Enolej Idea-তে লেখা প্রকাশের নিয়ম জানতে পূর্ণ নির্দেশনা দেখুন...
ই-নলেজ আইডিয়া হলো এমন একটি চিন্তানির্ভর প্ল্যাটফর্ম, যেখানে মানুষ শুধু তথ্য নয়, চিন্তা শেয়ার করে। এখানে জ্ঞানীরা একত্র হন, নতুনরা পথ খুঁজে পান, এবং সবাই মিলে তৈরি হয় একটি জ্ঞানভিত্তিক উম্মাহ। এটি জ্ঞানচর্চাকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ বানানোর একটি প্রচেষ্টা, যেখানে লেখা, ভাবা ও শেখা—সবই হয় মুক্তভাবে।আজই যোগ দিন!নিবন্ধন করতে এখানে ক্লিক করুন...।

-: ই-নলেজ আইডিয়া :-

আপনার লেখার কপিরাইট সুরক্ষা, স্বীকৃতি এবং ফ্রী প্রমোশন, সব এক প্ল্যাটফর্মে!

লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম আপনার লেখার অভিজ্ঞতাই বদলে দিবে। (পড়ুন...)

যদি আপনি হন পাঠক, কিংবা লেখক হিসেবে জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করেন:

যদি আপনার লেখাগুলোর কপিরাইট সুরক্ষা, সুশৃঙ্খলতা, আপনার ভেরিফাইড লেখক পোর্টফলিও এবং লেখক-পাঠকের কেন্দ্রীয় কমিউনিটিতে যুক্ত হতে চান, তাহলে নিবন্ধন করুন লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম “ই-নলেজ আইডিয়া” -এ!

এখানে অনেক প্রতিভাবান লেখক বিভিন্ন সিরিজে লিখছেন। আপনিও চাইলে আপনার লেখাগুলো সিরিজ আকারে সাজাতে পারবেন।

আপনার লেখক প্রোফাইল হবে একদম জীবন্ত পোর্টফলিও, এক ধরনের জীবন্ত বই। এখানে শুধু লেখক নয়, থাকবে পাঠকেরও সংস্পর্শ। ব্যাজ, পয়েন্ট, স্বীকৃতি এবং কপিরাইট সুরক্ষা তো থাকছেই, লেখাগুলো স্ক্যান করলেই আপনার নাম ভেসে উঠবে।

এটি তাই লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

চলুন বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক....

পূর্ণ নির্দেশনা [Full Guideline]

ই-নলেজ আইডিয়া – লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

শেষ পর্যন্ত কেউ জেতেনি পর্ব–৪ : দুই মেয়ের চোখে ভাঙা পরিবার

0 পছন্দ 0 অপছন্দ
1 বার দর্শন
করেছেন (23,023 পয়েন্ট)   5 ঘন্টা পূর্বে "গল্প" বিভাগে লেখা প্রকাশিত
পোষ্ট আইডি(eID) কার্ড↓ - লেখনীর স্বত্ব ও গুণের পরিচয়!

শেষ পর্যন্ত কেউ জেতেনি  

পর্ব–৪ : দুই মেয়ের চোখে ভাঙা পরিবার  image

মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন


"বাবা-মায়ের ঝগড়া শেষ হয়ে যায়। কিন্তু সন্তানদের ভয় অনেক দিন বেঁচে থাকে।"


সত্যিটা জানার পর বাড়িটা আর বাড়ি নেই।


একই ছাদের নিচে চারটা মানুষ। একই টেবিলে ভাতের থালা। একই ফ্যানের বাতাস। তবু মাঝখানে একটা কাচের দেয়াল উঠে গেছে—দেখা যায়, ছোঁয়া যায় না, শব্দ পার হয় না।


অভিক আর নিশি এখন মাপা কথা বলে। “মিশির স্কুলের বেতন দিয়েছ?” “মেঘলার কোচিংয়ের সময় বদলেছে।” এইটুকুই। প্রয়োজনের বাইরে শব্দ খরচ করা যেন নিষেধ।


সবচেয়ে বেশি বদলে গেছে বাতাসের ওজন। আগে ঘরে ঢুকলেই ভাতের গন্ধের সাথে হাসির শব্দ মিশে থাকত। এখন শুধু ফ্যানের একঘেয়ে শোঁ শোঁ।


