

ই-নলেজ আইডিয়া – লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

গল্প ৪-একটা জীবন ধার করে

0 পছন্দ 0 অপছন্দ
6 বার প্রদর্শিত
করেছেন (24,966 পয়েন্ট)   2 দিন পূর্বে "গল্প" বিভাগে লেখা প্রকাশিত
পোষ্ট আইডি(eID) কার্ড↓ - লেখনীর স্বত্ব ও গুণের পরিচয়!

সিরিজের নামঃ- নিজের জীবনটাও ছিল

গল্প ৪-একটা জীবন ধার করেimage

মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

ছোট গল্প । ১০ আগষ্ট, ২০২৬


অভিক ভেবেছিল, সংসারের জন্য নিজের জীবনটা কিছুদিনের জন্য ধার দিচ্ছে। কয়েকটা বছর মাত্র। মেঘ একটু বড় হবে, মিশির পড়াশোনা শেষ হবে, বাড়ির ঋণটা মিটে যাবে—তারপর আবার নিজের মতো করে বাঁচবে। কিন্তু সে তখন জানত না, ধার দেওয়া জীবনের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো, একসময় সেটা ফেরত নেওয়ার সময়টাই আর হাতে থাকে না।


অভিকের জীবন খুব সাধারণ ছিল। চাকরি, সংসার, বাজার, বিল, মেঘের স্কুল, মিশির টিউশন—সব মিলিয়ে দিনের পর দিন একই ছকে কেটে যেত। বিয়ের কয়েক বছর পর এক রাতে নিশি বলেছিল, “একদিন আমরা শুধু নিজেদের জন্যও কিছু করব, তাই না?” অভিক হেসে বলেছিল, “অবশ্যই। ওরা একটু বড় হোক, তারপর।”


“ওরা একটু বড় হোক”—কথাটা অজান্তেই তার জীবনের নিয়ম হয়ে গেল।


মেঘ ছোট, তাকে সময় দিতে হবে। মিশির শরীর খারাপ, ডাক্তার দেখাতে হবে। বাড়ির কিস্তি বাকি, সেটা আগে মেটাতে হবে। বাবা-মায়ের চিকিৎসার খরচ এসেছে, সেটাও তো জরুরি। প্রতিটা কারণই সত্যি ছিল, প্রতিটা সিদ্ধান্তের পেছনেই ছিল ভালোবাসা। তাই অভিকের নিজের কাছে নিজের জীবনটাকে পিছিয়ে দেওয়াটা কোনো ত্যাগ বলেও মনে হয়নি। সে শুধু বলত, “এখন না, আর একটু পরে।”


আলমারির মাথায় গিটারটা পড়ে থাকত। অনেক বছর আগে নিজের প্রথম বেতনের টাকা দিয়ে কিনেছিল। একসময় সন্ধ্যায় অফিস থেকে ফিরে বাজাত। পরে সময় কমে গেল। গিটারটা ধুলোয় ঢেকে গেল। পাহাড়ে যাওয়ার একটা পুরোনো স্বপ্ন ছিল তার। ডায়েরির এক পাতায় কয়েকটা জায়গার নামও লিখে রেখেছিল। নিশি মাঝে মাঝে বলত, “চলো না, দুদিনের জন্য কোথাও ঘুরে আসি।” অভিক হাসত, “এখন অনেক খরচ। ওরা একটু বড় হোক, তারপর যাব।”


তারপর বছর কেটে গেল।


মেঘ কলেজে উঠল। খরচ বাড়ল। মিশি নাচ শিখতে চাইল, নতুন করে ভর্তি করাতে হলো। অভিক আবার হিসাবের খাতা খুলল। কোথায় কত খরচ কমানো যায়, সেটা ভাবতে ভাবতেই নিজের জন্য রাখা সামান্য টাকাটাও সরিয়ে দিল।


একদিন সন্ধ্যায় নিশি খুব স্বাভাবিক গলায় বলল, “আমরা কি কখনো শুধু দুজন কোথাও গেছি?”


অভিক উত্তর দিতে গিয়ে থেমে গেল।


মনে করার চেষ্টা করল।


বিয়ের পর প্রথম দিকে একবার গিয়েছিল। তারপর মেঘ এসেছে। মিশি এসেছে। তারপর সংসার।


সে হঠাৎ বুঝল, “পরে” কথাটার ওপর ভর করে সে কতগুলো বছর পার করে দিয়েছে।


মেঘ চাকরি পেল। মিশিও বড় হলো। একসময় বাড়িটা অদ্ভুত শান্ত হয়ে গেল। যে ঘরে একসময় মেয়েদের দৌড়ঝাঁপ আর হাসির শব্দ থাকত, সেখানে এখন সন্ধ্যার পর টিভির শব্দটুকুই শোনা যায়।


এক বিকেলে অভিক বারান্দায় বসে ছিল। নিশি এসে পাশে বসল।


“এখন তো ওরা বড় হয়েছে,” নিশি বলল, “এবার কি আমরা নিজেদের জন্য একটু বাঁচব?”


অভিক হেসে তার দিকে তাকাতে গিয়ে থেমে গেল। হাঁটুর ব্যথাটা সেদিন বেশি ছিল। চোখে আগের মতো পরিষ্কার দেখে না। কয়েক দিন আগে গিটারটা নামাতে গিয়ে আঙুলেও টান ধরেছিল।


হঠাৎ তার মনে হলো, যে জীবনটাকে সে এতদিন পরে বাঁচবে বলে রেখে দিয়েছিল, সেই জীবনটাও তো বদলে গেছে।


ইচ্ছেগুলো আছে।


শুধু শরীরটা আর আগের জায়গায় নেই।


সেদিন রাতে অভিক অনেকক্ষণ ঘুমাতে পারেনি। মনে হচ্ছিল, সে সংসারের জন্য কোনো ভুল করেনি। মেঘের জন্য যা করেছে, মিশির জন্য যা করেছে, বাবা-মায়ের জন্য যা করেছে—কোনোটার জন্য তার আফসোস নেই। আফসোস শুধু এক জায়গায়—নিজের জন্য বাঁচাটাকে সে সবসময় আগামীকালের কাজ ভেবেছে।


পরদিন সকালে নাশতা খাওয়ার সময় হঠাৎ বলল, “নিশি, আজ বিকেলে বের হবে?”


নিশি অবাক হয়ে তাকাল। “কোথায়?”


“কোথাও না। নদীর ধারে যাই। বেশি দূরে না।”


নিশি কিছু বলল না। শুধু হেসে ফেলল।


সেদিন তারা খুব দূরে যায়নি। কোনো বড় ভ্রমণও হয়নি। নদীর ধারে একটা বেঞ্চে পাশাপাশি বসে অনেকক্ষণ গল্প করেছিল।


ফেরার সময় নিশি বলল, “এতদিন পরে?”


অভিক মৃদু হেসে বলল, “হ্যাঁ। এবার আর পরে না।”


জীবন থেকে বড় কোনো দিন ফিরে আসে না। ফিরে আসে না হারিয়ে যাওয়া বয়সও। কিন্তু কোনো কোনো মানুষ দেরিতে হলেও বুঝতে পারে—সংসারকে ভালোবাসার জন্য নিজের জীবনটাকে বন্ধক রাখতে হয় না।


কারণ “পরে” বলে রাখা জীবনটা একদিন সত্যিই দরজায় এসে দাঁড়ায়।


তখন হয়তো হাতে সময় থাকে না।


অভিক সেদিন শুধু এতটুকুই শিখেছিল—জীবনটা শেষ করে তারপর বাঁচতে বসা যায় না। বাঁচতে হয়, সেই জীবনটার মাঝখানেই।

আমি মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন, ই-নলেজ এর একজন যাচাইকৃত লেখক। আমি এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত আছি প্রায় 10 মাস 2 সপ্তাহ ধরে, এবং এ পর্যন্ত 1236 টি লেখা ও 0 টি প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছি। আমার অর্জিত মোট পয়েন্ট 24966। ই-নলেজ আমার চিন্তা, জ্ঞান ও কণ্ঠকে সবার মাঝে পৌঁছে দিতে সহায়তা করেছে।
সংযুক্ত তথ্য
নিজস্ব আইডিয়া, ই-নলেজ আইডিয়া এ প্রথম প্রকাশিত
Enolej ID(eID): 4654
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।

এই লেখকের অন্যান্য সিরিজ


বিজ্ঞাপন: Remembering...