মেঘলা টের পায়।


সে আর প্রশ্ন করে না, “মা, বাবা তোমরা কথা বলো না কেন?” বারো বছর বয়সে কিছু কথা মুখে আনতে নেই, এটা সে শিখে গেছে। স্কুল থেকে ফিরে সোজা ঘরে ঢোকে। দরজা ভেজিয়ে দেয়, কিন্তু ছিটকিনি লাগায় না। যেন কেউ চাইলে আসতে পারে। কিন্তু কেউ আসে না।


টেবিলে বই খোলা থাকে। খাতায় অঙ্কের ঘর ফাঁকা। চোখ থাকে জানালার গ্রিলের বাইরে। নিচে কাকেদের ঝগড়া, রিকশার বেল, ফেরিওয়ালার ডাক—সব আগের মতো। শুধু এই ঘরটা থেমে গেছে।


একদিন অভিক দরজায় নক করল। “আসব?”  

মেঘলা চমকে উঠে বই টেনে নিল। “এসো, বাবা।”  

“কী করছিস?”  

“পড়ছি।”  

“অঙ্কটা হয়েছে?”  

“হবে।”


একটা শব্দে উত্তর। আগে এই মেয়েটা বাবাকে পেলে বকবক থামাতে পারত না। অভিক চেয়ার টেনে বসল। কিছু জিজ্ঞেস করতে গিয়েও গলায় আটকে গেল। “স্কুলে কোনো সমস্যা?” প্রশ্নটা এত ঠুনকো শোনাল যে নিজেরই লজ্জা লাগল।


মেঘলা মাথা নিচু করে বলল, “না।”


অভিক উঠে এল। মেয়েটা মিথ্যে বলা শিখে গেছে। আর এই মিথ্যের দায় কার?


মিশি এখনো ছোট। সে বোঝে না, কিন্তু টের পায়।


রাতে ঘুমানোর সময় সে এখন আর গল্প শুনতে চায় না। সে দেখে। মা এক কোণে, বাবা আরেক কোণে। মাঝখানে তার ছোট্ট কোলবালিশটা যেন নো ম্যানস ল্যান্ড।


একদিন হঠাৎ বাবার আঙুল ধরে বলল, “তোমরা আগে তো একসাথে বসে টিভি দেখতে। এখন দেখো না কেন?”


অভিক হাসার চেষ্টা করল। হাসিটা মুখ পর্যন্ত এল না। “কাজ থাকে তো মা।”  

মিশি বিশ্বাস করল না। বাচ্চারা মিথ্যে ধরতে পারে। বড়রা পারে না।


অফিসে ফোনটা বেজে উঠল। মেঘলার ক্লাস টিচার।  

“অভিক সাহেব, কিছু মনে করবেন না। মেঘলা হঠাৎ খুব চুপচাপ হয়ে গেছে। ক্লাসে ডাকলে চমকে ওঠে। লাস্ট টার্মে যে মেয়ে ফার্স্ট হয়েছিল, সে এবার ম্যাথে ফেল করেছে। বাসায় কোনো সমস্যা?”


অভিক চেয়ারটা শক্ত করে ধরল। গলার কাছে কিছু একটা দলা পাকিয়ে আছে।  

“না মানে... আমরা একটু... পারিবারিক সমস্যা যাচ্ছে।”  

“দেখুন, বাচ্চারা স্পঞ্জের মতো। বাসার সব শুষে নেয়। একটু খেয়াল রাখবেন।”


ফোনটা রাখতেই অভিকের মনে হলো, এতদিন সে আর নিশি ভাবছিল ঝড়টা তাদের দুজনের ঘরে। আসলে ঝড়টা পুরো বাড়ির ছাদ উড়িয়ে দিয়েছে।


সন্ধ্যায় বাসায় ফিরে দেখল, নিশি বারান্দায় বসে। হাতে চায়ের কাপ, চোখ দূরে। চোখের কোণে জল শুকিয়ে দাগ হয়ে আছে।


অভিক পাশে গিয়ে দাঁড়াল না। দরজায় দাঁড়িয়েই বলল, “মেঘলার স্কুল থেকে ফোন করেছিল।”  

নিশি চমকাল না। যেন জানত, এই ফোনটা আসবেই।  

“কী বলল?”  