Image

এই ব্লগটির প্রতিক্রিয়া দিতে দয়া করে প্রবেশ কিংবা নিবন্ধন করুন ।

সংশ্লিষ্ট ব্লগগুচ্ছ


image
উপন্যাসঃ-ছইয়ের নিচে জীবন গল্প-৪-এক মায়ের নীরব লড়াই মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ২৬ জুল[...] বিস্তারিত পড়ুন...
10 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
সাইকোলজিক্যাল থ্রিলা গল্প-৪ যে মানুষটা আমাকে চিনত মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ছোটগল্প [...] বিস্তারিত পড়ুন...
15 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

নিশি উপাখ্যান সিরিজ   গল্প-৪   কথার দাগ   মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন   ২৯, জুন, ২০২৬ অভিক কোনো দিন নিশিকে বলেনি,  “আমি তোমাকে ঘৃণা করি।”  এমনও বলেনি,  “তুমি আমার জীবনের বোঝা।”  তবু একসময় নিশি নিজে[...] বিস্তারিত পড়ুন...
21 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
নিশির দিনগুলো গল্প-৪ : সন্তানের জন্য মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ১৫ জুলাই, ২০২৬ মায়ের চো&#[...] বিস্তারিত পড়ুন...
20 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
অভিকের অদেখা জগৎ   গল্প ৪: সংবাদ পাঠকের ইশারা   মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন   ৫ জুলাই, ২০২&#[...] বিস্তারিত পড়ুন...
24 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ
📢 Notice Board
No active notices
ই-নলেজ আইডিয়া(Enolej Idea) হলো লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম যেখানে যেকোনো ধরনের লেখা—সাহিত্য, বিজ্ঞান, গবেষণা নোট, মতামত, প্রতিবাদী লেখা, ধর্মীয় চিন্তা, ব্যক্তিগত নোট বা দৈনন্দিন ভাবনা—নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা যায়। এটি সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ছড়িয়ে থাকা অগোছালো কনটেন্টকে একটি ভেরিফাইড, রেফারেন্সযোগ্য ডিজিটাল পোর্টফোলিওতে রূপান্তর করে, যা ব্যক্তির বুদ্ধিবৃত্তিক পরিচিতি ও দীর্ঘমেয়াদি ব্র্যান্ডিং গড়ে তোলে। প্রতিটি লেখার জন্য ইউনিক ডিজিটাল আইডি (eID) ও কপিরাইট সুরক্ষা প্রদান করা হয়, ফলে লেখা চুরি হলেও আসল লেখক সহজে শনাক্তযোগ্য থাকে। ধারাবাহিক কনটেন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাজানো, এক ক্লিকেই ই-বুক বা বইয়ের খসড়ায় রূপান্তর, ব্যক্তিগত খসড়া গোপন রাখা এবং একটি সক্রিয় কমিউনিটির মাধ্যমে পাঠকের সাথে সরাসরি সংযোগ—সব সুবিধাই এখানে একসাথে পাওয়া যায়। ই-নলেজ আইডিয়া মূলত ব্যক্তির চিন্তা ও জ্ঞানকে একটি স্থায়ী, সুরক্ষিত ও সার্বজনীনভাবে স্বীকৃত ডিজিটাল লেখক ইকোসিস্টেমে রূপ দেয়। IDEA = Independent Digital Expression & Authorship.
  1. মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

    1132 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    56 টি আইডিয়া ব্লগ

  2. Monsoon Harmony

    903 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    45 টি আইডিয়া ব্লগ

  3. রফিক আতা

    345 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    17 টি আইডিয়া ব্লগ

  4. শামীমা আকতার

    42 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    2 টি আইডিয়া ব্লগ

...