“নম্বর কমে গেছে। মেয়েটা ক্লাসে কথা বলে না।”


নিশি কাপটা নামিয়ে রাখল। হাত কাঁপছে।  

“আমাদের জন্য... তাই না?”


অভিক উত্তর দিল না। কিছু প্রশ্নের উত্তর হয় না।


অনেকক্ষণ পর নিশি ফিসফিস করে বলল, “আমরা ভাবছি আমরা কষ্ট পাচ্ছি। আসল শাস্তি তো ওরা পাচ্ছে। যারা কিছুই করেনি।”


কথাটা ঘরের বাতাসে ঝুলে রইল।


রাত দুটো।


মিশির কান্নায় ঘুম ভাঙল দুজনের। নিশি ছুটে গেল। “কী হয়েছে মা? খারাপ স্বপ্ন?”  

মিশি মাকে জাপটে ধরে ফুঁপিয়ে উঠল, “তুমি আমাকে রেখে চলে যাচ্ছিলে। বাবাও ছিল না। আমি একা।”


নিশি মেয়েকে বুকে চেপে ধরল। চোখ দিয়ে টপটপ করে জল পড়ছে। শব্দ নেই।


দরজার চৌকাঠে দাঁড়িয়ে অভিক দেখল। এই দৃশ্যটা তার বিয়ের বারো বছরে দেখা সবচেয়ে ভয়ংকর দৃশ্য। চিৎকার না, মারামারি না। একটা বাচ্চার ভয়।


সে বুঝল, ভাঙা সংসারের সবচেয়ে জোরে শব্দ হয় সন্তানের বুকের ভেতর। বড়রা শুনতে পায় না।


মিশি ঘুমিয়ে গেলে নিশি ডাইনিংয়ে এল। অভিক আগে থেকেই বসা। টেবিলে দুই কাপ চা। ঠান্ডা হয়ে গেছে। কেউ ছোঁয়নি।


অনেকক্ষণ পর অভিক বলল, “এভাবে হবে না।”


নিশি মুখ তুলল। চোখের নিচে কালি। গলার স্বর ভাঙা। “কীভাবে হবে?”


“জানি না। কিন্তু রোজ রাতে মিশির এই কান্না... আমি আর নিতে পারছি না।”


নিশি দুই হাতে মুখ ঢাকল। “আমি কী করব বলো? আমি থাকলেও ওরা কষ্ট পাচ্ছে। আমি চলে গেলে...”


কথাটা শেষ করতে পারল না।


অভিক জানালার বাইরে তাকাল। রাস্তার ল্যাম্পপোস্টের আলোয় একটা কুকুর ঘুমাচ্ছে। এত রাতে পুরো শহর ঘুমায়। শুধু তাদের ঘর জেগে থাকে।


সে আস্তে করে বলল, “আমাদের একটা সিদ্ধান্তে আসতে হবে, নিশি।”


নিশি চোখ বন্ধ করল। সে জানে, এই সিদ্ধান্ত মানে কী। এই সিদ্ধান্ত মানে মেঘলার স্কুলের খাতায় বাবার নামের পাশে ব্র্যাকেটে কিছু একটা লেখা হবে। এই সিদ্ধান্ত মানে মিশি আর কখনো জিজ্ঞেস করবে না, “তোমরা একসাথে গল্প করো না কেন?”


কারণ তখন ‘তোমরা’ শব্দটাই আর থাকবে না।


“আমি... আমি ভাবার সময় চাই,” নিশির গলা কাঁপল।


অভিক উঠে দাঁড়াল। “সময় নাও। কিন্তু বেশি না। কারণ সময় নিতে নিতে মেয়েদুটো শেষ হয়ে যাচ্ছে।”


ঘরের ভেতর অন্ধকারটা আরও গাঢ় হলো।


দেয়ালঘড়িটা টিকটিক করছে। প্রতিটা সেকেন্ড যেন বলছে, দেরি হয়ে যাচ্ছে।


আর এই দেরির দাম সবচেয়ে বেশি দিচ্ছে দুটো ঘুমন্ত মুখ।


চলবে...

আমি মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন, ই-নলেজ এর একজন যাচাইকৃত লেখক। আমি এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত আছি প্রায় 9 মাস 3 সপ্তাহ ধরে, এবং এ পর্যন্ত 1140 টি লেখা ও 0 টি প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছি। আমার অর্জিত মোট পয়েন্ট 23023। ই-নলেজ আমার চিন্তা, জ্ঞান ও কণ্ঠকে সবার মাঝে পৌঁছে দিতে সহায়তা করেছে।
সংযুক্ত তথ্য
নিজস্ব আইডিয়া, ই-নলেজ আইডিয়া এ প্রথম প্রকাশিত
Enolej ID(eID): 4256
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।

এই লেখকের অন্যান্য সিরিজ


বিজ্ঞাপন: Remembering...

Image

এই ব্লগটির প্রতিক্রিয়া দিতে দয়া করে প্রবেশ কিংবা নিবন্ধন করুন ।

সংশ্লিষ্ট ব্লগগুচ্ছ


image
শেষ পর্যন্ত কেউ জেতেনি   পর্ব–১০ : শেষ পর্যন্ত কেউ জেতেনি   মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন "[...] বিস্তারিত পড়ুন...
2 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
শেষ পর্যন্ত কেউ জেতেনি   পর্ব–৯ : যে প্রশ্নের উত্তর কারও কাছে ছিল না   মোহাম্মদ জাহ[...] বিস্তারিত পড়ুন...
2 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
শেষ পর্যন্ত কেউ জেতেনি   পর্ব–৮ : ক্ষমা চাইলেই কি সব ঠিক হয়ে যায়?   মোহাম্মদ জাহিদ হো&[...] বিস্তারিত পড়ুন...
1 বার দর্শন 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
শেষ পর্যন্ত কেউ জেতেনি   পর্ব–৭ : যে স্বপ্নের জন্য সব হারিয়েছিল    মোহাম্মদ জাহিদ হ[...] বিস্তারিত পড়ুন...
2 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
শেষ পর্যন্ত কেউ জেতেনি   পর্ব–৬ : একা বাবার সংসার   মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন "নিজের কষ[...] বিস্তারিত পড়ুন...
2 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ
📢 Notice Board
No active notices
ই-নলেজ আইডিয়া(Enolej Idea) হলো লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম যেখানে যেকোনো ধরনের লেখা—সাহিত্য, বিজ্ঞান, গবেষণা নোট, মতামত, প্রতিবাদী লেখা, ধর্মীয় চিন্তা, ব্যক্তিগত নোট বা দৈনন্দিন ভাবনা—নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা যায়। এটি সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ছড়িয়ে থাকা অগোছালো কনটেন্টকে একটি ভেরিফাইড, রেফারেন্সযোগ্য ডিজিটাল পোর্টফোলিওতে রূপান্তর করে, যা ব্যক্তির বুদ্ধিবৃত্তিক পরিচিতি ও দীর্ঘমেয়াদি ব্র্যান্ডিং গড়ে তোলে। প্রতিটি লেখার জন্য ইউনিক ডিজিটাল আইডি (eID) ও কপিরাইট সুরক্ষা প্রদান করা হয়, ফলে লেখা চুরি হলেও আসল লেখক সহজে শনাক্তযোগ্য থাকে। ধারাবাহিক কনটেন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাজানো, এক ক্লিকেই ই-বুক বা বইয়ের খসড়ায় রূপান্তর, ব্যক্তিগত খসড়া গোপন রাখা এবং একটি সক্রিয় কমিউনিটির মাধ্যমে পাঠকের সাথে সরাসরি সংযোগ—সব সুবিধাই এখানে একসাথে পাওয়া যায়। ই-নলেজ আইডিয়া মূলত ব্যক্তির চিন্তা ও জ্ঞানকে একটি স্থায়ী, সুরক্ষিত ও সার্বজনীনভাবে স্বীকৃত ডিজিটাল লেখক ইকোসিস্টেমে রূপ দেয়। IDEA = Independent Digital Expression & Authorship.
  1. মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

    1554 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    77 টি আইডিয়া ব্লগ

  2. শামীমা আকতার

    43 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    1 আইডিয়া ব্লগ

  3. মাইদুল ইসলাম মুকুল

    21 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    1 আইডিয়া ব্লগ

  4. Adiba jannat

    21 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    1 আইডিয়া ব্লগ

...